রূপতত্ত্ব

ভূমিকা

ভাষার গঠনকে বুঝতে গেলে ধ্বনি থেকে অর্থের দিকে ক্রমশ অগ্রসর হতে হয়। ধ্বনি ভাষার উচ্চারণগত উপাদান; কিন্তু ধ্বনির সমন্বয়ে যখন অর্থবহ ক্ষুদ্রতম একক গঠিত হয়, তখন তার নাম রূপ। রূপের সমন্বয়ে গঠিত হয় শব্দ; শব্দ বাক্যে ব্যবহৃত হলে তার রূপবৈচিত্র্য ঘটে। এই রূপবৈচিত্র্য কখনও বিভক্তির মাধ্যমে, কখনও প্রত্যয় বা উপসর্গের মাধ্যমে, আবার কখনও শব্দগঠনের নানা প্রক্রিয়ায় প্রকাশিত হয়।

ভাষার শব্দ ও পদের গঠন, রূপবৈচিত্র্য এবং রূপবৈচিত্র্য সাধনের বিভিন্ন উপায় নিয়ে ভাষাবিজ্ঞানের যে শাখায় আলোচনা করা হয়, তাকে রূপতত্ত্ব বলে। রূপতত্ত্বের ইংরেজি পরিভাষা Morphology

রূপতত্ত্বের প্রধান আলোচ্য তাই শুধু শব্দের গঠন নয়; শব্দ কীভাবে তৈরি হয়, কোন ক্ষুদ্রতম অর্থবহ একক দিয়ে তৈরি হয়, সেই এককগুলি কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং বাক্যে ব্যবহারের সময় শব্দের রূপ কীভাবে পরিবর্তিত হয়—এই সমগ্র প্রক্রিয়াই রূপতত্ত্বের অন্তর্গত।

শব্দ ও পদের গঠন এবং রূপবৈচিত্র্যের বিজ্ঞানই রূপতত্ত্ব।


১. রূপতত্ত্বের প্রধান আলোচ্য

রূপতত্ত্বের প্রধান আলোচ্য বিষয় হল—

শব্দ ও পদের গঠন এবং রূপবৈচিত্র্য।

এই আলোচনার অন্তর্গত—

  • রূপ ও রূপমূল
  • রূপ ও দলের সম্পর্ক
  • শব্দ ও রূপের সম্পর্ক
  • রূপমূলের শ্রেণিবিভাগ
  • সহরূপ
  • প্রকৃতি
  • প্রত্যয়
  • বিভক্তি
  • নির্দেশক
  • উপসর্গ
  • সমন্বয়ী ও নিষ্পাদক রূপমূল
  • মিশ্র ও জটিল রূপমূল
  • ক্র্যানবেরি রূপমূল
  • শূন্য রূপ ও ফাঁকা রূপ
  • জোড়কলম শব্দ
  • মুণ্ডমাল শব্দ
  • ক্লিপিংস
  • পদদ্বৈত
  • অনুকার পদগঠন
  • বর্গান্তর
  • নব্য শব্দপ্রয়োগ
  • সমাস ও তার রূপতাত্ত্বিক শ্রেণিবিভাগ
  • শব্দরূপ ও ক্রিয়ারূপ
  • ব্যাকরণিক সংবর্গ

২. রূপ কী?

ভাষার সবচেয়ে ক্ষুদ্র অর্থপূর্ণ একককে রূপ বলে।

ইংরেজি পরিভাষায়—Morph

যেমন—

মা

‘মা’ একটি অর্থপূর্ণ ক্ষুদ্রতম একক। একে আর এমন ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করা যায় না, যার প্রত্যেকটির নিজস্ব অর্থ রয়েছে।

আবার—

বাঘের = বাঘ + এর

এখানে ‘বাঘ’ ও ‘এর’—দুটি পৃথক রূপ।


৩. রূপ ও রূপমূল

রূপ এবং রূপমূল পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হলেও এক নয়।

রূপ হল কোনো অর্থবহ এককের বাস্তব ভাষিক প্রকাশ।

রূপমূল হল সেই অর্থবহ এককের বিমূর্ত ভাষাতাত্ত্বিক সত্তা।

সহজভাবে বলা যায়—

রূপ হল প্রকাশিত রূপ; রূপমূল হল সেই রূপের অন্তর্নিহিত একক।

রূপমূলের ইংরেজি Morpheme


৪. রূপ ও দল

এটি রূপতত্ত্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।

রূপ হল অর্থের দিক থেকে ক্ষুদ্রতম একক।

অন্যদিকে, বাগ্যন্ত্রের একবারের প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টিকে দল বা অক্ষর বলে। ইংরেজি Syllable

