অধ্যায় : ধাতু ও ক্রিয়াপদ

১. ভূমিকা : বাক্যের প্রাণ কোথায়?

একটি বাক্যে যে পদটি কোনো কাজ করা, হওয়া, থাকা, ঘটা, পরিবর্তন বা অবস্থা প্রকাশ করে এবং বাক্যের বক্তব্যকে গতিশীল করে তোলে, সেটিই ক্রিয়াপদ।

যেমন—

  • রাহুল পড়ে
  • পাখি উড়ে
  • সূর্য ওঠে
  • ফুল ফোটে
  • মা শিশুকে খাওয়ান
  • সে বই পড়ে ফেলেছে

‘পড়ে’, ‘উড়ে’, ‘ওঠে’, ‘ফোটে’, ‘খাওয়ান’, ‘পড়ে ফেলেছে’—প্রতিটি ক্ষেত্রেই কোনো না কোনো ক্রিয়াব্যাপার প্রকাশিত হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, “ক্রিয়াপদের মধ্যেই থাকে ভাষার চলবার শক্তি।”

ক্রিয়াপদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হল—

ধাতু বা ক্রিয়ামূল → ক্রিয়াপদ

অর্থাৎ, ধাতুকে কেন্দ্র করেই ক্রিয়াপদের বিভিন্ন রূপ তৈরি হয়।


২. ধাতু কী?

সংজ্ঞা

ক্রিয়াপদের মূল অংশকে ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।

সহজভাবে বলা যায়—

ক্রিয়াপদ থেকে তার ক্রিয়াবিভক্তি বা রূপগত পরিবর্তনের অংশ বাদ দিলে যে মূল অংশটি পাওয়া যায়, তাকে ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।

যেমন—

ক্রিয়াপদধাতু
পড়িপড়্
পড়ছেপড়্
পড়লপড়্
পড়বেপড়্
লিখিলিখ্
লিখছেলিখ্
খেলামখা
যাবেযা
দেখেছিলদেখ্

‘পড়ি’, ‘পড়ছে’, ‘পড়ল’, ‘পড়বে’—ক্রিয়াপদগুলির রূপ আলাদা হলেও এদের মূল ক্রিয়ামূল পড়্

মনে রাখো

ধাতু = ক্রিয়ার মূল
ক্রিয়াপদ = ধাতুর ব্যবহারিক/রূপান্তরিত রূপ


৩. ধাতু ও ক্রিয়াপদের পার্থক্য

ধাতুক্রিয়াপদ
ক্রিয়ার মূল অংশবাক্যে ব্যবহৃত পূর্ণ রূপ
সাধারণত অভিধানিক/মূল রূপবাক্যে কর্তা, কাল, ভাব ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত
একা সবসময় বাক্য সম্পূর্ণ করে নাবাক্যের বক্তব্য সম্পূর্ণ করতে পারে
যেমন—পড়্, লিখ্, কর্যেমন—পড়ি, লিখছে, করেছিল

উদাহরণ

আমি বই পড়ি।

এখানে—

  • ‘পড়্’ = ধাতু
  • ‘পড়ি’ = ক্রিয়াপদ

৪. ধাতুর শ্রেণিবিভাগ

গঠন ও উৎপত্তির দিক থেকে ধাতুকে প্রধানত তিন ভাগে আলোচনা করা যায়—

১. সিদ্ধ বা মৌলিক ধাতু

২. সাধিত ধাতু

৩. যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু

তবে সাধিত ধাতুর অন্তর্গত বিভিন্ন ধরনের ধাতুকে পৃথকভাবে চেনা প্রয়োজন।


৫. সিদ্ধ বা মৌলিক ধাতু

সংজ্ঞা

যে ধাতু অন্য কোনো শব্দ বা ধাতু থেকে গঠিত বলে বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে সিদ্ধ, মৌলিক বা একদল ধাতু বলে।

ইংরেজিতে একে Primary Root বলা যায়।

উদাহরণ

  • √কর্
  • √খা
  • √যা
  • √দেখ্
  • √লিখ্
  • √বল্
  • √পড়্
  • √শুন্
  • √ঘুম্

যেমন—

সে বই পড়ে।

‘পড়্’ একটি মৌলিক ধাতু।

মনে রাখার সূত্র

যাকে ভাঙিয়ে অন্য ধাতু পাওয়া যায় না → মৌলিক/সিদ্ধ ধাতু।


৬. সাধিত ধাতু

সংজ্ঞা

কোনো শব্দ, ধাতু বা ধ্বনিসমষ্টির সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রত্যয় বা রূপগত উপাদান যুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে।

সাধিত ধাতুর উল্লেখযোগ্য ধরন—

১. নামধাতু
২. ধ্বন্যাত্মক ধাতু
৩. প্রযোজক বা ণিজন্ত ধাতু
৪. কর্মবাচ্যধর্মী/কর্মবাচ্যের ধাতু—প্রাসঙ্গিক ব্যাকরণে পৃথকভাবে আলোচিত হতে পারে।


৭. নামধাতু

নামধাতু কাকে বলে?

বিশেষ্য, বিশেষণ বা অন্য নামপদের সঙ্গে ধাতু-গঠনকারী উপাদান যুক্ত হয়ে যে ধাতু তৈরি হয় এবং যার দ্বারা কোনো কাজ বা অবস্থা প্রকাশ পায়, তাকে নামধাতু বলে।

বাংলায় নামধাতু গঠনে সাধারণত ‘আ’ জাতীয় প্রত্যয়/ধাতু-গঠনকারী উপাদানের ব্যবহার দেখা যায়।

উদাহরণ

  • হাত + আ → হাতা
  • লজ্জা + আ → লজ্জা পাওয়া/লজ্জা-জাত ক্রিয়ার রূপ
  • চমক + আ → চমকা
  • লতা + আ → লতানো/লতানো-জাত রূপ
  • বিষ + আ → বিষানো

বাক্যে

  • বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে
  • গাছটি লতিয়ে উঠেছে।
  • লোকটি অন্যের সম্পত্তি হাতিয়েছে

সতর্কতা

প্রতিটি ‘আ’-যুক্ত শব্দকে নামধাতু বলা যাবে না। শব্দটির প্রকৃত গঠন ও ক্রিয়ামূলের উৎপত্তি বিচার করতে হবে।


৮. ধ্বন্যাত্মক ধাতু

সংজ্ঞা

কোনো ধ্বন্যাত্মক বা অনুকারধ্বনির সঙ্গে ধাতু-গঠনকারী উপাদান যুক্ত হয়ে যে ধাতু তৈরি হয়, তাকে ধ্বন্যাত্মক ধাতু বলে।

উদাহরণ

  • ঝমঝম + আ → ঝমঝমা
  • ধড়ফড় + আ → ধড়ফড়া
  • টনটন + আ → টনটনা
  • গুনগুন + আ → গুনগুনা
  • কড়কড় + আ → কড়কড়া

