বিদ্যাসাগর ও মধুসূদন : বৈপরীত্যের অন্তর্গত আত্মীয়তা

সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের ‘বিদ্যাসাগর ও মধুসূদন : বৈপরীত্যের রহস্য’ নামক প্রবন্ধ কোনোভাবেই দুই মনীষীর সম্পর্কের ইতিহাস নয়। গভীরতর অর্থে এই লেখার অভিমুখ দুই ভিন্ন জীবনদর্শনের গোপন আত্মীয়তার অনুসন্ধানের দিকে। বিদ্যাসাগর ও মধুসূদনকে বাংলা সংস্কৃতির ইতিহাসে সাধারণত দুই বিপরীত মেরুর মানুষ হিসেবেই দেখা হয়। একজন সংযম, নৈতিকতা, কর্তব্য, যুক্তিবোধ ও সামাজিক সংস্কারের প্রতীক। অন্যজন উচ্ছ্বাস, আত্মবিরোধ, নন্দন-বিদ্রোহ, দুঃসাহস ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের প্রতিমূর্তি। একজন নিজের জীবনকে কঠোর শৃঙ্খলায় নির্মাণ করেছেন, অন্যজন নিজের জীবনকেই প্রায় এক অন্তহীন পরীক্ষাগারে পরিণত করেছেন। প্রচলিত পাঠে এই পার্থক্যই তাঁদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড়ো বিস্ময়।

 সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের মৌলিকতা হলো, তিনি সেই আপাত-বৈপরীত্যকে ব্যাখ্যার শুরু ও শেষের সীমানায় অসংলগ্ন অসংগত করে দেন। প্রথম দরজা ও শেষ দরজা তাই এক না-হয়েও একই দিগন্তকেই উন্মুক্ত করেছে। ফলে প্রশ্ন আর এই থাকে না যে —বিদ্যাসাগর কেন মধুসূদনকে সাহায্য করেছিলেন? এই জিজ্ঞাসা ক্রমশ রূপান্তর লাভ করতে থাকে। আর তখন ভাবার ক্ষেত্রে অবলম্বন হয়ে যায় অন্য জিজ্ঞাসা— কী এমন গভীর মানবিক ও বৌদ্ধিক সাযুজ্য ছিল, যার কারণে একজনের কঠোর আত্মসংযম অন্যজনের উচ্ছৃঙ্খল স্বাধীনতাকে প্রত্যাখ্যান না-করে তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল?

প্রবন্ধের ঐতিহাসিক গভীরতা প্রথমত তার তথ্য-নির্বাচনে। মধুসূদনের বিপন্ন জীবনে বিদ্যাসাগরের আর্থিক সাহায্য, বিদেশযাত্রার প্রস্তুতিতে সহযোগিতা, ব্যারিস্টারি পেশায় প্রবেশের সময় চরিত্রগত আপত্তির বিরুদ্ধে তাঁর সমর্থন, মধুসূদনের বারবার ব্যক্তিগত আশ্রয়প্রার্থনা। এসব তথ্যকে লেখক নিছক দাতব্য সম্পর্কের হস্তাক্ষর হিসেবে জ্ঞাতব্য করেননি। বরং এই ঘটনাগুলির ভিতর থেকে তিনি একগাছা অস্বস্তিকর অথচ জরুরি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন: একজন প্রায় নিষ্কলঙ্ক নৈতিক ব্যক্তিত্ব কেন এমন এক মানুষকে বারবার উদ্ধার করবেন, যার জীবনযাত্রা তাঁর নিজের জীবনযাপনের প্রায় সম্পূর্ণ বিপরীত? কেন বিদ্যাসাগরের নৈতিকতা মধুসূদনের নৈতিক বিচ্যুতিকে কেবল শাস্তির যোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেনি? কেন তাঁর চরিত্রবোধের ভিতরেই মধুসূদনের জন্য এক বিশেষ ব্যতিক্রমের স্থান তৈরি হয়েছিল? এই জিজ্ঞাসাগুলোই প্রবন্ধকে জীবনী থেকে মনস্তত্ত্বে, মনস্তত্ত্ব থেকে নন্দনতত্ত্বে, নন্দনতত্ত্ব থেকে দর্শনে, এবং শেষপর্যন্ত দর্শন থেকে ইতিহাসের আরও গভীর স্তরিত অধ্যায়ে নিয়ে গেছে। যেখানে সাম্প্রত-ও যেন তার হাত সম্প্রসারিত করতে পারে।

