অনিশ রায়
নগরের কোলাহলে বসে সিদ্ধাচার্য একা ভাবেন,
স্ক্রিনের আলোয় জ্বলে নতুন সন্ধ্যাভাষা।
ডাটার নদী বয়ে যায় অন্তহীন কোড-গঙ্গায়,
তবু মন চায় নীরব আড়ালের আশা।
মেট্রোর প্রতিশব্দে আসে মেট্রোপলিটন প্রভাত,
নেটের জালে বাঁধা সমগ্রের মন।
আর গুরুর বাণীও আসে নীরব স্ট্যাটাসে—
“নিজের অন্তরে খোঁজো সত্যের ধন”।
সহচরীর চোখে জ্বলে গোপন দীপ,
সহচরের বুকে বাজে কামনার সুর।
দেহের পথেই অবিচল খুলে যায় গূঢ়-দ্বার,
প্রেমেই জাগে জ্ঞান, কী জানি, চাঁদলোক কতদূর!
নীল আলোর কফিশপে ধোঁয়া ছড়ায় ধীর,
বেপথু সব ঘোড়া, তবু পথে দৌঁড়ায় সময়ের রথ।
যন্ত্রের গোপন স্টেশনে তাদের অসীম শান্তি,
উচ্চ নীরবতার এক্সেলেটরেই সত্যের শপথ।
ইনসুলেটেড জানালা বন্ধ থেকে যায় ধারাবাহিক—
ধোঁয়ায় ঢাকে নীল আকাশের দিগন্ত,
নদী কাঁদে দূষিত জলের সংগত বেসুরে।
শুনি, কামরূপ থেকে
চর্যার গান ভেসে আসে নগরদ্বারে—
আর, মাঝে মাঝে
আলো জ্বলে হৃদয়ের নিভন্ত অন্তরপুরে।
১৩/৩/২০২৬