উদাহরণ

হাসপাতাল

শব্দটি উচ্চারণগতভাবে—

হাস্ + পা + তাল

—এই তিনটি দলে বিভক্ত।

কিন্তু ‘হাসপাতাল’ একটি অর্থবহ একক।

অতএব—

রূপদল
অর্থবহ ক্ষুদ্রতম এককউচ্চারণগত একক
অর্থ থাকা আবশ্যকঅর্থ থাকা আবশ্যক নয়
MorphSyllable

অর্থের দিক থেকে রূপ; উচ্চারণের দিক থেকে দল।

যে দল অর্থবহ, সেটি একই সঙ্গে রূপও হতে পারে।


৫. শব্দ ও রূপ

শব্দ এবং রূপও এক নয়।

একটি শব্দ একাধিক রূপ নিয়ে গঠিত হতে পারে।

যেমন—

আমসত্ত্ব = আম + সত্ত্ব

এখানে ‘আমসত্ত্ব’ একটি শব্দ হলেও তা ক্ষুদ্রতম অর্থবহ একক নয়। কারণ এটিকে ‘আম’ এবং ‘সত্ত্ব’—দুটি অর্থবহ রূপে ভাগ করা যায়।

অন্যদিকে—

মা

একটি মাত্র রূপে গঠিত শব্দ।

শব্দকে আমরা তার সম্পূর্ণ একক রূপে অভিধানে পাই; কিন্তু রূপতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে সেই শব্দকে তার ক্ষুদ্রতম অর্থবহ উপাদানে ভেঙে দেখা হয়।


৬. রূপমূল

এক বা একাধিক ধ্বনির সমন্বয়ে গঠিত অর্থবহ ক্ষুদ্রতম ভাষিক একক হল রূপমূল।

ইংরেজি—Morpheme

উদাহরণ

বেড়ালগুলো = বেড়াল + গুলো

এখানে ‘বেড়াল’ ও ‘গুলো’ দুটি রূপমূল।

আবার—

ছেলেরা = ছেলে + রা

এখানে ‘ছেলে’ ও ‘রা’ দুটি রূপমূল।


৭. রূপমূলের শ্রেণিবিভাগ

রূপমূলকে প্রধানত দুটি দিক থেকে শ্রেণিবিভাগ করা যায়।

স্বাধীনতা অনুযায়ী

১. স্বাধীন বা মুক্ত রূপমূল
২. পরাধীন বা বন্ধ রূপমূল

অর্থের প্রকৃতি অনুযায়ী

১. আভিধানিক রূপমূল
২. ব্যাকরণসম্মত রূপমূল

এই দুই শ্রেণিবিভাগকে মিলিয়ে রূপমূলের চারটি প্রকৃতি পাওয়া যায়—

১. স্বাধীন আভিধানিক রূপমূল
২. স্বাধীন ব্যাকরণসম্মত রূপমূল
৩. পরাধীন আভিধানিক রূপমূল
৪. পরাধীন ব্যাকরণসম্মত রূপমূল।


৮. স্বাধীন বা মুক্ত রূপমূল

যে রূপমূল অন্য কোনো রূপমূলের সাহায্য ছাড়াই স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে, তাকে স্বাধীন বা মুক্ত রূপমূল বলে।

উদাহরণ

মা, বাড়ি, ফুল, মানুষ, দেশ

এসব একক স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে।

ধাতু, মৌলিক নামশব্দ এবং অনুসর্গ প্রভৃতিও স্বাধীন রূপমূলের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।


৯. পরাধীন বা বন্ধ রূপমূল

যে রূপমূল স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না এবং অন্য রূপমূলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয়, তাকে পরাধীন বা বন্ধ রূপমূল বলে।

উদাহরণ

ছেলেটি = ছেলে + টি

এখানে ‘টি’ স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয় না।

উপসর্গ, প্রত্যয়, বিভক্তি, নির্দেশক প্রভৃতি পরাধীন রূপমূলের উদাহরণ।


১০. আভিধানিক রূপমূল

যেসব রূপমূলের অর্থ অভিধান ঘেঁটে নির্ণয় করা যায়, সেগুলিকে আভিধানিক রূপমূল বলে।

উদাহরণ

মানুষ, ফুল, জল, বাড়ি, দেশ

এগুলির নিজস্ব আভিধানিক অর্থ রয়েছে।


১১. ব্যাকরণসম্মত রূপমূল

যেসব রূপমূলের মূল কাজ ব্যাকরণগত সম্পর্ক বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করা, তাদের ব্যাকরণসম্মত রূপমূল বলে।

যেমন—

রা, কে, এর, এ, তে

ইত্যাদি।


১২. পরাধীন ব্যাকরণসম্মত রূপমূল

পরাধীন ব্যাকরণসম্মত রূপমূল প্রধানত দুই প্রকার—

১. সমন্বয়ী রূপমূল

২. নিষ্পাদক রূপমূল


১৩. সমন্বয়ী রূপমূল

যে পরাধীন রূপমূল কোনো শব্দকে পদে পরিণত করে এবং তার পরে আর কোনো রূপমূল যুক্ত হয় না, তাকে সমন্বয়ী রূপমূল বলে।