বাক্যে

  • সারারাত বৃষ্টি ঝমঝমিয়ে পড়ল।
  • উত্তেজনায় বুক ধড়ফড় করছে
  • দাঁতটি টনটন করছে
  • মৌমাছি গুনগুন করছে

সূত্র

অনুকারধ্বনি + ধাতু-গঠনকারী উপাদান → ধ্বন্যাত্মক ধাতু


৯. প্রযোজক ধাতু বা ণিজন্ত ধাতু

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংজ্ঞা

কর্তা নিজে কাজ না করে অন্য কাউকে দিয়ে কাজ করানো বোঝালে যে ধাতুরূপ ব্যবহৃত হয়, তাকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ধাতু বলে।

উদাহরণ

‘পড়্’ → পড়ানো
‘খা’ → খাওয়ানো
‘কর্’ → করানো
‘দেখ্’ → দেখানো
‘শোন্’ → শোনানো
‘বস্’ → বসানো

উদাহরণ

শিক্ষক ছাত্রকে পড়ান।

এখানে—

  • শিক্ষক = কাজ করানোর কর্তা
  • ছাত্র = যার দ্বারা কাজটি সম্পন্ন হচ্ছে
  • পড়ানো = প্রযোজক ক্রিয়া

মা শিশুকে ভাত খাওয়ান।

এখানে মা নিজে ভাত খাচ্ছেন না; শিশুকে খাওয়াচ্ছেন।

গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন

‘খা + আ = খাওয়া’কে প্রযোজক ধাতু বলা ঠিক নয়।

  • খা → খাওয়া : সাধারণ ক্রিয়ার রূপ/ধাতুর রূপান্তর
  • খা → খাওয়ানো : প্রযোজক রূপ

একইভাবে—

  • পড়্ → পড়া ≠ প্রযোজক
  • পড়্ → পড়ানো = প্রযোজক

মনে রাখার সূত্র

নিজে করা → মূল ক্রিয়া
অন্যকে দিয়ে করানো → প্রযোজক ক্রিয়া


১০. কর্মবাচ্যধর্মী ধাতু

বাংলা ব্যাকরণে কর্মবাচ্যের ক্রিয়ার রূপ গঠনের ক্ষেত্রে বিশেষ ধাতুরূপ দেখা যায়।

যেমন—

  • কর্ → করা হয়
  • লিখ্ → লেখা হয়
  • পড়্ → পড়া হয়
  • দেখা যায়
  • বলা হয়

এখানে ক্রিয়ার সঙ্গে কর্তার প্রত্যক্ষ সক্রিয় ভূমিকার পরিবর্তে কর্মের ওপর গুরুত্ব পড়ে।

উদাহরণ—

রাহুল চিঠি লেখে। — কর্তৃবাচ্য

রাহুলের দ্বারা চিঠি লেখা হয়। — কর্মবাচ্য


১১. যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু

বাংলা ক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল—একাধিক উপাদান একত্রে এসে একটি ক্রিয়াগত অর্থ তৈরি করতে পারে।

এক্ষেত্রে দুটি প্রবণতা বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে—

ক. যুক্ত/সংযোগমূলক গঠন

খ. যৌগিক ক্রিয়া

দুটিকে এক করে ফেললে ভুল হবে।


১২. যুক্ত বা সংযোগমূলক ক্রিয়া

সংজ্ঞা

বিশেষ্য বা বিশেষণ জাতীয় পদের সঙ্গে একটি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি বিশেষ অর্থবাহী ক্রিয়াপদ গঠন করে, তাকে যুক্ত বা সংযোগমূলক ক্রিয়া বলে।

উদাহরণ

  • সাঁতার কাটা
  • দেখা করা
  • জিভ কাটা
  • মানুষ হওয়া
  • সিদ্ধান্ত নেওয়া
  • সাহায্য করা
  • রাগ করা
  • দুঃখ পাওয়া

বাক্যে

  • সে নদীতে সাঁতার কাটে
  • আমি তোমার সঙ্গে দেখা করব
  • মেয়েটি লজ্জায় জিভ কাটল
  • তোরা মানুষ হ
  • সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে

বৈশিষ্ট্য

যুক্ত ক্রিয়ায় সাধারণত প্রথম অংশটি নামপদ এবং দ্বিতীয় অংশটি ক্রিয়াপদ।

নামপদ + ক্রিয়া = যুক্ত/সংযোগমূলক ক্রিয়া


১৩. যৌগিক ক্রিয়া

সংজ্ঞা

একটি অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে অন্য একটি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি সম্মিলিত ক্রিয়াগত অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

উদাহরণ

  • খেয়ে ফেলল
  • পড়ে গেল
  • বসে পড়ল
  • হাসতে লাগল
  • কেঁদে উঠল
  • জেগে রইল
  • দেখে নিল
  • লিখে দিল
  • চলে গেল
  • নেমে এসেছে

বিশ্লেষণ

ছেলেটি বইটি পড়ে ফেলল।

এখানে—

  • পড়ে = অসমাপিকা ক্রিয়া
  • ফেলল = সমাপিকা ক্রিয়া
  • ‘পড়ে ফেলল’ = যৌগিক ক্রিয়া

আরও উদাহরণ

সে হাসতে লাগল।

‘হাসতে’ + ‘লাগল’ = যৌগিক ক্রিয়া।

যুক্ত ও যৌগিক ক্রিয়ার পার্থক্য

যুক্ত/সংযোগমূলকযৌগিক
নামপদ/বিশেষণ + ক্রিয়াঅসমাপিকা ক্রিয়া + ক্রিয়া
সাঁতার কাটাপড়ে যাওয়া
দেখা করাখেয়ে ফেলা
সিদ্ধান্ত নেওয়ালিখে দেওয়া
রাগ করাহাসতে লাগা

স্মরণসূত্র

নাম + ক্রিয়া = যুক্ত
অসমাপিকা ক্রিয়া + ক্রিয়া = যৌগিক


১৪. ক্রিয়াপদ

সংজ্ঞা

যে পদ দ্বারা কোনো কাজ করা, হওয়া, থাকা, ঘটা বা ক্রিয়াব্যাপার সংঘটিত হওয়া বোঝায় এবং যা বাক্যের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করে, তাকে ক্রিয়াপদ বলে।

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সংজ্ঞার মূল বক্তব্য অনুযায়ী, বাক্যে ক্রিয়াব্যাপারের সংঘটন এবং কর্তার সঙ্গে রূপগত অন্বয় ক্রিয়াপদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

উদাহরণ

  • আমি পড়ি
  • সে খেলছে
  • পাখি উড়ল
  • সূর্য উঠেছে
  • তারা কাল যাবে

১৫. ক্রিয়াপদের গঠন

সহজ শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্লেষণে—

ধাতু + ক্রিয়াবিভক্তি/রূপগত চিহ্ন = ক্রিয়াপদ

যেমন—

পড়্ + ই → পড়ি

কর্ + ল → করল

কর্ + ব → করব

তবে বাংলা ক্রিয়ার সব রূপকে যান্ত্রিকভাবে শুধু ‘ধাতু + একটি বিভক্তি’ সূত্রে বিশ্লেষণ করা যায় না। অনেক ক্রিয়ায় ধাতু, কালচিহ্ন, পুরুষচিহ্ন, সহায়ক ক্রিয়া ইত্যাদির জটিল সমন্বয় থাকে।


