বাংলা বাগধারা

অর্থ, ব্যঞ্জনা ও বাক্যে স্বাভাবিক প্রয়োগের শ্রেষ্ঠ সংকলন

বাগধারা কী

বাগধারা হল এমন শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ তার প্রত্যেকটি শব্দের আক্ষরিক অর্থ যোগ করে পাওয়া যায় না; প্রচলিত ব্যবহারে শব্দগুচ্ছটি বিশেষ বা রূপক অর্থ লাভ করে। ফলে ‘চোখে ধুলো দেওয়া’ মানে চোখে সত্যিই ধুলো দেওয়া নয়, ‘প্রতারণা করা’; ‘অরণ্যে রোদন’ মানে জঙ্গলে বসে কান্না নয়, বরং নিষ্ফল আবেদন। বাংলা ভাষার সৌন্দর্য, সংক্ষিপ্ততা ও ব্যঞ্জনা অনেকখানি বাগধারার উপর নির্ভরশীল।

আর একটা কথা মনে রাখা জরুরি—বাগধারা আর প্রবাদ এক নয়। বাগধারা সাধারণত বাক্যের অংশ হয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে; প্রবাদ অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বাক্য এবং তার মধ্যে কোনো অভিজ্ঞতা, সত্য বা নীতিবোধ নিহিত থাকে।


অ

১. অকাল কুষ্মাণ্ড

অর্থ: অপদার্থ, অকর্মণ্য ব্যক্তি।
বাক্যে: এত সুযোগ পেয়েও যে মানুষ নিজের জীবনটাকে গড়ে তুলতে পারে না, তাকে অকাল কুষ্মাণ্ড ছাড়া আর কী বলা যায়!

২. অকালপক্ব

অর্থ: বয়সের তুলনায় অতিরিক্ত পাকা বা পরিণত।
বাক্যে: ছেলেটার অকালপক্ব কথাবার্তায় কখনও কখনও তার শৈশবটাকেই হারিয়ে যেতে দেখি।

৩. অগাধ জলের মাছ

অর্থ: অত্যন্ত চালাক ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি।
বাক্যে: তাকে সহজে ঠকানো যাবে না; ব্যবসার জগতে সে অগাধ জলের মাছ।

৪. অগস্ত্যযাত্রা

অর্থ: চিরদিনের জন্য চলে যাওয়া।
বাক্যে: বাবার মৃত্যুর পর সংসারের শেষ অবলম্বনটিও যেন অগস্ত্যযাত্রা করল।

৫. অচল পয়সা

অর্থ: মূল্যহীন বা অযোগ্য ব্যক্তি।
বাক্যে: দুর্নীতির রাজনীতিতে সৎ মানুষকে অনেক সময় অচল পয়সার মতো মনে করা হয়।

৬. অন্ধের যষ্টি

অর্থ: একমাত্র অবলম্বন।
বাক্যে: বৃদ্ধ মায়ের কাছে ছেলেটিই ছিল অন্ধের যষ্টি।

৭. অরণ্যে রোদন

অর্থ: নিষ্ফল আবেদন বা অভিযোগ।
বাক্যে: ক্ষমতাবানের কাছে গরিবের ন্যায়বিচারের আবেদন যেন অরণ্যে রোদন।

৮. অর্ধচন্দ্র

অর্থ: ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া।
বাক্যে: সভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় তাকে অর্ধচন্দ্র দিয়ে বের করে দেওয়া হলো।

৯. অশ্বডিম্ব

অর্থ: অসম্ভব বা অলীক বস্তু।
বাক্যে: কাজ না করে রাতারাতি সাফল্য পাওয়ার স্বপ্ন দেখা অশ্বডিম্বের প্রত্যাশা।

১০. অগ্নিশর্মা

অর্থ: অত্যন্ত রাগান্বিত।
বাক্যে: ছেলের অন্যায় দেখে শান্ত স্বভাবের মানুষটিও অগ্নিশর্মা হয়ে উঠলেন।


আ

১১. আকাশকুসুম

অর্থ: অলীক কল্পনা।
বাক্যে: কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই রাতারাতি ধনী হওয়ার স্বপ্ন নিছক আকাশকুসুম।

১২. আকাশপাতাল

অর্থ: বিরাট পার্থক্য।
বাক্যে: দুই বন্ধুর স্বভাবের মধ্যে আকাশপাতাল তফাত, তবু বন্ধুত্বে তার কোনো ছেদ পড়েনি।

১৩. আক্কেল সেলামি

অর্থ: নির্বুদ্ধিতার জন্য প্রাপ্ত শাস্তি।
বাক্যে: না ভেবেই টাকা বিনিয়োগ করে সব হারিয়ে সে ভালোই আক্কেল সেলামি পেল।

১৪. আঁতে ঘা

অর্থ: মর্মে আঘাত লাগা।
বাক্যে: নিজের ব্যর্থতার কথা প্রকাশ্যে শুনে কথাটা তার আঁতে ঘা দিল।

১৫. আদা জল খেয়ে লাগা

অর্থ: দৃঢ় সংকল্পে কাজে লেগে যাওয়া।
বাক্যে: বহুবার ব্যর্থ হয়েও সে আদা জল খেয়ে আবার পড়াশোনায় লেগে গেল।

১৬. আকাশ থেকে পড়া

অর্থ: অত্যন্ত বিস্মিত হওয়া।
বাক্যে: বন্ধুর মুখে নিজের নামে এমন অভিযোগ শুনে সে যেন আকাশ থেকে পড়ল।

১৭. আঙুল ফুলে কলাগাছ

অর্থ: অল্প সময়ে অত্যন্ত ধনী বা প্রভাবশালী হয়ে ওঠা।
বাক্যে: কয়েক বছরের মধ্যেই ব্যবসা করে তার আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে।

১৮. আগুন নিয়ে খেলা

অর্থ: বিপজ্জনক কাজ করা।
বাক্যে: সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ নিয়ে রাজনীতি করা আগুন নিয়ে খেলারই নামান্তর।

১৯. আগুনে ঘি ঢালা

অর্থ: উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেওয়া।
বাক্যে: উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তার উসকানিমূলক মন্তব্য আগুনে ঘি ঢালল।

২০. আগুন ঝরা

অর্থ: অত্যন্ত তীব্র বা উত্তেজনাপূর্ণ কথা বলা।
বাক্যে: মঞ্চে উঠে তাঁর কণ্ঠ থেকে আগুন ঝরছিল।


ই

২১. ইঁদুরকপালে

অর্থ: অত্যন্ত দুর্ভাগ্য।
বাক্যে: এত পরিশ্রম করেও বারবার ব্যর্থ হওয়ায় মনে হলো তার ইঁদুরকপাল।

