দ্বাদশ শ্রেণি-বাংলা-৩য় সেমেস্টার-সম্পূর্ণ আউটলাইন রিভিশন

উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি

বাংলা-ক | তৃতীয় সেমেস্টার

পূর্ণাঙ্গ MCQ রিভিশন আউটলাইন

পূর্ণমান : ৪০ | প্রশ্নের ধরন : MCQ


অংশ–১ : গল্প

১. আদরিণী

— প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়

📖 সামগ্রিক সংক্ষিপ্তসার

প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের ‘আদরিণী’ গল্পের কেন্দ্রে আছেন জয়রাম মুখোপাধ্যায় এবং তাঁর প্রিয় মাদি হাতি আদরিণী। জয়রাম পীরগঞ্জের বাবুদের এস্টেটের মোক্তার। দীর্ঘদিনের পেশাগত সম্পর্ক, সামাজিক মর্যাদা এবং ব্যক্তিগত অভিমান তাঁর চরিত্রকে গড়ে তুলেছে।

পীরগঞ্জের মেজবাবুর মেয়ের বিয়েতে নিমন্ত্রণ পাওয়ার পর জয়রামের যাওয়ার প্রশ্ন ওঠে। কাছারি কামাই হবে বলে তাঁর দ্বিধা থাকলেও সামাজিক মর্যাদার কথা মাথায় রেখে তিনি হাতির প্রয়োজন অনুভব করেন। রাজবাড়ি থেকে হাতি পাওয়ার সম্ভাবনা ব্যর্থ হলে বীরপুরের উমাচরণ লাহিড়ীর কাছ থেকে দুই হাজার টাকায় মাদি হাতি কেনেন। তার নাম দেন ‘আদরিণী’।

ক্রমে আদরিণী শুধু যাতায়াতের বাহন থাকে না; জয়রামের জীবনের প্রিয় সঙ্গী হয়ে ওঠে। কিন্তু অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি, পারিবারিক দায় এবং বাস্তব প্রয়োজন আদরিণীকে বিক্রি করতে বাধ্য করে। বিচ্ছেদের পর আদরিণীর করুণ পরিণতি এবং জয়রামের জীবনের সঙ্গে তার সম্পর্ক গল্পকে গভীর বেদনাময় পরিণতিতে নিয়ে যায়।


প্রশ্নক্ষেত্র ১ : লেখক ও রচনার পরিচয়

সংক্ষিপ্তসার

‘আদরিণী’-র লেখক প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়। তাঁর গল্পে মানবিক সম্পর্ক, সাধারণ মানুষের জীবন এবং আবেগের সূক্ষ্ম প্রকাশ গুরুত্বপূর্ণ।

সম্ভাব্য প্রশ্ন

  • ‘আদরিণী’-র রচয়িতা কে?
  • প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের কোন রচনায় মানুষ ও প্রাণীর সম্পর্ক বিশেষভাবে এসেছে?

উত্তরের ক্ষেত্র

প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় → ‘আদরিণী’।


প্রশ্নক্ষেত্র ২ : জয়রাম মুখোপাধ্যায়

সংক্ষিপ্তসার

জয়রাম পীরগঞ্জের বাবুদের এস্টেটের মোক্তার। দীর্ঘদিনের পেশাগত সম্পর্ক তাঁর সামাজিক অবস্থানকে দৃঢ় করেছে। তাঁর স্বভাবে অভিমান থাকলেও হৃদয় কোমল।

মনে রাখবে

জয়রাম = মোক্তার + দীর্ঘ চাকরি + আত্মমর্যাদা + কোমল হৃদয়।


প্রশ্নক্ষেত্র ৩ : পীরগঞ্জের বিয়ে

সংক্ষিপ্তসার

পীরগঞ্জের বাবুদের বাড়িতে মেজবাবুর মেয়ের বিয়ের উপলক্ষে নিমন্ত্রণ হয়। বেনারস থেকে বাই আসার কথাও গল্পের সূচনায় আসে।

উত্তরের ক্ষেত্র

পীরগঞ্জ → মেজবাবুর মেয়ের বিয়ে → বেনারসের বাই।


প্রশ্নক্ষেত্র ৪ : হাতির প্রয়োজন

সংক্ষিপ্তসার

জয়রামবাবু নিমন্ত্রণে যেতে চান, কিন্তু কাছারি কামাইয়ের চিন্তা আছে। সাধারণ যানবাহনের পরিবর্তে হাতি থাকলে তাঁর সামাজিক মর্যাদাও বজায় থাকবে এবং যাতায়াতও সহজ হবে।

উত্তরের ক্ষেত্র

নিমন্ত্রণ → যাতায়াত → সামাজিক মর্যাদা → হাতির প্রয়োজন।


প্রশ্নক্ষেত্র ৫ : আদরিণীর আগমন

সংক্ষিপ্তসার

বীরপুরের উমাচরণ লাহিড়ীর কাছ থেকে জয়রাম মাদি হাতি কেনেন। দাম দুই হাজার টাকা। পরে হাতিটির নাম হয় আদরিণী।

MASTER

বীরপুর → উমাচরণ → মাদি হাতি → ২০০০ টাকা → আদরিণী।


প্রশ্নক্ষেত্র ৬ : আদরিণীর সঙ্গে সম্পর্ক

সংক্ষিপ্তসার

আদরিণী ধীরে ধীরে জয়রামের কাছে নিছক বাহন না থেকে পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে ওঠে। তার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গল্পের আবেগের কেন্দ্র।

উত্তরের ক্ষেত্র

হাতি → সঙ্গী → স্নেহ → আত্মীয়তার অনুভূতি।


প্রশ্নক্ষেত্র ৭ : অর্থনৈতিক সংকট

সংক্ষিপ্তসার

জয়রামের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমে দুর্বল হয়। পারিবারিক দায়িত্ব ও আর্থিক চাপ তাঁকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে, যা তাঁর আবেগের সম্পূর্ণ বিপরীত।

উত্তরের ক্ষেত্র

অর্থনৈতিক চাপ → আদরিণী বিক্রির প্রয়োজন।


প্রশ্নক্ষেত্র ৮ : বিচ্ছেদ ও মৃত্যু

সংক্ষিপ্তসার

আদরিণীর সঙ্গে বিচ্ছেদ জয়রামের মনে গভীর আঘাত সৃষ্টি করে। আদরিণীর করুণ পরিণতি এবং জয়রামের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গল্পের মানবিক বেদনা পূর্ণতা পায়।

MASTER FORMULA

জয়রাম → আদরিণী → স্নেহ → অর্থনৈতিক সংকট → বিক্রি → বিচ্ছেদ → মৃত্যু।


অংশ–২ : কবিতা

২. ধর্ম

— শ্রীজাত

📖 সামগ্রিক সংক্ষিপ্তসার

শ্রীজাতের ‘ধর্ম’ কবিতা প্রচলিত ধর্মীয় পরিচয়ের সীমা ভেঙে ধর্মের এক বিস্তৃত মানবিক অর্থ নির্মাণ করে। কবির কাছে প্রত্যেক মানুষের কাজ, সাধনা, বিশ্বাস ও জীবনপদ্ধতির মধ্যেই তার নিজস্ব ধর্ম নিহিত।

আবদুল করিম খাঁর ধর্ম গান, আইনস্টাইনের ধর্ম দিগন্ত পেরোনো, কবীরের ধর্ম সত্যের বয়ান, বাতাসের ধর্ম না-থামা, ভ্যান গঘের ধর্ম আঁকা ও উন্মাদনা, লোরকার ধর্ম কবিতার জয়, লেনিনের ধর্ম নতুন পতাকা। ফলে ধর্ম এখানে বহুত্বের ধারণা।


প্রশ্নক্ষেত্র

আবদুল করিম খাঁ → গান
আইনস্টাইন → দিগন্ত পেরোনো
কবীর → সত্যের বয়ান
বাতাস → না-থামা
ভ্যান গঘ → আঁকা/উন্মাদনা
লোরকা → কবিতার জয়
লেনিন → নতুন পতাকা


মূল বক্তব্য

ধর্ম মানুষকে নিজের পথে চলতে শেখায়; অন্যের পথ দখল করা ধর্ম নয়।

MASTER FORMULA

ধর্ম = নিজস্ব সাধনা + নিজস্ব স্বভাব + বহুত্ব + সহাবস্থান।


৩. দিগ্বিজয়ের রূপকথা

— নবনীতা দেবসেন

📖 সামগ্রিক সংক্ষিপ্তসার

কথক নিজেকে রাজপুত্র হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি দুয়োরানির সন্তান। প্রচলিত রূপকথার রাজপুত্রের মতো তাঁর কাছে কবচ-কুণ্ডল, ধনুক, তূণীর, শিরস্ত্রাণ নেই। তাঁর শক্তি আসে দুটি আশীর্বাদ থেকে।

প্রথম আশীর্বাদ জাদু-অশ্ব—তার নাম বিশ্বাস। দ্বিতীয় আশীর্বাদ হৃদয়ের খাপে থাকা মন্ত্রপূত, শাণিত ইস্পাতের খড়্গ—যার সঙ্গে ভালোবাসার শক্তি যুক্ত। ফলে দিগ্বিজয় এখানে অস্ত্রের জয় নয়; বিশ্বাস ও ভালোবাসার শক্তিতে জীবনের প্রতিকূলতা জয়।


প্রশ্নক্ষেত্র

বিষয় উত্তর
রাজপুত্রের মা দুয়োরানি
প্রচলিত অস্ত্র নেই
প্রথম আশীর্বাদ জাদু-অশ্ব
জাদু-অশ্বের নাম বিশ্বাস
দ্বিতীয় আশীর্বাদ হৃদয়ের খাপে মন্ত্রপূত খড়্গ
মূল শক্তি ভালোবাসা

MASTER FORMULA

অস্ত্র নেই → বিশ্বাস আছে → ভালোবাসা আছে → তাই দিগ্বিজয় সম্ভব।


অংশ–৩ : প্রবন্ধ

৪. বাঙ্গালা ভাষা

— স্বামী বিবেকানন্দ

📖 সামগ্রিক সংক্ষিপ্তসার

স্বামী বিবেকানন্দ বাংলা ভাষার স্বাভাবিক, সহজ, জীবন্ত ও জনগ্রাহ্য রূপের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। ভাষা মানুষের ভাবপ্রকাশের মাধ্যম; তাই ভাষাকে অকারণে দুর্বোধ্য, কৃত্রিম বা পাণ্ডিত্যপূর্ণ করে তোলা উচিত নয়।

চলিত ভাষা, সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা, বিদেশি শব্দ গ্রহণের ক্ষমতা এবং ভাষার স্বাভাবিক বিকাশ—সবই তাঁর ভাষাচিন্তার গুরুত্বপূর্ণ দিক।


প্রশ্নক্ষেত্র

বিষয় উত্তর
লেখক স্বামী বিবেকানন্দ
গ্রন্থ-প্রসঙ্গ ‘ভাববার কথা’
চলিত ভাষা জীবন্ত ও স্বাভাবিক
ভাষার উদ্দেশ্য ভাবপ্রকাশ
অতিরিক্ত পাণ্ডিত্য ভাষাকে জনবিচ্ছিন্ন করতে পারে
বিদেশি শব্দ ভাষার গ্রহণক্ষমতার পরিচয়
সাধারণ মানুষের ভাষা লোকশিক্ষার উপযোগী

MASTER FORMULA

ভাষা → মানুষের মুখ → সহজতা → স্বাভাবিকতা → ভাবপ্রকাশ → জীবন্ততা।


অংশ–৪ : ভারতীয় গল্প

৫. পোটরাজ

— শঙ্কর রাও খারাট

অনুবাদ : সুনন্দন চক্রবর্তী

📖 সামগ্রিক সংক্ষিপ্তসার

‘পোটরাজ’ শঙ্কর রাও খারাটের মারাঠি রচনা। বাংলা অনুবাদ করেছেন সুনন্দন চক্রবর্তী। গল্পের কেন্দ্রে পোটরাজ সম্প্রদায়ের জীবন। দেবীর সেবা, লোকবিশ্বাস, গান, বাদ্যযন্ত্র, গ্রামভ্রমণ, দারিদ্র্য ও সামাজিক প্রান্তিকতা মিলিয়ে তাদের জীবনচিত্র নির্মিত হয়েছে।


প্রশ্নক্ষেত্র

মূল লেখক: শঙ্কর রাও খারাট
ভাষা: মারাঠি
বাংলা অনুবাদক: সুনন্দন চক্রবর্তী
দেবী: মারী-আই
বাদ্যযন্ত্র: গুবগুবি
প্রধান সামাজিক বিষয়: প্রান্তিকতা, দারিদ্র্য, লোকবিশ্বাস, সামাজিক বৈষম্য।

MASTER FORMULA

খারাট → মারাঠি → সুনন্দন → পোটরাজ → মারী-আই → গুবগুবি → গান → প্রান্তিক জীবন।


অংশ–৫ : আন্তর্জাতিক কবিতা

৬. তার সঙ্গে

— পাবলো নেরুদা

অনুবাদ : শক্তি চট্টোপাধ্যায়

📖 সামগ্রিক সংক্ষিপ্তসার

কঠিন সময়ের মধ্যেও প্রিয় মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে থাকার আকাঙ্ক্ষাই কবিতার কেন্দ্র। কবি তাঁর সঙ্গীকে অপেক্ষা করতে বলেন। ছোটো দুটি হাত নিজের হাতে রেখে দুজন মিলে কঠিন সময় অতিক্রম করার আহ্বান জানান।

পাথরের মতো কঠিন জায়গাতেও যারা বাসা বানাতে পারে, তারা প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবন নির্মাণ করতে পারে—এই চিত্রকল্প কবিতার সংগ্রামী মানবিকতার পরিচায়ক।


প্রশ্নক্ষেত্র

বিষয় উত্তর
মূল কবি পাবলো নেরুদা
অনুবাদক শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মূল ভাষা স্প্যানিশ
কেন্দ্রীয় ভাব সহযাত্রা
কঠিন সময় একসঙ্গে অতিক্রম
ছোটো দুটি হাত আস্থা ও সঙ্গ
বাসা প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবন নির্মাণ

MASTER FORMULA

নেরুদা → শক্তি → কঠিন সময় → অপেক্ষা → দুজন → হাত → বাসা → সহযাত্রা।


দ্রুত পুনরাবৃত্তির জন্য একনজরে

অংশ রচনা লেখক/কবি প্রধান স্মরণসূত্র
গল্প আদরিণী প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় জয়রাম–আদরিণী
কবিতা ধর্ম শ্রীজাত ধর্ম = নিজস্ব সাধনা
কবিতা দিগ্বিজয়ের রূপকথা নবনীতা দেবসেন বিশ্বাস + ভালোবাসা
প্রবন্ধ বাঙ্গালা ভাষা স্বামী বিবেকানন্দ সহজ, জীবন্ত ভাষা
ভারতীয় গল্প পোটরাজ শঙ্কর রাও খারাট মারী-আই–গুবগুবি
আন্তর্জাতিক কবিতা তার সঙ্গে পাবলো নেরুদা সহযাত্রা

পরীক্ষার আগে যে জোড়াগুলি অবশ্যই মনে রাখবে

প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় → আদরিণী
জয়রাম মুখোপাধ্যায় → মোক্তার
উমাচরণ লাহিড়ী → আদরিণী বিক্রি
বীরপুর → আদরিণীর আগমন
২০০০ টাকা → আদরিণীর দাম

শ্রীজাত → ধর্ম
আবদুল করিম খাঁ → গান
আইনস্টাইন → দিগন্ত পেরোনো
কবীর → সত্যের বয়ান
বাতাস → না-থামা
ভ্যান গঘ → আঁকা/উন্মাদনা
লোরকা → কবিতার জয়
লেনিন → নতুন পতাকা

নবনীতা দেবসেন → দিগ্বিজয়ের রূপকথা
দুয়োরানি → রাজপুত্রের মা
জাদু-অশ্ব → বিশ্বাস
খড়্গ → ভালোবাসার শক্তি

স্বামী বিবেকানন্দ → বাঙ্গালা ভাষা
ভাববার কথা → গ্রন্থ-প্রসঙ্গ
চলিত ভাষা → জীবন্ত ও স্বাভাবিক
ভাষার উদ্দেশ্য → ভাবপ্রকাশ

শঙ্কর রাও খারাট → পোটরাজ
মারাঠি → মূল ভাষা
সুনন্দন চক্রবর্তী → বাংলা অনুবাদ
মারী-আই → দেবী
গুবগুবি → বাদ্যযন্ত্র

পাবলো নেরুদা → তার সঙ্গে
শক্তি চট্টোপাধ্যায় → অনুবাদক
স্প্যানিশ → মূল ভাষা
সহযাত্রা → কেন্দ্রীয় ভাব
বাসা → প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবন নির্মাণ

 

উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি

বাংলা-ক | তৃতীয় সেমেস্টার

ভাষা

পূর্ণাঙ্গ MCQ রিভিশন আউটলাইন

অধ্যায় ১ : ভাষাবিজ্ঞান ও তার শাখা-প্রশাখা
অধ্যায় ২ : ধ্বনিতত্ত্ব
অধ্যায় ৩ : শব্দার্থতত্ত্ব


অধ্যায় ১

ভাষাবিজ্ঞান ও তার শাখা-প্রশাখা

📖 অধ্যায়ের সামগ্রিক সংক্ষিপ্তসার

ভাষা মানুষের ভাবপ্রকাশ, যোগাযোগ ও সামাজিক অস্তিত্বের প্রধান মাধ্যম। ভাষাকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করার বিদ্যার নাম ভাষাবিজ্ঞান। ভাষার ধ্বনি থেকে শুরু করে শব্দ, রূপ, বাক্য ও অর্থ—ভাষার অভ্যন্তরীণ কাঠামো যেমন ভাষাবিজ্ঞানের আলোচ্য, তেমনই সমাজ, মন, মস্তিষ্ক, নৃতত্ত্ব, সাহিত্য, শিক্ষা, অনুবাদ ও অভিধান নির্মাণের সঙ্গে ভাষার সম্পর্কও তার আলোচনার অন্তর্ভুক্ত।

পাঠ্যবই ভাষাবিজ্ঞানকে মূলত প্রধান ভাষাবিজ্ঞান এবং ফলিত ভাষাবিজ্ঞান—এই দুই বৃহৎ ভাগে দেখিয়েছে। প্রধান ভাষাবিজ্ঞানের পাঁচ শাখা হল ধ্বনিবিজ্ঞান, ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব ও শব্দার্থতত্ত্ব। ফলিত ভাষাবিজ্ঞানে সমাজভাষাবিজ্ঞান, মনোভাষাবিজ্ঞান, স্নায়ুভাষাবিজ্ঞান, নৃতত্ত্বভাষাবিজ্ঞান, শৈলীবিজ্ঞান, অভিধানবিজ্ঞান প্রভৃতি ক্ষেত্রের সঙ্গে ভাষার সম্পর্ক ও প্রয়োগ আলোচিত হয়।


প্রশ্নক্ষেত্র ১ : ভাষাবিজ্ঞান কী?