১৬. ক্রিয়াপদের প্রধান শ্রেণিবিভাগ

ক্রিয়াপদকে বিভিন্ন দিক থেকে ভাগ করা যায়।

অবস্থাগত/বাক্যগত দিক থেকে

১. সমাপিকা ক্রিয়া
২. অসমাপিকা ক্রিয়া

কর্মের দিক থেকে

১. অকর্মক ক্রিয়া
২. সকর্মক ক্রিয়া
৩. এককর্মক ক্রিয়া
৪. দ্বিকর্মক ক্রিয়া

গঠনগত দিক থেকে

১. মৌলিক ক্রিয়া
২. নামধাতুজ ক্রিয়া
৩. ধ্বন্যাত্মক ক্রিয়া
৪. প্রযোজক ক্রিয়া
৫. যুক্ত/সংযোগমূলক ক্রিয়া
৬. যৌগিক ক্রিয়া
৭. কর্মবাচ্যের ক্রিয়া

বিশেষ প্রকৃতির ক্রিয়া

১. পঙ্গু/অপূর্ণ ক্রিয়া
২. নঞর্থক ক্রিয়া ইত্যাদি।


১৭. সমাপিকা ক্রিয়া

সংজ্ঞা

যে ক্রিয়া বাক্যের বক্তব্য বা ভাবকে সম্পূর্ণ করে এবং যার পরে আর কোনো অসম্পূর্ণতা থাকে না, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।

ইংরেজিতে Finite Verb.

উদাহরণ

  • আমি ভাত খাই
  • সে স্কুলে যায়
  • তারা মাঠে খেলছে
  • রাহুল বইটি পড়ল

‘খাই’, ‘যায়’, ‘খেলছে’, ‘পড়ল’—প্রতিটি বাক্যের বক্তব্য সম্পূর্ণ করেছে।

পরীক্ষা

ক্রিয়াটি সরিয়ে দিলে যদি বাক্যটি অসম্পূর্ণ হয়ে যায়, তবে সেটি সাধারণত বাক্যের প্রধান সমাপিকা ক্রিয়া।


১৮. অসমাপিকা ক্রিয়া

সংজ্ঞা

যে ক্রিয়া একা বাক্যের বক্তব্য সম্পূর্ণ করতে পারে না এবং অন্য কোনো ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।

ইংরেজিতে Non-finite Verb.

উদাহরণ

  • আমি ভাত খেয়ে স্কুলে গেলাম।
  • সে বই পড়তে বসেছে।
  • তুমি এলে আমি যাব।
  • কাজটি করে সে চলে গেল।

এখানে—

‘খেয়ে’, ‘পড়তে’, ‘এলে’, ‘করে’—নিজেরা সম্পূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ করছে না।

সূত্র

অসম্পূর্ণ ভাব → অসমাপিকা
সম্পূর্ণ ভাব → সমাপিকা


১৯. সকর্মক ও অকর্মক ক্রিয়া

ক্রিয়ার সঙ্গে কর্মের সম্পর্ক বিচার করে ক্রিয়াকে প্রধানত—

১. সকর্মক
২. অকর্মক

—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।


২০. সকর্মক ক্রিয়া

সংজ্ঞা

যে ক্রিয়ার অর্থ সম্পূর্ণ করতে কোনো কর্মের প্রয়োজন হয় এবং ক্রিয়াটি কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর ওপর সংঘটিত হয়, তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।

উদাহরণ

আমি ভাত খাই।

প্রশ্ন—

আমি কী খাই?

উত্তর—

ভাত।

অতএব ‘খাই’ = সকর্মক ক্রিয়া।

আরও—

  • সে বই পড়ে
  • রাহুল ছবি আঁকে
  • মা শিশুকে ডাকলেন
  • আমি চিঠি লিখলাম

২১. অকর্মক ক্রিয়া

সংজ্ঞা

যে ক্রিয়ার সঙ্গে কোনো কর্মের প্রয়োজন হয় না এবং ক্রিয়াটি কর্তার মধ্যেই সম্পূর্ণ হয়, তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।

উদাহরণ

  • পাখি উড়ে
  • শিশুটি হাসে
  • সে ঘুমায়
  • লোকটি হাঁটে
  • সূর্য ওঠে

এখানে ক্রিয়ার কোনো কর্ম নেই।

সতর্কতা

শুধু ক্রিয়াটি দেখে সকর্মক বা অকর্মক নির্ধারণ করা উচিত নয়। বাক্যে ক্রিয়াটি কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা দেখতে হবে।

যেমন—

সে খায়। — অকর্মক ব্যবহারে কর্ম উহ্য।

সে ভাত খায়। — সকর্মক।


২২. এককর্মক ক্রিয়া

সংজ্ঞা

যে সকর্মক ক্রিয়ার একটি কর্ম থাকে, তাকে এককর্মক ক্রিয়া বলে।

উদাহরণ—

  • আমি ভাত খাই
  • সে বই পড়ে
  • রাহুল ছবি আঁকে
  • মা চিঠি লিখেছেন

২৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া

সংজ্ঞা

যে ক্রিয়ার সঙ্গে দুটি কর্মের সম্পর্ক থাকে, তাকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।

উদাহরণ

আমি ভাইকে সাইকেল দিলাম।

এখানে—

  • ভাইকে = গৌণ/প্রাপক কর্ম
  • সাইকেল = মুখ্য কর্ম

আরও—

মা শিশুকে খাবার দিলেন।

  • শিশুকে = গৌণ কর্ম
  • খাবার = মুখ্য কর্ম

সহজ সূত্র

কাকে + কী → দুটি কর্মের সম্পর্ক → দ্বিকর্মক

তবে ‘কর্ম’ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বাংলা বাক্যের কারক-সম্পর্কও বিবেচনা করতে হবে; সব ‘কাকে’ পদকে সরলভাবে কর্ম বলে দেওয়া ঠিক নয়।


২৪. প্রযোজক ক্রিয়া

প্রযোজক ক্রিয়া ক্রিয়ার গঠনগত একটি বিশেষ রূপ।

সংজ্ঞা

কর্তা নিজে কাজ না করে অন্য কাউকে দিয়ে কাজ করায়—এমন অর্থ প্রকাশকারী ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।

উদাহরণ

  • শিক্ষক ছাত্রকে পড়ান
  • মা শিশুকে খাওয়ান
  • বাবা ছেলেকে দিয়ে কাজটি করালেন
  • সে আমাকে গল্পটি শোনাল

তুলনা

রাহুল পড়ে।
→ রাহুল নিজে পড়ে।

শিক্ষক রাহুলকে পড়ান।
→ শিক্ষক রাহুলকে দিয়ে পড়ার কাজ করান।


২৫. নামধাতুজ ক্রিয়া

নামধাতু থেকে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামধাতুজ ক্রিয়া বলা হয়।

