দাসত্ব-উত্তর দেহের খেলা: ব্রাজিল ও জোগো বনিতো | পর্ব- ৪

লিওনিদাস আকাশে উঠেছিলেন

কিন্তু আকাশে ওঠা মানেই সেখানে থাকা নয়

উড়তে জানলেই পথ জানা হয়ে যায় না

একসময় দেহকে শিখতে হয়— কখন উঠবেকতটা উঠবেআর কখন আবার মাটিতে ফিরবে

এই শেখা থেকেই ব্রাজিল ফুটবলে বুদ্ধির শুরু

জিজিনহো ও ডিডি: স্কিল থেকে বুদ্ধিতে উত্তরণ

ব্রাজিলীয় ফুটবলের ইতিহাসে জিজিনহো ও ডিডি, সেই দুই ফুটবলীয় শরীর, যাদের হাত ধরে স্কিল আর কেবল মুহূর্তের বিস্ময় থাকে না; চিন্তার ভেতরে ঢুকে পড়ে স্কিল। এঁরা কেউই লিওনিদাসের মতো বিস্ফোরক নন। তাঁদের খেলায় আকাশ কম, মাটি বেশি। কিন্তু এই মাটিতেই খেলার নতুন মানচিত্র আঁকা হয়। জিজিনহোর খেলায় প্রথম যে জিনিসটা চোখে পড়বে, তা হলো সংযম। এই সংযম কোনো ভয় থেকে আসা নয়; আত্মবিশ্বাসের ফল। যে দেহ নিজের ক্ষমতা জানে, তাকে সবসময় প্রমাণ করতে হয় না। জিজিনহো জানতেন— স্কিল যদি সবসময় প্রকাশ পায়, তাহলে স্কিল ক্লান্ত হয়ে যায়। এই উপলব্ধিই তাঁকে আলাদা করে।

জিজিনহোর ড্রিবল ছিল, কিন্তু তা উচ্চমাত্রায় প্রকাশ হতো না। তাঁর পাস ছিল, কিন্তু তা দেখানোর জন্য নয়। মাঠে তাঁর চলাফেরা এমন ছিল, যেন তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না— তবু খেলা এগোচ্ছে। এই ধীরতা আসলে নিয়ন্ত্রণ। সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ। যে সময়বোধ ব্রাজিলীয় ফুটবলের এক নতুন অধ্যায়। এর আগে স্কিল ছিল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। জিজিনহোর হাতে স্কিল হয়ে ওঠে সিদ্ধান্ত। কখন ড্রিবল করা যাবে, কখন করা যাবে না— এই নির্বাচন-ই বুদ্ধির প্রথম চিহ্ন। এখানে এক সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটে। ফুটবল আর কেবল দেহের ভাষা থাকে না; ফুটবল হয়ে ওঠে দেহ ও চিন্তার সংলাপ। দেহ আর চিন্তাকে তখন আলাদা করে না। চিন্তা দেহে নামে, দেহ চিন্তা করে। এই সমন্বয়ই জিজিনহোর সবচেয়ে বড়ো অবদান। যদি লিওনিদাস দেহকে মুক্ত করেন, জিজিনহো ফুটবলে আনেন চিন্তার গতি। তিনি ছিলেন এমন এক খেলোয়াড়, যিনি বুঝেছিলেন স্কিল শুধু পা দিয়েই নয়, মস্তিষ্ক দিয়েও করতে হয়। তাই তার ড্রিবল ছিল পরিমিত, পাস ছিল সময়োপযোগী, শট ছিল সিদ্ধান্তপ্রসূত। তিনি প্রথম ব্রাজিলীয় খেলোয়াড় যাঁর খেলায় দেখা যায় স্পেস সেন্স—  কোথায় জায়গা তৈরি হবে, কখন পাস যাবে, কখন শট। এই কারণেই পেলে বলেছিলেন— তিনি জিজিনহোর মতো খেলতে চান। এই কথাটার ভেতরে কোনো সৌজন্য নেই; আছে উত্তরাধিকার। এর মানে, পেলের পূর্ণতার শিকড় এই যুগেই। পেলে বুঝেছিলেন— শুধু স্কিল থাকলেই চলবে না। স্কিলকে বাঁচাতে হলে তাকে বুদ্ধির আশ্রয় দিতে হবে।