২২. ইতি টানা

অর্থ: সমাপ্ত করা।
বাক্যে: দীর্ঘ বিতর্কের শেষে সভায় আলোচনায় ইতি টানা হলো।


উ

২৩. উলুবনে মুক্তো ছড়ানো

অর্থ: অনুপযুক্ত স্থানে মূল্যবান জিনিস দেওয়া।
বাক্যে: যে মানুষ বই পড়ার মূল্যই বোঝে না, তাকে জ্ঞানের কথা বলা উলুবনে মুক্তো ছড়ানো।

২৪. উভয় সংকট

অর্থ: দুই দিক থেকেই বিপদ।
বাক্যে: সত্য বললেও বিপদ, চুপ থাকলেও বিপদ—সে পড়েছে উভয় সংকটে।

২৫. উড়ো চিঠি

অর্থ: পরিচয়হীন বা বেনামি চিঠি।
বাক্যে: একটি উড়ো চিঠির অভিযোগে কাউকে অপরাধী বলা যায় না।


এ

২৬. একচোখা

অর্থ: পক্ষপাতদুষ্ট।
বাক্যে: বিচার যদি একচোখা হয়, তাহলে সত্য কখনও ন্যায় পায় না।

২৭. এক ঢিলে দুই পাখি

অর্থ: এক কাজে দুই উদ্দেশ্য সাধন।
বাক্যে: একই সফরে আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা এবং ব্যবসার কাজ সেরে সে এক ঢিলে দুই পাখি মারল।

২৮. একাদশে বৃহস্পতি

অর্থ: সৌভাগ্যের সময়।
বাক্যে: চাকরি, বাড়ি, সম্মান—সব একসঙ্গে পাওয়ায় মনে হচ্ছে তার একাদশে বৃহস্পতি।


ক

২৯. কপাল পোড়া

অর্থ: দুর্ভাগা।
বাক্যে: কপাল পোড়া মানুষটার সুখ যেন কোনোদিনই স্থায়ী হলো না।

৩০. কপাল খোলা

অর্থ: ভাগ্য সুপ্রসন্ন হওয়া।
বাক্যে: এতদিনের অপেক্ষার পর চাকরিটা পেয়ে ছেলেটার কপাল খুলে গেল।

৩১. কানে তেল দেওয়া

অর্থ: কোনো কথায় কর্ণপাত না করা।
বাক্যে: যতই বোঝানো হোক, সে কানে তেল দিয়ে নিজের কাজ করে গেল।

৩২. কান ভারী করা

অর্থ: কারও বিরুদ্ধে অন্যের মনে সন্দেহ বা বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করা।
বাক্যে: কয়েকজনের কথায় তার কান ভারী হয়ে যাওয়ায় পুরোনো বন্ধুত্বে ফাটল ধরল।

৩৩. কানে তুলো দেওয়া

অর্থ: ইচ্ছাকৃতভাবে না শোনা।
বাক্যে: অন্যায়ের বিরুদ্ধে চারদিক থেকে আওয়াজ উঠলেও প্রশাসন যেন কানে তুলো দিয়ে বসে রইল।

৩৪. কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা

অর্থ: এক বিপদ দিয়ে অন্য বিপদ দূর করা।
বাক্যে: দুর্নীতিবাজকে সরাতে আর-এক দুর্নীতিবাজকে ব্যবহার করা কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতো।

৩৫. কুমিরের কান্না

অর্থ: মিথ্যা বা কৃত্রিম দুঃখপ্রকাশ।
বাক্যে: গরিবের ঘর ভেঙে দিয়ে পরে তার দুঃখে কুমিরের কান্না কেঁদে লাভ কী?


ঘ

৩৬. ঘরের শত্রু বিভীষণ

অর্থ: আপনজনের মধ্যকার বিশ্বাসঘাতক।
বাক্যে: বাইরে শত্রু যতটা ভয়ংকর, ঘরের শত্রু বিভীষণ অনেক সময় তার চেয়েও বিপজ্জনক।

৩৭. ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘে ভয়

অর্থ: অতীতের অভিজ্ঞতায় সামান্য বিপদেও ভয় পাওয়া।
বাক্যে: আগেরবার প্রতারিত হওয়ার পর সে এখন ঘর পোড়া গরু, সিঁদুরে মেঘ দেখলেও ভয় পায়।

৩৮. ঘোড়ার ডিম

অর্থ: কিছুই নয়।
বাক্যে: এত প্রচারের পর শেষ পর্যন্ত প্রকল্প থেকে বেরোল ঘোড়ার ডিম।

৩৯. ঘোড়ার আগে গাড়ি জোতা

অর্থ: কাজের স্বাভাবিক ক্রম উল্টে ফেলা।
বাক্যে: কাজের পরিকল্পনা না করে কর্মী নিয়োগ করা ঘোড়ার আগে গাড়ি জোতার মতো।


চ

৪০. চক্ষুশূল

অর্থ: অত্যন্ত অপছন্দের ব্যক্তি।
বাক্যে: দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলায় তিনি প্রভাবশালী মহলের চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিলেন।

৪১. চোখে সর্ষেফুল দেখা

অর্থ: বিপদে দিশেহারা হওয়া।
বাক্যে: হঠাৎ দুর্ঘটনার খবর শুনে পরিবারের লোকেরা চোখে সর্ষেফুল দেখল।

৪২. চোখে ধুলো দেওয়া

অর্থ: প্রতারণা করা।
বাক্যে: বাহ্যিক চাকচিক্য দিয়ে মানুষের চোখে ধুলো দেওয়া যায়, সত্যকে চিরকাল আড়াল করা যায় না।

৪৩. চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো

অর্থ: স্পষ্ট করে বোঝানো।
বাক্যে: প্রতিবেদনে দেশের বৈষম্যের ছবিটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হয়েছে।

৪৪. চোখে চোখে রাখা

অর্থ: সতর্কভাবে নজর রাখা।
বাক্যে: ছেলেটি যাতে নদীর ধারে না যায়, মা তাকে চোখে চোখে রাখলেন।

৪৫. চোখের বালি

অর্থ: অত্যন্ত অপছন্দের ব্যক্তি।
বাক্যে: অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললেই সে ক্ষমতাবানদের চোখের বালি হয়ে ওঠে।

৪৬. চুনোপুঁটি

অর্থ: তুচ্ছ বা সামান্য ক্ষমতার ব্যক্তি।
বাক্যে: বড়ো দুর্নীতির তদন্তে দু-একজন চুনোপুঁটিকে ধরে আসল খেলোয়াড়দের আড়াল করা হলো।

৪৭. চক্ষু চড়কগাছ

অর্থ: অত্যন্ত বিস্মিত হওয়া।
বাক্যে: বাড়ির পুরোনো আলমারি খুলে সোনার গয়না দেখে সবার চক্ষু চড়কগাছ।