উদাহরণ

  • বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে
  • গাছটি লতিয়ে উঠেছে।
  • লোকটি সম্পত্তি হাতিয়েছে

সূত্র

নামপদ/বিশেষণ → নামধাতু → ক্রিয়া


২৬. ধ্বন্যাত্মক ক্রিয়া

ধ্বন্যাত্মক ধাতু থেকে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে ধ্বন্যাত্মক ক্রিয়া বলে।

উদাহরণ

  • বৃষ্টি ঝমঝম করছে
  • বুক ধড়ফড় করছে
  • দাঁত টনটন করছে
  • মৌমাছি গুনগুন করছে

২৭. যুক্ত বা সংযোগমূলক ক্রিয়া

উদাহরণ

  • সাঁতার কাটা
  • দেখা করা
  • ভয় পাওয়া
  • রাগ করা
  • সিদ্ধান্ত নেওয়া
  • মানুষ হওয়া

এগুলির প্রথম অংশটি নামপদ/বিশেষণজাতীয় এবং দ্বিতীয় অংশ ক্রিয়া।


২৮. যৌগিক ক্রিয়া

উদাহরণ

  • পড়ে গেল
  • খেয়ে ফেলল
  • দেখে নিল
  • লিখে দিল
  • হাসতে লাগল
  • কেঁদে উঠল
  • বসে পড়ল

গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য

‘সাঁতার কাটা’ → যুক্ত ক্রিয়া
‘সাঁতার কেটে গেল’ → যুক্ত ক্রিয়া + সহায়ক/যৌগিক ক্রিয়াগত ব্যবহার

‘খেয়ে ফেলল’ → যৌগিক ক্রিয়া


২৯. পঙ্গু বা অপূর্ণ ক্রিয়া

সংজ্ঞা

যে ক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ কালগত বা পুরুষগত রূপান্তর সীমিত এবং যা প্রচলিত অর্থে অন্যান্য ক্রিয়ার মতো সব রূপে ব্যবহৃত হয় না, তাকে পঙ্গু বা অপূর্ণ ক্রিয়া (Defective Verb) বলা হয়।

কিছু ব্যাকরণে ‘পঙ্গু ক্রিয়া’ নামে বিশেষ কিছু সীমিত-রূপের ক্রিয়ার আলোচনা পাওয়া যায়।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন প্রয়োজন।

‘বটে’ সম্পর্কে

‘বটে’কে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ ক্রিয়া হিসেবে চিহ্নিত করা আধুনিক ভাষাবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে সমস্যাজনক। এটি অনেক ক্ষেত্রে নিশ্চয়সূচক/জোরদায়ক অব্যয় বা ক্লিটিক-জাতীয় পদ হিসেবে কাজ করে।

যেমন—

মেয়েটি বুদ্ধিমান বটে।

এখানে ‘বটে’কে ‘ক্রিয়া’ ধরে তার অতীত-ভবিষ্যৎ রূপ খোঁজা শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে পারে।

‘নয়’

‘নয়’ মূলত নেতিবাচক অস্তিত্ব/পরিচয়বাচক বিধেয়ের সঙ্গে ব্যবহৃত একটি বিশেষ রূপ; একে সাধারণ সকর্মক/অকর্মক ক্রিয়ার সঙ্গে এক সারিতে রাখা ঠিক নয়।

শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ সূত্র

পঙ্গু/অপূর্ণ ক্রিয়া = যে ক্রিয়ার প্রচলিত রূপবৈচিত্র্য সীমিত।


৩০. নঞর্থক ক্রিয়া

সংজ্ঞা

কোনো ক্রিয়াব্যাপার সংঘটিত হয়নি বা হবে না—এই নেতিবাচক অর্থ প্রকাশকারী ক্রিয়াগত রূপকে নঞর্থক ক্রিয়া বলা হয়।

উদাহরণ

  • সে যায়নি
  • আমি খাইনি
  • তারা আসবে না
  • সে করেনি

নঞর্থকতার প্রধান চিহ্ন

না / নি / নয় / নেই ইত্যাদি।

তবে এগুলির প্রত্যেকটির ব্যাকরণগত ভূমিকা এক নয়। তাই ‘না’ বা ‘নি’ দেখলেই তাকে আলাদা কোনো ধাতু মনে করা যাবে না।


৩১. ক্রিয়ার কাল

ক্রিয়ার সঙ্গে সময়ের সম্পর্ক প্রকাশিত হলে তাকে কাল বলে।

বাংলায় প্রধানত তিন কাল—

১. বর্তমান কাল
২. অতীত কাল
৩. ভবিষ্যৎ কাল


৩২. বর্তমান কাল

সংজ্ঞা

বর্তমান সময়ে কোনো কাজ, অবস্থা বা ঘটনার সঙ্গে সম্পর্ক বোঝালে বর্তমান কাল।

উদাহরণ

  • আমি পড়ি।
  • সে স্কুলে যায়।
  • তারা খেলছে।
  • সূর্য উঠেছে।

৩৩. অতীত কাল

যে ক্রিয়াব্যাপার অতীতে সংঘটিত হয়েছে, তাকে অতীত কাল বলে।

উদাহরণ—

  • আমি পড়লাম।
  • সে স্কুলে গেল।
  • তারা খেলছিল।
  • সে বইটি পড়েছিল।

৩৪. ভবিষ্যৎ কাল

যে ক্রিয়াব্যাপার ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে, তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে।

উদাহরণ—

  • আমি পড়ব।
  • সে যাবে।
  • তারা খেলবে।
  • আমরা আগামীকাল আসব।

৩৫. কাল ও ক্রিয়ার প্রকার : একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য

এখানে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ভুল করে।

কাল = কাজটি কোন সময়ের?

ক্রিয়ার প্রকার/দৃষ্টিভঙ্গি = কাজটি কীভাবে সংঘটিত হচ্ছে বা সময়ের মধ্যে তার অবস্থাটি কী?

