একাদশ শ্রেণি-বাংলা-১ম সেমেস্টার-সম্পূর্ণ আউটলাইন রিভিশন

একাদশ শ্রেণি : বাংলা

প্রথম সেমেস্টার — সাহিত্য

ছয়টি পাঠের সংক্ষিপ্তসারসহ পূর্ণাঙ্গ প্রশ্নোত্তরভিত্তিক রিভিশন নোট


১. পুঁইমাচা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

📖 সংক্ষিপ্তসার

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পুঁইমাচা’ গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারের জীবনকে কেন্দ্র করে লেখা এক গভীর মানবিক ছোটোগল্প। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে কিশোরী ক্ষেন্তি। তার বাবা সহায়হরি চাটুজ্যে, মা অন্নপূর্ণা। সংসারে অভাব থাকলেও ক্ষেন্তি প্রাণবন্ত এবং স্বাভাবিক জীবন-আনন্দের প্রতি আকৃষ্ট। পুঁইশাক, চিংড়ি মাছ কিংবা ভালো কিছু খাওয়ার ইচ্ছা তার কাছে জীবনের সহজ আনন্দ।

ক্ষেন্তির বিয়ে ঠিক হয়, কিন্তু পণের টাকা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সেই অর্থ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়। এর মধ্যেই ক্ষেন্তি বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। যে মেয়েটির সামনে সংসার, বিয়ে ও জীবনের স্বাভাবিক আনন্দ অপেক্ষা করছিল, তার জীবন হঠাৎ থেমে যায়।

গল্পের শেষদিকে পুঁইমাচা ক্ষেন্তির স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ওঠে। ফলে পুঁইমাচা আর শুধু গাছের মাচা নয়; তা হয়ে ওঠে ক্ষেন্তির ছোটো ছোটো ইচ্ছা, অপূর্ণ জীবন, পারিবারিক স্মৃতি এবং বেদনার প্রতীক।

এক বাক্যে

দারিদ্র্য ও সামাজিক বঞ্চনার মধ্যে ক্ষেন্তির সহজ জীবন-আকাঙ্ক্ষার অপূর্ণতাই ‘পুঁইমাচা’-র মূল মানবিক কাহিনি।


১. রচয়িতা ও রচনার ধরন

সম্ভাব্য প্রশ্ন

‘পুঁইমাচা’-র রচয়িতা কে?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • রচয়িতা — বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  • রচনার ধরন — ছোটোগল্প
  • পটভূমি — গ্রামীণ বাংলা।
  • মূল বিষয় — দরিদ্র মানুষের জীবন ও মানবিক বঞ্চনা।

২. গল্পের প্রধান চরিত্র

সম্ভাব্য প্রশ্ন

‘পুঁইমাচা’-র কেন্দ্রীয় চরিত্র কে?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • কেন্দ্রীয় চরিত্র — ক্ষেন্তি
  • বাবা — সহায়হরি চাটুজ্যে
  • মা — অন্নপূর্ণা
  • বোন — পুঁটি

স্মরণসূত্র

ক্ষেন্তি → সহায়হরি → অন্নপূর্ণা → পুঁটি


৩. ক্ষেন্তির চরিত্র

সম্ভাব্য প্রশ্ন

ক্ষেন্তির চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

ক্ষেন্তি—

  • সরল
  • প্রাণবন্ত
  • স্বাভাবিক
  • খাদ্যপ্রিয়
  • ছোটো ছোটো আনন্দে খুশি
  • অভাবের মধ্যেও জীবনের প্রতি আকৃষ্ট।

তার খাদ্যপ্রিয়তা আসলে জীবনের স্বাভাবিক আনন্দের আকাঙ্ক্ষা।

স্মরণসূত্র

ক্ষেন্তি = সরলতা + প্রাণবন্ততা + খাদ্যপ্রিয়তা + অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা


৪. পুঁইশাক ও চিংড়ির প্রসঙ্গ

সম্ভাব্য প্রশ্ন

পুঁইশাক ও চিংড়ির প্রসঙ্গ ক্ষেন্তির কোন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • ক্ষেন্তির খাদ্যপ্রিয়তা।
  • স্বাভাবিক জীবন-আনন্দের আকাঙ্ক্ষা।
  • দরিদ্র জীবনের সীমাবদ্ধতা।
  • সামান্য খাবারের মধ্যেও আনন্দ খোঁজার প্রবণতা।