৪৮. চোরাবালি

অর্থ: যে বিপদ থেকে বেরোনো কঠিন।
বাক্যে: ঋণের ফাঁদে পড়ে তার জীবন যেন চোরাবালিতে ডুবে গেল।

৪৯. চোরে চোরে মাসতুতো ভাই

অর্থ: অসৎ লোকেরা পরস্পরের সহযোগী।
বাক্যে: দুজনেই একই দুর্নীতিতে জড়িত; চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।


ছ

৫০. ছাইচাপা আগুন

অর্থ: আপাতনিবৃত্ত কিন্তু অন্তর্নিহিত প্রবল ক্রোধ বা শক্তি।
বাক্যে: বৃদ্ধের নীরবতার নিচে ছিল ছাইচাপা আগুন; সুযোগ পেতেই তিনি সত্য কথাটা বলে দিলেন।

৫১. ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো

অর্থ: যার কোনো মূল্য বা উপযোগিতা নেই।
বাক্যে: পুরোনো যন্ত্রটা এখন ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো।

৫২. ছক্কা হাঁকানো

অর্থ: অসাধারণ সাফল্য অর্জন করা।
বাক্যে: প্রথম ছবিতেই পরিচালক এমন ছক্কা হাঁকালেন যে সবাই অবাক।

৫৩. ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করা

অর্থ: সামান্য লাভের জন্য সম্মান নষ্ট করা।
বাক্যে: সামান্য টাকার জন্য এমন অন্যায় করা ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করার মতো।


জ

৫৪. জলে কুমির ডাঙায় বাঘ

অর্থ: উভয় দিকেই বিপদ।
বাক্যে: চাকরি ছাড়লেও বিপদ, থাকলেও বিপদ—তার অবস্থা জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ।

৫৫. জলে কুমিরের সঙ্গে বিবাদ

অর্থ: আশ্রয়দাতার সঙ্গে শত্রুতা করা।
বাক্যে: যে প্রতিষ্ঠানের ওপর নিজের জীবিকা নির্ভর করে, তার সঙ্গে অকারণে বিবাদ করা জলে কুমিরের সঙ্গে বিবাদের মতো।

৫৬. জলে কাদা করা

অর্থ: অশান্তি সৃষ্টি করা।
বাক্যে: সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুজন ইচ্ছা করেই জলে কাদা করল।

৫৭. জাতে ওঠা

অর্থ: মর্যাদা লাভ করা।
বাক্যে: দীর্ঘ সাধনার পর শিল্পীটি নিজের কাজ দিয়ে জাতে উঠেছেন।


ঝ

৫৮. ঝোপ বুঝে কোপ মারা

অর্থ: পরিস্থিতি বুঝে আঘাত করা বা কাজ করা।
বাক্যে: সুযোগ বুঝে ঝোপ বুঝে কোপ মারতে সে সিদ্ধহস্ত।

৫৯. ঝড়ের বেগে

অর্থ: অত্যন্ত দ্রুত।
বাক্যে: খবরটা ঝড়ের বেগে সারা শহরে ছড়িয়ে পড়ল।


ট

৬০. টনক নড়া

অর্থ: হুঁশ হওয়া।
বাক্যে: বন্ধুর বিপদ দেখে অবশেষে তার টনক নড়ল।

৬১. টাকার কুমির

অর্থ: বিপুল ধনসম্পদের অধিকারী।
বাক্যে: একসময় সাধারণ ব্যবসায়ী থাকলেও এখন সে টাকার কুমির।

৬২. টাকায় তোলা

অর্থ: অত্যন্ত সহজে লাভ করা।
বাক্যে: পরিশ্রম ছাড়া জীবনে কিছুই টাকায় তোলা যায় না।

৬৩. টেঁকির স্বর্গে যাওয়া

অর্থ: স্বভাব পরিবর্তন না হওয়া।
বাক্যে: এতদিন শহরে থেকেও তার পুরোনো অভ্যাস বদলায়নি—টেঁকির স্বর্গে গেলেও ধান ভানে।


ঠ

৬৪. ঠোঁটকাটা

অর্থ: মুখের ওপর স্পষ্ট কথা বলে এমন।
বাক্যে: মেয়েটি ঠোঁটকাটা; যা সত্য মনে করে, মুখের ওপর বলে দেয়।

৬৫. ঠুঁটো জগন্নাথ

অর্থ: ক্ষমতা থাকলেও কার্যক্ষমতাহীন ব্যক্তি।
বাক্যে: এত বড়ো পদে বসেও যদি সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন, তবে তিনি ঠুঁটো জগন্নাথ।


ড

৬৬. ডুবন্তের খড়কুটো

অর্থ: বিপদের শেষ অবলম্বন।
বাক্যে: সেই ছোটো সাহায্যটুকুই তখন তার কাছে ডুবন্তের খড়কুটো।

৬৭. ডাহা মিথ্যা

অর্থ: সম্পূর্ণ মিথ্যা।
বাক্যে: তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তার অধিকাংশই ডাহা মিথ্যা।


ত

৬৮. তাসের ঘর

অর্থ: অস্থায়ী ও ভঙ্গুর ভিত্তি।
বাক্যে: মিথ্যার ওপর দাঁড়ানো সাফল্য তাসের ঘরের মতো—একদিন না একদিন ভেঙে পড়বেই।

৬৯. তীর্থের কাক

অর্থ: অধীর আগ্রহে অপেক্ষমাণ ব্যক্তি।
বাক্যে: পরীক্ষার ফলের জন্য ছেলেমেয়েগুলো তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করছে।

৭০. তেলে মাথায় তেল দেওয়া

অর্থ: যার যথেষ্ট আছে তাকে আরও দেওয়া।
বাক্যে: ধনীদের আরও সুবিধা দেওয়া তেলে মাথায় তেল দেওয়ার শামিল।

৭১. তিনকড়ি

অর্থ: অতি সামান্য মূল্য।
বাক্যে: তিনকড়ির স্বার্থে এত বড়ো সম্পর্ক নষ্ট করা ঠিক হয়নি।

৭২. তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠা

অর্থ: সামান্যতেই অত্যন্ত রেগে যাওয়া।
বাক্যে: সামান্য সমালোচনাতেই তিনি তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন।


দ

৭৩. দাঁতে দাঁত চেপে

অর্থ: কষ্ট সহ্য করে দৃঢ়ভাবে।
বাক্যে: দাঁতে দাঁত চেপে সে অপমান সহ্য করেছিল, কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়ায়নি।

