MCQ (প্রশ্ন-উত্তর)
১. ধীবর যে আংটিটি খুঁজে পেয়েছিল তাতে কী ছিল?
উত্তর: রাজার খোদাই করা নাম।
২. “আপনারা শান্ত হন”—বক্তা কে?
উত্তর: ধীবর।
৩. “একে পূর্বাপর সব বলতে দাও।” — বক্তা কে?
উত্তর: রাজশ্যালক।
৪.ধীবরকে কোন অভিযোগে ধরে আনা হয়েছিল?
উত্তর: আংটি চুরির অপরাধে।
৫.ধীবর আংটিটি কোথায় পেয়েছিল?
উত্তর: রুই মাছের পেটে।
৬.“তোর জীবিকা বেশ পবিত্র বলতে হয় দেখছি”—বক্তা কে?
উত্তর: রাজশ্যালক।
৭. “আমি খণ্ড খণ্ড করে কাটলাম”—কী?
উত্তর: রুই মাছ।
৮. যার গা থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ আসছিল, সে কে?
উত্তর: ধীবর।
৯.“এই অবশ্যই গোসাপ-খাওয়া জেলে হবে”—এমন মন্তব্যের কারণ কী?
উত্তর: ধীবরের গা থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ আসছিল।
১০. “আজ আমার সংসার চলবে কীভাবে?”—বক্তা কে?
উত্তর: ধীবর।
১১. “প্রভু, অনুগৃহীত হলাম”—কেন?
উত্তর: রাজা তাকে মুক্তির সঙ্গে আংটির মূল্যের সমান অর্থ দিয়েছিলেন।
১২. “তিনি শকুন্তলাকে চিনতেও পারলেন না”—‘তিনি’ কে?
উত্তর: মহারাজ দুষ্মন্ত।
১৩. “এখন মারতে হয় মারুন, ছেড়ে দিতে হয় ছেড়ে দিন”—বক্তা কে?
উত্তর: ধীবর।
১৪. ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন কে?
উত্তর: সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী।
১৫. ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশটি কোন নাটক থেকে নেওয়া?
উত্তর: অভিজ্ঞান শকুন্তলম।
১৬.দুই রক্ষীর নাম কী ছিল?
উত্তর: জানুক ও সূচক।
১৭.“ঘটনাক্রমে সেই আংটি পেল এক ধীবর”—আংটি কার ছিল?
উত্তর: শকুন্তলার।
১৮.“আমাদের প্রভুর দেখি খুব বিলম্ব হচ্ছে”—‘প্রভু’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: রাজশ্যালককে।
১৯.“তা তোর জীবিকা বেশ পবিত্র বলতে হয় দেখছি”—বক্তা কে?
উত্তর: রাজশ্যালক।
২০.“বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ স্বভাবে দয়াপরায়ণ হলেও যজ্ঞীয় পশুবধের সময় নির্দয় হয়ে থাকেন”—বক্তা কে?
উত্তর: ধীবর (পুরুষ)।
২১.রাজশ্যালক ধীবরকে ছেড়ে দেওয়ার কথা কাকে বলেছিল?
উত্তর: সূচককে।
২২.আংটি দেখে মহারাজের মনে কী পড়েছিল?
উত্তর: প্রিয়জনের কথা।
২৩.জেলে পারিতোষিকের অর্ধেক অর্থ কীসের দাম হিসেবে দিয়েছিল?
উত্তর: ফুলের দাম হিসেবে।
২৪.ধীবরকে বন্ধু বলে মেনে নিলেন কে?
উত্তর: রাজশ্যালক।
২৫.ধীবর-বৃত্তান্ত নাটকের রচয়িতা কে?
উত্তর: কালিদাস।
২৬.ধীবর-বৃত্তান্ত নাটকটি কোথা থেকে সংকলিত?
উত্তর: অভিজ্ঞান শকুন্তলম।
২৭.বিবাহের পর দুষ্মন্ত কোথায় ফিরে গিয়েছিলেন?
উত্তর: হস্তিনাপুরে।
২৮.শকুন্তলাকে কে অভিশাপ দিয়েছিলেন?
উত্তর: ঋষি দুর্বাসা।
২৯.শকুন্তলার হাতের আংটি কোথায় পড়ে গিয়েছিল?
উত্তর: শচীতীর্থে।
৩০.শকুন্তলার হাতের আংটি কখন পড়ে গিয়েছিল?
উত্তর: শচীতীর্থে স্নানের পর অঞ্জলি দেওয়ার সময়।
৩১.“আমি একজন জেলে, ____ আমি থাকি”—শূন্যস্থান পূরণ করো।
উত্তর: শক্রাবতারে।
৩২.শকুন্তলাকে পতিগৃহে পাঠানোর আয়োজন কে করেছিলেন?
উত্তর: কণ্ব ঋষি।
🔹SAQ : প্রশ্ন–উত্তর (এক লাইনে)
১.তীর্থ থেকে ফিরে এসে মহর্ষি কণ্ব কী করেছিলেন?
উত্তর: তিনি শকুন্তলাকে পতিগৃহে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।
২.দুষ্মন্ত প্রদত্ত আংটিটি শকুন্তলা কীভাবে হারিয়েছিলেন?
উত্তর: শচীতীর্থে স্নানের পর অঞ্জলি দেওয়ার সময় আংটিটি হাত থেকে পড়ে যায়।
৩.পতিগৃহে গিয়ে শকুন্তলাকে দেখে দুষ্মন্ত কী করেছিলেন?
উত্তর: দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে চিনতে পারেননি।
৪.ধীবরের হাত বাঁধা ছিল কেন?
উত্তর: তার কাছে রাজার আংটি পাওয়া গিয়েছিল বলে চোর সন্দেহে হাত বাঁধা হয়েছিল।
৫.ধীবরকে কারা ধরে এনেছিল?