অর্থাৎ—

কাল বলে সময়; ক্রিয়ার প্রকার বলে ক্রিয়াটির প্রকৃতি/অবস্থা।

যেমন—

সে পড়ছে।

  • কাল = বর্তমান
  • ক্রিয়ার প্রকার = ঘটমান

সে পড়েছে।

  • কাল = বর্তমান-সম্পর্কিত
  • ক্রিয়ার প্রকার = পুরাঘটিত

৩৬. ক্রিয়ার প্রকার বা Aspect

বাংলা ব্যাকরণের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় ক্রিয়ার প্রকৃতি বোঝাতে সাধারণত—

১. সাধারণ/সামান্য
২. ঘটমান
৩. পুরাঘটিত
৪. নিত্যবৃত্ত

—এই বিভাগগুলি শেখানো হয়।


৩৭. সাধারণ বা সামান্য বর্তমান

উদাহরণ

  • আমি প্রতিদিন স্কুলে যাই
  • সে বই পড়ে
  • সূর্য পূর্বদিকে ওঠে

সূত্র

অভ্যাস/সাধারণ ঘটনা/সাধারণ সত্য → সাধারণ বর্তমান


৩৮. ঘটমান বর্তমান

উদাহরণ

  • আমি এখন পড়ছি
  • সে গান গাইছে
  • তারা মাঠে খেলছে

সূত্র

এই মুহূর্তে কাজ চলছে → ঘটমান বর্তমান


৩৯. পুরাঘটিত বর্তমান

উদাহরণ

  • আমি বইটি পড়েছি
  • সে কাজটি করেছে
  • তারা বাড়ি ফিরেছে

এখানে কাজ সম্পন্ন হলেও তার ফল/সম্পর্ক বর্তমানের সঙ্গে যুক্ত।


৪০. নিত্যবৃত্ত বর্তমান

অভ্যাসগত বা নিয়মিত ক্রিয়া বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

যেমন—

  • সে প্রতিদিন সকালে হাঁটে।
  • আমি নিয়মিত বই পড়ি।
  • সূর্য পূর্বদিকে ওঠে।

বাংলায় ‘সাধারণ বর্তমান’ ও ‘নিত্যবৃত্ত’ অনেক ক্ষেত্রে পরস্পরের কাছাকাছি অর্থে ব্যবহৃত হয়; পাঠ্যক্রমভেদে নামকরণে পার্থক্য থাকতে পারে।


৪১. ঐতিহাসিক বর্তমান

অতীতে সংঘটিত কোনো ঘটনাকে আরও জীবন্ত করে তুলতে বর্তমান কালের ক্রিয়া ব্যবহার করা হলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান বলে।

উদাহরণ

১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে সিরাজ যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করেন।

ঘটনা অতীতের, কিন্তু ‘প্রবেশ করেন’ বর্তমানের মতো জীবন্ত করে ঘটনাটি উপস্থাপন করছে।


৪২. সাধারণ অতীত

  • সে স্কুলে গেল
  • আমি বইটি পড়লাম
  • তারা খেলায় জিতল

৪৩. ঘটমান অতীত

অতীতে কোনো সময় কাজ চলছিল।

  • আমি তখন পড়ছিলাম
  • তারা মাঠে খেলছিল
  • সে গান গাইছিল

সূত্র

অতীতে কাজ চলছিল → ঘটমান অতীত


৪৪. পুরাঘটিত অতীত

অতীতে একটি কাজ অন্য একটি অতীত কাজের আগে সম্পূর্ণ হয়েছিল।

  • আমি যাওয়ার আগে সে চলে গিয়েছিল
  • শিক্ষক আসার আগেই ছাত্ররা বসে পড়েছিল

৪৫. নিত্যবৃত্ত অতীত

অতীতে নিয়মিত বা অভ্যাসগত কাজ বোঝায়।

  • ছোটবেলায় আমি নদীতে সাঁতার কাটতাম
  • সে প্রতিদিন সকালে মাঠে যেত

৪৬. সাধারণ ভবিষ্যৎ

  • আমি কাল যাব
  • সে পরীক্ষা দেবে
  • তারা খেলবে।

৪৭. ঘটমান ভবিষ্যৎ

ভবিষ্যতের কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কাজ চলতে থাকবে—এই অর্থে ব্যবহৃত রূপ।

যেমন—

আগামীকাল এই সময়ে আমি কলকাতার পথে যাচ্ছি/যেতে থাকব।

বাংলায় ভবিষ্যৎ ঘটমানের ব্যবহার ইংরেজির Future Continuous-এর সঙ্গে সম্পূর্ণ এক নয়; তাই ইংরেজির ছক বাংলায় যান্ত্রিকভাবে বসানো উচিত নয়।


৪৮. ভবিষ্যৎ-সম্পর্কিত পুরাঘটিত অর্থ

কোনো ভবিষ্যৎ সময়ের মধ্যে একটি কাজ সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার ধারণা প্রকাশ করা যায়।

যেমন—

তুমি পৌঁছানোর আগেই আমি কাজটি শেষ করে ফেলব।

এখানে ভবিষ্যৎ সময়ের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার ধারণা আছে।


৪৯. সরল কাল ও যৌগিক কাল

প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণে ক্রিয়ার কালকে কখনও—

  • সরল/মৌলিক কাল
  • যৌগিক/মিশ্র কাল

এইভাবেও আলোচনা করা হয়।

তবে আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানে বাংলা ক্রিয়ার কাল, দৃষ্টিভঙ্গি, সহায়ক ক্রিয়া ও যৌগিক ক্রিয়াকে পৃথক স্তরে বিশ্লেষণ করা অধিক যুক্তিসঙ্গত।

পরীক্ষার জন্য

প্রশ্নের পাঠ্যক্রম যে পরিভাষা অনুসরণ করে, উত্তরেও সেই পরিভাষা ব্যবহার করবে।


৫০. ক্রিয়ার ভাব বা Mood

ক্রিয়া কেবল কাজের সময় প্রকাশ করে না; বক্তা সেই কাজ সম্পর্কে কী ধরনের মনোভাব প্রকাশ করছেন, তাও বোঝায়।

এই দিককে ক্রিয়ার ভাব বলে।

প্রধানত—

১. নির্দেশক ভাব
২. অনুজ্ঞা ভাব
৩. সম্ভাবক/সংযোজক/শর্তসাপেক্ষ ভাব

ইত্যাদি আলোচনা করা হয়।


৫১. নির্দেশক ভাব

কোনো ঘটনা, তথ্য বা বক্তব্যকে সাধারণভাবে প্রকাশ করা হলে নির্দেশক ভাব।

উদাহরণ

  • সে স্কুলে যায়।
  • আমি বই পড়ি।
  • তারা খেলছে।
  • সূর্য উঠেছে।

৫২. অনুজ্ঞা ভাব

আদেশ, অনুরোধ, নিষেধ, উপদেশ বা অনুমতি বোঝালে অনুজ্ঞা ভাব।

উদাহরণ

  • এখানে এসো
  • বইটি পড়ো
  • দরজাটি বন্ধ করো
  • এখানে যেও না
  • ভালো করে শোনো

৫৩. সম্ভাবক/সংযোজক/শর্তসাপেক্ষ ভাব

সম্ভাবনা, ইচ্ছা, শর্ত, অনুমান বা অন্য কোনো ঘটনার ওপর নির্ভরতা প্রকাশ করলে এই ধরনের ভাব দেখা যায়।

উদাহরণ

  • তুমি এলে আমি যাব
  • সে এলে ভালো হয়
  • যদি বৃষ্টি হয়, তবে আমরা যাব না।
  • সে হয়তো আসবে