এই লেখায় বিশেষ তাৎপর্য হিসেবে পাই ‘অপর’-এর ধারণা। বিদ্যাসাগর হয়তো মধুসূদনের মধ্যে নিজের অস্বীকৃত, অননুশীলিত, বিপরীত সত্তাটিকে দেখেছিলেন। এমন সম্ভাবনা উত্থাপন করে সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় তাঁদের সম্পর্কের এক গভীর ব্যাখ্যামূলক পরিসর নির্মাণ করেছেন। বিদ্যাসাগর ছিলেন অনমনীয় সংকল্পের মানুষ; মধুসূদন সৃজনশীল উচ্ছ্বাসের। একজন সমাজের ভিতর দাঁড়িয়ে সমাজের বিধি বদলেছেন, অন্যজন সাহিত্যিক কল্পনার ভিতর দাঁড়িয়ে সংস্কৃতির বিধি ভেঙেছেন। একজনের বিদ্রোহ ছিল শৃঙ্খলিত, অন্যজনের শৃঙ্খলাভঙ্গের মধ্যেও ছিল এক গভীর সৃষ্টিশীল শৃঙ্খলা। ফলে তাঁদের পার্থক্য যত বড়ো, তাঁদের অন্তর্গত বিদ্রোহের উৎস যেন ততই কাছাকাছি এসে পড়ে। বিদ্যাসাগর যে বিদ্রোহকে কর্মে রূপ দিয়েছিলেন, মধুসূদন তাকে রূপ দিয়েছিলেন কাব্যিক কল্পনায়। একজন সামাজিক বিধির বিরুদ্ধে, অন্যজন ভাষা-কাব্যরীতি ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের প্রচলিত পাঠের বিরুদ্ধে। দুজনের অস্ত্র আলাদা। অবস্থানও আলাদা। কিন্তু লক্ষ্য ছিল স্থবিরতার বিরুদ্ধে মানুষের স্বাধীন সত্তাকে সার্বিকভাবে প্রসারিত করে দেওয়া।

এইখানেই প্রবন্ধটির তুলনামূলক চরিত্র-পাঠ বিশেষ মৌলিকতার স্বাদ আনে। মেঘনাদবধ কাব্যে রাবণের পুনর্মূল্যায়ন, ভারতীয় দর্শনের আলোচনায় চার্বাককে পুনরায় দৃশ্যমান করে তোলা, বেদান্ত ও সাংখ্য সম্পর্কে বিদ্যাসাগরের সংশয়, বাংলা গদ্যের আধুনিকীকরণ, নারীকে ‘অবলা’ পরিচয়ের বাইরে স্বতন্ত্র মানবসত্তা হিসেবে ভাবা—এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলিকে লেখক একই বৌদ্ধিক প্রবাহের মধ্যে স্থাপন করেছেন। ফলে বিদ্যাসাগর কেবল সমাজসংস্কারক নন, মধুসূদনও কেবল কবি নন। সঞ্জয়বাবু দেখাতে পেরেছেন, তাঁদের উভয়ের ভিতরেই রয়েছে প্রচলিত অর্থের বিরুদ্ধে বিপুল সম্ভাবনাময় অচলিত অর্থ নির্মাণের এক অদম্য আকাঙ্ক্ষা। একজন সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন করেছেন। অন্যজন সাংস্কৃতিক প্রতীকের ভিতরকার ক্ষমতার কাঠামোকে ধাক্কা দিয়েছেন। একজন বিধবার জীবনকে শাস্ত্রের অন্ধ কর্তৃত্বের বাইরে এনে মানবিক যুক্তির সামনে দাঁড় করিয়েছেন। অন্যজন রাবণকে রাক্ষসের একমাত্রিক অভিধা থেকে মুক্ত করে, সুদীর্ঘকালীন জনজীবনের অবজ্ঞেয় স্পন্দনের সঙ্গে মিলিয়ে, তাকে ট্র্যাজিক মহিমার অধিকারী করেছেন। এই দুই কাজের প্রকৃতি আলাদা হলেও তাদের গভীরে আছে একই বৌদ্ধিক দুঃসাহস— উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বৃত্ত-পরিচয়ের কেন্দ্রশাসন উপেক্ষা করে, পরিধি থেকে মানুষকে দেখার দায়বদ্ধতা।