উত্তর: দুই রক্ষী জানুক ও সূচক ধীবরকে ধরে এনেছিল।
৬.“আপনারা শান্ত হন”—বক্তা কাদের উদ্দেশে বলেছিল?
উত্তর: দুই রক্ষী জানুক ও সূচককে।
৭.ধীবর আংটিটি কোথা থেকে পেয়েছিল?
উত্তর: রুই মাছের পেটের ভিতর থেকে।
৮.ধীবর কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করত?
উত্তর: মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত।
৯.রাজা দুষ্মন্তের শ্যালকের দায়িত্ব কী ছিল?
উত্তর: নগর রক্ষা করা।
১০.ধীবর সম্পর্কে রাজার আদেশ কী ছিল?
উত্তর: তাকে মুক্তি দিয়ে আংটির মূল্যের সমান অর্থ দেওয়ার আদেশ।
১১.আংটি দেখে রাজার প্রতিক্রিয়া কী হয়েছিল?
উত্তর: তিনি মুহূর্তের জন্য বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন।
১২.মুক্তি পেয়ে ধীবর কী করেছিল?
উত্তর: পারিতোষিকের অর্ধেক অর্থ ফুলের দাম হিসেবে দিতে চেয়েছিল।
১৩.প্রিয়ংবদার অনুরোধে দুর্বাসা কী বলেছিলেন?
উত্তর: স্মৃতিচিহ্ন দেখালে অভিশাপ কাটবে।
১৪.রাজশ্যালক কেন ধীবরকে ‘গোসাপ-খাওয়া জেলে’ ভেবেছিল?
উত্তর: ধীবরের গা থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ আসছিল বলে।
১৫.“মহারাজ এ সংবাদ শুনে খুশি হবেন”—কোন সংবাদে?
উত্তর: ধীবরের কাছ থেকে রাজার আংটি উদ্ধারের সংবাদে।
১৬.‘চল রে গাঁটকাটা’—কোথায় নিয়ে যাওয়ার কথা?
উত্তর: রাজবাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা।
১৭.ধীবরকে ছেড়ে দেওয়ার আদেশে দ্বিতীয় রক্ষীর প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
উত্তর: সে হিংসা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
১৮.শকুন্তলার সঙ্গে কার বিবাহ হয়েছিল?
উত্তর: রাজা দুষ্মন্তের।
১৯.দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার বিবাহ কোথায় হয়েছিল?
উত্তর: কণ্ব ঋষির আশ্রমে।
২০.কণ্বের অনুপস্থিতিতে আশ্রমে কে এসেছিলেন?
উত্তর: ঋষি দুর্বাসা।
২১.শকুন্তলাকে কে অভিশাপ দিয়েছিলেন?
উত্তর: ঋষি দুর্বাসা।
২২.দুর্বাসা কেন শকুন্তলাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন?
উত্তর: অন্যমনস্কতার কারণে যথাযথ আপ্যায়ন না করায়।
২৩.দুর্বাসার অভিশাপ কী ছিল?
উত্তর: যার চিন্তায় শকুন্তলা মগ্ন থাকবে, সে তাকে ভুলে যাবে।
২৪.শকুন্তলার সখির নাম কী ছিল?
উত্তর: প্রিয়ংবদা।
২৫.অভিশাপ কাটার উপায় হিসেবে দুর্বাসা কী বলেছিলেন?
উত্তর: কোনো স্মৃতিচিহ্ন দেখালে অভিশাপ কাটবে।
২৬.“আপনারা অনুগ্রহ করে শুনুন”—ধীবর কী বলতে চেয়েছিল?
উত্তর: নিজের পরিচয় ও আংটি পাওয়ার কাহিনি।
২৭.“প্রভু, অনুগৃহীত হলাম”—ধীবর কেন বলেছিল?
উত্তর: রাজা তাকে আংটির মূল্যের সমান অর্থ দিয়েছিলেন বলে।
২৮.ধীবরের মতে বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ কখন নির্দয় হন?
উত্তর: যজ্ঞীয় পশুবধের সময়।
২৯.জেলে পারিতোষিকের অর্ধেক অর্থ কী করতে চেয়েছিল?