বাংলা ব্যাকরণে এই বিভাগের নামকরণ ও সীমা গ্রন্থভেদে ভিন্ন হতে পারে।


৫৪. ক্রিয়ার পুরুষ

ক্রিয়ার সঙ্গে বক্তা, শ্রোতা ও আলোচ্য ব্যক্তির সম্পর্ককে পুরুষ বলে।

প্রধানত তিন পুরুষ—

১. উত্তম পুরুষ
২. মধ্যম পুরুষ
৩. নামপুরুষ/প্রথম পুরুষ

উত্তম পুরুষ

বক্তা নিজে—

  • আমি
  • আমরা

মধ্যম পুরুষ

যাকে উদ্দেশ করে বলা হচ্ছে—

  • তুমি
  • তোমরা
  • আপনি
  • আপনারা

নামপুরুষ

যার সম্পর্কে বলা হচ্ছে—

  • সে
  • তারা
  • রাহুল
  • মিতা
  • ছেলেরা

৫৫. পুরুষ ও ক্রিয়ার রূপ

উদাহরণ—

পুরুষক্রিয়া
আমিকরি
তুমিকরো
সেকরে
আমরাকরি
তোমরাকরো
তারাকরে

অতীত—

পুরুষক্রিয়া
আমিকরলাম
তুমিকরলে
সেকরল
আমরাকরলাম
তোমরাকরলে
তারাকরল

ভবিষ্যৎ—

পুরুষক্রিয়া
আমিকরব
তুমিকরবে
সেকরবে
আমরাকরব
তোমরাকরবে
তারাকরবে

৫৬. ক্রিয়ার বাচ্য

ক্রিয়াব্যাপারের সঙ্গে কর্তা ও কর্মের সম্পর্ককে বিশেষভাবে প্রকাশ করার পদ্ধতিকে বাচ্য বলে।

প্রধানত—

১. কর্তৃবাচ্য
২. কর্মবাচ্য
৩. ভাববাচ্য


৫৭. কর্তৃবাচ্য

যেখানে কর্তা প্রধান এবং কর্তার কাজের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রাহুল চিঠি লেখে।

এখানে ‘রাহুল’ কর্তা এবং তার কাজ ‘লেখা’ প্রধান।


৫৮. কর্মবাচ্য

যেখানে কর্ম প্রধান হয়ে ওঠে।

রাহুলের দ্বারা চিঠি লেখা হয়।

এখানে ‘চিঠি’ বা কর্মের ওপর বেশি গুরুত্ব।


৫৯. ভাববাচ্য

যেখানে কোনো নির্দিষ্ট কর্তা বা কর্মের চেয়ে ক্রিয়াব্যাপার বা ভাবটিই প্রধান হয়ে ওঠে।

যেমন—

এখানে বসা যায়।

এখন আর হাঁটা হচ্ছে না।

এখানে ব্যক্তিবিশেষের কর্তার চেয়ে ক্রিয়াব্যাপারের ভাব বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


৬০. ক্রিয়া চেনার সহজ পদ্ধতি

একটি বাক্য দেখেই ক্রিয়া শনাক্ত করার জন্য পাঁচটি প্রশ্ন করো—

১. কী করছে?

২. কী হলো?

৩. কী হচ্ছে?

৪. কী হবে?

৫. কী অবস্থায় আছে?

যে পদ উত্তর দিচ্ছে, সেটিই সাধারণত ক্রিয়াপদ।

উদাহরণ

রাহুল দ্রুত বইটি পড়ছে।

প্রশ্ন—

রাহুল কী করছে?

উত্তর—

পড়ছে।

অতএব ‘পড়ছে’ ক্রিয়াপদ।


৬১. ধাতু চেনার সহজ পদ্ধতি

ক্রিয়াপদটি থেকে তার কাল, পুরুষ ও অন্যান্য রূপগত পরিবর্তন সরিয়ে মূল ক্রিয়াটি খুঁজে বের করতে হবে।

উদাহরণ

পড়ি → পড়্
পড়ল → পড়্
পড়ছে → পড়্
পড়বে → পড়্

আরেকটি

করছি → কর্
করেছিল → কর্
করব → কর্
করো → কর্


৬২. একই ধাতু থেকে বহু ক্রিয়াপদ

একটি ধাতু বিভিন্ন কাল, পুরুষ ও ভাব অনুসারে বহু ক্রিয়াপদ তৈরি করতে পারে।

‘কর্’ ধাতু

  • করি
  • করো
  • করে
  • করল
  • করলাম
  • করেছিল
  • করছে
  • করছিল
  • করবে
  • করব
  • করো না
  • করতে হবে

অতএব—

ধাতু এক, ক্রিয়াপদ বহু।


৬৩. ধাতু → ক্রিয়াপদ : একটি পূর্ণ চিত্র

√পড়্

পড়া

পড়ি / পড়ো / পড়ে

পড়ছি / পড়ছে

পড়লাম / পড়ল

পড়েছিল

পড়ব / পড়বে

অর্থাৎ—

ধাতু → রূপান্তর → ক্রিয়াপদ


৬৪. একই ক্রিয়ার বিভিন্ন শ্রেণি একসঙ্গে কীভাবে নির্ণয় করবে?

একটি বাক্য—

শিক্ষক ছাত্রদের গল্পটি পড়ে শোনালেন।

এখন বিশ্লেষণ করি।

শোনালেন

  • ক্রিয়াপদ
  • সমাপিকা
  • প্রযোজক অর্থযুক্ত
  • গঠনগতভাবে ‘পড়ে শোনানো’ যৌগিক ক্রিয়াগত গঠন
  • অতীতকাল
  • উত্তম নয়; নামপুরুষ
  • কর্তৃবাচ্য

অর্থাৎ একটি ক্রিয়াপদকে একটিমাত্র শ্রেণিতে ফেললে হবে না।


৬৫. আরেকটি পূর্ণ বিশ্লেষণ

মা শিশুকে ভাত খাইয়ে দিলেন।

এখানে—

খাইয়ে = অসমাপিকা ক্রিয়া
দিলেন = সমাপিকা ক্রিয়া
খাইয়ে দিলেন = যৌগিক ক্রিয়া

মূল ধাতু—

খা

প্রযোজক ধাতুর রূপ—

খাওয়ানো

এবং ‘খাইয়ে দেওয়া’ পুরো গঠনটি একটি যৌগিক ক্রিয়াগত প্রকাশ।


৬৬. যুক্ত ক্রিয়া বনাম যৌগিক ক্রিয়া : পরীক্ষার সেরা কৌশল

বাক্যে ক্রিয়ার আগে কী আছে, তা দেখো।

নামপদ + ক্রিয়া

→ যুক্ত/সংযোগমূলক ক্রিয়া

যেমন—

দেখা করা

অসমাপিকা ক্রিয়া + ক্রিয়া

→ যৌগিক ক্রিয়া

যেমন—

দেখে নেওয়া

সূত্র

নাম + ক্রিয়া = যুক্ত
অসমাপিকা + ক্রিয়া = যৌগিক


৬৭. প্রযোজক বনাম সাধারণ ক্রিয়া

সে পড়ে।

সে নিজে পড়ছে।

→ সাধারণ ক্রিয়া

শিক্ষক তাকে পড়ান।

শিক্ষক অন্যকে পড়াচ্ছেন।

→ প্রযোজক ক্রিয়া

সূত্র

কাজটি নিজে করলে → মূল ক্রিয়া
অন্যকে দিয়ে করালে → প্রযোজক ক্রিয়া


৬৮. সকর্মক বনাম অকর্মক

সে হাসে।

কী হাসে? — কোনো কর্ম নেই।

→ অকর্মক

সে বই পড়ে।

কী পড়ে? — বই।

→ সকর্মক

সূত্র

কী/কাকে? প্রশ্ন করে কর্ম পাওয়া গেলে → সকর্মক
কর্ম না থাকলে → অকর্মক

তবে অর্থ ও বাক্যপ্রয়োগ বিবেচনা করবে; শুধু প্রশ্ন-সূত্রকে যান্ত্রিক নিয়ম হিসেবে ব্যবহার করবে না।