উদাহরণ

বাঘ + এর = বাঘের

ছেলে + কে = ছেলেকে

এখানে বিভক্তি সমন্বয়ী রূপমূলের উদাহরণ।

বিভক্তি → সমন্বয়ী রূপমূল


১৪. নিষ্পাদক রূপমূল

যে পরাধীন রূপমূল অন্য কোনো পদ বা রূপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন পদ বা শব্দ সৃষ্টি করে, তাকে নিষ্পাদক রূপমূল বলে।

উপসর্গ ও প্রত্যয় এই শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

উদাহরণ

প্র + শান্ত = প্রশান্ত

শ্রী + মান = শ্রীমান

এখানে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।


১৫. প্রকৃতি

যে মৌলিক ভাবপ্রদানকারী রূপ বা রূপমূলের সঙ্গে অন্য রূপ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে প্রকৃতি বলে।

প্রকৃতি হতে পারে—

  • ধাতু
  • মৌলিক নামশব্দ
  • অন্য কোনো শব্দমূল

উদাহরণ

গড়ু + অন = গড়ন

এখানে ‘গড়ু’ প্রকৃতি।

ছেলে + মি = ছেলেমি

এখানে ‘ছেলে’ প্রকৃতি।


১৬. সহরূপ

কোনো রূপের অর্থ অপরিবর্তিত রেখে তার একাধিক রূপভেদ দেখা গেলে সেই রূপভেদগুলিকে সহরূপ বলে।

ইংরেজি—Allomorph

অর্থাৎ—

একটি রূপমূলের বিকল্প রূপ = সহরূপ।


১৭. মিশ্র রূপমূল

দুটি স্বাধীন রূপমূলের সমবায়ে যখন নতুন একটি রূপমূল তৈরি হয়, তাকে মিশ্র রূপমূল বলে।

উদাহরণ

গাং + চিল = গাংচিল

এখানে ‘গাং’ এবং ‘চিল’—দুটি স্বাধীন রূপমূল।

মিশ্রণের ফলে নতুন একটি অর্থ তৈরি হয়েছে।


১৮. জটিল রূপমূল

দুইয়ের বেশি রূপমূলের সমবায়ে যে রূপমূল তৈরি হয়, তাকে জটিল রূপমূল বলে।

উদাহরণ

জাতীয়তাবাদ

বহুবর্ণপাথর

এখানে একাধিক রূপমূল পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

দুটি স্বাধীন রূপমূল → মিশ্র রূপমূল
দুইয়ের বেশি রূপমূল → জটিল রূপমূল


১৯. মৌলিক শব্দ

একটি মাত্র রূপমূল নিয়ে গঠিত শব্দকে মৌলিক শব্দ বলা হয়।

উদাহরণ

মা

‘মা’-কে ‘ম্ + আ’ ধ্বনিতে বিশ্লেষণ করা গেলেও এই অংশগুলির পৃথক অর্থ নেই। ফলে ‘মা’ একটি রূপমূলবিশিষ্ট মৌলিক শব্দ।


২০. জটিল শব্দ

এক বা একাধিক মুক্ত রূপমূলের সঙ্গে এক বা একাধিক বন্ধ রূপমূলের সংযোগে, অথবা একাধিক বন্ধ রূপমূলের সমন্বয়ে গঠিত শব্দকে জটিল শব্দ বলা হয়।

উদাহরণ

ছেলেমি = ছেলে + মি

এখানে ‘ছেলে’ মুক্ত রূপমূল এবং ‘মি’ বন্ধ রূপমূল।


২১. ক্র্যানবেরি রূপমূল

কোনো রূপমূল যখন একা ব্যবহৃত হয় না এবং অন্য কোনো নির্দিষ্ট রূপের সঙ্গে যুক্ত অবস্থাতেই অর্থবোধক হয়, তখন তাকে ক্র্যানবেরি রূপমূল বলা হয়।

ইংরেজিতে Cranberry Morpheme

বাংলায়—

আলাপ, বিলাপ, প্রলাপ, সংলাপ

—এই শব্দগুলির ‘লাপ’ অংশটি স্বাধীনভাবে স্বতন্ত্র অর্থে ব্যবহৃত হয় না। তাই ‘লাপ’কে ক্র্যানবেরি রূপমূলের উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়।


২২. ফাঁকা রূপ

যে রূপের কোনো নির্দিষ্ট অর্থ নেই এবং বাস্তব ভাষাব্যবহারে যার স্বতন্ত্র অস্তিত্বও পাওয়া যায় না, তাকে ফাঁকা রূপ বলা হয়।

উদাহরণ

ব্যঙ্গমা – ব্যঙ্গমি

এখানে ‘মা’ বা ‘মি’-কে স্বতন্ত্র অর্থবাহী রূপমূল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

