অনিশ রায়
জলের কাছে যেয়ো না—
সে তোমাকে ভীষণ আপন বলে ভুল করে।
তোমার পায়ের কাছে নত হয়ে
নির্জন কান্নার মতো কেঁপে উঠতে চায়,
তারপর ধীরে ধীরে
তোমার ছায়া, তোমার স্বর, তোমার নিঃশ্বাস—
সবটুকু নিজের অনন্ত গভীরে
ডুবিয়ে নিতে চায়।
সে জানে,
প্রতিটি নদীর ভেতর এক সমুদ্রের ক্ষুধা থাকে,
আর প্রতিটি সমুদ্র
এক অসমাপ্ত গ্রাসের ইতিকথা—
আগুনের কাছে যেয়ো না;
সে তোমাকে ভয় পায়।
যতটা অন্ধকার পায় সূর্যকে ভয়,
হয়তো আরও বেশি।
তার সমস্ত অপবিত্রতা,
সমস্ত গোপন কালিমা,
সমস্ত লুকোনো ছাই
তোমার শুদ্ধতার শরীরে ছুঁড়ে দিয়ে
নিজেকে প্রমাণ করে বলবে—
ঝলসে জ্বলে ওঠাই সত্য,
আলোর বিস্তার নয়।
বাতাসের কাছে যেয়ো না—
সে উতল হয়ে ওঠে তোমাকে দেখে।
তোমার শরীরের চারপাশে
বিষণ্ন ঘূর্ণির মতো ঘুরতে ঘুরতে
সে তোমাকে শেখাবে—
স্থিরতা এক মিথ্যা প্রবাদ,
ভেসে যাওয়াই নিয়তি
তারপর একদিন
মৃত্যুকেও উৎসব বানিয়ে
তোমাকে অদৃশ্য কোনো অতলে
চাইবে ভাসিয়ে দিতে।
মাটির কাছে যেয়ো না—
সে তোমার আকারের দিকে তাকিয়ে
হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে যায়।
প্রথম বিস্ময়ের মতো
দুই হাত বাড়িয়ে
তোমাকে স্পর্শ করবে বলে—
তারপর ধীরে ধীরে
তোমার কঠিনকে নরম করে
তার জরায়ুর অন্ধকারে
এক নতুন জন্মের উল্লাসে
আবার তোমাকে রচনা করতে চায়।
আর আকাশের দিকে
বেশিক্ষণ তাকিয়ো না।
অসীমের দম্ভে সে
কাউকে বিশ্বাস করে না।
তোমার বিস্তারকে
ঘন অবিশ্বাসে
টুকরো টুকরো করে
ধোঁয়া, মেঘ, ভাঙা আলো আর ধুলোর মধ্যে
সে ছড়িয়ে দেবে,
তারপর বলবে—
এই দেখো, একেই বলে প্রসারতা।
বরং তুমি—
জল থেকে তার গভীরতা,
আগুন থেকে তার দীপ্ত জ্বলনের ক্ষত,
বাতাস থেকে তার উন্মত্ত গতি,
মাটি থেকে তার গর্ভস্থ স্বপ্নের উল্লাস,
আর আকাশ থেকে তার নিঃশেষ বিস্তার
ছিনিয়ে আনো।
তারপর একা দাঁড়িয়ে
একটি সম্পূর্ণ পৃথিবী হয়ে ওঠো।
যে পৃথিবীতে
মানুষ আর জন্ম-ই নেবে না কেবল—
মানুষ হয়ে ওঠারও অধিকার পাবে।
২০/৭/২০২৪