সংক্ষিপ্তসার

ভাষাবিজ্ঞান হল মানবভাষার বৈজ্ঞানিক ও নিয়মবদ্ধ অধ্যয়ন। ভাষা কীভাবে গঠিত হয়, কীভাবে ব্যবহৃত হয় এবং কীভাবে পরিবর্তিত হয়—এসব প্রশ্ন ভাষাবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।

সম্ভাব্য প্রশ্ন

ভাষাবিজ্ঞান কাকে বলে?

উত্তরের ক্ষেত্র

মানবভাষার বৈজ্ঞানিক, নিয়মবদ্ধ ও বিশ্লেষণাত্মক অধ্যয়ন।

মনে রাখবে

ভাষা = ব্যবহার
ভাষাবিজ্ঞান = ভাষার বিজ্ঞানসম্মত চর্চা।


প্রশ্নক্ষেত্র ২ : ভাষাবিজ্ঞানের আলোচ্য কী?

সংক্ষিপ্তসার

ভাষাবিজ্ঞানের আলোচনার ক্ষেত্র শুধু শব্দ বা ব্যাকরণে সীমাবদ্ধ নয়। ধ্বনি, ধ্বনিগুচ্ছ, রূপ, পদ, বাক্য ও অর্থ—ভাষার বিভিন্ন স্তর পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।

উত্তরের ক্ষেত্র

ধ্বনি → রূপ → পদ → বাক্য → অর্থ

সম্ভাব্য প্রশ্ন

ভাষার কোন কোন স্তর ভাষাবিজ্ঞানের আলোচ্য?

মনে রাখবে

ভাষাকে মানবদেহের মতো ভাবলে—

ধ্বনি = ক্ষুদ্র স্তর
রূপ = গঠন
বাক্য = বৃহত্তর বিন্যাস
অর্থ = ভাবের স্তর।


প্রশ্নক্ষেত্র ৩ : প্রধান ও ফলিত ভাষাবিজ্ঞান

সংক্ষিপ্তসার

ভাষার নিজস্ব গঠন ও কেন্দ্রীয় বিন্যাস নিয়ে যে আলোচনা, তা প্রধান ভাষাবিজ্ঞান। ভাষার সঙ্গে সমাজ, মন, মস্তিষ্ক, নৃতত্ত্ব, সাহিত্য, শিক্ষা, অভিধান ইত্যাদির সম্পর্ক ও প্রয়োগ নিয়ে যে আলোচনা, তা ফলিত ভাষাবিজ্ঞান।

উত্তরের ক্ষেত্র

প্রধান ভাষাবিজ্ঞান = ভাষার অভ্যন্তরীণ কাঠামো।

ফলিত ভাষাবিজ্ঞান = ভাষার ব্যবহার, সম্পর্ক ও প্রয়োগ।

MASTER FORMULA

প্রধান = ভাষার ভিতর।
ফলিত = ভাষার ব্যবহার ও সম্পর্ক।


প্রশ্নক্ষেত্র ৪ : প্রধান ভাষাবিজ্ঞানের পাঁচ শাখা

সংক্ষিপ্তসার

প্রধান ভাষাবিজ্ঞান ভাষার কেন্দ্রীয় বিন্যাসকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্তরে বিচার করে।

উত্তরের ক্ষেত্র

১. ধ্বনিবিজ্ঞান — Phonetics
২. ধ্বনিতত্ত্ব — Phonology
৩. রূপতত্ত্ব — Morphology
৪. বাক্যতত্ত্ব — Syntax
৫. শব্দার্থতত্ত্ব — Semantics

মনে রাখার সূত্র

ধ্বনি → ধ্বনির সংগঠন → রূপ → বাক্য → অর্থ


প্রশ্নক্ষেত্র ৫ : ধ্বনিবিজ্ঞান

সংক্ষিপ্তসার

বাগ্যন্ত্রের সাহায্যে ধ্বনি কীভাবে উচ্চারিত হয়, তার উচ্চারণগত, শ্রুতিগত ও ধ্বনিতরঙ্গগত দিক নিয়ে ধ্বনিবিজ্ঞান আলোচনা করে।

উত্তরের ক্ষেত্র

ধ্বনির উচ্চারণ + শ্রবণ + ধ্বনিতরঙ্গ।

মনে রাখবে

Phonetics = ধ্বনির বাস্তব/শারীরিক দিক।


প্রশ্নক্ষেত্র ৬ : ধ্বনিতত্ত্ব

সংক্ষিপ্তসার

কোনো নির্দিষ্ট ভাষায় ব্যবহৃত ধ্বনিগুলি কীভাবে সংগঠিত ও ব্যবহৃত হয়, কোন ধ্বনি অর্থের পার্থক্য ঘটায়, কোন ধ্বনি কোন পরিবেশে ব্যবহৃত হয়—এসব ধ্বনিতত্ত্বের বিষয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

নির্দিষ্ট ভাষায় ধ্বনির ব্যবহারিক চরিত্র।

মনে রাখবে

ধ্বনিবিজ্ঞান = ধ্বনি কীভাবে উচ্চারিত হয়।
ধ্বনিতত্ত্ব = ভাষায় ধ্বনি কীভাবে ব্যবহৃত হয়।


প্রশ্নক্ষেত্র ৭ : রূপতত্ত্ব

সংক্ষিপ্তসার

শব্দ ও পদের গঠন এবং শব্দের চেয়ে ছোটো অর্থবহ একক বা রূপের ব্যবহার নিয়ে রূপতত্ত্ব আলোচনা করে।

উত্তরের ক্ষেত্র

শব্দগঠন + রূপ + পদগঠন।

মনে রাখবে

Morphology = শব্দের গঠন।


প্রশ্নক্ষেত্র ৮ : বাক্যতত্ত্ব

সংক্ষিপ্তসার

শব্দ কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাক্য তৈরি করে এবং বাক্যের গঠন কীভাবে সংগঠিত হয়—বাক্যতত্ত্ব তার বিচার করে।

উত্তরের ক্ষেত্র

বাক্যের গঠন + শব্দের পারস্পরিক সম্পর্ক।

মনে রাখবে

Syntax = বাক্যগঠন।


প্রশ্নক্ষেত্র ৯ : শব্দার্থতত্ত্ব

সংক্ষিপ্তসার

শব্দের অর্থ, অর্থের সম্পর্ক, অর্থের পরিবর্তন এবং বাক্যে ব্যবহৃত শব্দের অর্থগত কার্যকলাপ নিয়ে শব্দার্থতত্ত্ব আলোচনা করে।

উত্তরের ক্ষেত্র

শব্দ + অর্থ + অর্থের পরিবর্তন + অর্থের সম্পর্ক।


প্রশ্নক্ষেত্র ১০ : সমাজভাষাবিজ্ঞান

সংক্ষিপ্তসার

সমাজ ও ভাষার পারস্পরিক সম্পর্ক সমাজভাষাবিজ্ঞানের আলোচ্য। অঞ্চল, পেশা, সামাজিক অবস্থান, নারী-পুরুষ, সম্প্রদায় ইত্যাদির ভিত্তিতে ভাষাব্যবহারে যে পার্থক্য দেখা যায়, তা এই শাখায় বিচার করা হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

সমাজ ↔ ভাষা।

মনে রাখবে

ভাষা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।


প্রশ্নক্ষেত্র ১১ : মনোভাষাবিজ্ঞান

সংক্ষিপ্তসার

মানুষের মন, চিন্তা, উপলব্ধি ও ভাষার পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে মনোভাষাবিজ্ঞান আলোচনা করে।

উত্তরের ক্ষেত্র

মন/চিন্তা ↔ ভাষা।

মনে রাখবে

মন + ভাষা = মনোভাষাবিজ্ঞান।


প্রশ্নক্ষেত্র ১২ : স্নায়ুভাষাবিজ্ঞান

সংক্ষিপ্তসার

মানবমস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের সঙ্গে ভাষার সম্পর্ক নিয়ে স্নায়ুভাষাবিজ্ঞান আলোচনা করে।

উত্তরের ক্ষেত্র

মস্তিষ্ক + স্নায়ু + ভাষা।

মনে রাখবে

Brain + Language = Neurolinguistics.


প্রশ্নক্ষেত্র ১৩ : নৃতত্ত্বভাষাবিজ্ঞান

সংক্ষিপ্তসার

মানুষের নৃতাত্ত্বিক পরিচয়, সংস্কৃতি, জীবনযাপন ও ভাষার পারস্পরিক সম্পর্ক নৃতত্ত্বভাষাবিজ্ঞানের আলোচ্য।

উত্তরের ক্ষেত্র

নৃতত্ত্ব + সংস্কৃতি + ভাষা।


প্রশ্নক্ষেত্র ১৪ : শৈলীবিজ্ঞান

সংক্ষিপ্তসার

সাহিত্যে ভাষার বিশেষ ব্যবহার, শব্দচয়ন, বাক্যগঠন, প্রকাশভঙ্গি ও নান্দনিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে শৈলীবিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তরের ক্ষেত্র

সাহিত্য + ভাষার শৈলী + নান্দনিকতা।


প্রশ্নক্ষেত্র ১৫ : অভিধানবিজ্ঞান

সংক্ষিপ্তসার

অভিধান নির্মাণে ভাষাবিজ্ঞানের জ্ঞান প্রয়োগের ক্ষেত্রকে অভিধানবিজ্ঞান বলা হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

ভাষাবিজ্ঞান → অভিধান নির্মাণ।


প্রশ্নক্ষেত্র ১৬ : ভাষাবিজ্ঞানের প্রয়োগ

সংক্ষিপ্তসার

ভাষাবিজ্ঞানের জ্ঞান সাহিত্য বিশ্লেষণ, ভাষাশিক্ষা, অনুবাদ, ভাষা পরিকল্পনা, অভিধান প্রণয়ন ইত্যাদি কাজে প্রয়োগ করা যায়।

উত্তরের ক্ষেত্র

সাহিত্য + শিক্ষা + অনুবাদ + ভাষা পরিকল্পনা + অভিধান।

MASTER FORMULA

ভাষাবিজ্ঞান → প্রধান + ফলিত
প্রধান → ধ্বনি + ধ্বনিতত্ত্ব + রূপ + বাক্য + অর্থ
ফলিত → সমাজ + মন + মস্তিষ্ক + নৃতত্ত্ব + সাহিত্য + অভিধান + শিক্ষা।


অধ্যায় ২

ধ্বনিতত্ত্ব

📖 পূর্ণাঙ্গ সংক্ষিপ্তসার

ধ্বনিতত্ত্ব ভাষার ধ্বনিস্তর নিয়ে আলোচনা করে। মানুষের বাগ্যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ভাষার ধ্বনিই এর মূল বিষয়। সব ধরনের sound ভাষার ধ্বনি নয়—হাসি, কান্না, হাঁচি, কুকুরের ডাক, গাড়ির হর্ন ইত্যাদি শব্দ হলেও ভাষাতাত্ত্বিক অর্থে বাগধ্বনি নয়।

ধ্বনিতত্ত্ব বর্ণ বা লিখিত চিহ্নকে নয়, মূলত মুখের ভাষা বা বাগধ্বনিকে কেন্দ্র করে। ভাষার ধ্বনিস্তরের একক বিভাজ্য ও অবিভাজ্য—দুই ধরনের হতে পারে। ধ্বনিমূল ও সহধ্বনি, ন্যূনতম শব্দজোড়, পরিপূরক অবস্থান, মুক্ত বৈচিত্র্য, ধ্বনিমূলের অবস্থান ও সমাবেশ, গুচ্ছধ্বনি, যুক্তধ্বনি, শ্বাসাঘাত, দৈর্ঘ্য, যতি ও সুরতরঙ্গ—সবই এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নক্ষেত্র।


প্রশ্নক্ষেত্র ১ : ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য কী?

সংক্ষিপ্তসার

ধ্বনিতত্ত্ব কোনো নির্দিষ্ট ভাষার বাগধ্বনির ব্যবহারিক চরিত্র বিচার করে। ধ্বনিবিজ্ঞান ধ্বনির উচ্চারণগত, শ্রুতিগত ও ধ্বনিতরঙ্গগত দিক বিশ্লেষণ করলেও ধ্বনিতত্ত্ব দেখে সেই ধ্বনিগুলি ভাষায় কীভাবে ব্যবহৃত হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

নির্দিষ্ট ভাষার বাগধ্বনির ব্যবহারিক চরিত্র।

মনে রাখবে

ধ্বনিবিজ্ঞান = ধ্বনির শারীরিক বিশ্লেষণ।
ধ্বনিতত্ত্ব = ভাষায় ধ্বনির ব্যবহার।


প্রশ্নক্ষেত্র ২ : ভাষার ধ্বনি ও সাধারণ শব্দের পার্থক্য

সংক্ষিপ্তসার

হাসি, কান্না, হাঁচি, নাকডাকা, ভয় পেয়ে চিৎকার, গাড়ির হর্ন বা কুকুরের ডাক—সবই sound। কিন্তু ভাষার অর্থবহ ব্যবস্থার অংশ নয় বলে এগুলি ভাষাতাত্ত্বিক বাগধ্বনি নয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

ভাষার ধ্বনি = বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ভাষাব্যবস্থার অংশ।

সম্ভাব্য প্রশ্ন

কুকুরের ডাক কেন ভাষার বাগধ্বনি নয়?