৬৯. সমাপিকা বনাম অসমাপিকা

সে ভাত খেয়ে স্কুলে গেল।

  • খেয়ে → অসমাপিকা
  • গেল → সমাপিকা

সূত্র

যে ক্রিয়া বাক্য শেষ করতে পারে → সমাপিকা
যে ক্রিয়া অন্য ক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল → অসমাপিকা


৭০. ক্রিয়াপদের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণের ৮টি ধাপ

কোনো ক্রিয়াপদ বিশ্লেষণ করতে এই ক্রম অনুসরণ করো—

ধাপ ১ : ক্রিয়াপদ চিহ্নিত করো

ধাপ ২ : ধাতু বের করো

ধাপ ৩ : সমাপিকা/অসমাপিকা নির্ণয় করো

ধাপ ৪ : কর্ম আছে কি না দেখো

ধাপ ৫ : গঠন বিচার করো

ধাপ ৬ : কাল নির্ণয় করো

ধাপ ৭ : পুরুষ নির্ণয় করো

ধাপ ৮ : বাচ্য/ভাব প্রয়োজনমতো নির্ণয় করো


৭১. উদাহরণ : সম্পূর্ণ ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ

বাক্য:

রাহুল আজ বইটি পড়ে ফেলেছে।

‘পড়ে ফেলেছে’—

  • ক্রিয়াপদ
  • মূল ধাতু = পড়্
  • ‘পড়ে’ = অসমাপিকা
  • ‘ফেলেছে’ = সমাপিকা
  • পুরোটি = যৌগিক ক্রিয়া
  • ‘বইটি’ = কর্ম
  • তাই সকর্মক ক্রিয়াগত গঠন
  • কাল = বর্তমান-সম্পর্কিত
  • ক্রিয়ার প্রকার = পুরাঘটিত
  • কর্তা = রাহুল
  • বাচ্য = কর্তৃবাচ্য

৭২. আরও একটি উদাহরণ

বাক্য:

শিক্ষক ছাত্রদের কবিতাটি মুখস্থ করালেন।

‘করালেন’—

  • ক্রিয়াপদ
  • ধাতু = কর্
  • সমাপিকা
  • প্রযোজক ক্রিয়া
  • সকর্মক/দ্বিস্তরীয় কর্তা-কর্ম সম্পর্ক
  • অতীতকাল
  • নামপুরুষ
  • কর্তৃবাচ্য

৭৩. ধাতু ও ক্রিয়াপদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুলগুলি

ভুল ১

‘খাওয়া’কে প্রযোজক ধাতু বলা।

সঠিক: ‘খাওয়ানো’ প্রযোজক রূপ।

ভুল ২

প্রতিটি ‘আ’-যুক্ত শব্দকে নামধাতু বলা।

সঠিক: প্রকৃত শব্দগঠন ও অর্থ বিচার করতে হবে।

ভুল ৩

‘বটে’কে সাধারণ ক্রিয়া বলা।

সঠিক: আধুনিক বিশ্লেষণে ‘বটে’ সাধারণ ক্রিয়ার মতো নয়।

ভুল ৪

‘কী/কাকে’ প্রশ্ন করলেই পাওয়া পদকে সবসময় কর্ম বলা।

সঠিক: কারক, অর্থ ও বাক্যগঠন বিবেচনা করতে হবে।

ভুল ৫

যৌগিক ক্রিয়া ও যুক্ত ক্রিয়াকে এক করে ফেলা।

সঠিক:

নামপদ + ক্রিয়া → যুক্ত/সংযোগমূলক
অসমাপিকা ক্রিয়া + ক্রিয়া → যৌগিক

ভুল ৬

কাল ও ক্রিয়ার প্রকারকে একই বিষয় মনে করা।

সঠিক:

কাল = সময়
প্রকার/Aspect = ক্রিয়ার সংঘটনের প্রকৃতি

ভুল ৭

ক্রিয়াপদকে শুধু ‘কাজ বোঝায়’ বলা।

সঠিক: ক্রিয়া শুধু কাজ নয়; হওয়া, থাকা, ঘটা, অবস্থা, পরিবর্তন ইত্যাদিও প্রকাশ করতে পারে।


৭৪. ধাতু ও ক্রিয়াপদের একনজরে মানচিত্র

                     ধাতু / ক্রিয়ামূল
                           │
              ┌────────────┴────────────┐
              │                         │
          মৌলিক ধাতু                সাধিত ধাতু
              │                         │
       কর্, খা, যা, পড়্      ┌──────────┼──────────┐
                             │          │          │
                          নামধাতু   ধ্বন্যাত্মক   প্রযোজক
                             │          │          │
                           চমকা      ঝমঝমা      পড়ানো

এরপর—

                       ক্রিয়াপদ
                          │
       ┌──────────────────┼──────────────────┐
       │                  │                  │
    সমাপিকা           অসমাপিকা           গঠনগত
       │                                      │
   করে, করল                         মৌলিক/প্রযোজক/
                                    নামধাতুজ/যৌগিক/
                                    যুক্ত ইত্যাদি
       │
       └───────────────┬──────────────────────
                       │
                 কর্মের সম্পর্ক
                       │
              ┌────────┴────────┐
              │                 │
            সকর্মক             অকর্মক
              │
        ┌─────┴─────┐
        │           │
     এককর্মক     দ্বিকর্মক

৭৫. পরীক্ষার জন্য ধাতুর সূত্র

ধাতু = ক্রিয়ার মূল

প্রধান ভাগ

ধাতু → মৌলিক + সাধিত + যৌগিক/সংযোগমূলক

সাধিতের গুরুত্বপূর্ণ ধরন

নামধাতু + ধ্বন্যাত্মক ধাতু + প্রযোজক/ণিজন্ত ধাতু


৭৬. পরীক্ষার জন্য ক্রিয়াপদের সূত্র

ক্রিয়াপদ = বাক্যে ব্যবহৃত ক্রিয়ার রূপ

অবস্থান অনুযায়ী

সমাপিকা + অসমাপিকা

কর্ম অনুযায়ী

অকর্মক + সকর্মক

সকর্মকের মধ্যে—

এককর্মক + দ্বিকর্মক

গঠন অনুযায়ী

মৌলিক + নামধাতুজ + ধ্বন্যাত্মক + প্রযোজক + যুক্ত + যৌগিক + অন্যান্য বিশেষ রূপ


৭৭. ‘ধাতু–ক্রিয়াপদ’ মনে রাখার মহাসূত্র

ধা–গ–ক–কা–ভা–বা–পু

এটি মনে রাখলে পুরো অধ্যায়ের কাঠামো মাথায় থাকবে।

ধা = ধাতু

মূল কী?