খাদ্যপ্রিয়তা ≠ নিছক লোভ।


৫. ক্ষেন্তির বিয়ে ও পণ

সম্ভাব্য প্রশ্ন

ক্ষেন্তির বিয়ের ক্ষেত্রে কী সমস্যা হয়েছিল?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • ক্ষেন্তির বিয়ে ঠিক হয়।
  • পণের টাকা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়।
  • পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা প্রকাশ পায়।
  • বিয়ের স্বাভাবিক আনন্দ অর্থনৈতিক চাপে বাধাগ্রস্ত হয়।
  • পণপ্রথার নিষ্ঠুরতা স্পষ্ট হয়।

স্মরণসূত্র

বিয়ে → পণ → অর্থাভাব → বঞ্চনা


৬. ক্ষেন্তির মৃত্যু

সম্ভাব্য প্রশ্ন

ক্ষেন্তি কোন রোগে মারা যায়?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • রোগ — বসন্ত
  • অকালমৃত্যু গল্পের করুণ পরিণতি।
  • জীবনের স্বাভাবিক ভবিষ্যৎ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

৭. পুঁইমাচার তাৎপর্য

সম্ভাব্য প্রশ্ন

‘পুঁইমাচা’ নামকরণের তাৎপর্য কী?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

পুঁইমাচা—

  • ক্ষেন্তির স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত।
  • তার খাদ্য-আকাঙ্ক্ষার স্মারক।
  • অপূর্ণ জীবনের প্রতীক।
  • পারিবারিক বেদনার চিহ্ন।
  • গ্রামীণ প্রকৃতি ও মানুষের আবেগের যোগসূত্র।

MASTER FORMULA

পুঁইমাচা = ক্ষেন্তি + স্মৃতি + আকাঙ্ক্ষা + অপূর্ণতা + বেদনা


৮. গল্পের সামাজিক বক্তব্য

সম্ভাব্য প্রশ্ন

‘পুঁইমাচা’-তে কোন সামাজিক বাস্তবতা প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • দারিদ্র্য
  • পণপ্রথা
  • সামাজিক অসাম্য
  • গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের জীবন
  • মেয়ের জীবনের অনিশ্চয়তা
  • স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষার অপূর্ণতা।

মূল উত্তর

দারিদ্র্য ও সামাজিক ব্যবস্থার চাপে মানুষের স্বাভাবিক জীবন-আকাঙ্ক্ষা কীভাবে অপূর্ণ হয়ে যায়, গল্পে তার করুণ চিত্র রয়েছে।


২. বিড়াল

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

📖 সংক্ষিপ্তসার

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিড়াল’ ‘কমলাকান্তের দপ্তর’-এর অন্তর্গত ব্যঙ্গধর্মী রচনা। এখানে একটি সাধারণ বিড়ালের ক্ষুধা থেকেই সমাজের বড়ো প্রশ্ন উঠে আসে। বিড়াল খাবার চায়, কিন্তু মানুষ তাকে নিজের সম্পত্তি ও খাদ্যের অধিকার থেকে দূরে রাখে।

কমলাকান্ত এই ঘটনাকে নিছক পশুর ক্ষুধা হিসেবে দেখেন না। তাঁর ব্যঙ্গাত্মক দৃষ্টিতে প্রশ্ন ওঠে—মানুষ কেন নিজের প্রয়োজনকে স্বাভাবিক ও ন্যায্য বলে মনে করবে, অথচ অন্য প্রাণীর প্রয়োজনকে অস্বীকার করবে?

এই প্রশ্ন ধীরে ধীরে সম্পত্তি, মালিকানা, অধিকার, বৈষম্য ও সাম্যের প্রশ্নে পরিণত হয়। বিড়ালের ক্ষুধা তাই বঞ্চিত মানুষের ক্ষুধার সঙ্গেও তুলনীয় হয়ে ওঠে।

হাস্যরস ও বিদ্রূপের আড়ালে বঙ্কিমচন্দ্র মানুষের স্বার্থপরতা ও সামাজিক অসঙ্গতিকে প্রকাশ করেছেন।

এক বাক্যে

এক ক্ষুধার্ত বিড়ালকে কেন্দ্র করে বঙ্কিমচন্দ্র মানুষের সম্পত্তিবোধ, অধিকার ও সামাজিক বৈষম্যকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে প্রশ্ন করেছেন।