অর্থহীন ও অস্তিত্বহীন রূপ → ফাঁকা রূপ।


২৩. শূন্য রূপ

কোনো ব্যাকরণগত অর্থ প্রকাশিত হলেও তার জন্য কোনো দৃশ্যমান রূপ বা ধ্বনি যুক্ত না হলে, সেই অদৃশ্য রূপকে শূন্য রূপ বা শূন্য রূপমূল বলা হয়।

উদাহরণ

সোনা গান গাইছে।

এখানে ‘গান’ শব্দটির সঙ্গে কোনো দৃশ্যমান বিভক্তি নেই। কিন্তু বাংলা বাক্যগঠনের নিয়মে তার কারকগত সম্পর্ক বোঝা যাচ্ছে।

অর্থাৎ রূপটি প্রকাশিত না হলেও তার ব্যাকরণগত উপস্থিতি অনুমান করা যায়।

ইংরেজিতে—

Zero Morpheme / Zero Allomorph


২৪. জোড়কলম শব্দ

একাধিক শব্দের বিভিন্ন অংশ বা রূপমূল জুড়ে যখন একটি নতুন শব্দ তৈরি হয়, তখন তাকে জোড়কলম শব্দ বলে।

ইংরেজি—Portmanteau Word

উদাহরণ

ধোঁয়া + কুয়াশা = ধোঁয়াশা

এখানে ‘ধোঁয়া’-র প্রথমাংশ এবং ‘কুয়াশা’-র শেষাংশ মিলিয়ে ‘ধোঁয়াশা’ তৈরি হয়েছে।

আরও উদাহরণ—

বিরাট + অনুষ্কা = বিরুষ্কা

জোড়কলম শব্দে একাধিক শব্দের অংশবিশেষের মিশ্রণ ঘটে।


২৫. মুণ্ডমাল শব্দ

কোনো শব্দগুচ্ছ বা বাক্যাংশের প্রতিটি শব্দের প্রথম ধ্বনি বা প্রথম অংশ নিয়ে যখন একটি নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে মুণ্ডমাল শব্দ বা Acronym বলে।

উদাহরণ

VIP — Very Important Person

BBC — British Broadcasting Corporation

DM — District Magistrate

BA — Bachelor of Arts

বাংলায়—

ল.সা.গু. — লঘিষ্ঠ সাধারণ গুণনীয়ক

গ.সা.গু. — গরিষ্ঠ সাধারণ গুণনীয়ক

পিপুফিশু — ‘পিঠ পুড়ছে, ফিরে শুই’।

বাংলায় মুণ্ডমাল শব্দের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে সীমিত; ইংরেজিতে এর ব্যবহার অনেক বেশি।


২৬. ক্লিপিংস

কোনো শব্দের আকার ছোট হয়ে গেলেও তার অর্থ ও ব্যাকরণগত পরিচয় অপরিবর্তিত থাকলে, সেই শব্দসংক্ষেপণ প্রক্রিয়াকে ক্লিপিংস বলে।

উদাহরণ

এরোপ্লেন → প্লেন

মাইক্রোফোন → মাইক

টেলিফোন → ফোন

ছোটোকাকা → ছোটকা

এখানে শব্দের আকার ছোট হয়েছে; কিন্তু মূল অর্থ ও ব্যাকরণগত পরিচয় পরিবর্তিত হয়নি।


২৭. পদদ্বৈত

একই পদ পাশাপাশি দুবার ব্যবহৃত হলে তাকে পদদ্বৈত বলে।

উদাহরণ

বাড়ি বাড়ি

দলে দলে

ছোটো ছোটো

পদদ্বৈতের মাধ্যমে বহুত্ব, ব্যাপকতা, পুনরাবৃত্তি, অনির্দিষ্টতা ইত্যাদি প্রকাশ পেতে পারে।

পদদ্বৈতের কিছু প্রকৃতি

সমার্থক :

ফন্দি-ফিকির

প্রায় সমার্থক :

অল্পবিস্তর

বিপরীতার্থক :

ছোটো-বড়ো

ব্যাপকতাবাচক :

ঘরে ঘরে


২৮. অনুকার পদগঠন

কোনো শব্দ, ধ্বনি, আওয়াজ বা ক্রিয়ার অনুকরণে নতুন পদ গঠিত হলে তাকে অনুকার পদগঠন বলে।

উদাহরণ

টুপটাপ

ঝমঝম

চুপচাপ

লুচিফুচি

‘চুপচাপ’ ও ‘টুপটাপ’ উচ্চমাধ্যমিকের রূপতত্ত্বের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।


২৯. বর্গান্তর

একটি শব্দ কোনো এক পদবর্গে ব্যবহৃত হওয়ার পর অন্য প্রসঙ্গে অন্য পদবর্গের কাজ করলে, তাকে বর্গান্তর বলে।