উত্তর

কারণ তা মানবভাষার ধ্বনিব্যবস্থার অংশ নয়।


প্রশ্নক্ষেত্র ৩ : বাগধ্বনি

সংক্ষিপ্তসার

মানুষের মুখের ভাষায় ব্যবহৃত অর্থহীন ক্ষুদ্রতম ধ্বনি-একককে বাগধ্বনি বলা হয়। অর্থহীন হলেও শব্দ ও অর্থ নির্মাণে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তরের ক্ষেত্র

ভাষার অর্থহীন ও ক্ষুদ্রতম একক = বাগধ্বনি।

মনে রাখবে

অর্থহীন ≠ গুরুত্বহীন।


প্রশ্নক্ষেত্র ৪ : বিভাজ্য ও অবিভাজ্য ধ্বনি

সংক্ষিপ্তসার

বিশ্লেষণের সুবিধার জন্য ধ্বনিকে প্রধানত বিভাজ্য ও অবিভাজ্য ভাগে দেখা হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

বিভাজ্য ধ্বনি = খণ্ডে ভাগ করা যায়।

অবিভাজ্য ধ্বনি = আলাদা খণ্ডে ভাঙা যায় না।

অবিভাজ্য ধ্বনির উদাহরণ

  • শ্বাসাঘাত
  • দৈর্ঘ্য
  • যতি
  • সুরতরঙ্গ

প্রশ্নক্ষেত্র ৫ : ধ্বনি ও বর্ণ

সংক্ষিপ্তসার

ধ্বনি উচ্চারিত ও শ্রুত একক; বর্ণ তার লিখিত প্রতীক। ধ্বনি ও বর্ণের সম্পর্ক সরল এক-এক নয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

ধ্বনি = উচ্চারিত/শ্রুত
বর্ণ = লিখিত প্রতীক।

মনে রাখবে

যা বলি/শুনি = ধ্বনি।
যা লিখি/দেখি = বর্ণ।


প্রশ্নক্ষেত্র ৬ : মান্য বাংলার স্বরধ্বনি

সংক্ষিপ্তসার

মুখের মান্য বাংলায় স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি বলে পাঠ্যক্রমে ধরা হয়েছে।

উত্তরের ক্ষেত্র

অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা।

MASTER

বাংলা মৌলিক স্বরধ্বনি = ৭।


প্রশ্নক্ষেত্র ৭ : সম্মুখ, পশ্চাৎ ও কেন্দ্রীয় স্বর

সংক্ষিপ্তসার

জিহ্বার অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনির প্রকৃতি নির্ধারিত হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

সম্মুখ স্বর → জিহ্বা সামনের দিকে।

পশ্চাৎ স্বর → জিহ্বা পিছনের দিকে।

কেন্দ্রীয় স্বর → সম্মুখ ও পশ্চাতের মধ্যবর্তী অবস্থান।

গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ

আ = কেন্দ্রীয় স্বরধ্বনি।

অ, ও, উ = পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

ই, এ, অ্যা = সম্মুখ স্বরধ্বনি।


প্রশ্নক্ষেত্র ৮ : উচ্চ, উচ্চমধ্য, নিম্নমধ্য, নিম্ন স্বর

সংক্ষিপ্তসার

জিহ্বার উচ্চতা বা মুখগহ্বরে তার অবস্থানের ভিত্তিতেও স্বরধ্বনির শ্রেণিবিভাগ হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

উচ্চ স্বর → ই, উ ধরনের উচ্চারণে জিহ্বা অপেক্ষাকৃত উঁচু।

উচ্চমধ্য → এ, ও।

নিম্নমধ্য → অ, অ্যা।

নিম্ন → আ।

মনে রাখবে

উচ্চ = জিহ্বা বেশি ওপরে
নিম্ন = জিহ্বা বেশি নিচে।


প্রশ্নক্ষেত্র ৯ : অর্ধস্বর

সংক্ষিপ্তসার

বাংলা উচ্চারণে চারটি অর্ধস্বরের কথা পাঠ্যবইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলির জন্য পৃথক বাংলা বর্ণ নেই।

উত্তরের ক্ষেত্র

অর্ধস্বর = ৪টি।

উদাহরণ

খই, বউ, আয়, যাও—এই ধরনের উচ্চারণে অর্ধস্বরের উপস্থিতি দেখা যায়।

মনে রাখবে

অর্ধস্বর = ৪।


প্রশ্নক্ষেত্র ১০ : ব্যঞ্জনধ্বনি

সংক্ষিপ্তসার

স্বরধ্বনির তুলনায় ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে বায়ুপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়। উচ্চারণস্থান, উচ্চারণরীতি, ঘোষ-অঘোষ, নাসিক্য, উষ্ম প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যে ব্যঞ্জনধ্বনিকে ভাগ করা যায়।

উত্তরের ক্ষেত্র

বায়ুপ্রবাহে বাধা = ব্যঞ্জনধ্বনি।


প্রশ্নক্ষেত্র ১১ : ঘোষ ও অঘোষ ধ্বনি

সংক্ষিপ্তসার

স্বরতন্ত্রীর কম্পনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ভিত্তিতে ঘোষ ও অঘোষ ধ্বনির পার্থক্য নির্ধারিত হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

অঘোষ: ক্, খ্; চ্, ছ্; ট্, ঠ্; ত্, থ্; প্, ফ্।

ঘোষ: গ্, ঘ্; জ্, ঝ্; ড্, ঢ্; দ্, ধ্; ব্, ভ্।

মনে রাখবে

প্রতিটি বর্গের—

১ম + ২য় = অঘোষ
৩য় + ৪র্থ = ঘোষ
৫ম = নাসিক্য।


প্রশ্নক্ষেত্র ১২ : নাসিক্য ধ্বনি

উত্তরের ক্ষেত্র

প্রতিটি বর্গের পঞ্চম ধ্বনি—

ঙ্, ঞ্, ণ্, ন্, ম্।

MASTER

বর্গের ৫ম = নাসিক্য।


প্রশ্নক্ষেত্র ১৩ : উষ্মধ্বনি

উত্তরের ক্ষেত্র

শ্, ষ্, স্, হ্।

মনে রাখবে

শ-ষ-স-হ = উষ্ম।


প্রশ্নক্ষেত্র ১৪ : কম্পিত, তাড়িত ও পার্শ্বিক ধ্বনি

উত্তরের ক্ষেত্র

র্ → কম্পিত

ড়, ঢ় → তাড়িত

ল্ → পার্শ্বিক।

MASTER

র = কম্পিত
ড়/ঢ় = তাড়িত
ল = পার্শ্বিক।


প্রশ্নক্ষেত্র ১৫ : ধ্বনিমূল

সংক্ষিপ্তসার

একটি ধ্বনির উচ্চারণের বিভিন্ন বাস্তব রূপ থাকতে পারে। ভাষাবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে উচ্চারণ-বৈচিত্র্যসহ মূল বিমূর্ত ধ্বনিকে ধ্বনিমূল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

মূল ধ্বনি = ধ্বনিমূল।


প্রশ্নক্ষেত্র ১৬ : সহধ্বনি

সংক্ষিপ্তসার

একটি ধ্বনিমূলের উচ্চারণ প্রতিবেশ অনুযায়ী বদলাতে পারে। সেই বিভিন্ন উচ্চারণভেদকে সহধ্বনি বলা হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

এক ধ্বনিমূলের প্রতিবেশভেদে উচ্চারণের বিভিন্ন রূপ = সহধ্বনি।

উদাহরণ

বাংলা ল্ ধ্বনির বিভিন্ন প্রতিবেশগত উচ্চারণ সহধ্বনির উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।


প্রশ্নক্ষেত্র ১৭ : ধ্বনিমূল ও সহধ্বনির পার্থক্য

ধ্বনিমূল সহধ্বনি
বিমূর্ত মূল একক তার বাস্তব উচ্চারণভেদ
ভাষাব্যবস্থার একক প্রতিবেশভেদে রূপ
একটি ধ্বনিমূলের একাধিক সহধ্বনি থাকতে পারে ধ্বনিমূলের সঙ্গে সম্পর্কিত

MASTER

ধ্বনিমূল = পরিবার
সহধ্বনি = পরিবারের বিভিন্ন উচ্চারণরূপ।


প্রশ্নক্ষেত্র ১৮ : ন্যূনতম শব্দজোড়

সংক্ষিপ্তসার

দুটি একই ভাষার শব্দে যদি মাত্র একটি ধ্বনির পার্থক্য থাকে এবং সেই পার্থক্যের ফলে অর্থের পার্থক্য তৈরি হয়, তবে সেই শব্দজোড়কে ন্যূনতম শব্দজোড় বলা হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

একটি মাত্র ধ্বনিগত পার্থক্য + অর্থের পার্থক্য = ন্যূনতম শব্দজোড়।

উদাহরণ

আম — জাম
তালা — থালা
নরম — গরম
দশক — দমক
তিল — তেল
ভালো — কালো।

মনে রাখবে

ন্যূনতম শব্দজোড় = এক ধ্বনি বদলালে অর্থ বদলায়।


প্রশ্নক্ষেত্র ১৯ : পরিপূরক অবস্থান

সংক্ষিপ্তসার

একটি ধ্বনির বিভিন্ন সহধ্বনি যদি নির্দিষ্ট নির্দিষ্ট পরিবেশে ব্যবহৃত হয় এবং একে অন্যের জায়গায় অবাধে বসতে না পারে, তবে তাদের অবস্থান পরিপূরক।

উত্তরের ক্ষেত্র

নির্দিষ্ট প্রতিবেশ → নির্দিষ্ট সহধ্বনি → পরিপূরক অবস্থান।

MASTER

Complementary Distribution = পরিপূরক অবস্থান।


প্রশ্নক্ষেত্র ২০ : মুক্ত বৈচিত্র্য

সংক্ষিপ্তসার

একই পরিবেশে দুটি উচ্চারণভেদ ব্যবহৃত হলেও যদি অর্থের পার্থক্য না ঘটে এবং বক্তা নিজের অভ্যাস বা সামর্থ্য অনুযায়ী উচ্চারণ করতে পারেন, তাকে মুক্ত বৈচিত্র্য বলা হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

একই পরিবেশ + উচ্চারণের ভিন্নতা + অর্থ অপরিবর্তিত = মুক্ত বৈচিত্র্য।

উদাহরণ

‘গাঢ়’ শব্দের উচ্চারণে কারও ভিন্ন উচ্চারণ হতে পারে, কিন্তু অর্থ বদলায় না।


প্রশ্নক্ষেত্র ২১ : ধ্বনিমূলের অবস্থান

সংক্ষিপ্তসার

কোনো ধ্বনিমূল শব্দের কোন অংশে এবং কোন কোন ধ্বনির প্রতিবেশে উচ্চারিত হতে পারে—তা তার অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য।

উত্তরের ক্ষেত্র

আদ্য → শব্দের শুরু।

মধ্য → শব্দের মাঝখান।

অন্ত্য → শব্দের শেষ।

স্বরমধ্যগত → দুটি স্বরের মধ্যবর্তী অবস্থান।


প্রশ্নক্ষেত্র ২২ : ধ্বনির সমাবেশ

সংক্ষিপ্তসার

দুটি বা একাধিক ধ্বনি পাশাপাশি বা নির্দিষ্ট বিন্যাসে মিলিত হয়ে বিভিন্ন ধরনের ধ্বনিসমাবেশ তৈরি করে।

উত্তরের ক্ষেত্র

ধ্বনি + ধ্বনি = ধ্বনিসমাবেশ।

এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ—

গুচ্ছধ্বনি ও যুক্তধ্বনি।


প্রশ্নক্ষেত্র ২৩ : গুচ্ছধ্বনি

সংক্ষিপ্তসার

পাশাপাশি উচ্চারিত দুটি বা একাধিক ব্যঞ্জনধ্বনির সমাবেশকে গুচ্ছধ্বনি বলা হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন → গুচ্ছধ্বনি।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বাংলায় দুই ব্যঞ্জনের সমাবেশে তৈরি গুচ্ছধ্বনির সংখ্যা ২০০-র বেশি বলে পাঠ্যক্রমে দেওয়া হয়েছে।


প্রশ্নক্ষেত্র ২৪ : যুক্তধ্বনি

সংক্ষিপ্তসার

যে ব্যঞ্জনসমাবেশ একই দলের/একই ধ্বনিদলের আদিতে উচ্চারিত হয় এবং মাঝখানে দলসীমা থাকে না, তাকে যুক্তধ্বনি বলা হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

একদলের অন্তর্গত ব্যঞ্জনসমাবেশ = যুক্তধ্বনি।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

দুই ব্যঞ্জনের যুক্তধ্বনিতে প্রথম ব্যঞ্জন সাধারণত স্, অথবা দ্বিতীয় ব্যঞ্জন র্/ল্ হতে পারে। পাঠ্যক্রমে বাংলা যুক্তধ্বনির সংখ্যা ২৮টি বলা হয়েছে; তিন ব্যঞ্জনের যুক্তধ্বনির উদাহরণও দেওয়া হয়েছে।

উদাহরণ

স্ত্রী, স্পৃহা ইত্যাদি।


প্রশ্নক্ষেত্র ২৫ : গুচ্ছধ্বনি ও যুক্তধ্বনির পার্থক্য

উত্তরের ক্ষেত্র

গুচ্ছধ্বনি: পাশাপাশি ব্যঞ্জনের সমাবেশ।

যুক্তধ্বনি: একই দলের/দলের আদিতে উচ্চারিত সুসংগঠিত ব্যঞ্জনসমাবেশ।

মনে রাখবে

সব যুক্তধ্বনি গুচ্ছধ্বনির বৃহত্তর ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত, কিন্তু সব গুচ্ছধ্বনিকে একই অর্থে যুক্তধ্বনি বলা যায় না।


প্রশ্নক্ষেত্র ২৬ : দ্বিস্বরধ্বনি

সংক্ষিপ্তসার

স্বরধ্বনির সঙ্গে অর্ধস্বরের সমাবেশে যে সংযুক্ত স্বরধ্বনি তৈরি হয় তাকে দ্বিস্বরধ্বনি বলা হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

স্বরধ্বনি + অর্ধস্বর = দ্বিস্বরধ্বনি।


প্রশ্নক্ষেত্র ২৭ : অবিভাজ্য ধ্বনি

উত্তরের ক্ষেত্র

শ্বাসাঘাত + দৈর্ঘ্য + যতি + সুরতরঙ্গ।

MASTER

শ-দৈ-য-সু
→ শ্বাসাঘাত
→ দৈর্ঘ্য
→ যতি
→ সুরতরঙ্গ।


প্রশ্নক্ষেত্র ২৮ : শ্বাসাঘাত

সংক্ষিপ্তসার

একাধিক দলযুক্ত শব্দের কোনো একটি দলকে অন্যগুলির তুলনায় বেশি জোর দিয়ে উচ্চারণ করাকে শ্বাসাঘাত বলা হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

একটি দলের ওপর অতিরিক্ত জোর = শ্বাসাঘাত।


প্রশ্নক্ষেত্র ২৯ : দৈর্ঘ্য

সংক্ষিপ্তসার

কোনো ধ্বনি বা উচ্চারণকে তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ বা কম দীর্ঘ করে উচ্চারণের বৈশিষ্ট্য ধ্বনির অবিভাজ্য স্তরের সঙ্গে যুক্ত।

উত্তরের ক্ষেত্র

উচ্চারণের স্থায়িত্ব/সময়কাল = দৈর্ঘ্য।


প্রশ্নক্ষেত্র ৩০ : যতি

সংক্ষিপ্তসার

কথন বা বাক্যপ্রবাহে নির্দিষ্ট স্থানে বিরতি দেওয়ার বৈশিষ্ট্যকে যতি বলা হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

কথনের বিরতি = যতি।


প্রশ্নক্ষেত্র ৩১ : সুরতরঙ্গ

সংক্ষিপ্তসার

বক্তব্যের সুরের ওঠানামা অর্থ ও বাক্যগত বৈশিষ্ট্য বোঝাতে সাহায্য করে। প্রশ্নবোধক ও বিবৃতিমূলক বাক্যের উচ্চারণে সুরের পার্থক্য বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়।

উত্তরের ক্ষেত্র

কণ্ঠস্বরের ওঠানামা = সুরতরঙ্গ।

উদাহরণ

“মিঠু কাল স্কুলে যাবে।”
“মিঠু কাল স্কুলে যাবে?”

দুই বাক্যের সুরগত পার্থক্য রয়েছে।



ধ্বনিতত্ত্ব MASTER CHART

বিষয় উত্তর
বাগধ্বনি ভাষার অর্থহীন ক্ষুদ্রতম একক
বিভাজ্য ধ্বনি বিশ্লেষণযোগ্য খণ্ডধ্বনি
অবিভাজ্য ধ্বনি শ্বাসাঘাত, দৈর্ঘ্য, যতি, সুরতরঙ্গ
মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি
অর্ধস্বর ৪টি
নাসিক্য বর্গের ৫ম
অঘোষ বর্গের ১ম ও ২য়
ঘোষ বর্গের ৩য় ও ৪র্থ
উষ্ম শ, ষ, স, হ
কম্পিত র
তাড়িত ড়, ঢ়
পার্শ্বিক ল
ধ্বনিমূল মূল বিমূর্ত ধ্বনি
সহধ্বনি ধ্বনিমূলের উচ্চারণভেদ
ন্যূনতম শব্দজোড় এক ধ্বনির পার্থক্যে অর্থভেদ
পরিপূরক অবস্থান নির্দিষ্ট প্রতিবেশে নির্দিষ্ট সহধ্বনি
মুক্ত বৈচিত্র্য একই পরিবেশে অর্থ অপরিবর্তিত উচ্চারণভেদ
গুচ্ছধ্বনি পাশাপাশি ব্যঞ্জনসমাবেশ
যুক্তধ্বনি একই দলের অন্তর্গত ব্যঞ্জনসমাবেশ
দ্বিস্বরধ্বনি স্বর + অর্ধস্বর
শ্বাসাঘাত কোনো দলের ওপর বেশি জোর
যতি বিরতি
সুরতরঙ্গ সুরের ওঠানামা

অধ্যায় ৩

শব্দার্থতত্ত্ব

📖 পূর্ণাঙ্গ সংক্ষিপ্তসার

ভাষাবিজ্ঞানের যে শাখায় শব্দের অর্থ, অর্থের প্রকৃতি, অর্থের পারস্পরিক সম্পর্ক, বাক্যে অর্থের ব্যবহার এবং সময়ের সঙ্গে অর্থের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে শব্দার্থতত্ত্ব বলা হয়।

এই অধ্যায়ে শুধু “শব্দের অর্থ” জানলেই হবে না। শব্দার্থের সাধারণ অর্থ ও নির্দেশন, অর্থের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, উপাদানমূলক তত্ত্ব, সত্যসাপেক্ষ তত্ত্ব, বিষয়মূলক তত্ত্ব ও প্রয়োগতত্ত্ব, সমার্থকতা, বিপরীতার্থকতা, ব্যাপকার্থকতা, অর্থের প্রসার, সংকোচ, উৎকর্ষ, অবনতি ও রূপান্তর এবং থিসরাস—সবকিছু আলাদা করে পড়তে হবে।


প্রশ্নক্ষেত্র ১ : শব্দার্থতত্ত্ব কী?