জিজিনহো সেই আশ্রয় তৈরি করেছিলেন। কিন্তু জিজিনহো যদি বুদ্ধির প্রথম রূপ হন, তাহলে ডিডি সেই বুদ্ধির গভীরতা। ডিডির খেলায় চমক কম ছিল। তাঁর নাম শুনলেই চোখে কোনো নির্দিষ্ট মুভ ভেসে ওঠে না— যেমন গ্যারিঞ্চার ড্রিবল বা পেলের ফিনিশ। কিন্তু খেলা দেখলে বোঝা যায়— খেলার ছন্দ তাঁর হাতেই। ডিডি খেলতেন মাঝমাঠে, সেই জায়গায় যেখানে সময় সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করে। এখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নেই, তবু সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই জায়গায় স্কিলের চেয়ে বেশি দরকার ভারসাম্য। ডিডির খেলায় সেই ভারসাম্য ছিল নিখুঁত। তিনি জানতেন— কখন খেলা থামাতে হবে, কখন গতি বাড়াতে হবে। এই থামানো এবং বাড়ানো— দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গতি যদি সবসময় বাড়ে, খেলা ভেঙে পড়ে। আবার যদি বেশি সময় থামে, খেলা জমাট বেঁধে যায়। এই টেম্পো-নিয়ন্ত্রণ ব্রাজিলীয় ফুটবলের জন্য ছিল এক নতুন শিক্ষা। আগে-পর্যন্ত সৌন্দর্য মানে ছিল গতি। ডিডিই দেখালেন— সৌন্দর্য মানে গতি নয়; সৌন্দর্য মানে যতিও। সময়োপযোগী যতিচিহ্নের যথার্থতা।

ফলত এই খেলায় বিজ্ঞান নিজে থেকেই ঢুকে পড়ে। কোনো সূত্রের নাম না-বলেই ডিডির খেলায় ভারসাম্য কাজ করে। বলের গতি, বাতাসের প্রতিরোধ, নিজের শরীরের ওজন— সবকিছু একসঙ্গে হিসেব করা হয়। দেহ দিয়ে পরীক্ষা করা। তার ভেতরেই আছে ব্রাজিলীয় বুদ্ধির বিশেষত্ব। আগেই বলেছি, এখানে বুদ্ধি প্রাতিষ্ঠানিক নয়, অনুশীলিত। চেষ্টা ও কার্যকরী উৎপাদনের প্রক্রিয়া থেকে আসে। আসে ভুল থেকে। তাই ডিডির খেলায় ভুল গোপন থাকে না। সেখানে ভুলকে ঢেকে রাখা হয়নি; ভুল থেকে শেখা হয়েছে। এই শেখাটাই স্কিলকে স্থায়ী করে। ফুটবলের ইতিহাসে তিনি এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি বলের সঙ্গে শুধু সম্পর্ক তৈরি করেননি; সংলাপ তৈরি করেছিলেন। তাঁর প্রকৃত নাম ভালদির পেরেইরা, কিন্তু পৃথিবী তাঁকে ডিডি নামে চেনে। তাঁর ফুটবলীয় শিল্প-বিপ্লব ছিল নীরব। বলা যায় নেপথ্যের।