৭৪. দাঁতভাঙা জবাব

অর্থ: কঠোর ও উপযুক্ত প্রত্যুত্তর।
বাক্যে: মিথ্যা অপবাদের জবাব সে যুক্তি দিয়ে এমনভাবে দিল যে সবাই দাঁতভাঙা জবাব বলেই মানল।

৭৫. দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা না বোঝা

অর্থ: উপস্থিত সুযোগের মূল্য না বোঝা।
বাক্যে: সুস্থ থাকতে স্বাস্থ্যের যত্ন না নেওয়া দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা না বোঝার মতো।

৭৬. দিন আনা দিন খাওয়া

অর্থ: সামান্য উপার্জনে দৈনন্দিন জীবন চালানো।
বাক্যে: দিন আনা দিন খাওয়া মানুষটির কাছে একদিনের কাজ বন্ধ হওয়াও বড়ো বিপদ।

৭৭. দুধের মাছি

অর্থ: অতি সহজে ত্যাজ্য ব্যক্তি।
বাক্যে: স্বার্থ ফুরোতেই তাকে দুধের মাছির মতো সরিয়ে দেওয়া হলো।

৭৮. দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো

অর্থ: আসল জিনিস না পেয়ে বিকল্পে সন্তুষ্ট হওয়া।
বাক্যে: আসল বই না পেয়ে পুরোনো সংস্করণ নিয়ে সে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাল।


ধ

৭৯. ধরি মাছ না ছুঁই পানি

অর্থ: এমনভাবে চলা যাতে কোনো পক্ষের সঙ্গে সরাসরি বিরোধ না হয়।
বাক্যে: রাজনীতিতে তার নীতি ধরি মাছ না ছুঁই পানি—কাউকেই সরাসরি অসন্তুষ্ট করতে চায় না।

৮০. ধামাচাপা দেওয়া

অর্থ: ঘটনা গোপন করা।
বাক্যে: অপরাধ ধামাচাপা দিলে অপরাধ কমে না, বরং আরও গভীরে শিকড় গেড়ে বসে।

৮১. ধুয়ো তোলা

অর্থ: কোনো বিষয় নিয়ে প্রবল প্রচার বা আলোচনা শুরু করা।
বাক্যে: সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদমাধ্যমে ধুয়ো উঠল।


ন

৮২. নাকে তেল দিয়ে ঘুমানো

অর্থ: সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত থাকা।
বাক্যে: চারদিকে সংকট, অথচ কর্তারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন।

৮৩. নাক কাটা

অর্থ: সম্মান নষ্ট হওয়া।
বাক্যে: সবার সামনে এমন আচরণ করে সে নিজেরই নাক কাটল।

৮৪. নাক গলানো

অর্থ: অযাচিতভাবে অন্যের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা।
বাক্যে: অন্যের ব্যক্তিগত জীবনে নাক গলানো কোনো ভদ্রতার পরিচয় নয়।

৮৫. নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরানো

অর্থ: সম্পূর্ণ বশীভূত করে রাখা।
বাক্যে: অর্থের জোরে সে বহু মানুষকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরায়।

৮৬. নুন আনতে পান্তা ফুরোয়

অর্থ: চরম দারিদ্র্য।
বাক্যে: সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, অথচ মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ করতে চান না বাবা।

৮৭. নখদন্তহীন

অর্থ: ক্ষমতাহীন।
বাক্যে: দীর্ঘদিনের দুর্নীতিতে প্রতিষ্ঠানটি এমন নখদন্তহীন হয়ে পড়েছে যে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না।


প

৮৮. পটের বিবি

অর্থ: সর্বদা সেজেগুজে থাকা নারী।
বাক্যে: পুজোর সময় পাড়ার মেয়েরা পটের বিবির মতো সেজে উঠল।

৮৯. পাততাড়ি গোটানো

অর্থ: চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া।
বাক্যে: সন্ধ্যা নামতেই সবাই পাততাড়ি গুটিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিল।

৯০. পাকা ধানে মই দেওয়া

অর্থ: কারও সর্বনাশ ঘটানো।
বাক্যে: বিপদের সময়ে বন্ধুর সঙ্গে প্রতারণা করা পাকা ধানে মই দেওয়ার মতো।

৯১. পিলে চমকানো

অর্থ: অত্যন্ত ভয় পাওয়া।
বাক্যে: রাতের নিস্তব্ধতায় হঠাৎ দরজায় শব্দ হতেই তার পিলে চমকে গেল।

৯২. পাকা খেলোয়াড়

অর্থ: অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তি।
বাক্যে: রাজনীতির ময়দানে তিনি পাকা খেলোয়াড়; সহজে কোনো চাল প্রকাশ করেন না।

৯৩. পায়ের তলায় সর্ষে

অর্থ: স্থির থাকতে না পারা।
বাক্যে: ছেলেটার পায়ের তলায় সর্ষে—এক জায়গায় দুদিনের বেশি থাকে না।


ফ

৯৪. ফাঁকা আওয়াজ

অর্থ: অর্থহীন হুমকি বা কথাবার্তা।
বাক্যে: তার সব হুমকিই ফাঁকা আওয়াজ; কাজের সময় তাকে কোথাও পাওয়া যায় না।

৯৫. ফাঁদে পা দেওয়া

অর্থ: প্রতারণার কৌশলে ধরা পড়া।
বাক্যে: সামান্য লাভের লোভে সে প্রতারকের ফাঁদে পা দিল।

৯৬. ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া

অর্থ: তুচ্ছজ্ঞান করা।
বাক্যে: মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিলে একদিন তার মূল্য দিতে হয়।


ব

৯৭. বকধার্মিক

অর্থ: বাইরে ধার্মিকতার ভান করে এমন ব্যক্তি।
বাক্যে: মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে ধর্মের কথা বলা বকধার্মিকতারই লক্ষণ।

৯৮. বামুনের গরু

অর্থ: অতি আদরের বস্তু।
বাক্যে: একমাত্র মেয়েটি ছিল বাবার বামুনের গরু।

৯৯. বাঁকা চোখে দেখা

অর্থ: বিরূপ দৃষ্টিতে দেখা।
বাক্যে: ভিন্নমত পোষণ করলেই কাউকে বাঁকা চোখে দেখা গণতন্ত্রের লক্ষণ নয়।

১০০. বারোটা বাজানো

অর্থ: সর্বনাশ করা।
বাক্যে: অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে ব্যবসার বারোটা বাজিয়ে ফেলল সে।

১০১. বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা

অর্থ: শক্তিশালী ব্যক্তির ঘরে দুর্বল অথচ ধূর্ত শত্রুর অবস্থান।
বাক্যে: প্রতিষ্ঠানের ভিতরেই প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থার লোক ঢুকে পড়েছে—বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা।

