অনিশ রায়
বিষ আমার জীবনদায়ী ঔষধ—
তাই ছোবল
আমার কাছে চির-অতৃপ্ত চুম্বনের আস্বাদ।
স্নায়ু থেকে রক্তে,
রক্ত থেকে আরও গভীর কোনো গোপন অন্ধকারে
সব তীব্র ছলনা
নিঃশব্দে ভেসে যায়।
আকাঙ্ক্ষার নাভিমূল থেকে
অবিরাম উঠে আসে বিষের ধোঁয়া—
যেন বহুদিনের ঘুম-না-হওয়া কোনো সাপ
নিজের কুণ্ডলী থেকে
ধীরে ধীরে খুলে ফেলছে রাত্রির খোলস।
বিষ মেখে মেখে
মুণ্ডুহীন বেখেয়ালের শরীরে
আমি স্নান সারি,
অস্পষ্ট গান গাই,
নির্জন নির্ঝরের পাশে বসে থাকি—
অনেককাল আগে
কোনো তরী ডুবে গিয়েছিল সেখানে;
সে আর ফেরেনি।
তবু আমি এখনও অপেক্ষায়—
বিনিদ্র সেইসব রাত
ক্রমশ দীর্ঘতর হতে হতে
এখন প্রায় অনন্তের মতো।
আমার বাম হাত
ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে বাসুকির গহ্বরে;
আর ডান হাত
ডুবে যাচ্ছে নীল-বিষ অন্ধকারে।
এখনই সময়—
তুমি এক অপূর্ব নিমেষ হয়ে
আমার সমস্ত পূর্ব-বিহ্বলতার দরজায় এসে দাঁড়াও।
তারপর আকাশের
স্পন্দিত, অস্থির উল্লাসের দিকে
দুই হাত ডানার মতো ছড়িয়ে দাও—
হয়তো পতনের ওপারেও
নতুন আকাশ থেকে যাবে কোনো।
সেপ্টেম্বর, ২০২৪