ডিডি বুঝেছিলেন— ফুটবলের একটা মূল বিষয় হলো সময়। অনেক খেলোয়াড় জায়গা দেখতে পারেন। অনেক খেলোয়াড় পাস দিতে পারেন। কিন্তু কখন পাস দিতে হবে, কখন গতি কমাতে হবে, কখন খেলা ধীর করতে হবে— এই অনুভূতি খুব কম খেলোয়াড়ের থাকে। ডিডির সবচেয়ে বড়ো প্রতিভা এখানেই। তাঁর নামের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে আছে ‘ফলহা সেকা’। এর অর্থ ‘ঝরা পাতা’। তাঁর ফ্রি-কিকের বল বাতাসে এমনভাবে চলত, যেন শুকনো পাতা পড়ে যাচ্ছে। প্রথমে মনে হতো বল সোজা যাচ্ছে, তারপর হঠাৎ নিচে নেমে আসত। এ শুধু কৌশল নয়; এক নিবিড় পর্যবেক্ষণ। তিনি বুঝেছিলেন যে বলেরও আচরণ আছে। শক্তি দিয়ে সবসময় সমস্যা সমাধান হয় না। কখনো কখনো আচরণ বোঝা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। খেলার মধ্যে বলের সঙ্গে বিজ্ঞানের সংলাপ রচনা তারই কৃতিত্ব। এখানেই ফুটবলে পদার্থবিদ্যার প্রবেশ ঘটে। বলকে কীভাবে কম স্পিন দিয়ে মারা যায়, বাতাসে কীভাবে তার আচরণ বদলায়— ডিডি এগুলো অনুভব করেছিলেন শরীর দিয়ে, সূত্র দিয়ে নয়। এই স্কিল পরবর্তী যুগে ‘নাকলবল’ (এই টেকনিকটি ফুটবলের ইতিহাসে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন ব্রাজিলের আরেক বিখ্যাত ফুটবলার জুনিনহো), ‘ডিপিং ফ্রি-কিক’, ‘ডেড বল’ স্পেশালিস্টদের জন্ম দেয়। ডিডি দেখান— ব্রাজিলীয় স্কিল কেবল আবেগ নয়, পরীক্ষামূলক কল্পনাও। তার আরও বড়ো কৃতিত্ব ছিল মিডফিল্ডের নতুন ব্যাকরণ তৈরি করা। তিনি দেখিয়েছিলেন যে মাঝমাঠ কেবল পাসের জায়গা নয়; পুরো খেলার কেন্দ্র। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে পেলে ছিলেন আলো, কিন্তু ডিডি ছিলেন সেই আলোর পোস্ট, যাকে অবলম্বন করে আলো দাঁড়িয়ে ছিল। তরুণ পেলের জন্য জায়গা, সময় ও নিরাপত্তা তৈরির কাজ তিনি করেছিলেন। সুন্দর খেলা শুধু হৃদয়ের বিষয় নয়; মস্তিষ্কেরও বিষয়– তা তিনিই প্রমাণ করেছিলেন।

এখানে একটা বাড়তি সংযোজন করে বলি, ব্রাজিলীয় ফুটবলের ইতিহাসে কিছু খেলোয়াড় শিল্পী হিসেবে মনে গেঁথে আছেন, কিছু খেলোয়াড় জাদুকর হিসেবে। ভাভা তাঁদের কেউ নন। তিনি অন্যরকম। তিনি ছিলেন প্রয়োজনের মানুষ। কারণ একটি মহান দলে শুধু শিল্পী দিয়ে হয় না। সেখানে এমন মানুষও লাগে, যারা মুহূর্তকে বাস্তবে পরিণত করে। ভাভার খেলার মধ্যে গ্যারিঞ্চার অনিয়ম ছিল না, পেলের পূর্ণতা ছিল না, ডিডির বুদ্ধিবৃত্তিক নিয়ন্ত্রণও ছিল না। কিন্তু তাঁর মধ্যে ছিল এক অদ্ভুত দৃঢ়তা। তিনি গোলের সামনে অপ্রয়োজনীয় কিছু করতেন না। ফুটবলের সবচেয়ে বড়ো ভুলগুলোর একটি হলো এই মনে করা যে, সৌন্দর্য মানেই জটিলতা। ভাভা দেখালেন— সৌন্দর্য কখনো কখনো সরলতাও। ১৯৫৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে তাঁর গোলগুলো এর প্রমাণ। সেখানে অতিরিক্ত কোনো স্কিল ছিল না, অপ্রয়োজনীয় নাটকও ছিল না। ছিল সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা। তিনি এভাবে বলতে চান না যে, “দেখো আমি কী করতে পারি।” বরং তাঁর খেলা যেন বলতে চেয়েছে, “যা প্রয়োজন, আমি সেটাই করব।” ফুটবলে এই মানসিকতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সৌন্দর্য যদি বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত না-থাকে, তাহলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ভাভা সেই বাস্তবতার প্রতিনিধি। তিনি ব্রাজিলীয় ফুটবলকে শিখিয়েছিলেন— শিল্পের পাশে সাহসও দরকার। কারণ শেষপর্যন্ত কল্পনাকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য কাউকে এগিয়ে আসতেই হয়। ভাভাই প্রমাণ করেছিলেন— ব্রাজিলীয় ফুটবলার মানেই শুধু শিল্পী নয়; প্রয়োজনে তিনি যোদ্ধা। এই ভারসাম্যই বলা যায়, ব্রাজিলকে অনতিবিলম্বে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বানাবে।