১০২. বাঘের বাচ্চা

অর্থ: অত্যন্ত সাহসী ব্যক্তি।
বাক্যে: এত বিপদের মধ্যেও ছেলেটা যে দাঁড়িয়ে রইল, সে সত্যিই বাঘের বাচ্চা।

১০৩. বিনা মেঘে বজ্রপাত

অর্থ: আকস্মিক বিপদ।
বাক্যে: চাকরি চলে যাওয়ার খবরটা তার জীবনে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো এল।

১০৪. বুকের পাটা

অর্থ: সাহস।
বাক্যে: অন্যায়ের বিরুদ্ধে একা দাঁড়ানোর বুকের পাটা সবার থাকে না।

১০৫. বুক বাঁধা

অর্থ: সাহস সঞ্চয় করা।
বাক্যে: দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য সে বুক বেঁধে আবার পথে নামল।

১০৬. বুক ফুলিয়ে চলা

অর্থ: অহংকার বা গর্বে চলা।
বাক্যে: সামান্য সাফল্য পেয়েই বুক ফুলিয়ে চলা মানুষের পতনও তাড়াতাড়ি হয়।

১০৭. বুকে পাথর বাঁধা

অর্থ: গভীর কষ্ট সহ্য করে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া।
বাক্যে: বুকে পাথর বেঁধে মা ছেলেকে বিদেশে পাঠালেন।


ভ

১০৮. ভস্মে ঘি ঢালা

অর্থ: নিষ্ফল কাজে ব্যয় করা।
বাক্যে: যে প্রকল্পের কোনো ভবিষ্যৎ নেই, তাতে আরও টাকা ঢালা ভস্মে ঘি ঢালার শামিল।

১০৯. ভিজে বেড়াল

অর্থ: ভীরু ব্যক্তি।
বাক্যে: বাইরে যতই দাপট দেখাক, বসের সামনে সে ভিজে বেড়াল।

১১০. ভাঙা কুলো

অর্থ: যার কোনো মূল্য নেই।
বাক্যে: কাজ শেষ হতেই পুরোনো কর্মচারীকে ভাঙা কুলোর মতো ফেলে দেওয়া হলো।

১১১. ভাগ্যের লিখন

অর্থ: নিয়তির নির্ধারিত ফল।
বাক্যে: ভাগ্যের লিখন বলে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে মানুষের নিজের শক্তির অপমান হয়।


ম

১১২. মগের মুল্লুক

অর্থ: যেখানে আইন-কানুনের তোয়াক্কা নেই।
বাক্যে: রাস্তার ওপর দিনের পর দিন অবৈধ দখল চলতে পারে—শহরটা যেন মগের মুল্লুক।

১১৩. মরণকামড়

অর্থ: শেষ শক্তি দিয়ে আক্রমণ।
বাক্যে: পরাজয় নিশ্চিত জেনেও দলটি শেষ মুহূর্তে মরণকামড় দিল।

১১৪. মেঘ না চাইতেই জল

অর্থ: না চাইতেই প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া।
বাক্যে: চাকরিটা যখন প্রায় অসম্ভব মনে হচ্ছিল, তখন সাক্ষাৎকারের ডাক মেঘ না চাইতেই জলের মতো এল।

১১৫. মেঘে মেঘে বেলা

অর্থ: সময় দ্রুত কেটে যাওয়া।
বাক্যে: দেখতে দেখতে মেঘে মেঘে বেলা হয়ে গেল, অথচ তার স্বপ্নের কাজটা আর শুরু হলো না।

১১৬. মুখে কুলুপ আঁটা

অর্থ: সম্পূর্ণ নীরব থাকা।
বাক্যে: ঘটনার সত্য জানলেও সে মুখে কুলুপ এঁটে রইল।

১১৭. মুখে ছাই দেওয়া

অর্থ: অপমান করা বা মুখ পুড়িয়ে দেওয়া।
বাক্যে: ছেলের আচরণে বাবা-মায়ের মুখে ছাই পড়ল।

১১৮. মুখে রাম, বগলে ছুরি

অর্থ: মুখে ভালো, অন্তরে শত্রুতা।
বাক্যে: তার মিষ্টি কথায় ভুলে যেও না; লোকটা মুখে রাম, বগলে ছুরি।

১১৯. মুখ রক্ষা

অর্থ: সম্মান বজায় রাখা।
বাক্যে: শেষ মুহূর্তের জয়ে দলটি অন্তত মুখ রক্ষা করল।

১২০. মুখে হাসি ফোটা

অর্থ: আনন্দিত হওয়া।
বাক্যে: বহুদিন পর ছেলেকে দেখে বৃদ্ধ মায়ের মুখে হাসি ফুটল।

১২১. মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া

অর্থ: আকস্মিক মহাবিপদে পড়া।
বাক্যে: একমাত্র উপার্জনকারী মানুষটির মৃত্যুতে পরিবারের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।

১২২. মাথায় হাত দেওয়া

অর্থ: অত্যন্ত দুশ্চিন্তায় পড়া।
বাক্যে: ব্যবসায় এমন লোকসান হলো যে মালিক মাথায় হাত দিয়ে বসে রইলেন।

১২৩. মাথা খাওয়া

অর্থ: বিরক্ত করা।
বাক্যে: সারাদিন একই কথা বলে আমার মাথা খেও না।

১২৪. মাথা নত করা

অর্থ: আত্মসমর্পণ করা।
বাক্যে: সত্যের সামনে মাথা নত করা পরাজয় নয়।

১২৫. মাথায় চড়ে বসা

অর্থ: অতিরিক্ত প্রশ্রয় পেয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া।
বাক্যে: ছেলেকে এত প্রশ্রয় দিয়েছ যে সে এখন তোমার মাথায় চড়ে বসেছে।

১২৬. মাথা গরম

অর্থ: উত্তেজিত বা রাগী হওয়া।
বাক্যে: মাথা গরম করে নেওয়া সিদ্ধান্তের ফল পরে অনেক সময় ভোগ করতে হয়।


য

১২৭. যমের অরুচি

অর্থ: অত্যন্ত দুরন্ত বা বেঁচে থাকার প্রবল শক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি।
বাক্যে: ছেলেটা যেন যমের অরুচি—এত অসুখেও দিব্যি খেলাধুলো করছে।

১২৮. যমের বাড়ি

অর্থ: ভয়ংকর স্থান।
বাক্যে: রাতের সেই নির্জন বাড়িটাকে গ্রামের লোকেরা যমের বাড়ি বলে।


র

১২৯. রক্তচক্ষু

অর্থ: ভয়ংকর ক্রোধ বা হুমকি।
বাক্যে: রাষ্ট্রের রক্তচক্ষু দেখিয়েও মানুষের প্রতিবাদ থামানো গেল না।