বিশেষত ভাষা ও নারীর প্রশ্নে তাঁদের যুগপৎ অবস্থান প্রবন্ধে অন্যতম গভীর আবিষ্কার। বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের স্থপতি হয়ে ভাষার কাঠামো বদলে, তাতে যুক্তির প্রবাহ ও প্রকাশের স্বচ্ছতার আদল এনে দিয়েছেন। মধুসূদন অমিত্রাক্ষর ছন্দ, মহাকাব্যিক কল্পনা ও নতুন বাগভঙ্গির মধ্য দিয়ে বাংলা কবিতার অন্তঃস্বর পাল্টে দিয়েছেন। একজন ভাষাকে আধুনিক করেছেন গদ্যের ভিতর, অন্যজন পদ্যের ভিতর। দুজনের কেউই উত্তরাধিকারকে প্রত্যাখ্যান করেননি। উত্তরাধিকারকে ভেঙে তার ভিতর থেকেই নতুন সম্ভাবনা নির্মাণ করেছেন। এই জায়গাতেই তাঁদের গভীর আত্মীয়তার এক গুরুত্বপূর্ণ সমতল রচিত হয়ে যায়। বিদ্যাসাগর ভাষাকে ব্যবহারযোগ্য আধুনিকতার দিকে নিয়ে গেছেন; মধুসূদন ভাষার সম্ভাবনাকে প্রচলিত সীমার বাইরে এনে তার প্রাণশক্তিকে দুর্বার করে দিয়েছেন।

নারী-ভাবনাতেও সেই একই অন্তঃসলিলা প্রবাহ লক্ষ করা যায়। বিদ্যাসাগর বিধবা নারীর সামাজিক অস্তিত্বের দাবিকে জীবন্ত করে তুলেছেন। তার দুঃখকে নিছক করুণাগত করে না-দেখে, সামাজিক অন্যায়ের ফল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে মধুসূদনের বীরাঙ্গনা দেখাতে চেয়েছে, নারী কেবল পুরুষের আকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়। সে নিজেই আকাঙ্ক্ষার অধিকারী। প্রেমের অধিকারী। অভিমানের অধিকারী। এমনকি নিজের দেহ ও কামনার ভাষারও অধিকারী। দুজনের প্রকল্প এক নয়, তাঁদের পদ্ধতিও এক নয়; কিন্তু নারীর প্রচলিত পরিচয়কে অতিক্রম করে তাকে স্বাধিকারবোধ-সম্পন্ন স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে দেখার যে মানবিক ও নৈতিক প্রবণতা, সেখানে তাঁদের সংকল্প একই৷ তাদের মধ্যে সেই গভীর ভাবসম্মিলন তাই অনিবার্য ছিলই। ফলে মধুসূদনের প্রতি বিদ্যাসাগরের আকর্ষণকে কেবল কবিপ্রতিভার প্রতি পৃষ্ঠপোষকের মুগ্ধতা-মাত্র বলা ইতিহাসের অক্ষর-পাঠের অক্ষমতা বলেই চিহ্নিত হতে বাধ্য।