অর্থাৎ শব্দের বাহ্যিক রূপ অপরিবর্তিত থেকেও তার ব্যাকরণগত ভূমিকা বদলে যেতে পারে।

এক পদবর্গ → অন্য পদবর্গ = বর্গান্তর


৩০. নব্য শব্দপ্রয়োগ

ভাষায় কোনো নতুন শব্দ যখন দৈনন্দিন ব্যবহারে প্রবেশ করে এবং ধীরে ধীরে প্রচলিত হয়ে ওঠে, তখন সেই প্রক্রিয়াকে নব্য শব্দপ্রয়োগ বলে।

ভাষা একটি জীবন্ত ব্যবস্থা। তাই নতুন প্রযুক্তি, নতুন আবিষ্কার, নতুন সামাজিক অভিজ্ঞতা ও নতুন ধারণার সঙ্গে সঙ্গে ভাষায় নতুন শব্দের প্রবেশ ঘটে।


৩১. সমাস : রূপতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে

রূপতত্ত্বে সমাস শব্দগঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।

একাধিক পদ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বৃহত্তর পদ গঠন করলে তাকে সমাস বলে।

সমাসের ফলে যে নতুন পদ তৈরি হয়, তাকে সমস্তপদ বা মিলিত পদ বলে।

উদাহরণ

কাগজ + পত্র = কাগজপত্র

দেশ + বিদেশ = দেশবিদেশ

প্রচলিত ব্যাকরণে সমাসের শ্রেণিবিভাগের সঙ্গে রূপতাত্ত্বিক শ্রেণিবিভাগ এক নয়। রূপতত্ত্বের দৃষ্টিতে সমাস প্রধানত তিন প্রকার


৩২. রূপতত্ত্ব অনুযায়ী সমাসের তিন প্রকার

১. সংযোগমূলক সমাস

২. ব্যাখ্যানমূলক সমাস

৩. বর্ণনামূলক সমাস


৩২.১ সংযোগমূলক সমাস

যে সমাসে একাধিক পদ পাশাপাশি যুক্ত হলেও তাদের নিজস্ব অর্থ বজায় থাকে, তাকে সংযোগমূলক সমাস বলে।

প্রচলিত ব্যাকরণের দ্বন্দ্ব সমাস এই শ্রেণির অন্তর্গত।

উদাহরণ

দিন + রাত = দিনরাত

টাকা + পয়সা = টাকাপয়সা

ছেলে + মেয়ে = ছেলেমেয়ে

এখানে সংযুক্ত পদগুলির নিজস্ব অর্থ বজায় থাকে।


৩২.২ ব্যাখ্যানমূলক সমাস

যে সমাসে পাশাপাশি বসা দুটি পদের মধ্যে প্রথম পদটি দ্বিতীয় পদটিকে ব্যাখ্যা করে, তাকে ব্যাখ্যানমূলক সমাস বলে।

প্রচলিত ব্যাকরণের তৎপুরুষ, কর্মধারয়, দ্বিগু প্রভৃতি সমাস এই শ্রেণির অন্তর্গত।

উদাহরণ

মহা + কবি = মহাকবি

শ্বেত + পদ্ম = শ্বেতপদ্ম

গায়ে + হলুদ = গায়েহলুদ

এখানে প্রথম পদটি পরের পদটির অর্থকে ব্যাখ্যা বা নির্দিষ্ট করছে।


৩২.৩ বর্ণনামূলক সমাস

যে সমাসে সমাসজাত পদটি সমাসগঠক কোনো পদের অর্থকে প্রধান না করে অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করে, তাকে বর্ণনামূলক সমাস বলে।

প্রচলিত ব্যাকরণের বহুব্রীহি সমাস এই শ্রেণির অন্তর্গত।

উদাহরণ

নীল + কণ্ঠ = নীলকণ্ঠ

এখানে ‘নীল’ বা ‘কণ্ঠ’—কোনোটির অর্থই প্রধান নয়; ‘নীলকণ্ঠ’ দ্বারা অন্য এক ব্যক্তি—শিব—কে বোঝানো হয়।

আরও উদাহরণ—

চন্দ্রমুখী

ক্ষুরধার

হাতাহাতি

রূপতত্ত্বের এই তিনভাগ প্রচলিত ব্যাকরণের সমাসবিভাগ থেকে আলাদা—এটি পরীক্ষায় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার।


৩৩. শব্দরূপ ও ক্রিয়ারূপ

বাংলা ভাষায় বিশেষ্য ও ক্রিয়ার রূপবৈচিত্র্য রূপতত্ত্বের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ্যের রূপবৈচিত্র্যকে বলা হয়—