উত্তর: ফুলের মালার দাম দিতে।
৩ মান প্রশ্ন : প্রশ্ন–উত্তর
১. “মুহূর্তের জন্য রাজা বিহ্বলভাবে চেয়ে রইলেন।” — কোন সময়ে এবং কেন?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
ধীবরের কাছ থেকে পাওয়া রাজার নাম খোদাই করা আংটিটি রাজশ্যালক রাজা দুষ্মন্তকে দেখালে তিনি মুহূর্তের জন্য বিহ্বল হয়ে পড়েন। দুর্বাসা মুনির অভিশাপ অনুযায়ী কোনো স্মৃতিচিহ্ন দেখলেই রাজার হারানো স্মৃতি ফিরে আসার কথা ছিল। আংটিটি দেখেই শকুন্তলার স্মৃতি ফিরে আসে, তাই রাজা আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠেন।
২. “যার চিন্তায় সে মগ্ন, সেই ব্যক্তি শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন”—বক্তা কে? কেন এমন কথা বলেছিলেন?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
এই উক্তিটির বক্তা ঋষি দুর্বাসা। শকুন্তলা স্বামীর চিন্তায় অন্যমনস্ক থাকায় তিনি দুর্বাসার যথাযথ আপ্যায়ন করতে পারেননি। এতে ক্রুদ্ধ হয়ে দুর্বাসা অভিশাপ দেন যে, যার চিন্তায় শকুন্তলা মগ্ন থাকবে, সেই ব্যক্তি তাকে ভুলে যাবে।
৩. “তবে কি তোকে সদ্ ব্রাহ্মণ বিবেচনা করে রাজা এটা দান করেছেন?” — বক্তা কে? কেন এই মন্তব্য?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
এই মন্তব্যটির বক্তা দুই রক্ষীর একজন। ধীবরের কাছে রাজার নাম খোদাই করা মূল্যবান আংটি দেখে তারা তাকে চোর সন্দেহ করে। দরিদ্র জেলের হাতে এমন সম্পদ দেখে ব্যঙ্গ ও অবিশ্বাস থেকেই এই মন্তব্য করা হয়।
৪. “সূচক, এই জেলেকে ছেড়ে দাও।” — কে এই কথা বলেছেন? কেন?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
এই কথা বলেছেন রাজশ্যালক। রাজা দুষ্মন্ত আংটি দেখে ধীবরের বক্তব্য সত্য বলে স্বীকার করলে তিনি রাজার আদেশে সূচককে ধীবরকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন।
৫. “তা তোর জীবিকা বেশ পবিত্র বলতে হয় দেখছি।” — কে, কোন প্রসঙ্গে বলেছে?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
রাজশ্যালক ধীবরের উদ্দেশে এই মন্তব্য করেন। ধীবর নিজেকে জেলে বলে পরিচয় দিলে তার পেশাকে ব্যঙ্গ করে এই উক্তি করা হয়।
৬. “ঘটনাক্রমে সেই আংটি পেল এক ধীবর”— আংটি পাওয়ার কাহিনি লেখো।
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
শচীতীর্থে স্নানের সময় শকুন্তলার হাত থেকে আংটি জলে পড়ে যায়। একটি রুই মাছ সেই আংটি গিলে ফেলে। পরে সেই মাছ ধরা পড়লে ধীবর মাছ কাটতে গিয়ে তার পেটের ভিতর থেকে আংটিটি খুঁজে পায়।
৭. “আপনারা অনুগ্রহ করে শুনুন”— বক্তা কে? কী বলতে চেয়েছিল?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
এই উক্তিটির বক্তা ধীবর। সে নিজের পরিচয় এবং কীভাবে রুই মাছের পেট থেকে আংটিটি পেয়েছিল, সেই সত্য কাহিনি বলতে চেয়েছিল।
৮. আংটি দেখে রাজার প্রতিক্রিয়া কী হয়েছিল?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
আংটিটি দেখে রাজা মুহূর্তের জন্য বিহ্বল হয়ে পড়েন। শকুন্তলার স্মৃতি ফিরে আসায় তাঁর আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পায়।
৯. ধীবরকে ছেড়ে দেওয়ার সংবাদে রক্ষীদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
রক্ষীরা হতাশ ও অসন্তুষ্ট হয়েছিল। তারা ধীবরের কঠোর শাস্তির প্রত্যাশা করেছিল, কিন্তু মুক্তি ও পুরস্কারের সংবাদে তাদের আশা ভেঙে যায়।
১০. রাজশ্যালকের চরিত্রে কোন দ্বৈত স্বভাব লক্ষ করা যায়?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
রাজশ্যালক প্রথমে বর্ণবাদী ব্যঙ্গ ও অহংকার প্রকাশ করলেও পরে বিবেচনাবোধের পরিচয় দেন। তিনি ধীবরের কথা শোনেন এবং রাজার ন্যায়বিচার কার্যকর করেন।
১১. “এ যে শূল থেকে নামিয়ে একেবারে হাতির পিঠে চড়িয়ে দেওয়া হলো।” — উক্তিটির তাৎপর্য লেখো।
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
উক্তিটি রক্ষী সূচকের। ধীবরকে যে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে—এই নিশ্চিত ধারণা থেকে হঠাৎ মুক্তি ও বিপুল পারিতোষিক—এই আকস্মিক উলটাপালটই সূচকের চোখে ‘শূল থেকে নামিয়ে হাতির পিঠে চড়ানো’। মৃত্যুদণ্ডের প্রত্যাশা থেকে রাজসম্মানে উন্নীত হওয়া ধীবরের ভাগ্যপরিবর্তন সূচকের বিস্ময় ও ঈর্ষার ভাষায় এই উপমায় ধরা পড়েছে।
১২) “তাতেই বোঝা যাচ্ছে এই আংটিটা রাজার খুব প্রিয় ছিল।” — বক্তার এমন ধারণার কারণ কী?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
এই উক্তিটির বক্তা দ্বিতীয় রক্ষী জানুক। ধীবরকে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি আংটির সমমূল্যের বিপুল অর্থ পারিতোষিক দেওয়া দেখে তার ধারণা হয়—সাধারণ মূল্যবান বস্তু হলে এমন উদার পুরস্কার সম্ভব নয়। আংটিটি রাজার কাছে স্মৃতিজড়িত ও অতিপ্রিয় বলেই তিনি এত আনন্দে ও উদারতায় ধীবরকে পুরস্কৃত করেছেন—এই অনুমান থেকেই জানুকের উক্তি।
১৩) “মুহূর্তের জন্য রাজা বিহ্বলভাবে চেয়ে রইলেন।” — কেন রাজা বিহ্বল হয়েছিলেন?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
রাজশ্যালকের মতে, আংটিটি দেখে রাজা দুষ্মন্তের মনে কোনো প্রিয়জনের স্মৃতি জেগে ওঠে। দুর্বাসার অভিশাপে হারানো শকুন্তলার স্মৃতি ওই আংটির মাধ্যমে ফিরে আসে। স্বভাবত গম্ভীর রাজা তাই মুহূর্তের জন্য আবেগে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। এই বিহ্বলতা আংটির দামের জন্য নয়, তার স্মৃতিমূল্যের কারণেই।