গ = গঠন

কীভাবে তৈরি?

ক = ক্রিয়া

কোন ক্রিয়াপদ?

কা = কাল

কখন?

ভা = ভাব/প্রকার

কীভাবে/কোন মনোভাব নিয়ে?

বা = বাচ্য

কর্তা-কর্মের সম্পর্ক কী?

পু = পুরুষ

কে বলছে/কাকে বলা হচ্ছে/কার সম্পর্কে বলা হচ্ছে?


৭৮. এক মিনিটে পুরো অধ্যায়

ধাতু

ক্রিয়ার মূল = ধাতু

ক্রিয়াপদ

বাক্যে ব্যবহৃত ক্রিয়ার রূপ = ক্রিয়াপদ

ধাতুর মূল ভাগ

মৌলিক + সাধিত + যৌগিক

সাধিত ধাতু

নামধাতু + ধ্বন্যাত্মক + প্রযোজক

ক্রিয়ার গঠন

মৌলিক + নামধাতুজ + ধ্বন্যাত্মক + প্রযোজক + যুক্ত + যৌগিক

বাক্যে অবস্থান

সমাপিকা / অসমাপিকা

কর্ম

অকর্মক / সকর্মক

সকর্মক

এককর্মক / দ্বিকর্মক

সময়

বর্তমান / অতীত / ভবিষ্যৎ

ক্রিয়ার প্রকার

সামান্য / ঘটমান / পুরাঘটিত / নিত্যবৃত্ত

ভাব

নির্দেশক / অনুজ্ঞা / সম্ভাবক-সংযোজক ইত্যাদি

পুরুষ

উত্তম / মধ্যম / নামপুরুষ

বাচ্য

কর্তৃ / কর্ম / ভাব


৭৯. সবচেয়ে সহজ ‘FORMULA SHEET’

⭐ ধাতু

ক্রিয়ার মূল = ধাতু

⭐ ক্রিয়াপদ

ধাতুর রূপান্তরিত ব্যবহারিক রূপ = ক্রিয়াপদ

⭐ মৌলিক ধাতু

যাকে আর ভাঙা যায় না = মৌলিক

⭐ নামধাতু

নামপদ → ধাতু = নামধাতু

⭐ ধ্বন্যাত্মক ধাতু

ধ্বনি + ধাতু-গঠনকারী উপাদান = ধ্বন্যাত্মক ধাতু

⭐ প্রযোজক

নিজে করা → মূল
অন্যকে দিয়ে করানো → প্রযোজক

⭐ যুক্ত ক্রিয়া

নাম + ক্রিয়া = যুক্ত ক্রিয়া

⭐ যৌগিক ক্রিয়া

অসমাপিকা + ক্রিয়া = যৌগিক ক্রিয়া

⭐ সমাপিকা

ভাব শেষ করে = সমাপিকা

⭐ অসমাপিকা

অন্য ক্রিয়ার সাহায্য লাগে = অসমাপিকা

⭐ সকর্মক

কর্ম আছে = সকর্মক

⭐ অকর্মক

কর্ম নেই = অকর্মক

⭐ এককর্মক

১ কর্ম = এককর্মক

⭐ দ্বিকর্মক

২ কর্ম = দ্বিকর্মক

⭐ কাল

কখন? = কাল

⭐ ক্রিয়ার প্রকার

কীভাবে/কোন অবস্থায় ঘটছে? = প্রকার/Aspect

⭐ ভাব

বক্তার মনোভাব কী? = ভাব

⭐ বাচ্য

কর্তা না কর্ম—কার ওপর জোর? = বাচ্য

⭐ পুরুষ

কে বলছে? কাকে বলছে? কার কথা বলছে? = পুরুষ


৮০. শেষ কথা : একটি বাক্যেই পুরো অধ্যায়

বাক্য:

শিক্ষক ছাত্রটিকে গল্পটি পড়ে শোনালেন।

এবার একসঙ্গে বিচার করো—

শোনালেন → ক্রিয়াপদ
শোন্ → ধাতু
শোনালেন → সমাপিকা
পড়ে → অসমাপিকা
পড়ে শোনালেন → যৌগিক ক্রিয়াগত গঠন
শোনালেন → প্রযোজক অর্থবাহী
গল্পটি → কর্ম
পড়ার কাজ → সকর্মক
শোনালেন → অতীত
শিক্ষক → কর্তা
শিক্ষক অন্যকে দিয়ে পড়া/শোনার কাজ করাচ্ছেন → প্রযোজক অর্থ

অর্থাৎ একটি ক্রিয়াকে বুঝতে হলে শুধু ‘কাজ বোঝাচ্ছে’ বললেই হবে না; তার ধাতু, গঠন, কর্ম, কাল, ক্রিয়ার প্রকার, পুরুষ, ভাব ও বাচ্য—সবকিছুর সঙ্গে সম্পর্ক বিচার করতে হবে।


পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের MASTER FORMULA

ধাতু → কী মূল?

ক্রিয়াপদ → বাক্যে কী রূপ?

গঠন → কীভাবে তৈরি?

সমাপিকা → বাক্য শেষ করছে?

কর্ম → কাকে/কীকে প্রভাবিত করছে?

কাল → কখন?

প্রকার → কীভাবে ঘটছে?

ভাব → বক্তার মনোভাব কী?

বাচ্য → কর্তা না কর্ম—কার ওপর জোর?

পুরুষ → কে/কাকে/কার সম্পর্কে?

এক লাইনের স্মরণমন্ত্র

“মূল খুঁজি ধাতে, রূপ দেখি ক্রিয়ায়; কর্ম খুঁজি প্রশ্নে, সময় ধরি কালে; প্রকৃতি বুঝি ভাবে, কর্তা-কর্ম ধরি বাচ্যে, আর বক্তা-শ্রোতা-আলোচ্য বুঝি পুরুষে।”

সর্বশেষে

ধাতু হলো ক্রিয়ার বীজ; ক্রিয়াপদ সেই বীজের বাক্যে প্রকাশিত বৃক্ষ।
ধাতু বলে ‘মূল’, ক্রিয়াপদ বলে ‘রূপ’; কাল বলে ‘সময়’, ক্রিয়ার প্রকার বলে ‘অবস্থা’; ভাব বলে ‘মনোভাব’, বাচ্য বলে ‘কেন্দ্র’, আর পুরুষ বলে ‘সম্পর্ক’।

এই সাতটি ধারণা আয়ত্ত করতে পারলে ‘ধাতু ও ক্রিয়াপদ’ অধ্যায়ের প্রায় সমস্ত জটিল প্রশ্নকে যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

### পরিবেশনে- ড. অনিশ রায়
 
 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top