১৩০. রথ দেখা কলা বেচা

অর্থ: একই সঙ্গে দুই উদ্দেশ্য সাধন।
বাক্যে: কলকাতায় গিয়ে আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা এবং বই কেনা—রথ দেখা কলা বেচা দুটোই হয়ে গেল।

১৩১. রাবণের চিতা

অর্থ: যে আগুন কখনও নেভে না; অবিরাম জ্বালা।
বাক্যে: ক্ষমতার লোভ মানুষের মনে রাবণের চিতার মতো অনন্ত জ্বালা জাগিয়ে রাখে।

১৩২. রুই-কাতলা

অর্থ: বড়ো ও প্রভাবশালী ব্যক্তি।
বাক্যে: ছোটোখাটো কর্মচারীদের ধরে লাভ নেই, দুর্নীতির আসল রুই-কাতলাদের ধরতে হবে।


ল

১৩৩. লঙ্কাকাণ্ড

অর্থ: তুমুল গোলমাল বা ভয়াবহ কাণ্ড।
বাক্যে: সামান্য ভুল বোঝাবুঝি থেকেই বাড়িতে এমন লঙ্কাকাণ্ড বেধে গেল যে পাড়া জড়ো হয়ে গেল।

১৩৪. লেজ গুটানো

অর্থ: পরাজিত বা ভীত হয়ে সরে যাওয়া।
বাক্যে: প্রথম প্রতিরোধেই দুষ্কৃতীরা লেজ গুটিয়ে পালাল।

১৩৫. লেজে গোবরে

অর্থ: সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল অবস্থা।
বাক্যে: পরিকল্পনা ছাড়া অনুষ্ঠান করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সব লেজে গোবরে হয়ে গেল।

১৩৬. লালবাতি জ্বলা

অর্থ: বিপদের সংকেত দেখা দেওয়া।
বাক্যে: ঋণ বাড়তে থাকায় কোম্পানির আর্থিক ভবিষ্যতে লালবাতি জ্বলেছে।


শ

১৩৭. শিরে সংক্রান্তি

অর্থ: প্রবল বিপদ এসে উপস্থিত হওয়া।
বাক্যে: পরীক্ষার আগের দিন অসুস্থ হয়ে পড়া তার শিরে সংক্রান্তির মতো হলো।

১৩৮. শাপে বর

অর্থ: আপাত ক্ষতিকর ঘটনা শেষ পর্যন্ত উপকারে আসা।
বাক্যে: চাকরিটা চলে যাওয়া তার জন্য শাপে বর হয়েছিল; পরে সে নিজের ব্যবসা শুরু করে সফল হয়।

১৩৯. শাঁখের করাত

অর্থ: দুই দিক থেকেই বিপদ।
বাক্যে: ঋণ শোধ করব কীভাবে, আবার ব্যবসাও বন্ধ করতে পারব না—অবস্থা শাঁখের করাত।

১৪০. শাক দিয়ে মাছ ঢাকা

অর্থ: বড়ো দোষ ছোটো দোষ দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা।
বাক্যে: কয়েকজন কর্মচারীকে শাস্তি দিয়ে মূল দুর্নীতিকে ঢেকে রাখা শাক দিয়ে মাছ ঢাকা ছাড়া কিছু নয়।


স

১৪১. সোনার পাথরবাটি

অর্থ: অসম্ভব বা অলীক বস্তু।
বাক্যে: পরিশ্রম ছাড়াই নিশ্চিত সাফল্য পাওয়ার প্রতিশ্রুতি সোনার পাথরবাটির মতোই অবাস্তব।

১৪২. সাতকাহন

অর্থ: দীর্ঘ কাহিনি বা বিস্তৃত আলোচনা।
বাক্যে: সামান্য ঘটনার সাতকাহন শুনিয়ে সে শেষ পর্যন্ত সবাইকে ক্লান্ত করে ফেলল।

১৪৩. সাপের পাঁচ পা দেখা

অর্থ: অতিরিক্ত চালাকি বা অস্বাভাবিক বুদ্ধি দেখানো।
বাক্যে: সহজ কথাকে জটিল করে সে যেন সাপের পাঁচ পা দেখছে।

১৪৪. সাপে-নেউলে

অর্থ: চরম শত্রু।
বাক্যে: দুই পরিবারের সম্পর্ক সাপে-নেউলের মতো; সামান্য ঘটনাতেই বিবাদ বাধে।

১৪৫. সলতে পাকানো

অর্থ: গোপনে কোনো কাজের প্রস্তুতি নেওয়া।
বাক্যে: অনেকদিন ধরেই তারা নতুন ব্যবসা শুরু করার সলতে পাকাচ্ছিল।

১৪৬. সোনায় সোহাগা

অর্থ: ভালো কিছুর সঙ্গে আরও ভালো কিছু যুক্ত হওয়া।
বাক্যে: ভালো ফলের সঙ্গে বৃত্তিটাও পাওয়া তার আনন্দে সোনায় সোহাগা করল।

১৪৭. সোনার ছেলে

অর্থ: অত্যন্ত ভালো ও যোগ্য ছেলে।
বাক্যে: ছেলেটা নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্বও নেয়—সত্যিই সোনার ছেলে।

১৪৮. সাত পাঁচ ভাবা

অর্থ: নানা দিক নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করা।
বাক্যে: এত সাত পাঁচ ভেবে সময় নষ্ট না করে সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলো।


হ

১৪৯. হাটে হাঁড়ি ভাঙা

অর্থ: গোপন কথা প্রকাশ করে দেওয়া।
বাক্যে: এতদিনের গোপন পরিকল্পনাটা সে নিজেই হাটে হাঁড়ি ভেঙে সকলকে জানিয়ে দিল।

১৫০. হালে পানি পাওয়া

অর্থ: সাফল্যের সম্ভাবনা দেখা দেওয়া।
বাক্যে: নতুন পরিকল্পনায় বিনিয়োগ আসতেই ব্যবসাটা হালে পানি পেল।

১৫১. হাত গুটিয়ে বসা

অর্থ: নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা।
বাক্যে: বিপদের সময়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে সমস্যার সমাধান কখনও হবে না।

১৫২. হাত কামড়ানো

অর্থ: নিজের কাজের জন্য অনুতপ্ত হওয়া।
বাক্যে: সুযোগটা ফিরিয়ে দিয়ে এখন সে হাত কামড়াচ্ছে।

১৫৩. হাতে চাঁদ পাওয়া

অর্থ: দুর্লভ বা অত্যন্ত আকাঙ্ক্ষিত কিছু লাভ করা।
বাক্যে: বহুদিনের সাধনার পর পুরস্কারটি পেয়ে সে যেন হাতে চাঁদ পেল।