১৪) “যে বৃত্তি নিয়ে যে মানুষ জন্মেছে, সেই বৃত্তি নিন্দনীয় হলেও তা পরিত্যাগ করা উচিত নয়।” — প্রসঙ্গ ও তাৎপর্য লেখো।
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
রাজশ্যালকের পেশাগত বিদ্রুপের উত্তরে ধীবর এই উক্তি করে। সে জানাতে চায়—কোনো পেশাই সম্পূর্ণ পবিত্র বা ঘৃণ্য নয়। বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণও যজ্ঞে পশুবধে নির্দয় হন। এই বক্তব্যে ধীবরের আত্মমর্যাদাবোধ, মানবিক যুক্তিবোধ ও সামাজিক সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
১৫) “সব সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে।” — বক্তা কে, কোন প্রসঙ্গে বলেছেন?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
উক্তিটির বক্তা রাজশ্যালক। তিনি রাজদরবার থেকে ফিরে এসে জানান যে ধীবরের আংটি পাওয়ার বিবরণ সম্পূর্ণ সত্য। রাজা দুষ্মন্ত আংটি দেখে পূর্বস্মৃতি ফিরে পান এবং ধীবরকে নির্দোষ ঘোষণা করেন। এই প্রসঙ্গেই রাজশ্যালক ‘সব সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে’—এই মন্তব্য করেন।
১৬) “আপনারা শান্ত হন। আমি এরকম কাজ করিনি।” — বক্তা কে, ‘এরকম কাজ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
এই উক্তির বক্তা ধীবর। ‘এরকম কাজ’ বলতে রাজার আংটি চুরি করার অপরাধকে বোঝানো হয়েছে। রক্ষীদের তীব্র তাড়না ও অপমানের মুখে ধীবর শান্তভাবে নিজের নির্দোষিতা ঘোষণা করে। এতে তার সংযম, সত্যনিষ্ঠা ও আত্মরক্ষার সচেতন প্রয়াস প্রকাশ পায়।
১৭) রাজার হাতে তাঁর আংটি ফিরিয়ে দেওয়াকে সূচক কেমন কাজ বলে বর্ণনা করেছে?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
রক্ষী সূচক রাজশ্যালকের মাধ্যমে রাজার হাতে আংটি ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ‘মহারাজের সেবা’ বলে বর্ণনা করেছে। তার দৃষ্টিতে এই কাজ রাজকর্তব্য পালনের নিদর্শন। তবে পরবর্তীতে ধীবরের বিপুল পুরস্কার দেখে সূচকের এই ধারণা ব্যঙ্গ ও ঈর্ষায় রূপ নেয়। ফলে উক্তিটির মধ্যে আনুগত্যের পাশাপাশি অন্তর্নিহিত অসন্তোষও প্রকাশ পায়।
১৮) ধীবর তার পারিতোষিকের অর্ধেক অর্থ রক্ষীদ্বয়কে কেন দিয়েছিল?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
ধীবর রাজার কাছ থেকে প্রাপ্ত পারিতোষিকের অর্ধেক অর্থ রক্ষীদ্বয়কে ফুলের দাম হিসেবে দিয়েছিল। মুক্তির পরও সে কৃতজ্ঞতা ও মানবিকতা ভুলে যায়নি। যে রক্ষীরা তাকে শাস্তির মুখে ঠেলে দিয়েছিল, তাদের প্রতিও ধীবরের এই আচরণ তার উদারতা, ক্ষমাশীলতা ও নৈতিক মহত্ত্বের পরিচয় বহন করে।
১৯) পাঠ্যাংশের শেষে রাজশ্যালক ধীবরকে কী বলে স্বীকার করেছিলেন?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
পাঠ্যাংশের শেষে রাজশ্যালক ধীবরকে তাঁর ‘একজন বিশিষ্ট প্রিয় বন্ধু’ বলে স্বীকার করেন। ধীবরের সততা, নির্লোভ মনোভাব এবং পারিতোষিক ভাগ করে দেওয়ার উদারতায় রাজশ্যালক মুগ্ধ হন। সামাজিক ও শ্রেণিগত ব্যবধান অতিক্রম করে এই বন্ধুত্ব রাজশ্যালকের মানবিক ও বিচক্ষণ চরিত্রের পরিচয় দেয়।
২০) “এরকম বলবেন না”— উক্তিটির বক্তা কে? কোন প্রসঙ্গে বলা?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
উক্তিটির বক্তা ধীবর। রাজশ্যালক যখন তার পেশা নিয়ে বিদ্রুপ করেন, তখন ধীবর সংযত অথচ দৃঢ়ভাবে এই কথা বলে। সে বোঝাতে চায়—কোনো পেশাকেই হেয় করা উচিত নয়। এই উক্তিতে ধীবরের আত্মমর্যাদা, যুক্তিবোধ ও মানবিক প্রতিবাদ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
২১) “মহারাজ এ সংবাদ শুনে খুশি হবেন”— কে, কেন এমন মন্তব্য করেছে?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
এই মন্তব্যটি করেছে দুই নগররক্ষী। ধীবরের কাছ থেকে রাজার আংটি উদ্ধার হওয়ার সংবাদে তারা মনে করেছিল রাজা অত্যন্ত সন্তুষ্ট হবেন। কারণ এতে তাদের কর্তব্যনিষ্ঠা ও রাজসেবার প্রমাণ মিলবে। এই উক্তির মধ্য দিয়ে রক্ষীদের প্রভুভক্তি ও আত্মপ্রচারের মানসিকতা প্রকাশ পায়।
২২) “তবে তাই হোক”— কোন বিষয়ে কারা সম্মতি প্রকাশ করেছে?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
রাজশ্যালকের প্রস্তাবে ধীবরের আংটি পাওয়ার ঘটনা যাচাই করতে তাকে রাজবাড়িতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুই রক্ষী সূচক ও জানুক সম্মতি প্রকাশ করে। ধীবরের বক্তব্যে সন্দেহ থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজার উপর ছেড়ে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত—এই ধারণা থেকেই তারা সম্মতি জানায়।
২৩) “তুমি আমার একজন বিশিষ্ট প্রিয় বন্ধু হলে”— বক্তা কে, কখন বলেছেন?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
এই উক্তিটির বক্তা রাজশ্যালক। ধীবর নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর এবং তার উদার ও নির্লোভ আচরণ প্রত্যক্ষ করে রাজশ্যালক তাকে এইভাবে সম্বোধন করেন। এই উক্তির মাধ্যমে সামাজিক ভেদাভেদ অতিক্রম করে মানবিক সম্পর্কের প্রতিষ্ঠা ঘটে।
২৪) ‘নিশপিশ’ শব্দের অর্থ কী? কার হাত নিশপিশ করছিল এবং কেন?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
‘নিশপিশ’ শব্দের অর্থ অস্থিরতা বা চঞ্চলতা। প্রথম রক্ষীর হাত নিশপিশ করছিল, কারণ সে নিশ্চিত ছিল ধীবরের মৃত্যুদণ্ড হবে। শাস্তির আগে ফুলের মালা গাঁথার প্রস্তুতির উত্তেজনা ও নিষ্ঠুর আনন্দ থেকেই তার এই অস্থিরতা প্রকাশ পেয়েছে।
২৫) রাজশ্যালক যখন মহারাজের হুকুমনামা নিয়ে আসছিলেন, তখন দ্বিতীয় রক্ষী ধীবরকে কী বলেছিল?