১. রচনা পরিচিতি

সম্ভাব্য প্রশ্ন

‘বিড়াল’ কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • লেখক — বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  • গ্রন্থ — কমলাকান্তের দপ্তর
  • রচনার প্রকৃতি — ব্যঙ্গধর্মী গদ্য।
  • কেন্দ্রে — কমলাকান্ত ও বিড়াল।

২. কমলাকান্তের চরিত্র

সম্ভাব্য প্রশ্ন

কমলাকান্তের দৃষ্টিভঙ্গির বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

কমলাকান্ত—

  • প্রশ্নমুখর
  • যুক্তিনির্ভর
  • বিদ্রূপাত্মক
  • প্রচলিত ধারণার সমালোচক
  • সমাজের অসঙ্গতির তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষক।

সূত্র

কমলাকান্ত = হাসি + ব্যঙ্গ + প্রশ্ন + সমাজচিন্তা


৩. বিড়ালের ক্ষুধা

সম্ভাব্য প্রশ্ন

বিড়ালের ক্ষুধা কী নির্দেশ করে?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • জীবনের মৌলিক প্রয়োজন।
  • খাদ্যের অধিকার।
  • বঞ্চিতের জীবন।
  • ক্ষুধার সার্বজনীন বাস্তবতা।

৪. সম্পত্তির প্রশ্ন

সম্ভাব্য প্রশ্ন

রচনায় সম্পত্তির ধারণা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • মানুষ সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে।
  • নিজের ভোগকে ন্যায্য মনে করে।
  • অন্যের প্রয়োজন অস্বীকার করে।
  • ফলে মালিকানা ও ভোগের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

৫. সাম্যের প্রশ্ন

সম্ভাব্য প্রশ্ন

বিড়ালের প্রসঙ্গ কীভাবে সাম্যের প্রশ্নে পৌঁছেছে?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

ক্ষুধা → অধিকার → মালিকানা → বৈষম্য → সাম্য

বিড়ালের ক্ষুধা মানুষের ক্ষুধার সঙ্গে তুলনা করে জীবনের মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।


৬. ব্যঙ্গের তাৎপর্য

সম্ভাব্য প্রশ্ন

বঙ্কিমচন্দ্র ব্যঙ্গের আশ্রয় নিয়েছেন কেন?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • পাঠককে হাসাতে।
  • প্রচলিত ধারণাকে অস্বস্তিকর প্রশ্নের সামনে দাঁড় করাতে।
  • সামাজিক অসঙ্গতি প্রকাশ করতে।
  • গভীর বক্তব্যকে সহজ অথচ তীক্ষ্ণ করতে।

সূত্র

হাসি → ব্যঙ্গ → প্রশ্ন → চিন্তা


৭. মূল বক্তব্য

MASTER ANSWER

বিড়ালের ক্ষুধাকে কেন্দ্র করে মানুষের সম্পত্তিবোধ, স্বার্থপরতা, বৈষম্য ও ন্যায়বোধকে প্রশ্ন করাই ‘বিড়াল’-এর মূল বক্তব্য।


৩. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

📖 সংক্ষিপ্তসার

মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’ সনেটধর্মী কবিতা। কবি এখানে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

বিদ্যাসাগর ছিলেন অসাধারণ জ্ঞানী এবং একই সঙ্গে গভীরভাবে করুণাময় মানুষ। তাই কবি তাঁকে একদিকে ‘বিদ্যার সাগর’, অন্যদিকে ‘করুণার সিন্ধু’ হিসেবে দেখেছেন। ‘সাগর’ ও ‘সিন্ধু’—দুই রূপকের মাধ্যমে তাঁর জ্ঞান ও মানবিকতার অসীমতা প্রকাশ পেয়েছে।

মধুসূদনের ব্যক্তিজীবনেও বিদ্যাসাগরের সহায়তার স্মৃতি ছিল। ফলে কবিতায় ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতা ও মহৎ মানবিক ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা একসঙ্গে মিশেছে।

এক বাক্যে

বিদ্যা ও করুণায় মহৎ বিদ্যাসাগরের প্রতি মধুসূদনের গভীর শ্রদ্ধা ও ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতাই কবিতার মূল সুর।