প্রবন্ধের এক অসামান্য সুন্দর দার্শনিক মুহূর্ত সম্ভবত শেষের উপনিষদীয় ‘সুপর্ণদ্বয়’-এর উপমা। একজন ভোগ করে, অন্যজন দেখে; একজন চঞ্চল, অন্যজন দৃঢ়। অথচ তাঁরা একই বৃক্ষের উপর অবস্থান করে। এই উপমা দুই ব্যক্তিত্বকে এক সূত্রে বাঁধে, কিন্তু তাঁদের সীমানা মুছে দেয় না। বরং এই ব্যবধানটুকুই হয়ে ওঠে তাঁদের ঐক্যের শর্ত। বিদ্যাসাগরের সংযম ছাড়া মধুসূদনের উচ্ছ্বাসের তাৎপর্য সম্পূর্ণ ধরা পড়ে না। আবার মধুসূদনের উচ্ছ্বাস ছাড়া বিদ্যাসাগরের সংযম যে নিছক রক্ষণশীল আত্মশাসন ছিল না, তা যে তার ভিতরকার বিপুল বিদ্রোহী শক্তির সঞ্চয়— সেই ভাণ্ডারও অদ্রষ্টব্য থেকে যায়। একজনের স্থিরতা অন্যজনের অস্থিরতাকে পাঠযোগ্য করে। একজনের অস্থিরতা অন্যজনের স্থিরতার অন্তর্গত আগুনকে দৃশ্যমান করে।

সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের লেখার অনন্যতা এখানেই—তিনি দুই জীবনের সমান্তরাল রেখা আঁকেননি; তাঁদের মধ্যবর্তী শূন্যতাকে অর্থবহ করেছেন। ইতিহাসের নির্জন উপত্যকায় দুই একাকী মানুষকে পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে দেখিয়েছেন, তাঁরা একই পথে হাঁটেননি, কিন্তু তাঁদের যাত্রার গভীরে ছিল একই গন্তব্যের আকাঙ্ক্ষা। একজন সমাজের বিধি ভেঙেছেন কর্মে, অন্যজন কাব্যে। একজন নিজের জীবনকে শৃঙ্খলায় নির্মাণ করেছেন, অন্যজন নিজের জীবনকে প্রায় এক অন্তহীন আত্মপরীক্ষায় নিক্ষেপ করেছেন। একজন মানুষের মুক্তির জন্য প্রতিষ্ঠানকে বদলাতে চেয়েছেন, অন্যজন মানুষের কল্পনাকে মুক্ত করতে ভাষার ভিতর বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। এই বিপরীতমুখী যাত্রাই অন্তিমে তাঁদের এক অদৃশ্য সেতুতে যুক্ত করেছে।

আরও গভীরে গেলে দেখা যায়, দুজনের একাকিত্ব-ও তাঁদের আত্মীয়তার এক নির্জন সূত্র। তাঁরা কেউই সহজ অর্থে কোনও গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন। তাঁরা নিজেদের সময়ের ভিতরে থেকেও নিজেদের সময়ের সম্পূর্ণ সন্তান নন। তাঁদের দুজনের ভিতরেই সমকালকে অতিক্রম করার এক প্রবল আকাঙ্ক্ষা কাজ করেছে। বিদ্যাসাগর সমাজের ভিতরে থেকেও সমাজের বহু প্রচলিত বিধানকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মধুসূদন নিজের জন্মপরিচয়, ধর্মীয় পরিচয়, ভাষা ও সাহিত্যিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে সংঘর্ষে গিয়ে নিজের জন্য নতুন পরিচয় নির্মাণ করেছেন। দুজনের পথ আলাদা, কিন্তু দুজনেই নিজেকে নিজের মতো করে নির্মাণ করার সাধনায় আত্মগত কৈলাসের পথকেই বেছে নিয়েছেন। এই কারণেই তাঁদের একাকিত্ব নিছক ব্যক্তিগত নিঃসঙ্গতা হতে পারে না; তা এক ধরনের বৌদ্ধিক নির্জনতা। এক অনুভূমিক স্বেচ্ছা নির্বাসন।