উত্তর: উৎস— ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ, নাট্যকার— মহাকবি কালিদাস
রাজশ্যালককে হুকুমনামা হাতে আসতে দেখে দ্বিতীয় রক্ষী ধীবরকে ভয় দেখিয়ে বলে—তাকে শকুনি বা কুকুর দিয়ে খাওয়ানো হবে। সে নিশ্চিত ছিল মৃত্যুদণ্ডের আদেশ আসছে। এই উক্তিতে দ্বিতীয় রক্ষীর নিষ্ঠুরতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মানসিকতা প্রকাশ পায়।
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর ( মান ৫)
১) ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ অবলম্বনে নাটকের নাট্যরস / নাটকীয় ভঙ্গি / নাট্যদ্বন্দ্ব
উত্তর: নাট্যশিল্পের প্রধান চালিকাশক্তি হল নাট্যদ্বন্দ্ব। চরিত্র ও সংলাপ নাটকের দেহ নির্মাণ করলেও দ্বন্দ্বই সেই দেহে প্রাণ সঞ্চার করে। ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে এই দ্বন্দ্বই নাট্যরসের মূল উৎস হয়ে উঠেছে।
এই নাট্যাংশে বহির্দ্বন্দ্বের প্রকাশ ঘটে ক্ষমতাশালী রাজরক্ষী ও ক্ষমতাহীন ধীবরের সংঘাতে। রক্ষীদের উদ্ধত আচরণ, জাতিগত বিদ্রুপ ও শাস্তির উন্মত্ততার বিপরীতে ধীবরের শান্ত, সংযত ও সত্যনিষ্ঠ আত্মপক্ষ নাটকীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করে। নাটকের শেষে রাজার বিশেষ আনুকূল্য এই বহির্দ্বন্দ্বে হঠাৎ চমক এনে নাট্যরসকে তীব্রতর করে তোলে।
অন্তর্দ্বন্দ্বের স্তরে নাট্যাংশটি আরও গভীর। ধীবর শুধুমাত্র জন্ম ও পেশার কারণে অবমাননার শিকার—এখানে বর্ণাশ্রম প্রথার নিষ্ঠুর রূপ প্রকাশিত হয়। অথচ মানবিক সত্য ও নৈতিক বোধ উচ্চারিত হয় সেই প্রান্তিক মানুষের মুখেই। এই মূল্যবোধগত দ্বন্দ্ব নাটকের অন্তর্লীন শক্তি বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি, অঙ্গুরীয় দর্শনে রাজার নীরব স্থবিরতা তাঁর আত্মকৃত ভুলের অপরাধবোধের ইঙ্গিত দেয়, যা আরেকটি অন্তর্দ্বন্দ্বের স্তর সৃষ্টি করে।
সংলাপের মাধ্যমে চরিত্রগুলির মানসিক স্বরূপ স্পষ্ট হয়েছে—রক্ষীদের নিষ্ঠুরতা, শ্যালকের বিচক্ষণতা ও ধীবরের মানবিকতা নাট্যরসকে পরিণত করেছে।
অতএব, স্বল্প পরিসরেও ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ বহির্দ্বন্দ্ব ও অন্তর্দ্বন্দ্বের শিল্পসমন্বয়ে এক সফল নাট্যরস নির্মাণে সক্ষম হয়েছে।
২) ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশের নামকরণের সার্থকতা
উত্তর: সাহিত্যকর্মের নামকরণ তার বিষয়বস্তু ও শিল্পউদ্দেশ্যের একটি সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ পূর্বাভাস বহন করে। ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশের নামকরণ এই দিক থেকে সম্পূর্ণ সার্থক ও ভাবনাসম্পন্ন।
আলোচ্য নাট্যাংশটি মূলত অভিজ্ঞানম্ শকুন্তলম্ নাটকের একটি সংকলিত অংশ। এখানে নাটকের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক প্রান্তিক মানুষ—ধীবর। নাট্যাংশের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত ঘটনাপ্রবাহ ধীবরকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে। তার বন্দিত্ব, অপমান, আত্মপক্ষ, সত্যকথন এবং শেষপর্যন্ত মুক্তি ও পুরস্কার—এই সমগ্র নাট্যবৃত্ত ধীবরের জীবনঘটনার মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছে। সুতরাং নামকরণে ‘ধীবর’ শব্দটির প্রাধান্য স্বাভাবিক ও যুক্তিসংগত।
অন্যদিকে, ‘বৃত্তান্ত’ শব্দের অর্থ হল কাহিনি বা ঘটনাক্রম। নাট্যাংশে ধীবরের অঙ্গুরীয় প্রাপ্তির অলৌকিক কাহিনি, তার ফলে সৃষ্ট সংকট এবং পরিণতিতে মুক্তিলাভ—সবই একটি ধারাবাহিক বৃত্তান্তরূপে বিন্যস্ত। নাট্যদ্বন্দ্বও ধীবরের বন্দি হওয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার মধ্যেই সমাপ্তি লাভ করেছে।
এখানে লক্ষ্যণীয়, নামকরণটি রাজা বা রাজকেন্দ্রিক নয়; বরং এক অন্ত্যজ মানুষের অভিজ্ঞতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। এর ফলে নাট্যাংশটির মানবিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
অতএব, বিষয়বস্তু, চরিত্র-কেন্দ্রিকতা ও কাহিনির গঠন—সব দিক বিচার করলে ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নামকরণটি সার্বিকভাবে সার্থক ও শিল্পসম্মত বলেই প্রতীয়মান হয়।