১৫৪. হাতের পাঁচ

অর্থ: শেষ অবলম্বন বা শেষ সঞ্চয়।
বাক্যে: শেষ সম্বলটুকুও হারালে তার হাতে আর কোনো পাঁচ থাকবে না।

১৫৫. হাত পাকানো

অর্থ: কোনো কাজে দক্ষ হয়ে ওঠা।
বাক্যে: কয়েক বছর কাজ করতে করতে লেখালিখিতে তার হাত পেকে গেছে।

১৫৬. হাতের মুঠোয়

অর্থ: সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।
বাক্যে: পরিস্থিতি এখন পুলিশের হাতের মুঠোয়।

১৫৭. হাত গুটিয়ে নেওয়া

অর্থ: কোনো কাজ থেকে সরে আসা।
বাক্যে: প্রথম বাধাতেই হাত গুটিয়ে নিলে কোনো বড়ো কাজ সম্ভব নয়।

১৫৮. হাত ধুয়ে ফেলা

অর্থ: সম্পূর্ণভাবে সম্পর্ক বা দায়িত্ব ত্যাগ করা।
বাক্যে: দায়িত্ব নিয়ে মাঝপথে হাত ধুয়ে ফেলা নেতৃত্বের লক্ষণ নয়।

১৫৯. হাত-পা গুটিয়ে বসা

অর্থ: নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা।
বাক্যে: বিপদের সময় হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে কেউ এসে সমস্যার সমাধান করে দেবে না।

১৬০. হাতের ময়লা

অর্থ: অতি তুচ্ছ বা সহজে ব্যয়যোগ্য অর্থ।
বাক্যে: তার কাছে ওই সামান্য টাকাটা হাতের ময়লা হলেও গরিব মানুষের কাছে সেটাই অনেক।

১৬১. হরিহর আত্মা

অর্থ: অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
বাক্যে: ছোটোবেলা থেকে তারা হরিহর আত্মা; একজনের দুঃখে অন্যজনও কাঁদে।

১৬২. হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া

অর্থ: গভীরভাবে অনুভব করা।
বাক্যে: পরাজয়ের পর সে হাড়ে হাড়ে টের পেল, প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।

১৬৩. হাওয়া হয়ে যাওয়া

অর্থ: অদৃশ্য বা উধাও হয়ে যাওয়া।
বাক্যে: পুলিশ আসার খবর পেতেই দুষ্কৃতীরা হাওয়া হয়ে গেল।


আরও কিছু অত্যন্ত মূল্যবান বাগধারা

১৬৪. আকাশে তোলা

অর্থ: অতিরিক্ত প্রশংসা করা।
বাক্যে: সামান্য সাফল্যেই কাউকে আকাশে তুললে তার পা আর মাটিতে থাকে না।

১৬৫. আত্মারাম খাঁচাছাড়া

অর্থ: অত্যন্ত ভয় পাওয়া।
বাক্যে: সাপটা হঠাৎ সামনে আসতেই তার আত্মারাম খাঁচাছাড়া।

১৬৬. ইট-কাঠ-পাথর

অর্থ: প্রাণহীন বস্তু বা নিষ্ঠুর বাস্তবতা।
বাক্যে: শহরটা শুধু ইট-কাঠ-পাথর নয়, তারও একটা স্মৃতি আছে।

১৬৭. উনিশ-বিশ

অর্থ: সামান্য পার্থক্য।
বাক্যে: দুই দলের শক্তিতে উনিশ-বিশ তফাত, তাই ফল অনুমান করা কঠিন।

১৬৮. কড়ায়-গণ্ডায়

অর্থ: সম্পূর্ণ হিসাবমতো।
বাক্যে: ধার করা প্রতিটি টাকা সে কড়ায়-গণ্ডায় শোধ করেছে।

১৬৯. কথার কথা

অর্থ: গুরুত্বহীন বা অনর্থক কথা।
বাক্যে: কথার কথা ভেবে তার সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করা ঠিক হয়নি।

১৭০. কান পাতলা

অর্থ: সহজেই অন্যের কথায় প্রভাবিত হয়।
বাক্যে: কান পাতলা মানুষকে নিয়ে গুজব ছড়ানো খুব সহজ।

১৭১. কপাল চাপড়ানো

অর্থ: গভীর আফসোস করা।
বাক্যে: সুযোগটা হাতছাড়া করে এখন কপাল চাপড়ালেও আর লাভ নেই।

১৭২. খোলা ময়দানে

অর্থ: প্রকাশ্য প্রতিযোগিতায়।
বাক্যে: খোলা ময়দানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহস সবার থাকে না।

১৭৩. গভীর জলের মাছ

অর্থ: অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও ধূর্ত ব্যক্তি।
বাক্যে: ব্যবসার জগতে লোকটি গভীর জলের মাছ; তার চাল বোঝা সহজ নয়।

১৭৪. চোখের নিমেষে

অর্থ: অত্যন্ত অল্প সময়ে।
বাক্যে: চোখের নিমেষে আগুনটা গোটা ঘর গ্রাস করল।

১৭৫. চোখ রাঙানো

অর্থ: ভয় দেখানো।
বাক্যে: চোখ রাঙিয়ে সত্যকে চিরকাল চুপ করিয়ে রাখা যায় না।

১৭৬. ছাইভস্ম

অর্থ: মূল্যহীন বস্তু।
বাক্যে: এত টাকা খরচ করে শেষে হাতে এল ছাইভস্ম।

১৭৭. জল মাপা

অর্থ: পরিস্থিতি বুঝে নেওয়া।
বাক্যে: নতুন জায়গায় গিয়ে প্রথমে সবাই একটু জল মেপে চলছিল।

১৭৮. জিভে জল আসা

অর্থ: লোভ হওয়া।
বাক্যে: রান্নাঘর থেকে গরম মাংসের গন্ধ আসতেই জিভে জল এল।

১৭৯. টাকার গরম

অর্থ: অর্থের অহংকার।
বাক্যে: টাকার গরমে মানুষকে অপমান করলে একদিন সেই টাকাই তাকে একা করে দেয়।

১৮০. দুই নৌকায় পা দেওয়া

অর্থ: একই সঙ্গে দুই পক্ষের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা।
বাক্যে: দুই নৌকায় পা দিয়ে বেশিদিন রাজনীতি করা যায় না।

১৮১. নাক উঁচু

অর্থ: অহংকারী।
বাক্যে: শিক্ষিত হলেই নাক উঁচু হতে হয় না।

১৮২. পেটের দায়ে

অর্থ: জীবিকার প্রয়োজনে।
বাক্যে: পেটের দায়ে মানুষ কত দূর যে চলে যায়, শহর তার অসংখ্য সাক্ষী।