যাই হোক, জিজিনহো ও ডিডির মধ্যে একটি মিল আছে— দুজনেই জানতেন, খেলার সব সৌন্দর্য চোখে পড়তে হবে না। কিছু সৌন্দর্য খেলার ভেতরে থাকবে। দর্শক তা অনুভব করবে, কিন্তু ধরতে পারবে না। এই অনুভূতির সৌন্দর্যই গভীর। যা ছাড়া ব্রাজিলীয় ফুটবল পরিণত হতে পারত না। কারণ বিস্ময় দিয়ে শুরু করা যায়, কিন্তু বিস্ময় দিয়ে দীর্ঘদিন টিকে থাকা যায় না। একসময় বিস্ময়ও স্বাভাবিক হয়ে যায়। তখন দরকার হয় এমন সৌন্দর্য, যা প্রতিদিন কাজ করে। জিজিনহো ও ডিডি সেই প্রতিদিনের সৌন্দর্যের স্থপতি। এর ফলে একটি বড়ো পরিবর্তনও ঘটে। স্কিল আর কেবল অধিকার হয়ে থাকে না; স্কিল হয়ে ওঠে দায়িত্ব। দায়িত্ব মানে— কখন স্কিল ব্যবহার করা উচিৎ, আর কখন নয়। এই বোধ ছাড়া স্কিল আত্মঘাতী হয়ে পড়ে। এই বোধই ব্রাজিলীয় ফুটবলের পরবর্তী যুগের ভিত।

সম্ভবত এই কারণেই জিজিনহো ও ডিডিকে প্রায়শই প্রচারের কম আলোয় দেখা হয়। কারণ তাঁদের খেলায় মুহূর্তের উল্লাস কম, দীর্ঘস্থায়ী ছাপ বেশি। তাঁরা দর্শকের হাততালি চাননি; তাঁরা খেলার স্থায়িত্ব চেয়েছেন। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড়ো উপহার যে স্থায়িত্ব। পেলে, রিভেলিনো, তোস্তাও, ফালকাও, সক্রেটিস, জিকো, কারেকা, রিভালদো— সবাই এই উত্তরাধিকার বহন করেছেন। মানে কেবল টেকনিক নয়। মানে একটি দৃষ্টিভঙ্গি— সুন্দরভাবে খেলতে হলে বুঝতে হবে, কখন সৌন্দর্যকে আড়াল করতে হয়। ভীরুতায় নয়। পরিণতিবোধে আড়াল। এর ভেতর দিয়েই ব্রাজিলীয় ফুটবল পরের ধাপে পৌঁছায়। স্কিল তখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকে না। স্কিল হয়ে ওঠে খেলার সন্ধ্যাভাষা। বুদ্ধি সেই ভাষার ব্যাকরণ। তারপরেই সম্ভব হয় পূর্ণতা। যেখানে স্কিল, বুদ্ধি ও সাহস একসঙ্গে কাজ করে। যেখানে সৌন্দর্য আর প্রশ্নের মুখে পড়ে না।