৩) ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ অবলম্বনে ধীবর চরিত্র
উত্তর: ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে ধীবর চরিত্রটি মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল প্রতিভূ। নাট্যাংশের সূচনায় ধীবর উপস্থিত হয় বন্দি অবস্থায়—যার মধ্য দিয়ে তার সামাজিক অবস্থান ও অসহায়তা স্পষ্ট হয়। রাজরক্ষীদের হাতে অপমান, ভীতি প্রদর্শন ও জাতিগত বিদ্রুপ ধীবরের হীন অবস্থানকে প্রকাশ করে।
তবে এই প্রান্তিক অবস্থানের মধ্যেও ধীবরের চরিত্র দুর্বল নয়। সে আত্মবিশ্বাসী ও সত্যনিষ্ঠ। নিজের অপরাধহীনতা সে শান্ত ও সংযত ভঙ্গিতে প্রকাশ করে। শাস্তির ভয় দেখানো হলেও সে বিচলিত হয় না। এই স্থৈর্য ও নৈতিক দৃঢ়তা তার চরিত্রকে উচ্চতর মর্যাদা দেয়।
ধীবরের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল পেশাগত আত্মসম্মানবোধ। যখন তার জাতি ও পেশা নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়, তখন সে স্পষ্টভাবে জানায়—মানুষ যে বৃত্তি নিয়ে জন্মায়, তা নিন্দনীয় হলেও পরিত্যাগযোগ্য নয়। এই বক্তব্যে তার মানবিক দর্শন ও আত্মমর্যাদা ফুটে ওঠে।
ধীবর নির্লোভ ও ক্ষমাশীল। রাজা কর্তৃক প্রদত্ত বিপুল অর্থ পুরস্কারেও সে উত্তেজিত হয় না। বরং পুরস্কারের অর্ধেক অংশ রক্ষীদের দিতে চায়। এতে তার উদারতা ও মহত্ত্ব প্রকাশ পায়।
সব মিলিয়ে ধীবর কেবল একটি নাট্যচরিত্র নয়—সে সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানবিক সত্য ও নৈতিক সাহসের প্রতীক। এই কারণেই নাট্যাংশটির কেন্দ্রে ধীবর চরিত্রটি সর্বাধিক উজ্জ্বল।
৪) ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে দুই রক্ষীর চরিত্রগত তুলনা
উত্তর: ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে দুই রাজরক্ষী—সূচক ও জানুক—ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতীক। উভয়ের মধ্যেই উদ্ধত আচরণ, জাতিগত বিদ্বেষ ও শাস্তি-উৎসাহ লক্ষ করা যায়। বন্দি ধীবরকে তারা চোর ও বাটপাড় বলে অপমান করে এবং নির্মম শাস্তির পরিকল্পনায় আনন্দ পায়।
তবে সূচক ও জানুকের চরিত্রে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। সূচক স্বভাবতই আবেগপ্রবণ ও আস্ফালনসর্বস্ব। সে প্রভুর আদেশে অন্ধভাবে পরিচালিত হয় এবং পরিস্থিতি বিচার করার ক্ষমতা তার কম। রাজার অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তে সে হতভম্ব হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে জানুক তুলনামূলকভাবে ধূর্ত ও হিসেবি। সে বাহ্যিকভাবে সংযত থাকলেও অন্তরে লোভ ও হিংসা পোষণ করে। পরিস্থিতি বুঝে নিজের স্বার্থের দিকটি সে আগে বিবেচনা করে। ধীবরের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি অধিক জটিল ও বিদ্বেষপূর্ণ।
পরিশেষে ধীবরের উদারতায় সূচক সহজে নরম হলেও জানুক তা গ্রহণ করে স্বার্থের হিসেবেই। ফলে সূচক সরল কিন্তু নির্বোধ ক্ষমতার দাস, আর জানুক কূটবুদ্ধিসম্পন্ন স্বার্থপর চরিত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়।
এই দুই রক্ষীর চরিত্রের বৈপরীত্য নাটকে সামাজিক ক্ষমতাকাঠামোর ভিন্ন ভিন্ন রূপকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
৫) ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ অবলম্বনে অঙ্গুরীয় প্রাপ্তির কাহিনি
উত্তর: মহাকবি কালিদাস রচিত অভিজ্ঞানম্ শকুন্তলম্ নাটকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ‘ধীবর বৃত্তান্ত’। এই অংশে রাজা দুষ্মন্ত প্রদত্ত অঙ্গুরীয় হারানোর ও পুনরুদ্ধারের কাহিনি বিবৃত হয়েছে।
শকুন্তলা দুষ্মন্তের দেওয়া অভিজ্ঞানস্বরূপ অঙ্গুরীয়টি শচীতীর্থে স্নানের সময় অঞ্জলি দিতে গিয়ে হারান। সেই আংটি এক বিশাল রুইমাছ গিলে ফেলে। পরবর্তীতে সেই মাছ ধরা পড়ে ধীবরের জালে। মাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে কাটতে গিয়ে ধীবর মাছের পেট থেকে অঙ্গুরীয়টি আবিষ্কার করে।
এই রাজচিহ্নবাহী অঙ্গুরীয় বহনের অভিযোগে রাজরক্ষীরা ধীবরকে বন্দি করে। জাতিগত সন্দেহ ও সামাজিক বৈষম্যের কারণে ধীবরের প্রতি চোরের অপবাদ আরোপ করা হয়। যদিও ধীবর শান্তভাবে সত্য ঘটনা জানায়।