সংক্ষিপ্তসার

ভাষায় ব্যবহৃত শব্দের অর্থ এবং সেই অর্থের কার্যকলাপ নিয়ে যে শাস্ত্রীয় আলোচনা, তা শব্দার্থতত্ত্বের বিষয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

শব্দের অর্থ + অর্থের সম্পর্ক + অর্থের পরিবর্তন।

মনে রাখবে

Semantics = Meaning।


প্রশ্নক্ষেত্র ২ : শব্দার্থের দুটি প্রধান দিক

সংক্ষিপ্তসার

শব্দের অর্থকে প্রধানত দুটি দিক থেকে দেখা যায়—শব্দের সাধারণ বা অভিধানগত অর্থ এবং কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি/বস্তু/বিষয়কে নির্দেশ করার ক্ষমতা।

উত্তরের ক্ষেত্র

১. সাধারণ অর্থ
২. নির্দেশন

MASTER

শব্দার্থ = সাধারণ অর্থ + নির্দেশন।


প্রশ্নক্ষেত্র ৩ : সাধারণ অর্থ

সংক্ষিপ্তসার

কোনো শব্দের যে প্রচলিত, স্বীকৃত ও অভিধানগত অর্থ, তাকে সাধারণ অর্থ বলা হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

অভিধানগত/প্রচলিত অর্থ = সাধারণ অর্থ।


প্রশ্নক্ষেত্র ৪ : নির্দেশন

সংক্ষিপ্তসার

কোনো শব্দ বাস্তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু বা বিষয়কে নির্দেশ করলে সেই নির্দেশক সম্পর্ককে নির্দেশনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

শব্দ → বাস্তব ব্যক্তি/বস্তু/বিষয়কে নির্দেশ করে।


প্রশ্নক্ষেত্র ৫ : শব্দার্থতত্ত্বের দুটি শাখা

সংক্ষিপ্তসার

সময়ের সঙ্গে শব্দের অর্থ কীভাবে বদলায়, তা ঐতিহাসিকভাবে বিচার করা যায়। আবার কোনো নির্দিষ্ট সময়ের শব্দার্থের গঠন ও সম্পর্কও বিশ্লেষণ করা যায়।

উত্তরের ক্ষেত্র

ঐতিহাসিক শব্দার্থতত্ত্ব

শব্দভিত্তিক/বর্ণনামূলক শব্দার্থতত্ত্ব


প্রশ্নক্ষেত্র ৬ : ঐতিহাসিক শব্দার্থতত্ত্ব

সংক্ষিপ্তসার

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে কোনো শব্দের অর্থ কীভাবে বদলেছে, সেই পরিবর্তনের ইতিহাস নিয়ে ঐতিহাসিক শব্দার্থতত্ত্ব আলোচনা করে।

উত্তরের ক্ষেত্র

সময় + অর্থের পরিবর্তন = ঐতিহাসিক শব্দার্থতত্ত্ব।


প্রশ্নক্ষেত্র ৭ : উপাদানমূলক শব্দার্থতত্ত্ব

সংক্ষিপ্তসার

কোনো শব্দের অর্থকে আরও ছোটো ছোটো অর্থ-উপাদানে বিশ্লেষণ করে তার প্রকৃতি বোঝার পদ্ধতিকে উপাদানমূলক তত্ত্ব বলা হয়। অর্থকে কয়েকটি মৌলিক উপাদানের সমষ্টি হিসেবে দেখা হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

অর্থ → ক্ষুদ্র অর্থ-উপাদান → বিশ্লেষণ।

উদাহরণ

‘পুরুষ’ ও ‘বৃষ’-এর মতো শব্দে পুরুষজাতীয়, প্রাপ্তবয়স্ক ইত্যাদি সাধারণ অর্থ-উপাদান চিহ্নিত করা যায়।

মনে রাখবে

Componential Theory = অর্থকে উপাদানে ভাঙা।


প্রশ্নক্ষেত্র ৮ : শব্দার্থ-উপাদান

সংক্ষিপ্তসার

কোনো শব্দের অর্থকে বিশ্লেষণ করে যে ক্ষুদ্র অর্থগত বৈশিষ্ট্যগুলি পাওয়া যায়, সেগুলিকে শব্দার্থ-উপাদান বলা হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

শব্দের অর্থের ক্ষুদ্র বৈশিষ্ট্য = শব্দার্থ-উপাদান।


প্রশ্নক্ষেত্র ৯ : সত্যসাপেক্ষ তত্ত্ব

সংক্ষিপ্তসার

কোনো বাক্যের অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে সেই বাক্য বাস্তবতার সঙ্গে সত্য বা অসত্য সম্পর্ক কীভাবে তৈরি করছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। ডোনাল্ড ডেভিডসনের সঙ্গে এই তত্ত্ব যুক্ত; ‘Semantics of Logic’ গ্রন্থের প্রসঙ্গ পাঠ্যসহায়ক উপকরণে দেওয়া হয়েছে।

উত্তরের ক্ষেত্র

বাক্য → সত্য/অসত্য → বাস্তবতার সম্পর্ক → অর্থ।

মনে রাখবে

Truth-conditional = বাক্য সত্য হলে কী অর্থ প্রতিষ্ঠিত হয়।


প্রশ্নক্ষেত্র ১০ : ডোনাল্ড ডেভিডসন

উত্তরের ক্ষেত্র

সত্যসাপেক্ষ তত্ত্ব → ডোনাল্ড ডেভিডসন।

গ্রন্থ

Semantics of Logic।


প্রশ্নক্ষেত্র ১১ : বিষয়মূলক তত্ত্ব

সংক্ষিপ্তসার

শব্দের অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে তার ব্যবহারের প্রসঙ্গ, বক্তব্যের বিষয় ও পরিপ্রেক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ—এই ধারণাই বিষয়মূলক বা contextual theory-র ভিত্তি।

উত্তরের ক্ষেত্র

শব্দ + প্রসঙ্গ + পরিপ্রেক্ষিত = বিষয়মূলক তত্ত্ব।

গুরুত্বপূর্ণ ধারণা

একই শব্দ ভিন্ন বাক্যে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারে।

উদাহরণ : ‘হাত’

হাতে আঘাত লেগেছে → শরীরের অঙ্গ।

হাত চালিয়ে কাজ করো → কাজ করা।

কারও কাছে হাত পাতেননি → সাহায্য/ভিক্ষা চাওয়া।

MASTER

Context বদলালে অর্থের প্রয়োগ বদলাতে পারে।


প্রশ্নক্ষেত্র ১২ : মুখ্য ও গৌণ অর্থ

সংক্ষিপ্তসার

কোনো শব্দের সরাসরি অভিধানগত অর্থ মুখ্য অর্থ। সেই মুখ্য অর্থ থেকে প্রসঙ্গ বা অলংকারের মাধ্যমে যে অতিরিক্ত অর্থ তৈরি হয়, তা গৌণ অর্থ বা ব্যঞ্জিত অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।

উত্তরের ক্ষেত্র

মুখ্য অর্থ = অভিধানগত/সরাসরি অর্থ।

গৌণ অর্থ = প্রসঙ্গজাত/আলংকারিক অর্থ।


প্রশ্নক্ষেত্র ১৩ : প্রয়োগতত্ত্ব

সংক্ষিপ্তসার

কথার অর্থ কেবল অভিধান থেকে সবসময় বোঝা যায় না। বক্তা কী উদ্দেশ্যে বলছেন, শ্রোতা কোন পরিস্থিতিতে শুনছেন এবং সামাজিক পরিস্থিতি কী—এসবের ওপর বক্তব্যের অর্থ নির্ভর করতে পারে। এই ব্যবহারিক অর্থবোধের সঙ্গে প্রয়োগতত্ত্ব যুক্ত।

উত্তরের ক্ষেত্র

বক্তার উদ্দেশ্য + সামাজিক পরিস্থিতি + প্রসঙ্গ = প্রয়োগতত্ত্ব।

উদাহরণ

কেউ বলল—“কটা বাজে!”

শুধু সময় জানতে চাওয়া নয়; পরিস্থিতিভেদে বিরক্তি, তাগিদ বা অন্য অর্থও হতে পারে।

MASTER

Pragmatics = ব্যবহারের পরিস্থিতিতে অর্থ।


প্রশ্নক্ষেত্র ১৪ : সমার্থকতা

সংক্ষিপ্তসার

দুটি বা একাধিক শব্দের অর্থে অভিন্নতা বা ঘনিষ্ঠ সাদৃশ্য থাকলে তাদের সমার্থক বলা হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

চোখ — চক্ষু — নয়ন।

মনে রাখবে

অর্থে সাদৃশ্য = সমার্থকতা।


প্রশ্নক্ষেত্র ১৫ : বিপরীতার্থকতা

সংক্ষিপ্তসার

দুটি শব্দের অর্থে পারস্পরিক বৈপরীত্য থাকলে তারা বিপরীতার্থক।

উত্তরের ক্ষেত্র

সুখ ↔ দুঃখ
আলো ↔ অন্ধকার
দিন ↔ রাত।


প্রশ্নক্ষেত্র ১৬ : ব্যাপকার্থকতা

সংক্ষিপ্তসার

একটি শব্দের অর্থের মধ্যে অন্য কোনো শব্দের অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকলে ব্যাপকার্থক ও উপনাম সম্পর্ক তৈরি হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

অধিনাম = ব্যাপক অর্থ।

উপনাম = অপেক্ষাকৃত সংকীর্ণ অর্থ।

মনে রাখবে

বড়ো অর্থ → অধিনাম
ছোটো অন্তর্ভুক্ত অর্থ → উপনাম।


প্রশ্নক্ষেত্র ১৭ : অর্থান্তরভুক্তি

সংক্ষিপ্তসার

একটি শব্দের অর্থক্ষেত্রের মধ্যে অন্য শব্দের অর্থ অন্তর্ভুক্ত হলে অর্থগত অন্তর্ভুক্তির সম্পর্ক তৈরি হয়।

উত্তরের ক্ষেত্র

এক অর্থের মধ্যে অন্য অর্থের অন্তর্ভুক্তি।


প্রশ্নক্ষেত্র ১৮ : শব্দার্থ পরিবর্তন

সংক্ষিপ্তসার

সময়ের সঙ্গে ভাষার ব্যবহার বদলায়; ফলে কোনো শব্দের পুরোনো অর্থের তুলনায় নতুন অর্থের ক্ষেত্র বাড়তে, কমতে বা আমূল বদলাতে পারে।

প্রধান তিন ধারা

১. অর্থপ্রসার/অর্থের বিস্তার
২. অর্থসংকোচ
৩. অর্থের রূপান্তর/সংশ্লেষ


প্রশ্নক্ষেত্র ১৯ : অর্থপ্রসার

সংক্ষিপ্তসার

কোনো শব্দের অর্থ সময়ের সঙ্গে আগের তুলনায় বিস্তৃত হলে অর্থপ্রসার ঘটে।

উত্তরের ক্ষেত্র

পুরোনো অর্থের ক্ষেত্র ছোটো → নতুন অর্থের ক্ষেত্র বড়ো।

উদাহরণ

‘কালি’ শব্দের পুরোনো অর্থের তুলনায় বর্তমান প্রয়োগের ক্ষেত্র বিস্তৃত হয়েছে—এ ধরনের পরিবর্তন অর্থপ্রসারের উদাহরণ হিসেবে পাঠ্যসহায়ক নোটে দেওয়া হয়।


প্রশ্নক্ষেত্র ২০ : অর্থসংকোচ

সংক্ষিপ্তসার

কোনো শব্দের পুরোনো অর্থের ক্ষেত্র সময়ের সঙ্গে সংকুচিত হয়ে নতুন অর্থে সীমাবদ্ধ হলে অর্থসংকোচ ঘটে।

গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ

অন্ন

আদি অর্থ → খাদ্য
বর্তমান অর্থ → ভাত

উত্তরের ক্ষেত্র

বিস্তৃত অর্থ → সংকীর্ণ অর্থ = অর্থসংকোচ।

মৃগ শব্দের ক্ষেত্রেও অর্থসংকোচের উদাহরণ পাঠ্যসহায়ক উপকরণে দেওয়া হয়েছে।


প্রশ্নক্ষেত্র ২১ : অর্থের রূপান্তর বা সংশ্লেষ

সংক্ষিপ্তসার

শব্দের আদি অর্থ ও বর্তমান অর্থের মধ্যে সরাসরি অর্থগত যোগসূত্র আর স্পষ্ট না থাকলে তাকে অর্থের রূপান্তর বা সংশ্লেষ বলা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ

দারুণ

আদি অর্থ → কাষ্ঠনির্মিত
বর্তমান অর্থ → অত্যন্ত/প্রচণ্ড।

উপবাস

আদি অর্থ → নিকটে বাস
বর্তমান অর্থ → অনাহার।

MASTER

অর্থপ্রসার = বাড়ে
অর্থসংকোচ = কমে
রূপান্তর = অর্থ আমূল বদলায়।


প্রশ্নক্ষেত্র ২২ : অর্থের উৎকর্ষ

সংক্ষিপ্তসার

কোনো শব্দের অর্থ সময়ের সঙ্গে আগের তুলনায় উন্নত বা মর্যাদাপূর্ণ অর্থ গ্রহণ করলে অর্থের উৎকর্ষ ঘটে।

উত্তরের ক্ষেত্র

নিম্নতর/সাধারণ অর্থ → উন্নততর অর্থ।

গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ

প্রদীপ শব্দের অর্থের পরিবর্তনকে অর্থের উৎকর্ষের উদাহরণ হিসেবে পাঠ্যসহায়ক প্রশ্নে ব্যবহার করা হয়েছে।


প্রশ্নক্ষেত্র ২৩ : অর্থের অবনতি

সংক্ষিপ্তসার

কোনো শব্দের অর্থ সময়ের সঙ্গে আগের তুলনায় হীন, নিন্দনীয় বা অবমাননাকর অর্থ গ্রহণ করলে অর্থের অবনতি ঘটে।

উত্তরের ক্ষেত্র

উন্নত/নিরপেক্ষ অর্থ → নীচু/অবমাননাকর অর্থ।

মনে রাখবে

উৎকর্ষ = অর্থের মান বাড়ে।
অবনতি = অর্থের মান নামে।


প্রশ্নক্ষেত্র ২৪ : ঐতিহাসিক শব্দার্থতত্ত্ব ও অর্থপরিবর্তন

সংক্ষিপ্তসার

সময়ের সঙ্গে শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঐতিহাসিক শব্দার্থতত্ত্বের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই পরিবর্তনের ফলে ভাষার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসও বোঝা যায়।

উত্তরের ক্ষেত্র

সময় → ব্যবহার বদল → অর্থ বদল।


প্রশ্নক্ষেত্র ২৫ : থিসরাস

সংক্ষিপ্তসার

থিসরাস এমন এক ধরনের শব্দভিত্তিক রেফারেন্স গ্রন্থ যেখানে অর্থের সম্পর্ক অনুযায়ী শব্দকে সংগঠিত করা হয়—বিশেষত সমার্থক, বিপরীতার্থক ও সম্পর্কিত শব্দের সমাবেশ দেখা যায়।

উত্তরের ক্ষেত্র

থিসরাস = অর্থসম্পর্কিত শব্দের সংগ্রহ।


প্রশ্নক্ষেত্র ২৬ : থিসরাসের বুৎপত্তি

সংক্ষিপ্তসার

‘Thesaurus’ শব্দের মূল অর্থ রত্নাগার বা treasure-house-এর ধারণার সঙ্গে যুক্ত।

উত্তরের ক্ষেত্র

Thesaurus → রত্নাগার।


প্রশ্নক্ষেত্র ২৭ : অমরকোষ

সংক্ষিপ্তসার

প্রাচীন ভারতীয় থিসরাসের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ অমরকোষ। এর ভাষা সংস্কৃত।

উত্তরের ক্ষেত্র

অমরকোষ → সংস্কৃত → প্রাচীন থিসরাস।


প্রশ্নক্ষেত্র ২৮ : পিটার মার্ক রজেট

সংক্ষিপ্তসার

ইংরেজি ভাষার বিখ্যাত থিসরাস নির্মাণের ইতিহাসে পিটার মার্ক রজেট গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর থিসরাস প্রকাশিত হয় ১৮৫২ সালে।