এই কারণে এই প্রবন্ধের প্রকৃত বিষয় শুধু বিদ্যাসাগর-মধুসূদন সম্পর্ক নয়; তার চেয়েও বড়ো বিষয়—একজন মানুষের ভিতরে যে ‘অপর’ বাস করে, ইতিহাস কখনও কখনও সেই অপর মানুষের মুখেই আরেকজনকে দৃশ্যমান করে তোলে। বিদ্যাসাগর হয়তো মধুসূদনের মধ্যে নিজের জীবনযাত্রার বিপরীত সম্ভাবনাকে দেখেছিলেন। আর মধুসূদন বিদ্যাসাগরের মধ্যে এমন এক নৈতিক আশ্রয় দেখেছিলেন, যেখানে তাঁর সমস্ত অস্থিরতা বিচার হওয়ার আগে পরিস্রুত মাধ্যমের ভিতরে চিন্তার অবসর পেতে পারে। একজন অন্যজনকে সম্পূর্ণ করেননি; বরং একজন অন্যজনের অসম্পূর্ণতাকে দৃশ্যমান করেছেন।

সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় সেই অদৃশ্য মুখই তো দেখতে পেয়েছেন। তাঁর সফলতা এই যে, তিনি বিদ্যাসাগরকে মধুসূদনের বিপরীতে এবং মধুসূদনকে বিদ্যাসাগরের ব্যতিক্রম হিসেবে স্থাপন না-করে তাঁদের একই বৃহত্তর মানবিক ও বৌদ্ধিক নাটকের দুই ভিন্ন শেডের সমগোত্রীয় চরিত্র হিসেবে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক তাই কেবল দয়া ও কৃতজ্ঞতার নয়, পৃষ্ঠপোষক ও প্রতিভার নয়, নৈতিক মানুষ ও অনৈতিক মানুষেরও নয়। তার গভীরে রয়েছে দুই ধরনের মুক্ত সংলাপ। একটি সংযমের ভিতর দিয়ে অর্জিত, অন্যটি উচ্ছ্বাসের ভিতর দিয়ে অনুসন্ধানী।

এই দেখার মধ্যেই বিধৃত প্রবন্ধের স্থায়ী সাহিত্যিক ও বৌদ্ধিক মূল্য। কারণ শেষপর্যন্ত বিদ্যাসাগর ও মধুসূদনকে পাশাপাশি রাখলে আমরা শুধু উনিশ শতকের দুই মহৎ মানুষকেই দেখতে পাই না; তার সঙ্গে দেখি আধুনিক বাঙালি সত্তার দুই বিপরীত অথচ পরস্পর-সম্পূরক জন্মমুহূর্ত। একজন নৈতিকতার ভিতর মুক্তির গদ্যভাষা নির্মাণ করছেন, অন্যজন স্বাধীনতার ভিতর নিজের নৈতিকতার অমিত্রাক্ষর সন্ধান করছেন। আর ইতিহাসের সেই দীর্ঘ, নির্জন পথে তাঁদের দুই ছায়া— কখনো দীর্ঘ হচ্ছে, কখনো সংকুচিত হচ্ছে, কখনো স্থির, কখনো অস্থির হয়ে উঠছে। কিন্তু তাঁরা দুশো বছর ধরে বাংলা থেকে ভারততীর্থের পথে পথে আলাদা আলাদা হাঁটছেন। একই উদ্দেশ্যে৷ অবিরাম। অক্লান্ত।

(অনিশ রায়)

 

#সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়-এর সম্পূর্ণ লেখাটি পড়তে নীচে দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করুন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top