রাজশ্যালকের বিচক্ষণতায় বিষয়টি রাজার কাছে পৌঁছায়। রাজা অঙ্গুরীয়টি দেখে স্মৃতিবিহ্বল হন এবং ধীবরের বর্ণনা সত্য বলে প্রমাণিত হয়। ফলস্বরূপ ধীবর মুক্তি পায় এবং রাজকীয় পুরস্কার লাভ করে।
এইভাবে অলৌকিক ঘটনাক্রমে অঙ্গুরীয় প্রাপ্তির কাহিনি নাটকের দ্বন্দ্বের সমাধান ঘটিয়ে নাট্যাংশটিকে পূর্ণতা প্রদান করে।
৬) ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে রাজশ্যালক চরিত্র
উত্তর: ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে রাজশ্যালক চরিত্রটি ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হলেও একমাত্রিক নয়। তিনি নগররক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত সর্বোচ্চ ব্যক্তি হলেও বিচারবোধ ও বিবেচনাশক্তির পরিচয় দেন।
রাজরক্ষীরা ধীবরকে অপরাধী হিসেবে উপস্থিত করলেও রাজশ্যালক তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেন। তিনি চান ধীবর সম্পূর্ণ ঘটনা বলুক। এই আচরণ তার ন্যায়বোধের পরিচায়ক। পাশাপাশি তিনি বিচক্ষণ—নিজে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে অঙ্গুরীয় সম্পর্কিত বিষয়টি রাজার কাছে উপস্থাপন করেন। রাজা অঙ্গুরীয় দর্শনে যে মানসিক আলোড়নের শিকার হন, তা রাজশ্যালক গভীরভাবে লক্ষ করেন। এই পর্যবেক্ষণশক্তি তার অভিজ্ঞ প্রশাসনিক মনোভাবকে প্রকাশ করে।
তবে রাজশ্যালক সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত নন। ধীবরের পেশা ও জাতি নিয়ে তার শ্লেষাত্মক মন্তব্যে সামাজিক অহংকার ও বর্ণবাদী মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। তবুও রাজার সিদ্ধান্তের পর তিনি ধীবরকে সম্মান দেন এবং বন্ধুরূপে গ্রহণ করেন।
এই দ্বৈত বৈশিষ্ট্য—একদিকে সামাজিক সংকীর্ণতা, অন্যদিকে বিচক্ষণ মানবিকতা—রাজশ্যালক চরিত্রকে বাস্তব ও নাট্যগভীর করে তুলেছে।
৭. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে দুই রক্ষীর কথাবার্তায় সমাজের কোন ছবি ফুটে উঠেছে? (৫)
উত্তর: কালিদাস রচিত ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে দুই রক্ষীর কথাবার্তার মধ্য দিয়ে তৎকালীন সমাজের নির্মম শ্রেণিবিভাজন ও বর্ণভিত্তিক বৈষম্যের স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। ধীবরের কাছে রাজার নাম খোদাই করা মণিখচিত আংটি পাওয়ামাত্রই রক্ষীরা কোনো তদন্ত বা বিচার ছাড়াই তাকে চোর বলে সাব্যস্ত করে। এখানে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয় না ঘটনার সত্যতা; বরং ধীবরের পেশা ও সামাজিক অবস্থানই তার অপরাধের একমাত্র ভিত্তি হয়ে ওঠে।
‘গোসাপ-খাওয়া জেলে’, ‘গা থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ’—এই ধরনের উক্তির মাধ্যমে রক্ষীরা নিম্নবর্গীয় শ্রমজীবী মানুষের প্রতি উচ্চবর্গীয় ঘৃণা ও অবজ্ঞাকে প্রকাশ করে। তাদের কথাবার্তায় বোঝা যায়, এই সমাজে দরিদ্র মানুষকে সহজেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং ক্ষমতার আস্ফালনই ন্যায়বিচারের স্থান দখল করে নেয়।
তবে এই নিষ্ঠুরতার বিপরীতে রাজশ্যালকের ভূমিকায় ন্যায়বোধের একটি সম্ভাব্য রেখা দেখা যায়। তিনি ধীবরের বক্তব্য শোনার সুযোগ দেন এবং রাজার সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করেন। ফলে নাট্যাংশে একদিকে যেমন সমাজের কঠোর শ্রেণিচাপ প্রতিফলিত হয়, অন্যদিকে তেমনই মানবিক বিচারবোধের ক্ষীণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতিও লক্ষ করা যায়। এই দ্বন্দ্বই নাট্যাংশটির সামাজিক গভীরতা বৃদ্ধি করেছে।
৮. “এখন মারতে হয় মারুন, ছেড়ে দিতে হয় ছেড়ে দিন”—উক্তির প্রেক্ষাপটে ধীবরের চরিত্র আলোচনা করো। (৫)
উত্তর: উক্তিটি ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র ধীবরের মুখে উচ্চারিত এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ সংলাপ। রাজার নাম খোদাই করা মূল্যবান আংটি তার কাছে পাওয়ায় রাজশ্যালক ও দুই রক্ষী তাকে চোর সন্দেহে বন্দি করে।