শব্দরূপ

ক্রিয়ার রূপবৈচিত্র্যকে বলা হয়—

ক্রিয়ারূপ

এই রূপবৈচিত্র্যের সঙ্গে যুক্ত থাকে—

  • বচন
  • লিঙ্গ
  • পুরুষ
  • কারক
  • কাল
  • ভাব/প্রকার
  • বিভক্তি
  • অন্যান্য ব্যাকরণিক বৈশিষ্ট্য

এই সমস্ত বৈশিষ্ট্যকে একত্রে ব্যাকরণিক সংবর্গ বলা হয়। সব ভাষায় সব সংবর্গ সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়; ভাষাভেদে তাদের ভূমিকা ও নিয়ন্ত্রণক্ষমতা ভিন্ন।


৩৪. রূপতত্ত্বের সমগ্র কাঠামো : একনজরে

রূপতত্ত্ব
│
├── রূপ
│   ├── রূপ ও দল
│   └── রূপ ও শব্দ
│
├── রূপমূল
│   ├── স্বাধীন / মুক্ত
│   └── পরাধীন / বন্ধ
│
├── অর্থের ভিত্তিতে
│   ├── আভিধানিক
│   └── ব্যাকরণসম্মত
│
├── পরাধীন ব্যাকরণসম্মত
│   ├── সমন্বয়ী
│   └── নিষ্পাদক
│
├── রূপবৈচিত্র্য
│   ├── সহরূপ
│   ├── শূন্য রূপ
│   └── ফাঁকা রূপ
│
├── বিশেষ রূপমূল
│   ├── মিশ্র
│   ├── জটিল
│   └── ক্র্যানবেরি
│
└── শব্দগঠন
    ├── জোড়কলম
    ├── মুণ্ডমাল
    ├── ক্লিপিংস
    ├── পদদ্বৈত
    ├── অনুকার পদগঠন
    ├── বর্গান্তর
    ├── নব্য শব্দপ্রয়োগ
    └── সমাস
         ├── সংযোগমূলক
         ├── ব্যাখ্যানমূলক
         └── বর্ণনামূলক

একনজরে : অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

রূপতত্ত্বের ইংরেজি — Morphology

ভাষার ক্ষুদ্রতম অর্থপূর্ণ একক — রূপ

রূপমূলের ইংরেজি — Morpheme

একটি রূপমূলের বাস্তব প্রকাশ — রূপ

রূপের বিকল্প রূপ — সহরূপ

সহরূপের ইংরেজি — Allomorph

বাগ্যন্ত্রের একবারের প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি/ধ্বনিসমষ্টি — দল

দলের ইংরেজি — Syllable

স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত রূপমূল — মুক্ত/স্বাধীন রূপমূল

স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয় না — পরাধীন/বন্ধ রূপমূল

অভিধান থেকে অর্থ পাওয়া যায় — আভিধানিক রূপমূল

ব্যাকরণগত অর্থ প্রকাশ করে — ব্যাকরণসম্মত রূপমূল

পদে পরিণত করে — সমন্বয়ী রূপমূল

নতুন পদ সৃষ্টি করে — নিষ্পাদক রূপমূল

দুটি স্বাধীন রূপমূল — মিশ্র রূপমূল

দুইয়ের বেশি রূপমূল — জটিল রূপমূল

আলাপ-বিলাপ-প্রলাপের ‘লাপ’ — ক্র্যানবেরি রূপমূল

অর্থহীন ও অস্তিত্বহীন রূপ — ফাঁকা রূপ

অদৃশ্য অথচ অর্থবহ রূপ — শূন্য রূপ

ধোঁয়া + কুয়াশা — ধোঁয়াশা, জোড়কলম

VIP — মুণ্ডমাল

এরোপ্লেন → প্লেন — ক্লিপিংস

একই পদ দুবার — পদদ্বৈত

টুপটাপ — অনুকার পদগঠন

এক পদবর্গের অন্য পদবর্গে ব্যবহার — বর্গান্তর

নতুন শব্দের প্রচলন — নব্য শব্দপ্রয়োগ

সমাসের রূপতাত্ত্বিক তিন ভাগ — সংযোগমূলক, ব্যাখ্যানমূলক, বর্ণনামূলক

দ্বন্দ্ব — সংযোগমূলক

তৎপুরুষ/কর্মধারয়/দ্বিগু — ব্যাখ্যানমূলক

বহুব্রীহি — বর্ণনামূলক

বিশেষ্যের রূপবৈচিত্র্য — শব্দরূপ

ক্রিয়ার রূপবৈচিত্র্য — ক্রিয়ারূপ


নির্বাচিত প্রশ্নোত্তর

১. রূপতত্ত্ব কী?

উত্তর : ভাষার শব্দ ও পদের গঠন, রূপবৈচিত্র্য এবং রূপবৈচিত্র্য সাধনের বিভিন্ন উপায় নিয়ে ভাষাবিজ্ঞানের যে শাখায় আলোচনা করা হয়, তাকে রূপতত্ত্ব বলে।

২. রূপ কাকে বলে?