উত্তরের ক্ষেত্র

পিটার মার্ক রজেট → Thesaurus → ১৮৫২।


প্রশ্নক্ষেত্র ২৯ : বাংলা থিসরাস

সংক্ষিপ্তসার

বাংলা ভাষাতেও সমার্থক ও সম্পর্কিত শব্দ সংগঠনের জন্য থিসরাসধর্মী গ্রন্থ রয়েছে।

উত্তরের ক্ষেত্র

‘সমার্থ শব্দকোষ’ → অশোক মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত।


শব্দার্থতত্ত্ব MASTER CHART

বিষয় উত্তরের ক্ষেত্র
শব্দার্থতত্ত্ব শব্দের অর্থ ও অর্থগত কার্যকলাপ
শব্দার্থের দুই দিক সাধারণ অর্থ + নির্দেশন
সাধারণ অর্থ অভিধানগত অর্থ
নির্দেশন ব্যক্তি/বস্তু/বিষয় নির্দেশ
ঐতিহাসিক শব্দার্থতত্ত্ব সময়ের সঙ্গে অর্থের পরিবর্তন
উপাদানমূলক তত্ত্ব অর্থকে ক্ষুদ্র উপাদানে বিশ্লেষণ
সত্যসাপেক্ষ তত্ত্ব সত্য/বাস্তবতার সঙ্গে বাক্যের সম্পর্ক
প্রবক্তা ডোনাল্ড ডেভিডসন
গ্রন্থ Semantics of Logic
বিষয়মূলক তত্ত্ব প্রসঙ্গ/পরিপ্রেক্ষিত
প্রয়োগতত্ত্ব ব্যবহারিক পরিস্থিতিতে অর্থ
সমার্থকতা অর্থের সাদৃশ্য
বিপরীতার্থকতা অর্থের বৈপরীত্য
ব্যাপকার্থকতা বড়ো অর্থের মধ্যে ছোটো অর্থ
অর্থপ্রসার অর্থের ক্ষেত্র বাড়ে
অর্থসংকোচ অর্থের ক্ষেত্র কমে
অর্থরূপান্তর আদি অর্থ থেকে আমূল পরিবর্তন
উৎকর্ষ অর্থের মান উন্নত হয়
অবনতি অর্থের মান নেমে যায়
দারুণ কাষ্ঠনির্মিত → অত্যন্ত
উপবাস নিকটে বাস → অনাহার
অন্ন খাদ্য → ভাত
থিসরাস অর্থসম্পর্কিত শব্দের সংগ্রহ
অমরকোষ সংস্কৃত থিসরাস
রজেট ১৮৫২-এর থিসরাস
বাংলা থিসরাস সমার্থ শব্দকোষ

তিন অধ্যায়ের সম্মিলিত MASTER REVISION

১. ভাষাবিজ্ঞান

ভাষাবিজ্ঞান

→ প্রধান ভাষাবিজ্ঞান
→ ধ্বনিবিজ্ঞান
→ ধ্বনিতত্ত্ব
→ রূপতত্ত্ব
→ বাক্যতত্ত্ব
→ শব্দার্থতত্ত্ব

→ ফলিত ভাষাবিজ্ঞান
→ সমাজভাষাবিজ্ঞান
→ মনোভাষাবিজ্ঞান
→ স্নায়ুভাষাবিজ্ঞান
→ নৃতত্ত্বভাষাবিজ্ঞান
→ শৈলীবিজ্ঞান
→ অভিধানবিজ্ঞান
→ শিক্ষা/অনুবাদ/ভাষা পরিকল্পনা।


২. ধ্বনিতত্ত্ব

ধ্বনিতত্ত্ব

→ বাগধ্বনি
→ বিভাজ্য/অবিভাজ্য
→ স্বর/ব্যঞ্জন
→ স্বরধ্বনি ৭
→ অর্ধস্বর ৪
→ ঘোষ/অঘোষ
→ নাসিক্য
→ উষ্ম
→ ধ্বনিমূল
→ সহধ্বনি
→ ন্যূনতম শব্দজোড়
→ পরিপূরক অবস্থান
→ মুক্ত বৈচিত্র্য
→ গুচ্ছধ্বনি
→ যুক্তধ্বনি
→ দ্বিস্বরধ্বনি
→ শ্বাসাঘাত
→ দৈর্ঘ্য
→ যতি
→ সুরতরঙ্গ।


৩. শব্দার্থতত্ত্ব

শব্দার্থতত্ত্ব

→ সাধারণ অর্থ
→ নির্দেশন
→ ঐতিহাসিক শব্দার্থতত্ত্ব
→ উপাদানমূলক তত্ত্ব
→ সত্যসাপেক্ষ তত্ত্ব
→ বিষয়মূলক তত্ত্ব
→ প্রয়োগতত্ত্ব
→ সমার্থকতা
→ বিপরীতার্থকতা
→ ব্যাপকার্থকতা
→ অর্থপ্রসার
→ অর্থসংকোচ
→ অর্থরূপান্তর
→ অর্থের উৎকর্ষ
→ অর্থের অবনতি
→ থিসরাস।


শেষ মুহূর্তের ৫০টি MUST-REMEMBER

১. ভাষাবিজ্ঞান = ভাষার বৈজ্ঞানিক অধ্যয়ন।
২. প্রধান ভাষাবিজ্ঞান = ৫ শাখা।
৩. ধ্বনিবিজ্ঞান = ধ্বনির উচ্চারণগত/শ্রুতিগত/তরঙ্গগত বিশ্লেষণ।
৪. ধ্বনিতত্ত্ব = নির্দিষ্ট ভাষায় ধ্বনির ব্যবহারিক চরিত্র।
৫. রূপতত্ত্ব = শব্দ ও রূপের গঠন।
৬. বাক্যতত্ত্ব = বাক্যের গঠন।
৭. শব্দার্থতত্ত্ব = শব্দের অর্থ।
৮. সমাজভাষাবিজ্ঞান = সমাজ ও ভাষা।
৯. মনোভাষাবিজ্ঞান = মন ও ভাষা।
১০. স্নায়ুভাষাবিজ্ঞান = মস্তিষ্ক ও ভাষা।
১১. নৃতত্ত্বভাষাবিজ্ঞান = নৃতত্ত্ব ও ভাষা।
১২. শৈলীবিজ্ঞান = সাহিত্যিক ভাষাশৈলী।
১৩. অভিধানবিজ্ঞান = অভিধান নির্মাণ।
১৪. বাগধ্বনি = ভাষার অর্থহীন ক্ষুদ্রতম একক।
১৫. মান্য বাংলার মৌলিক স্বরধ্বনি = ৭।
১৬. অর্ধস্বর = ৪।
১৭. অ, ও, উ = পশ্চাৎ স্বর।
১৮. আ = কেন্দ্রীয় স্বর।
১৯. ই = উচ্চ সম্মুখ স্বর।
২০. এ, ও = উচ্চমধ্য স্বর।
২১. বর্গের ১ম ও ২য় = অঘোষ।
২২. বর্গের ৩য় ও ৪র্থ = ঘোষ।
২৩. বর্গের ৫ম = নাসিক্য।
২৪. শ, ষ, স, হ = উষ্ম।
২৫. র = কম্পিত।
২৬. ড়, ঢ় = তাড়িত।
২৭. ল = পার্শ্বিক।
২৮. ধ্বনিমূল = মূল বিমূর্ত ধ্বনি।
২৯. সহধ্বনি = ধ্বনিমূলের উচ্চারণভেদ।
৩০. আম–জাম = ন্যূনতম শব্দজোড়ের উদাহরণ।
৩১. নির্দিষ্ট পরিবেশে নির্দিষ্ট সহধ্বনি = পরিপূরক অবস্থান।
৩২. একই পরিবেশে অর্থ না বদলে উচ্চারণভেদ = মুক্ত বৈচিত্র্য।
৩৩. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন = গুচ্ছধ্বনি।
৩৪. স্বর + অর্ধস্বর = দ্বিস্বরধ্বনি।
৩৫. শ্বাসাঘাত = কোনো দলের ওপর বেশি জোর।
৩৬. যতি = বিরতি।
৩৭. সুরতরঙ্গ = সুরের ওঠানামা।
৩৮. শব্দার্থতত্ত্ব = অর্থের বিজ্ঞান।
৩৯. শব্দার্থের দুই দিক = সাধারণ অর্থ + নির্দেশন।
৪০. উপাদানমূলক তত্ত্ব = অর্থকে উপাদানে বিশ্লেষণ।
৪১. সত্যসাপেক্ষ তত্ত্ব = সত্য/বাস্তবতার সঙ্গে বাক্যের সম্পর্ক।
৪২. ডোনাল্ড ডেভিডসন = সত্যসাপেক্ষ তত্ত্ব।
৪৩. বিষয়মূলক তত্ত্ব = প্রসঙ্গ/পরিপ্রেক্ষিত।
৪৪. প্রয়োগতত্ত্ব = সামাজিক/ব্যবহারিক পরিস্থিতিতে অর্থ।
৪৫. অর্থপ্রসার = অর্থের ক্ষেত্র বাড়ে।
৪৬. অর্থসংকোচ = অর্থের ক্ষেত্র কমে।
৪৭. অর্থরূপান্তর = আদি অর্থ থেকে আমূল পরিবর্তন।
৪৮. দারুণ = কাষ্ঠনির্মিত → অত্যন্ত।
৪৯. অন্ন = খাদ্য → ভাত।
৫০. থিসরাস = অর্থসম্পর্কিত শব্দের সংগ্রহ; রজেটের থিসরাস = ১৮৫২।


তিন অধ্যায় একসঙ্গে মনে রাখার সবচেয়ে সহজ সূত্র

ভাষাবিজ্ঞান

ভাষার শরীর কীভাবে তৈরি?
→ ধ্বনি → রূপ → বাক্য → অর্থ।

ধ্বনিতত্ত্ব

ভাষার ধ্বনি কীভাবে কাজ করে?
→ স্বর → ব্যঞ্জন → ধ্বনিমূল → সহধ্বনি → সমাবেশ → সুর।

শব্দার্থতত্ত্ব

ভাষার অর্থ কীভাবে তৈরি ও বদলায়?
→ সাধারণ অর্থ → প্রসঙ্গ → তত্ত্ব → অর্থসম্পর্ক → অর্থপরিবর্তন → থিসরাস।

এক লাইনে পুরো ভাষা অংশ

ভাষাবিজ্ঞান ভাষার সামগ্রিক বিজ্ঞান; ধ্বনিতত্ত্ব ভাষার ধ্বনিব্যবস্থাকে বোঝায়; শব্দার্থতত্ত্ব ভাষার অর্থব্যবস্থাকে বোঝায়।

দ্বাদশ শ্রেণি বাংলা — তৃতীয় সেমেস্টার

সংস্কৃতির ইতিহাস : উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ পূর্ণাঙ্গ MCQ 

প্রশ্নের ক্ষেত্র → উত্তর → ব্যাখ্যা → স্মরণসূত্র


প্রথম পর্ব : বাংলাগানের ইতিহাস

১. চর্যাপদ : বাংলা গানের প্রাচীনতম স্তর

মূল তথ্য : চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শনগুলির অন্যতম। চর্যার পদগুলি মূলত সাধনসংগীত।

সম্ভাব্য প্রশ্ন : বাংলা গানের ইতিহাসে প্রাচীনতম সংগীতধর্মী নিদর্শন কোনটি?

উত্তর : চর্যাপদ।

ব্যাখ্যা : চর্যাপদের পদগুলি শুধু সাহিত্যিক রচনা নয়; এগুলি গাওয়ার জন্য রচিত সাধনমূলক পদ। তাই বাংলাগানের ইতিহাসে চর্যার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

মনে রাখবে : চর্যাপদ = প্রাচীন বাংলা + সাধনভাব + গীতিধর্মিতা।


২. চর্যার ভাষা

সম্ভাব্য প্রশ্ন : চর্যাপদের ভাষার বিশেষত্ব কী?

উত্তর : সন্ধ্যাভাষা বা আলো-আঁধারি ভাষা।

ব্যাখ্যা : চর্যাকাররা তাঁদের সাধনমূলক তত্ত্ব সরাসরি প্রকাশ করেননি; রূপক, প্রতীক ও সাংকেতিক ভাষার সাহায্যে ভাব প্রকাশ করেছেন।

মনে রাখবে : চর্যা → গূঢ় সাধনা → সাংকেতিক ভাষা।


৩. চর্যার সংগীতধর্মিতা

সম্ভাব্য প্রশ্ন : চর্যাপদের সঙ্গে কোন শিল্পরীতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক?

উত্তর : সংগীত।

ব্যাখ্যা : চর্যার পদগুলি গাওয়ার উপযোগী করে নির্মিত হয়েছিল এবং বিভিন্ন পদের সঙ্গে রাগের উল্লেখও পাওয়া যায়।

মনে রাখবে : চর্যা = কবিতা + সাধনা + গান।


৪. চর্যার বিষয়

সম্ভাব্য প্রশ্ন : চর্যাগীতির প্রধান বিষয় কী?

উত্তর : সহজিয়া সাধনভাব।

ব্যাখ্যা : চর্যাপদের বাহ্যিক কাহিনির আড়ালে সাধনা, আত্মজ্ঞান ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধির কথা প্রকাশিত হয়েছে।

মনে রাখবে : বাহিরে রূপক, ভিতরে সাধনা।


৫. চর্যার বাদ্যযন্ত্র

সম্ভাব্য প্রশ্ন : চর্যাপদের সংগীতচর্চার সঙ্গে কী যুক্ত ছিল?

উত্তর : বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ও রাগরাগিণী।

ব্যাখ্যা : চর্যার গীতরূপ থেকে বোঝা যায়, প্রাচীন বাংলায় গান ও বাদ্যচর্চার ঐতিহ্য যথেষ্ট প্রাচীন।

মনে রাখবে : চর্যা শুধু পাঠ নয়, পরিবেশনযোগ্য গান।


৬. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

সম্ভাব্য প্রশ্ন : মধ্যযুগের গুরুত্বপূর্ণ গীতিকাব্য কোনটি?

উত্তর : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।

ব্যাখ্যা : বড়ু চণ্ডীদাসের সঙ্গে যুক্ত শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে কৃষ্ণ-রাধার প্রেমকাহিনি গীতিধর্মী আঙ্গিকে প্রকাশিত হয়েছে।

মনে রাখবে : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন → বড়ু চণ্ডীদাস → রাধা-কৃষ্ণ।


৭. শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের প্রকৃতি

উত্তর : গীতিনাট্যধর্মী কাব্য।

ব্যাখ্যা : সংলাপ, চরিত্র, নাটকীয়তা ও গীতির সমন্বয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তনকে নিছক পদসংকলনের চেয়ে স্বতন্ত্র করেছে।

মনে রাখবে : গান + সংলাপ + নাটকীয়তা।


৮. বড়াই চরিত্র

সম্ভাব্য প্রশ্ন : শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের উল্লেখযোগ্য নারী চরিত্র কে?

উত্তর : বড়াই।

ব্যাখ্যা : রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমসম্পর্কের ক্ষেত্রে বড়াই গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থ চরিত্র হিসেবে উপস্থিত।

মনে রাখবে : বড়াই = রাধা-কৃষ্ণের সম্পর্কের মধ্যস্থতা।


৯. শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পদ

সম্ভাব্য প্রশ্ন : শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে কোন বিষয় প্রধান?

উত্তর : রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা।

ব্যাখ্যা : কৃষ্ণের সঙ্গে রাধার প্রেম, বিরহ, অভিমান ও সম্পর্কের নানা পর্যায় গীতিধর্মীভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

মনে রাখবে : প্রেম → বিরহ → অভিমান → মিলন।


১০. মঙ্গলগান

সম্ভাব্য প্রশ্ন : মঙ্গলকাব্যের সঙ্গে কোন গানের ধারা যুক্ত?

উত্তর : মঙ্গলগান।

ব্যাখ্যা : মঙ্গলকাব্য পাঠের পাশাপাশি গীতরূপে পরিবেশনের ঐতিহ্য ছিল। দেবদেবীর মাহাত্ম্য প্রচারের সঙ্গে লোকজ জীবনও এতে যুক্ত হয়েছে।

মনে রাখবে : মঙ্গলকাব্য → মঙ্গলগান → লোকজ পরিবেশনা।


১১. লাচাড়ি

সম্ভাব্য প্রশ্ন : মঙ্গলকাব্যের গীতিধর্মী রীতির সঙ্গে কোন নামটি যুক্ত?

উত্তর : লাচাড়ি।

ব্যাখ্যা : মঙ্গলকাব্যের আখ্যান পরিবেশনে বিভিন্ন গীতরীতির ব্যবহার বাংলা লোকসংগীতের বিকাশে ভূমিকা রেখেছে।

মনে রাখবে : মঙ্গলকাব্য → লাচাড়ি।


১২. পাঁচালি

উত্তর : আখ্যানভিত্তিক গীতিরীতি।

ব্যাখ্যা : পাঁচালিতে কাহিনি গান ও কথনের সমন্বয়ে পরিবেশিত হয়। লোকজ সমাজে এর ব্যাপক প্রচলন ছিল।

মনে রাখবে : পাঁচালি = কাহিনি + গান + কথন।


১৩. পয়ার ও মহাপয়ার

সম্ভাব্য প্রশ্ন : মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্যে বহুল ব্যবহৃত ছন্দ কোনগুলি?

উত্তর : পয়ার ও মহাপয়ার।

ব্যাখ্যা : আখ্যানমূলক কাব্য ও মঙ্গলকাব্যে পয়ারজাতীয় ছন্দের ব্যবহার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখবে : আখ্যান → পয়ার।


১৪. বৈষ্ণব পদাবলি

উত্তর : রাধা-কৃষ্ণের প্রেমভিত্তিক পদগীতি।

ব্যাখ্যা : বৈষ্ণব পদাবলিতে মানবপ্রেমের আবেগকে ভক্তির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে বাংলা গীতিকবিতায় গভীর আবেগের সঞ্চার হয়েছে।

মনে রাখবে : বৈষ্ণব পদ = প্রেম + ভক্তি।


১৫. জয়দেব ও গীতগোবিন্দ

সম্ভাব্য প্রশ্ন : গীতগোবিন্দের রচয়িতা কে?