ধীবর নিজেকে নির্দোষ ব্যাখ্যা করার সুযোগ পেলেও তার কথা কেউ বিশ্বাস করতে চায় না; বরং তার পেশা ও জাতিগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে ব্যঙ্গ ও অপমান বর্ষিত হয়।
এই চরম অসম ও অপমানজনক পরিস্থিতির মধ্যেই ধীবর শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলে—“এখন মারতে হয় মারুন, ছেড়ে দিতে হয় ছেড়ে দিন।” এই উক্তির মধ্য দিয়ে তার চরিত্রের কয়েকটি উজ্জ্বল দিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমত, ধীবর সৎ ও আত্মবিশ্বাসী—কারণ সে জানে সত্য শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হবেই।
দ্বিতীয়ত, সে সংযত ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন—অপমানের জবাবে সে রূঢ়তা বা ক্রোধ প্রদর্শন করে না।
তৃতীয়ত, সে বাস্তববাদী—নিজের অসহায় অবস্থাকে নাটকীয় না করে সহজ ভাষায় প্রকাশ করে।
এই সংলাপ ধীবরকে কেবল এক নির্যাতিত জেলে নয়, বরং নাট্যাংশের নৈতিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তার শান্ত দৃঢ়তা মানবিক শক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
৯. “এই তো আমাদের প্রভু, মহারাজের সুকুমনামা হাতে নিয়ে এদিকে আসছেন”—উক্তিটির ব্যাখ্যা করো। (৫)
উত্তর: উক্তিটিতে ‘আমাদের প্রভু’ বলতে রাজা দুষ্মন্তের শ্যালকের কথাই বোঝানো হয়েছে। ধীবরকে চোর সন্দেহে ধরে আনার পর দুই রক্ষী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছিল যে রাজার আদেশে তার কঠোর শাস্তি—এমনকি মৃত্যুদণ্ড—নির্ধারিত হবে। সেই প্রত্যাশাতেই তারা উত্তেজিত হয়ে অপেক্ষা করছিল এবং শাস্তির কল্পনায় একপ্রকার নিষ্ঠুর আনন্দ অনুভব করছিল।
এই মানসিক অবস্থার মধ্যেই উক্তিটি উচ্চারিত হয়, যা রক্ষীদের ক্ষমতামুখী মনোভাব ও অন্ধ আনুগত্যকে স্পষ্ট করে। তারা ধরে নেয়, শাসকের আদেশ মানেই কঠোর দণ্ড—ন্যায়বিচারের কোনো প্রশ্নই সেখানে ওঠে না।
কিন্তু ঘটনার পরিণতি সম্পূর্ণ বিপরীত। রাজশ্যালক রাজা দুষ্মন্তের কাছে আংটি ও ধীবরের বক্তব্য পেশ করলে রাজা আংটিটি দেখে পূর্বস্মৃতি ফিরে পান এবং উপলব্ধি করেন যে ধীবর নির্দোষ। ফলে রাজার আদেশে ধীবর কেবল মুক্তিই পায় না, বরং আংটির মূল্যের সমান অর্থ পুরস্কারও লাভ করে। এতে রক্ষীদের সমস্ত নিষ্ঠুর প্রত্যাশা ভেঙে পড়ে।
এই উক্তি ও তার পরিণতির মধ্য দিয়ে নাট্যাংশে ক্ষমতার অন্ধ প্রয়োগ ও ন্যায়বিচারের চূড়ান্ত বিজয়ের দ্বন্দ্ব স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
১০. নাট্যকাহিনিতে উপস্থিত না থেকেও রাজা দুষ্মন্ত কীভাবে কাহিনিকে প্রভাবিত করেছেন? (৫)
উত্তর: কালিদাস রচিত ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে রাজা দুষ্মন্ত মঞ্চে প্রত্যক্ষভাবে উপস্থিত না থাকলেও কাহিনির নিয়ামক শক্তি হিসেবে তিনি সর্বত্র কার্যকর। ধীবরের বিরুদ্ধে ওঠা চুরির অভিযোগ থেকে শুরু করে তার মুক্তি ও পারিতোষিক প্রাপ্তি—সমগ্র ঘটনাপ্রবাহই রাজার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।
নাট্যাংশে রাজশ্যালক যখন ধীবরের কাছ থেকে পাওয়া মণিখচিত আংটি নিয়ে রাজার কাছে উপস্থিত হন, তখনই কাহিনির মোড় ঘুরে যায়। আংটিটি দেখে রাজা মুহূর্তের জন্য বিহ্বল হয়ে পড়েন—কারণ এই স্মৃতিচিহ্ন দুর্বাসা মুনির অভিশাপের শর্ত অনুযায়ী তাঁর হারানো স্মৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করে। শকুন্তলার স্মৃতি ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজা উপলব্ধি করেন যে ধীবর কোনো অপরাধী নয়, বরং ঘটনাচক্রে ন্যায়বিচারের বাহক।
এই উপলব্ধির ফলেই রাজা ধীবরের নির্দোষিতা স্বীকার করেন এবং তাকে শুধু মুক্তিই দেন না, বরং আংটির মূল্যের সমান অর্থ পারিতোষিক হিসেবে প্রদান করেন। এই সিদ্ধান্ত নাটকের কেন্দ্রীয় সংকটের সমাধান ঘটায় এবং রক্ষীদের ক্ষমতার আস্ফালনকে অর্থহীন করে তোলে।
অতএব বলা যায়, মঞ্চে অনুপস্থিত থেকেও রাজা দুষ্মন্ত ন্যায়বোধ, মানবিকতা ও শাসকসুলভ দায়িত্ববোধের প্রতীক হয়ে নাট্যকাহিনিকে চূড়ান্ত অর্থে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। এইভাবেই কালিদাস এক আদর্শ শাসকের ধারণাকে নাট্যরূপ দিয়েছেন।