মানুষ সাধারণত ১৯৫৮-কে মনে রাখে পেলের ফুটবল-সম্রাট হওয়ার জন্মমুহূর্ত হিসেবে। ইতিহাসের স্মৃতিরও একটি স্বভাব আছে— সে আলোকে মনে রাখে, কিন্তু আলোর উৎসগত কাঠামোকে নয়; সে দীপ্তিকে দেখে, কিন্তু তার পেছনের কার্যকরী বিন্যাসকে প্রায়ই উপেক্ষা করে। অথচ প্রতিটি সূর্যের পেছনে এক অদৃশ্য মহাকর্ষ কাজ করে, যা তাকে কেবল উজ্জ্বল করে না, তাকে তার কক্ষপথেও স্থির রাখে। ব্রাজিলের সেই ১৯৫৮-র সূর্যের পেছনে এমনই নীরব শক্তি ছিলেন ডিডি ও ভাভা। বিশেষ করে ডিডি। তিনি শুধু পাস দেননি; সময়-ও নির্মাণ করেছিলেন। তিনি শুধু বল বাড়াননি; তিনি সম্ভাবনার জন্য জায়গা খুলে দিয়েছিলেন। তরুণ পেলের সামনে তিনি এমন এক মানসিক ও কৌশলগত আশ্রয় গড়ে দিয়েছিলেন, যেখানে প্রতিভা নিজের স্বাভাবিক ছন্দে শ্বাস নিতে পারে। কারণ প্রতিভা কখনো শূন্যে জন্মায় না। সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতিভারও প্রয়োজন হয় এক ধরনের নিরাপদ আকাশ, যেখানে সে ভয়ের সংকোচন ছাড়াই নিজেকে বিস্তার করতে পারে।  ডিডি সেই আকাশের বা পটভূমির নির্মাতা ছিলেন। তিনি জানতেন, মহত্ত্বের সবচেয়ে গভীর রূপ সবসময় দৃশ্যমান হয় না। কিছু মানুষ নিজের আলোয় পৃথিবী আলোকিত করেন; আবার কিছু মানুষ নিজের আলোকে সংযত করে বা তাকে রূপান্তরিত করে অন্যের আলোকে বিকশিত ও প্রসারিত করার কাজ করে চলেন। দ্বিতীয় কাজটি কিন্তু যথেষ্ঠ কঠিন। কারণ সেখানে অহং-এর তুলনায় বেশি প্রয়োজন উদারতার, দৃশ্যমানতার চেয়ে প্রয়োজন বেশি দূরদৃষ্টির, অর্জনের চেয়ে বেশি থাকা চাই ত্যাগের তাগিদ, আত্মপ্রচারের চেয়ে বেশি চাই স্ব-ক্ষমতার আত্মোপলব্ধি। এই কারণেই ফুটবলের অনেক প্রকৃত বড়ো খেলোয়াড় শুধু নিজেদের জন্য খেলেন না। তারা খেলার ভেতরে এমন জায়গা তৈরি করেন, যেখানে অন্যরাও নিজেদের সম্ভাবনায় পৌঁছাতে পারে। তারা শুধু ইতিহাসের চরিত্র নয়; তারা ইতিহাসের শর্তও। ডিডি ছিলেন তেমনই একজন— যিনি নিজে মহান হয়েছেন কি হননি, সে-কথা প্রধান নয়; কিন্তু অন্যের মহত্ত্বকে সম্ভব করে তুলেছিলেন – এ-কথা ঐতিহাসিকভাবে সত্য, তাই নিশ্চিতভাবেই বিশ্ব-ফুটবলের মনোজগতেও সত্য।

সেই পূর্ণতা ও সত্যের গল্পই পরের পর্বে—

যেখানে ফুটবল আর নিজের সঙ্গে তর্ক করে না—

ফুটবল যখন নিজেকেই মানদণ্ড বানায়—

(চলবে…)

### ড. অনিশ রায়

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top