উত্তর : জয়দেব।

ব্যাখ্যা : গীতগোবিন্দে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা সংগীত ও কাব্যের অপূর্ব সমন্বয়ে প্রকাশিত হয়েছে এবং পরবর্তী বৈষ্ণব সংগীতকে প্রভাবিত করেছে।

মনে রাখবে : জয়দেব → গীতগোবিন্দ → রাধাকৃষ্ণ।


১৬. বৈষ্ণব পদে প্রেম

উত্তর : মানবপ্রেমের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরপ্রেমের প্রকাশ।

ব্যাখ্যা : বৈষ্ণব পদাবলিতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম কেবল পার্থিব প্রেম নয়; তার মধ্যে ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার গভীর তাৎপর্য রয়েছে।

মনে রাখবে : প্রেম → ভক্তি → আধ্যাত্মিকতা।


১৭. গৌর পদাবলি

উত্তর : চৈতন্যদেবকে কেন্দ্র করে রচিত পদ।

ব্যাখ্যা : চৈতন্যদেবের জীবন, ভাবাবেশ ও ভক্তিসাধনকে কেন্দ্র করে যে পদরীতি গড়ে ওঠে, তা গৌর পদাবলি নামে পরিচিত।

মনে রাখবে : গৌর = গৌরাঙ্গ/চৈতন্য।


১৮. ভজন পদ

উত্তর : ভক্তিমূলক গান।

ব্যাখ্যা : ঈশ্বরের প্রতি প্রেম, আত্মসমর্পণ ও ভক্তির অনুভূতি ভজনের মূল বিষয়।

মনে রাখবে : ভজন = ভক্তির গান।


১৯. কীর্তন

উত্তর : ভক্তিমূলক সমবেত গানের ধারা।

ব্যাখ্যা : নামসংকীর্তন ও লীলাকীর্তনের মধ্য দিয়ে বৈষ্ণব ধর্মভাব সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

মনে রাখবে : কীর্তন = ভক্তি + সমবেত সংগীত।


২০. নামকীর্তন ও লীলাকীর্তন

উত্তর : নামকীর্তনে ঈশ্বরনাম; লীলাকীর্তনে ঈশ্বরের লীলাকাহিনি।

ব্যাখ্যা : নামকীর্তনের কেন্দ্রে থাকে নামস্মরণ, আর লীলাকীর্তনে কৃষ্ণের বিভিন্ন লীলাকাহিনি গীত হয়।

মনে রাখবে : নাম = নামস্মরণ; লীলা = কাহিনি।


২১. কীর্তনের অঙ্গ

সম্ভাব্য প্রশ্ন : কীর্তনের সংগীতরীতিতে কী কী বিশেষ অঙ্গ দেখা যায়?

উত্তর : বিভিন্ন আলংকারিক ও পরিবেশনমূলক অঙ্গ।

ব্যাখ্যা : কীর্তন নিছক সুরে গান নয়; সুর, তাল, আবেগ, পুনরাবৃত্তি ও নাটকীয় পরিবেশনের সমন্বয়ে তার নিজস্ব রীতি গড়ে উঠেছে।

মনে রাখবে : কীর্তন = সুর + তাল + আবেগ + পরিবেশনা।


২২. বাউল

উত্তর : বাংলার লোকসংগীতের গুরুত্বপূর্ণ সাধনামূলক ধারা।

ব্যাখ্যা : বাউলগানে মানুষের অন্তর্লোক, দেহতত্ত্ব, মানবপ্রেম ও সহজসাধনার কথা উঠে আসে।

মনে রাখবে : বাউল = মানুষভজনা + সহজিয়া ভাবনা।


২৩. লালন

**সম্ভাব্য প্রশ্ন : বাউলগানের শ্রেষ্ঠ সাধকদের অন্যতম কে?

উত্তর : লালন ফকির।

ব্যাখ্যা : লালনের গানে মানবতাবাদ, জাতিভেদবিরোধিতা, দেহতত্ত্ব ও আত্মঅনুসন্ধানের গভীর প্রকাশ রয়েছে।

মনে রাখবে : লালন = মানুষ + মানবতা + জাতিভেদবিরোধিতা।


২৪. বাউল ও জাতপাত

উত্তর : জাতিভেদবিরোধী মানবতাবাদ।

ব্যাখ্যা : বাউলদর্শনে মানুষের পরিচয় জন্ম বা জাতের ভিত্তিতে নয়; মানুষের ভিতরের সত্য ও মানবিক সত্তাই প্রধান।

মনে রাখবে : বাউল = জাতের ঊর্ধ্বে মানুষ।


২৫. সারিগান

উত্তর : শ্রম ও সমবেত কাজের সঙ্গে যুক্ত লোকগান।

ব্যাখ্যা : নৌকাবাওয়া, কৃষিকাজ বা সমবেত শ্রমের সময় তাল মিলিয়ে কাজ করার জন্য সারিগানের ব্যবহার ছিল।

মনে রাখবে : সারি = সমবেত শ্রমের তাল।


২৬. সারিগানের বিষয়

উত্তর : শ্রম, নদী, নৌকা ও জীবনের অভিজ্ঞতা।

ব্যাখ্যা : নদীমাতৃক বাংলার জীবনযাত্রা সারিগানের বিষয়বস্তুকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

মনে রাখবে : নদী + নৌকা + শ্রম।


২৭. কবিগান

উত্তর : কবিয়ালদের পাল্টাপাল্টি গানের আসর।

ব্যাখ্যা : কবিগানে দুই পক্ষের কবিয়াল তাৎক্ষণিকভাবে ছন্দ, যুক্তি, কৌতুক ও গানের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

মনে রাখবে : কবিগান = প্রশ্নোত্তর + তর্ক + ছন্দ।


২৮. কবিগানের কেন্দ্র

উত্তর : নদিয়া ও সংলগ্ন অঞ্চলে কবিগানের বিশেষ বিকাশ।

ব্যাখ্যা : নদিয়া অঞ্চলের বৈষ্ণব ও লোকসংস্কৃতির পরিবেশ কবিগানের বিকাশে সহায়ক হয়েছিল।

মনে রাখবে : নদিয়া → লোকসংস্কৃতি → কবিগান।


২৯. কবিয়াল

উত্তর : কবিগানের গায়ক ও প্রতিদ্বন্দ্বী শিল্পী।

ব্যাখ্যা : কবিয়ালকে শুধু গায়ক বলা যায় না; তাৎক্ষণিকভাবে পদ রচনা ও উত্তর দেওয়ার দক্ষতা তাঁর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

মনে রাখবে : কবিয়াল = গায়ক + কবি + তাৎক্ষণিক স্রষ্টা।


৩০. আখড়াই

উত্তর : বাংলা গানের পুরোনো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশনরীতি।

ব্যাখ্যা : আখড়াই গানে দলগত সংগীত ও প্রতিযোগিতার বৈশিষ্ট্য ছিল।

মনে রাখবে : আখড়াই = দল + প্রতিযোগিতা।


৩১. হাফ-আখড়াই

উত্তর : আখড়াইয়ের পরিবর্তিত ও সংক্ষিপ্ত রূপ।

ব্যাখ্যা : উনিশ শতকে নগরকেন্দ্রিক সংগীতসংস্কৃতির বিকাশের সঙ্গে আখড়াইয়ের পরিবর্তিত রূপের প্রচলন ঘটে।

মনে রাখবে : আখড়াই → পরিবর্তন → হাফ-আখড়াই।


৩২. গঙ্গানারায়ণ নস্কর

সম্ভাব্য প্রশ্ন : আখড়াই-সংক্রান্ত সংগীতধারার সঙ্গে কোন নাম যুক্ত?

উত্তর : গঙ্গানারায়ণ নস্কর।

ব্যাখ্যা : উনিশ শতকের বাংলা গানের বিবর্তনে বিভিন্ন কবিয়াল ও আখড়াই শিল্পীর ভূমিকা ছিল।

মনে রাখবে : গঙ্গানারায়ণ → আখড়াই-পরম্পরা।


৩৩. যাত্রাগান

উত্তর : যাত্রাপালার সঙ্গে যুক্ত নাট্যগীতি।

ব্যাখ্যা : যাত্রায় অভিনয়, সংলাপ, গান ও বাদ্য—সব মিলিয়ে নাট্যপরিবেশ তৈরি হয়।

মনে রাখবে : যাত্রা = নাটক + গান + অভিনয়।


৩৪. নন্দবিদায়

উত্তর : যাত্রাগানের ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ পালা।

ব্যাখ্যা : নন্দবিদায়ের মতো পালাগুলি যাত্রার গীতিনাট্যধর্মী চরিত্রকে স্পষ্ট করে।

মনে রাখবে : নন্দবিদায় → যাত্রাগান।


৩৫. ঢপকীর্তন

উত্তর : কীর্তনের বিশেষ লোকায়ত রূপ।

ব্যাখ্যা : প্রচলিত কীর্তনরীতির সঙ্গে লোকজ পরিবেশনা ও সুরের মিশ্রণে ঢপকীর্তনের স্বতন্ত্র রূপ তৈরি হয়।

মনে রাখবে : কীর্তন → লোকায়ত রূপ → ঢপকীর্তন।


৩৬. জুড়ির গান

উত্তর : বিশেষ পরিবেশনধর্মী গান।

ব্যাখ্যা : জুড়ির গানে একাধিক কণ্ঠ বা দলগত পরিবেশনার বৈশিষ্ট্য গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখবে : জুড়ি = জোড়া/দলগত পরিবেশনা।


৩৭. পক্ষীর দল

উত্তর : রূপচাঁদ পক্ষীর সঙ্গে যুক্ত সংগীতধারা।

ব্যাখ্যা : উনিশ শতকের কলকাতাকেন্দ্রিক গান-বাজনার পরিবেশে পক্ষীর দলের বিশেষ পরিচিতি তৈরি হয়েছিল।

মনে রাখবে : রূপচাঁদ পক্ষী → পক্ষীর দল।


৩৮. বিষ্ণুপুর ঘরানা

উত্তর : বাংলার গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় সংগীতঘরানা।

ব্যাখ্যা : বিষ্ণুপুর রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতা ও উত্তর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের চর্চার ফলে এই ঘরানার বিকাশ ঘটে।

মনে রাখবে : বিষ্ণুপুর → ধ্রুপদ → বাংলা শাস্ত্রীয় সংগীত।


৩৯. টপ্পা

উত্তর : নিধুবাবু বা রামনিধি গুপ্তের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত বাংলা টপ্পা।

ব্যাখ্যা : উত্তর ভারতীয় টপ্পার প্রভাব গ্রহণ করে রামনিধি গুপ্ত বাংলা গানের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র টপ্পারীতি গড়ে তোলেন।

মনে রাখবে : টপ্পা → নিধুবাবু।


৪০. টপ্পার বৈশিষ্ট্য

উত্তর : দ্রুত তান, অলংকার ও প্রেমভাব।

ব্যাখ্যা : টপ্পার গানে সুরের দ্রুত ওঠানামা, কণ্ঠের কারুকাজ ও প্রেমমূলক আবেগ বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

মনে রাখবে : টপ্পা = দ্রুত সুর + কারুকাজ + প্রেম।


৪১. ঠুংরি

উত্তর : হালকা শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রেমধর্মী রীতি।

ব্যাখ্যা : ঠুংরিতে কোমল প্রেম, বিরহ ও আবেগকে সহজ ও সুরেলা ভঙ্গিতে প্রকাশ করা হয়।

মনে রাখবে : ঠুংরি = প্রেম + কোমল আবেগ।


৪২. ওয়াজেদ আলি শাহ ও মেটিয়াবুরুজ

উত্তর : ঠুংরি চর্চার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত।

ব্যাখ্যা : লখনউয়ের নবাব ওয়াজেদ আলি শাহ কলকাতার মেটিয়াবুরুজে এসে উত্তর ভারতীয় সংগীত ও সংস্কৃতির চর্চাকে নতুন পরিবেশ দেন।

মনে রাখবে : ওয়াজেদ আলি শাহ → মেটিয়াবুরুজ → ঠুংরি।


৪৩. শ্যামাসংগীত

উত্তর : কালী বা শ্যামাকে কেন্দ্র করে ভক্তিমূলক গান।

ব্যাখ্যা : শাক্তভাবনা, মাতৃসাধনা, ব্যক্তিগত আর্তি ও ভক্তি শ্যামাসংগীতের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

মনে রাখবে : শ্যামা = কালী = মাতৃভক্তি।


৪৪. রামপ্রসাদ

উত্তর : রামপ্রসাদ সেন।

ব্যাখ্যা : বাংলা শ্যামাসংগীতকে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক ও সংগীতিক মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে রামপ্রসাদ সেনের ভূমিকা ঐতিহাসিক।

মনে রাখবে : শ্যামাসংগীত → রামপ্রসাদ।


৪৫. কমলাকান্ত

উত্তর : কমলাকান্ত ভট্টাচার্য।

ব্যাখ্যা : রামপ্রসাদের পর শাক্তভক্তিমূলক গানের ধারাকে সমৃদ্ধ করেন কমলাকান্ত।

মনে রাখবে : রামপ্রসাদ → কমলাকান্ত → শ্যামাসংগীত।


৪৬. রবীন্দ্রসংগীত

উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত ও সুরারোপিত গানের বিশাল ভাণ্ডার।

ব্যাখ্যা : রবীন্দ্রসংগীতে ভারতীয় শাস্ত্রীয়, লোক, বাউল, কীর্তন এবং পাশ্চাত্য সংগীতের নানা প্রভাব সৃজনশীলভাবে মিলেছে।

মনে রাখবে : রবীন্দ্রসংগীত = বহুস্রোতের সৃজনশীল সমন্বয়।


৪৭. রবীন্দ্রসংগীতের বিষয়

উত্তর : প্রেম, প্রকৃতি, পূজা, স্বদেশ, মানবতা ও জীবনভাবনা।

ব্যাখ্যা : রবীন্দ্রসংগীতের বিষয়বৈচিত্র্য অত্যন্ত বিস্তৃত; ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে বিশ্বমানবতার ভাবনা পর্যন্ত বিস্তার রয়েছে।

মনে রাখবে : প্রেম + প্রকৃতি + পূজা + স্বদেশ + মানবতা।


৪৮. নজরুলগীতি

উত্তর : কাজী নজরুল ইসলামের গান।

ব্যাখ্যা : নজরুলগীতিতে প্রেম, বিদ্রোহ, সাম্য, দেশপ্রেম, ইসলামি সংগীতধারা, শ্যামাসংগীত, গজলসহ নানা সুরধারার মিলন ঘটেছে।

মনে রাখবে : নজরুল = বৈচিত্র্য + বিদ্রোহ + প্রেম।


৪৯. নজরুলের গজল

উত্তর : বাংলা গজলকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে নজরুলের বিশেষ ভূমিকা।

ব্যাখ্যা : ফারসি-উর্দু গজলের রীতিকে বাংলা ভাষায় প্রয়োগ করে নজরুল বাংলা গানের ভাণ্ডারকে নতুন মাত্রা দেন।

মনে রাখবে : নজরুল → বাংলা গজল।


৫০. স্বদেশি গান

উত্তর : দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনা জাগানো গান।

ব্যাখ্যা : বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনসহ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সময়ে স্বদেশি গান মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চেতনা জাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

মনে রাখবে : স্বদেশি গান = দেশ + প্রতিবাদ + ঐক্য।


৫১. গণসংগীত

উত্তর : সাধারণ মানুষের সংগ্রাম ও সামাজিক বাস্তবতার গান।

ব্যাখ্যা : শ্রমজীবী মানুষের জীবন, শোষণ, দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধ, প্রতিবাদ ও সামাজিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা গণসংগীতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মনে রাখবে : গণসংগীত = গণমানুষের কণ্ঠ।


৫২. আধুনিক বাংলা গান

উত্তর : আধুনিক নাগরিক জীবন ও নতুন সংগীতরুচির গান।

ব্যাখ্যা : রেডিও, রেকর্ড, চলচ্চিত্র ও নাগরিক সংস্কৃতির প্রসারের সঙ্গে আধুনিক বাংলা গান নতুন সুর, কথা ও পরিবেশনরীতি অর্জন করে।

মনে রাখবে : আধুনিক গান = নাগরিক জীবন + নতুন সুর + গণমাধ্যম।


দ্বিতীয় পর্ব : বাঙালির বিজ্ঞানচর্চা

৫৩. আধুনিক বিজ্ঞানচর্চার পটভূমি

উত্তর : উনিশ শতকে আধুনিক শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিজ্ঞানচর্চার বিকাশ।

ব্যাখ্যা : পাশ্চাত্য বিজ্ঞানশিক্ষা, আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষণাগার বাংলায় আধুনিক বিজ্ঞানচর্চার ভিত্তি তৈরি করে।