১৮৩. বিনা মেঘে বজ্রপাত

অর্থ: আকস্মিক বিপদ।
বাক্যে: বাবার মৃত্যুসংবাদ তার জীবনে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো নেমে এল।

১৮৪. মুখে মধু, অন্তরে বিষ

অর্থ: বাইরে মিষ্টি, ভিতরে শত্রুতা।
বাক্যে: মুখে মধু, অন্তরে বিষ—এমন মানুষের বন্ধুত্ব থেকে দূরে থাকাই ভালো।

১৮৫. মুখে রা না কাড়া

অর্থ: একেবারেই কিছু না বলা।
বাক্যে: এত অপমানের পরও সে মুখে রা কাড়ল না।

১৮৬. মাথা গোঁজা

অর্থ: কোনোভাবে আশ্রয় নেওয়া।
বাক্যে: শহরে এসে প্রথমে বন্ধুর ছোটো ঘরেই মাথা গুঁজেছিল সে।

১৮৭. রক্ত জল করা

অর্থ: কঠোর পরিশ্রম করা।
বাক্যে: সন্তানদের মানুষ করতে মা-বাবা রক্ত জল করেছেন।

১৮৮. রক্তে আগুন জ্বলা

অর্থ: প্রবল ক্রোধ বা উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়া।
বাক্যে: অন্যায়ের দৃশ্য দেখে তার রক্তে আগুন জ্বলে উঠল।

১৮৯. লেজে পা পড়া

অর্থ: গোপন স্বার্থে আঘাত লাগা।
বাক্যে: দুর্নীতির কথা উঠতেই তার লেজে পা পড়ল।

১৯০. শিং ভাঙা

অর্থ: অহংকার বা শক্তি নষ্ট করা।
বাক্যে: কয়েকটি পরাজয় তার শিং ভেঙে দিয়েছে।

১৯১. সাত ঘাটের জল খাওয়া

অর্থ: বহু অভিজ্ঞতা অর্জন করা।
বাক্যে: জীবনে সাত ঘাটের জল খাওয়া মানুষকে সহজে ঠকানো যায় না।

১৯২. হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলা

অর্থ: নিজের পাওয়া সুযোগ নষ্ট করা।
বাক্যে: এমন চাকরি ছেড়ে দেওয়া হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলারই নাম।

১৯৩. হাতে নাতে ধরা

অর্থ: অপরাধের সময় ধরা।
বাক্যে: চুরি করতে গিয়ে সে হাতে নাতে ধরা পড়ল।

১৯৪. হাতেনাতে ফল পাওয়া

অর্থ: সঙ্গে সঙ্গে ফল পাওয়া।
বাক্যে: নিয়মিত পরিশ্রমের সুফল সে হাতেনাতে পেল।


বাগধারা ব্যবহারের আসল কৌশল

শুধু অর্থ মুখস্থ করলে বাগধারা শেখা হয় না। বাগধারাকে বাক্যের প্রাণের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হয়।

সাধারণ বাক্য:
‘সে খুব সাহসী।’

বাগধারায়:
‘অন্যায়ের সামনে দাঁড়ানোর বুকের পাটা তার আছে।’

আবার—

সাধারণ বাক্য:
‘সে খুব ভয় পেয়েছিল।’

বাগধারায়:
‘হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে তার আত্মারাম খাঁচাছাড়া।’

আরও ভালো সাহিত্যিক প্রয়োগ—

‘সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর বুকের পাটা না থাকলে মানুষ শেষ পর্যন্ত নিজের কাছেই পরাজিত হয়।’

‘গোড়ায় গলদ রেখে যতই রঙের প্রলেপ দেওয়া হোক, তাসের ঘর একদিন না একদিন ভেঙে পড়ে।’

‘ক্ষমতার রক্তচক্ষু তাকে ভয় দেখাতে পারেনি; বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার বুকের পাটা আরও শক্ত হয়ে উঠেছিল।’

‘বাইরে মুখে মধু, অন্তরে বিষ—এমন মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বের চেয়ে শত্রুতাও কখনও কখনও নিরাপদ।’

‘তার প্রতিবাদ হয়তো অরণ্যে রোদন ছিল, কিন্তু সেই রোদনের মধ্যেই ভবিষ্যতের কোনো এক ভোরের বীজ লুকিয়ে ছিল।’

‘যে সমাজ প্রশ্ন করতে ভুলে যায়, সেখানে অন্যায় ধীরে ধীরে মাথায় চড়ে বসে।’

‘বুকে পাথর বেঁধে মা ছেলেকে বিদায় দিলেন; চোখের জলটুকু তিনি কাউকে দেখতে দিলেন না।’


মনে রাখার জন্য সবচেয়ে জরুরি ২৫টি

পরীক্ষা, লেখালিখি ও দৈনন্দিন ব্যবহারে বিশেষভাবে কাজে লাগবে—

অরণ্যে রোদন — নিষ্ফল আবেদন
আকাশকুসুম — অলীক কল্পনা
অন্ধের যষ্টি — একমাত্র অবলম্বন
আদা জল খেয়ে লাগা — দৃঢ় সংকল্পে কাজে লেগে যাওয়া
উলুবনে মুক্তো ছড়ানো — অনুপযুক্ত স্থানে মূল্যবান জিনিস দেওয়া
উভয় সংকট — দুই দিকেই বিপদ
একচোখা — পক্ষপাতদুষ্ট
কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা — এক বিপদ দিয়ে অন্য বিপদ দূর করা
কুমিরের কান্না — কৃত্রিম দুঃখ
ঘরের শত্রু বিভীষণ — আপনজনের বিশ্বাসঘাতক
চোখে সর্ষেফুল দেখা — দিশেহারা হওয়া
চোখে ধুলো দেওয়া — প্রতারণা করা
চোখের বালি — অত্যন্ত অপছন্দের ব্যক্তি
ছাইচাপা আগুন — সুপ্ত ক্রোধ/শক্তি
টনক নড়া — হুঁশ হওয়া
তাসের ঘর — ভঙ্গুর ভিত্তি
তীর্থের কাক — অধীর অপেক্ষা
দুই নৌকায় পা দেওয়া — দুই পক্ষের সুবিধা নেওয়া
নাকে তেল দিয়ে ঘুমানো — নিশ্চিন্ত থাকা
নাক গলানো — অযাচিত হস্তক্ষেপ
পাততাড়ি গোটানো — চলে যাওয়ার প্রস্তুতি
পিলে চমকানো — ভয় পাওয়া
বিনা মেঘে বজ্রপাত — আকস্মিক বিপদ
মুখে রাম, বগলে ছুরি — বাইরে ভালো, ভিতরে শত্রু
হাটে হাঁড়ি ভাঙা — গোপন কথা প্রকাশ করা

 

পরিবেশনে- ড. অনিশ রায়


 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top