উত্তর : ভাষার সবচেয়ে ক্ষুদ্র অর্থপূর্ণ একককে রূপ বলে।

৩. রূপের ইংরেজি কী?

উত্তর : Morph।

৪. রূপমূল কাকে বলে?

উত্তর : এক বা একাধিক ধ্বনির সমন্বয়ে গঠিত অর্থবহ ক্ষুদ্রতম ভাষিক একককে রূপমূল বলে।

৫. রূপমূলের ইংরেজি কী?

উত্তর : Morpheme।

৬. দল কাকে বলে?

উত্তর : বাগ্যন্ত্রের একবারের প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টিকে দল বলে।

৭. রূপ ও দলের প্রধান পার্থক্য কী?

উত্তর : রূপ অর্থের ক্ষুদ্রতম একক; দল উচ্চারণের ক্ষুদ্রতম একক। রূপের অর্থ থাকা আবশ্যক, দলের অর্থ থাকা আবশ্যক নয়।

৮. মুক্ত রূপমূল কী?

উত্তর : যে রূপমূল অন্য কোনো রূপমূলের সাহায্য ছাড়াই স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে, তাকে মুক্ত রূপমূল বলে।

৯. পরাধীন রূপমূল কী?

উত্তর : যে রূপমূল স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না এবং অন্য রূপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয়, তাকে পরাধীন রূপমূল বলে।

১০. আভিধানিক রূপমূল কী?

উত্তর : যে রূপমূলের অর্থ অভিধান থেকে নির্ণয় করা যায়, তাকে আভিধানিক রূপমূল বলে।

১১. সমন্বয়ী রূপমূল কী?

উত্তর : যে পরাধীন রূপমূল শব্দকে পদে পরিণত করে এবং তার পরে আর কোনো রূপমূল যুক্ত হয় না, তাকে সমন্বয়ী রূপমূল বলে।

১২. নিষ্পাদক রূপমূল কী?

উত্তর : যে রূপমূল অন্য রূপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন পদ বা শব্দ সৃষ্টি করে, তাকে নিষ্পাদক রূপমূল বলে।

১৩. সহরূপ কী?

উত্তর : কোনো রূপের অর্থ অপরিবর্তিত রেখে তার একাধিক রূপভেদ দেখা গেলে সেই রূপভেদগুলিকে সহরূপ বলে।

১৪. মিশ্র রূপমূল কী?

উত্তর : দুটি স্বাধীন রূপমূলের সমবায়ে গঠিত রূপমূলকে মিশ্র রূপমূল বলে।

১৫. জটিল রূপমূল কী?

উত্তর : দুইয়ের বেশি রূপমূলের সমবায়ে গঠিত রূপমূলকে জটিল রূপমূল বলে।

১৬. ক্র্যানবেরি রূপমূল কী?

উত্তর : যে রূপমূল স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয় না এবং নির্দিষ্ট কিছু রূপের সঙ্গেই যুক্ত হয়ে অর্থবোধক হয়, তাকে ক্র্যানবেরি রূপমূল বলে। ‘আলাপ, বিলাপ, প্রলাপ, সংলাপ’-এর ‘লাপ’ এর উদাহরণ।

১৭. ফাঁকা রূপ কী?

উত্তর : যে রূপের কোনো নির্দিষ্ট অর্থ নেই এবং বাস্তবে যার স্বতন্ত্র অস্তিত্বও পাওয়া যায় না, তাকে ফাঁকা রূপ বলে।

১৮. শূন্য রূপ কী?

উত্তর : কোনো ব্যাকরণগত অর্থ প্রকাশিত হলেও তার কোনো দৃশ্যমান রূপ না থাকলে সেই অদৃশ্য রূপকে শূন্য রূপ বলে।

১৯. জোড়কলম শব্দ কী?

উত্তর : একাধিক শব্দের বিভিন্ন অংশ বা রূপমূল জুড়ে নতুন শব্দ তৈরি হলে তাকে জোড়কলম শব্দ বলে।

২০. ‘ধোঁয়াশা’ কীভাবে গঠিত?

উত্তর : ‘ধোঁয়া’-র প্রথমাংশ এবং ‘কুয়াশা’-র শেষাংশ যুক্ত হয়ে ‘ধোঁয়াশা’ জোড়কলম শব্দটি গঠিত হয়েছে।

২১. মুণ্ডমাল শব্দ কী?

উত্তর : কোনো শব্দগুচ্ছের প্রতিটি শব্দের প্রথম ধ্বনি বা অংশ নিয়ে নতুন শব্দ তৈরি হলে তাকে মুণ্ডমাল শব্দ বলে।

২২. ক্লিপিংস কী?

উত্তর : শব্দের অর্থ ও ব্যাকরণগত পরিচয় অপরিবর্তিত রেখে তার আকার সংক্ষিপ্ত করার প্রক্রিয়াকে ক্লিপিংস বলে।

২৩. পদদ্বৈত কী?