মনে রাখবে : আধুনিক শিক্ষা → প্রতিষ্ঠান → গবেষণা।


৫৪. কলকাতা মেডিকেল কলেজ

উত্তর : ১৮৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত।

ব্যাখ্যা : আধুনিক পাশ্চাত্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতিহাসে কলকাতা মেডিকেল কলেজের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

মনে রাখবে : ১৮৩৫ → কলকাতা মেডিকেল কলেজ।


৫৫. মধুসূদন গুপ্ত

উত্তর : মধুসূদন গুপ্ত।

ব্যাখ্যা : ভারতীয় চিকিৎসাশিক্ষার ইতিহাসে তাঁর নাম বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ; শবব্যবচ্ছেদে অংশগ্রহণের কারণে তিনি সামাজিক রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের পথে সাহসী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

মনে রাখবে : মধুসূদন গুপ্ত → শবব্যবচ্ছেদ → আধুনিক চিকিৎসাশিক্ষা।


৫৬. রাধাগোবিন্দ কর

উত্তর : চিকিৎসাবিজ্ঞান ও চিকিৎসাশিক্ষার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

ব্যাখ্যা : বাংলায় আধুনিক চিকিৎসাশিক্ষা ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান গঠনের ইতিহাসে রাধাগোবিন্দ করের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখবে : রাধাগোবিন্দ কর → চিকিৎসাশিক্ষা।


৫৭. কলকাতা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন

উত্তর : চিকিৎসকদের সংগঠন।

ব্যাখ্যা : উনিশ শতকের বাংলায় আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার বিস্তার এবং চিকিৎসকদের পারস্পরিক সংগঠিত কার্যকলাপের সঙ্গে এই ধরনের প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল।

মনে রাখবে : চিকিৎসা → চিকিৎসক → সংগঠন।


৫৮. মহেন্দ্রলাল সরকার

উত্তর : চিকিৎসক ও বিজ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রধান সংগঠক।

ব্যাখ্যা : বিজ্ঞানকে কেবল পেশাগত জ্ঞান না রেখে গবেষণার মাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্ঠা করার কাজে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখবে : মহেন্দ্রলাল → বিজ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠান।


৫৯. Indian Association for the Cultivation of Science

উত্তর : IACS।

ব্যাখ্যা : ভারতীয়দের দ্বারা ভারতীয় ভূখণ্ডে আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে IACS ঐতিহাসিক ভূমিকা নেয়।

মনে রাখবে : IACS = প্রাতিষ্ঠানিক ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চা।


৬০. সীতানাথ ঘোষ

উত্তর : দেশীয় বিজ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তিত্ব।

ব্যাখ্যা : উনিশ শতকের বাংলায় বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসে বহু বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তির ভূমিকা ছিল।

মনে রাখবে : সীতানাথ ঘোষ → দেশীয় বিজ্ঞানচর্চা।


৬১. মহেন্দ্রচন্দ্র নন্দী

উত্তর : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্ব।

ব্যাখ্যা : আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বাংলার সমাজে বিস্তারের ধারায় তাঁর নাম গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখবে : বিজ্ঞান + প্রযুক্তি → মহেন্দ্রচন্দ্র নন্দী।


৬২. নীলরতন সরকার

উত্তর : চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

ব্যাখ্যা : চিকিৎসাশিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান গঠনে নীলরতন সরকারের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখবে : নীলরতন → চিকিৎসা।


৬৩. কারমাইকেল মেডিকেল কলেজ

উত্তর : বাংলার গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

ব্যাখ্যা : কলকাতাকেন্দ্রিক চিকিৎসাশিক্ষার বাইরে বাংলায় আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার বিস্তারেও এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মনে রাখবে : কারমাইকেল → মেডিকেল শিক্ষা।


৬৪. বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট

উত্তর : কারিগরি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

ব্যাখ্যা : জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনের আবহে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিশেষ গুরুত্ব পায়।

মনে রাখবে : বেঙ্গল টেকনিক্যাল → প্রযুক্তি শিক্ষা।


৬৫. বেঙ্গল ইমিউনিটি

উত্তর : ভারতীয় ওষুধ ও চিকিৎসা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান।

ব্যাখ্যা : দেশীয় শিল্পোদ্যোগের মাধ্যমে ওষুধ উৎপাদন ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রয়োগকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা ছিল এর সঙ্গে যুক্ত।

মনে রাখবে : দেশীয় উদ্যোগ → ওষুধ → বেঙ্গল ইমিউনিটি।


৬৬. জগদীশচন্দ্র বসু

উত্তর : পদার্থবিজ্ঞান ও উদ্ভিদবিজ্ঞানের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী।

ব্যাখ্যা : বেতার তরঙ্গ ও উদ্ভিদের সাড়া নিয়ে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে।

মনে রাখবে : জগদীশচন্দ্র → বেতার + উদ্ভিদ।


৬৭. উদ্ভিদ গবেষণা

উত্তর : উদ্ভিদের সাড়া ও সংবেদনশীলতা নিয়ে গবেষণা।

ব্যাখ্যা : জগদীশচন্দ্র বসু দেখিয়েছিলেন যে উদ্ভিদও বাহ্যিক উদ্দীপনায় সাড়া দেয়।

মনে রাখবে : উদ্ভিদ → সাড়া → বসু।


৬৮. ক্রেসকোগ্রাফ

উত্তর : উদ্ভিদের বৃদ্ধি মাপার যন্ত্র।

ব্যাখ্যা : অত্যন্ত সূক্ষ্ম উদ্ভিদবৃদ্ধি পরিমাপের জন্য জগদীশচন্দ্র বসু ক্রেসকোগ্রাফ ব্যবহার ও উন্নত করেন।

মনে রাখবে : Crescograph → growth → plant।


৬৯. বসু বিজ্ঞান মন্দির

উত্তর : Bose Institute।

ব্যাখ্যা : জগদীশচন্দ্র বসুর প্রতিষ্ঠিত এই গবেষণাকেন্দ্র ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

মনে রাখবে : জগদীশচন্দ্র বসু → বসু বিজ্ঞান মন্দির।


৭০. অব্যক্ত

উত্তর : জগদীশচন্দ্র বসুর বিজ্ঞান ও দর্শনচিন্তামূলক রচনা।

ব্যাখ্যা : বিজ্ঞানের তথ্যের সঙ্গে তাঁর সাহিত্যিক ও দার্শনিক ভাবনাও রচনাটিতে প্রতিফলিত হয়েছে।

মনে রাখবে : বসু → বিজ্ঞান + সাহিত্যিক ভাবনা।


৭১. প্রফুল্লচন্দ্র রায়

উত্তর : রসায়নবিদ ও বিজ্ঞানশিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ।

ব্যাখ্যা : আধুনিক ভারতীয় রসায়নচর্চার বিকাশে তাঁর গবেষণা ও শিক্ষাক্ষেত্রের অবদান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখবে : প্রফুল্লচন্দ্র → রসায়ন।


৭২. Bengal Chemical

উত্তর : দেশীয় রাসায়নিক শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

ব্যাখ্যা : প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের উদ্যোগে দেশীয় শিল্প ও বিজ্ঞানচর্চার মধ্যে যোগসূত্র তৈরি হয়।

মনে রাখবে : P. C. Ray → Bengal Chemical।


৭৩. History of Hindu Chemistry

উত্তর : প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের বিখ্যাত গবেষণাগ্রন্থ।

ব্যাখ্যা : ভারতীয় রসায়নচর্চার ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি।

মনে রাখবে : History of Hindu Chemistry → P. C. Ray।


৭৪. সত্যেন্দ্রনাথ বসু

উত্তর : পদার্থবিজ্ঞানী।

ব্যাখ্যা : কোয়ান্টাম পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে তাঁর মৌলিক কাজ আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

মনে রাখবে : সত্যেন্দ্রনাথ বসু → Bose statistics।


৭৫. আইনস্টাইন ও বসু

উত্তর : Bose–Einstein statistics।

ব্যাখ্যা : সত্যেন্দ্রনাথ বসুর কাজ আইনস্টাইনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং পরে যৌথভাবে কোয়ান্টাম পরিসংখ্যানের নতুন ভিত্তি তৈরি হয়।

মনে রাখবে : Bose + Einstein → Bose–Einstein statistics।


৭৬. মেঘনাদ সাহা

উত্তর : জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী।

ব্যাখ্যা : নক্ষত্রের বর্ণালি ও তাপমাত্রা বিশ্লেষণে সাহার আয়নীকরণ সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মনে রাখবে : মেঘনাদ সাহা → নক্ষত্র → আয়নীকরণ।


৭৭. সাহা সমীকরণ

উত্তর : Saha ionization equation।

ব্যাখ্যা : নক্ষত্রের উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থের আয়নীকরণ অবস্থা বোঝার ক্ষেত্রে এই সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখবে : Saha equation → ionization → stars।


৭৮. উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী

উত্তর : চিকিৎসাবিজ্ঞানী।

ব্যাখ্যা : কালাজ্বরের চিকিৎসায় ইউরিয়া স্টিবামাইন আবিষ্কারের সঙ্গে তাঁর নাম বিশেষভাবে যুক্ত।

মনে রাখবে : ব্রহ্মচারী → কালাজ্বর → ইউরিয়া স্টিবামাইন।


৭৯. কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়

উত্তর : ভারতীয় নারী চিকিৎসকদের অগ্রদূতদের অন্যতম।

ব্যাখ্যা : ঔপনিবেশিক সমাজে নারীদের উচ্চশিক্ষা ও চিকিৎসাশিক্ষার পথে তিনি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

মনে রাখবে : কাদম্বিনী → নারীশিক্ষা → চিকিৎসা।


৮০. নীলরতন সরকার

উত্তর : চিকিৎসা ও চিকিৎসাশিক্ষার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

ব্যাখ্যা : চিকিৎসাক্ষেত্রে তাঁর কাজ এবং চিকিৎসাশিক্ষার প্রসারে ভূমিকা তাঁকে বাংলার বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

মনে রাখবে : নীলরতন → চিকিৎসাবিজ্ঞান।


৮১. রাধানাথ শিকদার

উত্তর : গণিতজ্ঞ ও জরিপবিদ।

ব্যাখ্যা : গ্রেট ট্রিগনোমেট্রিক্যাল সার্ভের সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত এবং পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গের উচ্চতা নির্ণয়ের কাজে তাঁর ভূমিকা ঐতিহাসিক।

মনে রাখবে : রাধানাথ → Survey → Everest-এর উচ্চতা নির্ণয়।


৮২. প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ

উত্তর : পরিসংখ্যানবিদ।

ব্যাখ্যা : ভারতীয় পরিসংখ্যানচর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অসামান্য।

মনে রাখবে : মহলানবিশ → Statistics।


৮৩. বিজ্ঞানী → ক্ষেত্র

মহেন্দ্রলাল সরকার — বিজ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠান
জগদীশচন্দ্র বসু — উদ্ভিদ ও পদার্থবিজ্ঞান
প্রফুল্লচন্দ্র রায় — রসায়ন
সত্যেন্দ্রনাথ বসু — পদার্থবিজ্ঞান
মেঘনাদ সাহা — জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান
প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ — পরিসংখ্যান

ব্যাখ্যা : এই ধরনের matching MCQ-তে ব্যক্তির নাম দেখেই তাঁর গবেষণাক্ষেত্র মনে করতে হবে।

মনে রাখবে :
রায় → রসায়ন
বসু → পদার্থ
সাহা → নক্ষত্র
মহলানবিশ → পরিসংখ্যান।


৮৪. বিজ্ঞানী → প্রতিষ্ঠান

জগদীশচন্দ্র বসু → বসু বিজ্ঞান মন্দির
মহেন্দ্রলাল সরকার → IACS
প্রফুল্লচন্দ্র রায় → Bengal Chemical

ব্যাখ্যা : বিজ্ঞানীরা শুধু গবেষণা করেননি; গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠানও নির্মাণ করেছেন।

মনে রাখবে : ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জোড়া আলাদা করে মুখস্থ করো।


৮৫. বিজ্ঞানী → আবিষ্কার/অবদান

জগদীশচন্দ্র বসু → ক্রেসকোগ্রাফ
সত্যেন্দ্রনাথ বসু → Bose statistics
মেঘনাদ সাহা → ionization equation
উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী → ইউরিয়া স্টিবামাইন

ব্যাখ্যা : সরাসরি “কে কী আবিষ্কার/প্রবর্তন করেছেন” ধরনের MCQ তৈরির জন্য এই অংশ গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখবে :
বসু → ক্রেসকোগ্রাফ
সাহা → সমীকরণ
ব্রহ্মচারী → কালাজ্বরের চিকিৎসা।


তৃতীয় পর্ব : বাঙালির ক্রীড়া সংস্কৃতি

৮৬. প্রাচীন বাঙালির ক্রীড়া

উত্তর : কুস্তি, নৌকাবাইচ, দৌড়, লাঠিখেলা প্রভৃতি।

ব্যাখ্যা : বাংলার ক্রীড়া সংস্কৃতি আধুনিক ফুটবল বা ক্রিকেট দিয়ে শুরু হয়নি; লোকজ ও শরীরচর্চাভিত্তিক খেলাধুলার দীর্ঘ ঐতিহ্য ছিল।

মনে রাখবে : লোকজ খেলা → শরীরচর্চা → আধুনিক ক্রীড়া।


৮৭. কুস্তি

উত্তর : বাঙালির প্রাচীন শরীরচর্চাভিত্তিক ক্রীড়া।

ব্যাখ্যা : আখড়া ও শরীরচর্চার সংস্কৃতির সঙ্গে কুস্তির গভীর সম্পর্ক ছিল।

মনে রাখবে : আখড়া → কুস্তি → শরীরচর্চা।


৮৮. গোবর গুহ

উত্তর : বিখ্যাত বাঙালি কুস্তিগির।

ব্যাখ্যা : আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতীয় কুস্তির পরিচিতি তৈরিতে গোবর গুহের ভূমিকা স্মরণীয়।

মনে রাখবে : গোবর গুহ → কুস্তি।


৮৯. ফণীন্দ্রকৃষ্ণ গুপ্ত

উত্তর : প্রাচীন বাঙালি ক্রীড়া সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্ব।

ব্যাখ্যা : বাংলার শরীরচর্চা ও ক্রীড়া-আন্দোলনের বিকাশে বিভিন্ন সংগঠক ও ক্রীড়াবিদের অবদান ছিল।

মনে রাখবে : ফণীন্দ্রকৃষ্ণ → ক্রীড়া-সংস্কৃতি।


৯০. ফুটবলের আগমন

উত্তর : ঔপনিবেশিক আমলে বাংলায় ফুটবলের বিস্তার।

ব্যাখ্যা : ব্রিটিশ সেনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইউরোপীয় ক্লাবের মাধ্যমে ফুটবল বাংলার জনজীবনে প্রবেশ করে।

মনে রাখবে : ব্রিটিশ যুগ → কলকাতা → ফুটবল।


৯১. Calcutta Football Club

উত্তর : কলকাতার প্রাচীন ফুটবল প্রতিষ্ঠানগুলির অন্যতম।

ব্যাখ্যা : বাংলায় সংগঠিত ফুটবল সংস্কৃতির বিকাশে কলকাতাকেন্দ্রিক প্রাথমিক ক্লাবগুলির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখবে : কলকাতা → প্রাচীন ক্লাব → ফুটবল।


৯২. নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারী

উত্তর : ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম অগ্রদূত।

ব্যাখ্যা : কলকাতায় ভারতীয়দের মধ্যে ফুটবল জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে নগেন্দ্রপ্রসাদের ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়।

মনে রাখবে : নগেন্দ্রপ্রসাদ → ভারতীয় ফুটবলের সূচনাপর্ব।


৯৩. শোভাবাজার ক্লাব

উত্তর : ভারতীয়দের প্রাথমিক ফুটবল সংগঠনগুলির অন্যতম।

ব্যাখ্যা : ব্রিটিশ-প্রধান ক্রীড়া পরিবেশে ভারতীয়দের নিজস্ব ফুটবল সংগঠন তৈরি হওয়া ছিল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখবে : শোভাবাজার → ভারতীয় ফুটবল।


৯৪. ট্রেডস কাপ

উত্তর : প্রাচীন ফুটবল প্রতিযোগিতাগুলির অন্যতম।

ব্যাখ্যা : কলকাতায় ফুটবল প্রতিযোগিতার বিস্তার ঘটলে বিভিন্ন দেশীয় ক্লাবও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করে।

মনে রাখবে : ট্রেডস কাপ → প্রাচীন কলকাতা ফুটবল।


৯৫. মোহনবাগান

উত্তর : ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক ক্লাব।

ব্যাখ্যা : মোহনবাগান শুধু ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান নয়; ভারতীয় জাতীয়তাবাদ ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের সঙ্গেও এর ইতিহাস জড়িয়ে গেছে।

মনে রাখবে : ১৮৮৯ → মোহনবাগান।


৯৬. IFA

উত্তর : Indian Football Association।

ব্যাখ্যা : বাংলার সংগঠিত ফুটবল পরিচালনা ও প্রতিযোগিতার ইতিহাসে IFA গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

মনে রাখবে : IFA → সংগঠিত ফুটবল।


৯৭. ১৯১১ IFA Shield

উত্তর : মোহনবাগানের ঐতিহাসিক জয়।

ব্যাখ্যা : ১৯১১ সালের IFA Shield জয় ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে প্রতীকী গুরুত্ব অর্জন করে।

মনে রাখবে : ১৯১১ → IFA Shield → মোহনবাগান।


৯৮. শিবদাস ভাদুড়ী

উত্তর : ১৯১১ সালের মোহনবাগানের অধিনায়ক ও ঐতিহাসিক ফুটবলার।

ব্যাখ্যা : ব্রিটিশ দলকে হারিয়ে IFA Shield জয়ের ঘটনায় তাঁর নেতৃত্ব বিশেষভাবে স্মরণীয়।

মনে রাখবে : শিবদাস → ১৯১১ → মোহনবাগান।


৯৯. ১৯১১ সালের গুরুত্ব

উত্তর : ভারতীয় ফুটবলের আত্মবিশ্বাস ও জাতীয় চেতনার প্রতীকী মুহূর্ত।

ব্যাখ্যা : মোহনবাগানের জয় ক্রীড়াক্ষেত্রের সাফল্যের পাশাপাশি ঔপনিবেশিক সমাজে ভারতীয়দের আত্মমর্যাদার প্রতীক হয়ে ওঠে।

মনে রাখবে : ১৯১১ = ফুটবল + আত্মমর্যাদা।


১০০. গোষ্ঠ পাল

উত্তর : ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি রক্ষণভাগের খেলোয়াড়।

ব্যাখ্যা : দীর্ঘদিন ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ডিফেন্ডার হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল।

মনে রাখবে : গোষ্ঠ পাল → ডিফেন্ডার।


১০১. শৈলেন মান্না

উত্তর : ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি।

ব্যাখ্যা : ভারতীয় জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর দীর্ঘ অবদান তাঁকে স্মরণীয় করে রেখেছে।

মনে রাখবে : শৈলেন মান্না → জাতীয় দল → অধিনায়কত্ব।


১০২. ইস্টবেঙ্গল

উত্তর : ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত।

ব্যাখ্যা : পূর্ববঙ্গ থেকে আগত মানুষের সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে ক্লাবটির ইতিহাস গভীরভাবে যুক্ত।

মনে রাখবে : ১৯২০ → ইস্টবেঙ্গল।


১০৩. মোহনবাগান–ইস্টবেঙ্গল

উত্তর : কলকাতার ঐতিহাসিক ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

ব্যাখ্যা : দুই ক্লাবের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘ ঐতিহাসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।

মনে রাখবে : সবুজ-মেরুন ↔ লাল-হলুদ।


১০৪. ব্রতচারী

উত্তর : গুরুসদয় দত্তের প্রবর্তিত সাংস্কৃতিক-শরীরচর্চার আন্দোলন।

ব্যাখ্যা : গান, নৃত্য, শরীরচর্চা, শৃঙ্খলা ও দেশচেতনার সমন্বয় ঘটিয়ে ব্রতচারী আন্দোলন গড়ে ওঠে।

মনে রাখবে : গুরুসদয় → ব্রতচারী → শরীরচর্চা + সংস্কৃতি।


১০৫. সার্কাস

উত্তর : বিনোদন ও শারীরিক কৌশলের সমন্বিত শিল্প।

ব্যাখ্যা : বাংলায় সার্কাস জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে ক্রীড়া, শরীরচর্চা ও বিনোদনের নতুন সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।

মনে রাখবে : সার্কাস = ক্রীড়া + কৌশল + বিনোদন।


১০৬. সুশীলাসুন্দরী

উত্তর : ভারতীয় সার্কাসের ঐতিহাসিক নারী শিল্পী।

ব্যাখ্যা : নারীশিল্পীদের জন্য সামাজিক বাধা থাকা সত্ত্বেও সার্কাসে তাঁর অংশগ্রহণ বিশেষ দৃষ্টান্ত তৈরি করে।

মনে রাখবে : সুশীলাসুন্দরী → সার্কাস → নারীশিল্পী।


১০৭. গণপতি চক্রবর্তী

উত্তর : ভারতীয় সার্কাসের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

ব্যাখ্যা : দেশীয় সার্কাসের বিকাশে গণপতি চক্রবর্তীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

মনে রাখবে : গণপতি চক্রবর্তী → সার্কাস।


১০৮. পি. সি. সরকার

উত্তর : বিখ্যাত বাঙালি জাদুশিল্পী।

ব্যাখ্যা : আধুনিক মঞ্চ-জাদুকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পি. সি. সরকারের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।

মনে রাখবে : P. C. Sorcar → Magic।


১০৯. ক্রিকেট

উত্তর : ঔপনিবেশিক আমলে বাংলায় জনপ্রিয় হওয়া আধুনিক ক্রীড়ার অন্যতম।

ব্যাখ্যা : ব্রিটিশদের মাধ্যমে ক্রিকেট ভারতে এলেও পরবর্তীকালে ভারতীয়রা নিজস্ব ক্রীড়া-পরিচয় গড়ে তোলে।

মনে রাখবে : ব্রিটিশ আগমন → ক্রিকেট → ভারতীয় আত্মপ্রকাশ।


১১০. Calcutta Cricket Club

উত্তর : ভারতের প্রাচীন ক্রিকেট প্রতিষ্ঠানগুলির অন্যতম।

ব্যাখ্যা : কলকাতাকেন্দ্রিক ক্রিকেটচর্চার প্রাথমিক ইতিহাসে এই ক্লাবের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

মনে রাখবে : কলকাতা → প্রাচীন ক্রিকেট।


১১১. সারদারঞ্জন রায়

উত্তর : বাংলার ক্রিকেটের প্রাথমিক যুগের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

ব্যাখ্যা : বাঙালির মধ্যে ক্রিকেটচর্চা বিস্তারের ক্ষেত্রে সারদারঞ্জনের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

মনে রাখবে : সারদারঞ্জন → বাংলা ক্রিকেটের সূচনা।


১১২. পঙ্কজ রায়

উত্তর : ভারতীয় ক্রিকেটের বিশিষ্ট বাঙালি ক্রিকেটার।

ব্যাখ্যা : ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর দীর্ঘ অবদান তাঁকে বাংলা ক্রিকেটের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

মনে রাখবে : পঙ্কজ রায় → ভারতীয় ক্রিকেট।


১১৩. সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

উত্তর : ভারতীয় ক্রিকেটের বিশিষ্ট অধিনায়ক ও ব্যাটসম্যান।

ব্যাখ্যা : ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর অধিনায়কত্ব ও আন্তর্জাতিক সাফল্য তাঁকে আধুনিক ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

মনে রাখবে : সৌরভ → অধিনায়কত্ব + ভারতীয় ক্রিকেট।


১১৪. হকি

উত্তর : বাংলার ক্রীড়া সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ব্যাখ্যা : কলকাতায় হকির দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে এবং ঐতিহাসিক প্রতিযোগিতাগুলিও এই খেলাকে জনপ্রিয় করেছে।

মনে রাখবে : হকি → কলকাতা → ঐতিহ্য।


১১৫. টেবিল টেনিস

উত্তর : বাংলায় দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় ইনডোর ক্রীড়া।

ব্যাখ্যা : কলকাতা ও বাংলায় টেবিল টেনিসের শক্তিশালী সাংগঠনিক ও প্রতিযোগিতামূলক ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে।

মনে রাখবে : টেবিল টেনিস → ইনডোর ক্রীড়া।


১১৬. দাবা

উত্তর : বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রীড়া।

সম্ভাব্য প্রশ্ন : বাংলার কোন দাবাড়ু গ্র্যান্ডমাস্টার হিসেবে পরিচিত?

উত্তর : দিব্যেন্দু বড়ুয়া।

ব্যাখ্যা : দিব্যেন্দু বড়ুয়া ভারতীয় দাবার গুরুত্বপূর্ণ গ্র্যান্ডমাস্টারদের অন্যতম এবং বাংলার দাবাচর্চার পরিচিত মুখ।

মনে রাখবে : দিব্যেন্দু বড়ুয়া → দাবা → Grandmaster।


১১৭. সাঁতার

উত্তর : আরতি সাহা, মিহির সেন ও বুলা চৌধুরী।

ব্যাখ্যা : আন্তর্জাতিক দীর্ঘদূরত্বের সাঁতারে বাঙালি ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের ধারায় এই নামগুলি বিশেষভাবে স্মরণীয়।

মনে রাখবে :
আরতি সাহা → সাঁতার
মিহির সেন → সাঁতার
বুলা চৌধুরী → সাঁতার।


১১৮. অ্যাথলেটিক্স

উত্তর : জ্যোতির্ময়ী শিকদার।

ব্যাখ্যা : ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে বাংলার প্রতিনিধিত্বকারী উল্লেখযোগ্য ক্রীড়াবিদদের মধ্যে জ্যোতির্ময়ী শিকদারের নাম গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখবে : জ্যোতির্ময়ী → অ্যাথলেটিক্স।


১১৯. তিরন্দাজি

উত্তর : দোলা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ব্যাখ্যা : আন্তর্জাতিক তিরন্দাজিতে ভারতের প্রতিনিধিত্বকারী বাঙালি ক্রীড়াবিদ হিসেবে দোলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখযোগ্য।

মনে রাখবে : দোলা → তিরন্দাজি।


১২০. কাবাডি ও খো-খো

উত্তর : বাংলার ঐতিহ্যবাহী দলগত ক্রীড়ার অংশ।

ব্যাখ্যা : কাবাডি ও খো-খো গ্রামবাংলার শরীরচর্চা ও লোকক্রীড়ার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এবং পরে সংগঠিত প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়ার অংশ হয়ে ওঠে।

মনে রাখবে : কাবাডি/খো-খো → লোকক্রীড়া → দলগত খেলা।


MASTER CHART — বাংলাগানের ইতিহাস

বিষয় মূল নাম/উত্তর মনে রাখার সূত্র
প্রাচীন গীতিধারা চর্যাপদ সাধনগীতি
গূঢ় ভাষা সন্ধ্যাভাষা আলো-আঁধারি
কৃষ্ণলীলা শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বড়ু চণ্ডীদাস
বৈষ্ণব প্রেম পদাবলি রাধা-কৃষ্ণ
গীতগোবিন্দ জয়দেব রাধা-কৃষ্ণ
বাউল লালন মানবতাবাদ
টপ্পা নিধুবাবু রামনিধি গুপ্ত
ঠুংরি ওয়াজেদ আলি শাহ মেটিয়াবুরুজ
শ্যামাসংগীত রামপ্রসাদ কালীসাধনা
শ্যামাসংগীত কমলাকান্ত শাক্তভাব
রবীন্দ্রসংগীত রবীন্দ্রনাথ বহুমাত্রিকতা
নজরুলগীতি নজরুল বিদ্রোহ/প্রেম
স্বদেশি গান জাতীয় চেতনা দেশ
গণসংগীত গণমানুষ সংগ্রাম
আধুনিক গান নাগরিক সংস্কৃতি গণমাধ্যম

MASTER CHART — বাঙালির বিজ্ঞানচর্চা

বিজ্ঞানী ক্ষেত্র/অবদান স্মরণসূত্র
মধুসূদন গুপ্ত চিকিৎসাশিক্ষা শবব্যবচ্ছেদ
মহেন্দ্রলাল সরকার বিজ্ঞানচর্চা IACS
জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদ/পদার্থ ক্রেসকোগ্রাফ
প্রফুল্লচন্দ্র রায় রসায়ন Bengal Chemical
সত্যেন্দ্রনাথ বসু পদার্থবিজ্ঞান Bose statistics
মেঘনাদ সাহা জ্যোতির্পদার্থ Saha equation
উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী চিকিৎসাবিজ্ঞান কালাজ্বর
কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় চিকিৎসা নারী অগ্রদূত
রাধানাথ শিকদার জরিপ/গণিত উচ্চতা নির্ণয়
প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ পরিসংখ্যান Statistics

MASTER CHART — বাঙালির ক্রীড়া সংস্কৃতি

ব্যক্তিত্ব ক্রীড়া/ক্ষেত্র স্মরণসূত্র
গোবর গুহ কুস্তি Wrestler
নগেন্দ্রপ্রসাদ ফুটবল অগ্রদূত
মোহনবাগান ফুটবল ১৮৮৯
শিবদাস ভাদুড়ী ফুটবল ১৯১১
গোষ্ঠ পাল ফুটবল ডিফেন্ডার
শৈলেন মান্না ফুটবল অধিনায়ক
ইস্টবেঙ্গল ফুটবল ১৯২০
গুরুসদয় দত্ত ব্রতচারী শরীরচর্চা
গণপতি চক্রবর্তী সার্কাস দেশীয় সার্কাস
পি. সি. সরকার জাদু Magic
পঙ্কজ রায় ক্রিকেট টেস্ট
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ক্রিকেট অধিনায়কত্ব
দিব্যেন্দু বড়ুয়া দাবা Grandmaster
আরতি সাহা সাঁতার আন্তর্জাতিক সাফল্য
মিহির সেন সাঁতার দীর্ঘদূরত্ব
বুলা চৌধুরী সাঁতার দীর্ঘদূরত্ব
জ্যোতির্ময়ী শিকদার অ্যাথলেটিক্স Track
দোলা বন্দ্যোপাধ্যায় তিরন্দাজি Archery

শেষ মুহূর্তের MASTER FORMULA

বাংলাগান

চর্যা → শ্রীকৃষ্ণকীর্তন → মঙ্গলগান → বৈষ্ণব পদ → কীর্তন → বাউল → কবিগান → আখড়াই → যাত্রা → বিষ্ণুপুর → টপ্পা → ঠুংরি → শ্যামাসংগীত → রবীন্দ্রসংগীত → নজরুলগীতি → স্বদেশি গান → গণসংগীত → আধুনিক গান

বিজ্ঞান

মেডিকেল শিক্ষা → IACS → মহেন্দ্রলাল → জগদীশচন্দ্র → প্রফুল্লচন্দ্র → সত্যেন্দ্রনাথ → মেঘনাদ → ব্রহ্মচারী → কাদম্বিনী → রাধানাথ → মহলানবিশ

ক্রীড়া

কুস্তি → ফুটবল → মোহনবাগান → ১৯১১ → গোষ্ঠ পাল → শৈলেন মান্না → ইস্টবেঙ্গল → ব্রতচারী → সার্কাস → ক্রিকেট → হকি → টেবিল টেনিস → দাবা → সাঁতার → অ্যাথলেটিক্স → তিরন্দাজি → কাবাডি/খো-খো


MCQ তৈরির ১০টি প্রধান প্রশ্ন-ছাঁচ

১. ব্যক্তি → কাজ
জগদীশচন্দ্র বসু কী নিয়ে গবেষণা করেছিলেন?

২. কাজ → ব্যক্তি
ক্রেসকোগ্রাফের সঙ্গে কার নাম যুক্ত?

৩. ব্যক্তি → প্রতিষ্ঠান
Bose Institute-এর সঙ্গে কার নাম যুক্ত?

৪. সাল → ঘটনা
১৯১১ সালের সঙ্গে কোন ঘটনা যুক্ত?

৫. ঘটনা → সাল
মোহনবাগানের ঐতিহাসিক IFA Shield জয় কোন সালে?

৬. ধারা → বৈশিষ্ট্য
বাউলগানের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

৭. ব্যক্তি → ধারা
নিধুবাবু কোন সংগীতধারার সঙ্গে যুক্ত?

৮. ভুল জোড়া চিহ্নিতকরণ
নিচের কোন জোড়াটি সঠিক নয়?

৯. কালানুক্রম
চর্যা → বৈষ্ণব পদ → বাউল → রবীন্দ্রসংগীত—কোনটি সঠিক ক্রম?

১০. বিবৃতিভিত্তিক প্রশ্ন
দুটি বিবৃতি দেওয়া থাকবে; কোনটি সত্য, কোনটি মিথ্যা—তা নির্ণয় করতে হবে।


এক লাইনের স্মরণ-মানচিত্র

চর্যা — সাধনা
বৈষ্ণব পদ — প্রেম
বাউল — মানুষ
টপ্পা — নিধুবাবু
ঠুংরি — মেটিয়াবুরুজ
শ্যামাসংগীত — রামপ্রসাদ
রবীন্দ্রসংগীত — বহুমাত্রিকতা
নজরুলগীতি — বিদ্রোহ ও বৈচিত্র্য
IACS — বিজ্ঞানপ্রতিষ্ঠান
জগদীশচন্দ্র — ক্রেসকোগ্রাফ
প্রফুল্লচন্দ্র — রসায়ন
সত্যেন্দ্রনাথ — Bose statistics
মেঘনাদ — Saha equation
ব্রহ্মচারী — কালাজ্বর
মহলানবিশ — পরিসংখ্যান
নগেন্দ্রপ্রসাদ — ফুটবল
মোহনবাগান — ১৮৮৯
১৯১১ — IFA Shield
গোষ্ঠ পাল — ফুটবল
সৌরভ — ক্রিকেট
দিব্যেন্দু — দাবা
আরতি — সাঁতার
দোলা — তিরন্দাজি

 
 
 
 
 
 
 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top