উত্তর : একই পদ পাশাপাশি দুবার ব্যবহৃত হলে তাকে পদদ্বৈত বলে।

২৪. অনুকার পদগঠন কী?

উত্তর : কোনো ধ্বনি, শব্দ বা আওয়াজের অনুকরণে নতুন পদ গঠনের প্রক্রিয়াকে অনুকার পদগঠন বলে।

২৫. বর্গান্তর কী?

উত্তর : একটি পদবর্গের শব্দ অন্য প্রসঙ্গে অন্য পদবর্গের কাজ করলে তাকে বর্গান্তর বলে।

২৬. নব্য শব্দপ্রয়োগ কী?

উত্তর : নতুন কোনো শব্দ যখন ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারে প্রবেশ করে এবং প্রচলিত হয়ে ওঠে, সেই প্রক্রিয়াকে নব্য শব্দপ্রয়োগ বলে।

২৭. রূপতত্ত্ব অনুযায়ী সমাস কত প্রকার?

উত্তর : তিন প্রকার—সংযোগমূলক, ব্যাখ্যানমূলক ও বর্ণনামূলক।

২৮. সংযোগমূলক সমাস কী?

উত্তর : যে সমাসে একাধিক পদ যুক্ত হলেও তাদের নিজস্ব অর্থ বজায় থাকে, তাকে সংযোগমূলক সমাস বলে। প্রচলিত ব্যাকরণের দ্বন্দ্ব সমাস এর অন্তর্গত।

২৯. ব্যাখ্যানমূলক সমাস কী?

উত্তর : যে সমাসে প্রথম পদটি দ্বিতীয় পদকে ব্যাখ্যা করে, তাকে ব্যাখ্যানমূলক সমাস বলে।

৩০. বর্ণনামূলক সমাস কী?

উত্তর : যে সমাসে সমাসজাত পদটি সমাসগঠক পদগুলির কোনো একটির অর্থকে প্রধান না করে অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করে, তাকে বর্ণনামূলক সমাস বলে।

৩১. রূপতত্ত্বের দৃষ্টিতে দ্বন্দ্ব সমাস কোন শ্রেণির?

উত্তর : সংযোগমূলক সমাস।

৩২. রূপতত্ত্বের দৃষ্টিতে তৎপুরুষ ও কর্মধারয় সমাস কোন শ্রেণির?

উত্তর : ব্যাখ্যানমূলক সমাস।

৩৩. রূপতত্ত্বের দৃষ্টিতে বহুব্রীহি সমাস কোন শ্রেণির?

উত্তর : বর্ণনামূলক সমাস।

৩৪. শব্দরূপ কী?

উত্তর : বিশেষ্যজাতীয় শব্দের ব্যাকরণগত রূপবৈচিত্র্যকে শব্দরূপ বলে।

৩৫. ক্রিয়ারূপ কী?

উত্তর : ক্রিয়ার ব্যাকরণগত রূপবৈচিত্র্যকে ক্রিয়ারূপ বলে।


পরীক্ষার জন্য অতি সংক্ষিপ্ত স্মরণসূত্র

Morphology → রূপতত্ত্ব

Morph → রূপ

Morpheme → রূপমূল

Syllable → দল

Allomorph → সহরূপ

মুক্ত → স্বাধীন

পরাধীন → বন্ধ

আভিধানিক → অভিধানগত অর্থ

ব্যাকরণসম্মত → ব্যাকরণগত অর্থ

সমন্বয়ী → পদে পরিণত করে

নিষ্পাদক → নতুন শব্দ তৈরি করে

মিশ্র → দুটি স্বাধীন রূপমূল

জটিল → দুইয়ের বেশি রূপমূল

ক্র্যানবেরি → নির্দিষ্ট রূপের সঙ্গে যুক্ত

শূন্য → অদৃশ্য অথচ অর্থবহ

ফাঁকা → অর্থহীন ও অস্তিত্বহীন

জোড়কলম → অংশবিশেষের সংযোগ

মুণ্ডমাল → আদ্যাংশের সংযোগ

ক্লিপিংস → সংক্ষিপ্ত রূপ

পদদ্বৈত → একই পদ দুবার

অনুকার → অনুকরণ

বর্গান্তর → পদবর্গের পরিবর্তন

নব্য শব্দপ্রয়োগ → নতুন শব্দের প্রচলন

দ্বন্দ্ব → সংযোগমূলক

তৎপুরুষ/কর্মধারয়/দ্বিগু → ব্যাখ্যানমূলক

বহুব্রীহি → বর্ণনামূলক

বিশেষ্যের রূপবৈচিত্র্য → শব্দরূপ

ক্রিয়ার রূপবৈচিত্র্য → ক্রিয়ারূপ

 
### পরিবেশনে- ড. অনিশ রায়

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top