১. কবিতা ও সনেট

সম্ভাব্য প্রশ্ন

‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’ কোন ধরনের কবিতা?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • কবি — মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  • রূপ — সনেট
  • সনেট — ১৪ পঙ্‌ক্তির কবিতা
  • বাংলা সাহিত্যে সনেট প্রবর্তনের সঙ্গে মধুসূদনের নাম বিশেষভাবে যুক্ত।

২. বিদ্যাসাগরের পরিচয়

সম্ভাব্য প্রশ্ন

কবিতায় বিদ্যাসাগরকে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

তিনি—

  • পণ্ডিত
  • শিক্ষাবিদ
  • সমাজসংস্কারক
  • মানবহিতৈষী
  • করুণাময়
  • নৈতিক মহত্ত্বের প্রতীক।

৩. ‘বিদ্যার সাগর’

সম্ভাব্য প্রশ্ন

‘বিদ্যার সাগর’ কথাটির তাৎপর্য কী?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • বিপুল জ্ঞান।
  • গভীর পাণ্ডিত্য।
  • জ্ঞানের ব্যাপকতা।
  • বিদ্যার অসীম বিস্তার।

৪. ‘করুণার সিন্ধু’

সম্ভাব্য প্রশ্ন

‘করুণার সিন্ধু’ কেন বলা হয়েছে?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা।
  • দরিদ্রের প্রতি দয়া।
  • মানবকল্যাণের আকাঙ্ক্ষা।
  • মানুষের দুঃখে সাড়া দেওয়ার মানসিকতা।

৫. সমাজসংস্কার

সম্ভাব্য প্রশ্ন

বিদ্যাসাগরের কোন সমাজসংস্কারমূলক কাজের কথা মনে রাখা দরকার?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • বিধবাবিবাহ প্রচলনের আন্দোলন।
  • নারীশিক্ষার প্রসার।
  • শিক্ষাবিস্তারে ভূমিকা।
  • মানবকল্যাণমূলক কাজ।

৬. মধুসূদনের কৃতজ্ঞতা

সম্ভাব্য প্রশ্ন

মধুসূদনের সঙ্গে বিদ্যাসাগরের সম্পর্ক কীভাবে কবিতার আবেগকে প্রভাবিত করেছে?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • বিদ্যাসাগর মধুসূদনের শুভানুধ্যায়ী ছিলেন।
  • তাঁকে নানা সময়ে সহায়তা করেছিলেন।
  • সেই সহায়তার জন্য মধুসূদনের মনে কৃতজ্ঞতা জন্মেছিল।
  • তাই শ্রদ্ধার সঙ্গে ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে।

৭. বিদ্যা ও করুণার সমন্বয়

সম্ভাব্য প্রশ্ন

বিদ্যাসাগরের মহত্ত্বের মূল কোথায়?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

বিদ্যা + করুণা = মানবিক মহত্ত্ব

শুধু পাণ্ডিত্য নয়, মানুষের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতাই বিদ্যাসাগরের ব্যক্তিত্বকে পূর্ণ করেছে।


৮. কবিতার মূল বক্তব্য

MASTER ANSWER

বিদ্যা, করুণা ও মানবিক মহত্ত্বে উজ্জ্বল বিদ্যাসাগরের প্রতি মধুসূদনের আন্তরিক শ্রদ্ধা এবং ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতার প্রকাশই কবিতার মূল বক্তব্য।


৪. সাম্যবাদী

কাজী নজরুল ইসলাম

📖 সংক্ষিপ্তসার

কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাম্যবাদী’ কবিতার কেন্দ্রে রয়েছে মানুষ এবং মানুষের সমান মর্যাদা। কবি জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির বিভেদকে অতিক্রম করে মানবতার কথা বলেছেন।

কবিতায় কোরান, বেদ, ত্রিপিটক, বাইবেল প্রভৃতি ধর্মীয় ঐতিহ্যের উল্লেখ এসেছে। শাক্যমুনি ও আরব-দুলাল-এর মতো মহাপুরুষদের পাশাপাশি উপস্থিত করে কবি ধর্মীয় বিভেদের পরিবর্তে মানবিক ঐক্যের কথা বলেছেন।

অন্যদিকে সাঁওতাল, ভীল, গারো প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর উল্লেখের মাধ্যমে কবি সমাজের প্রান্তিক মানুষের মর্যাদাকেও সাম্যের পরিসরে নিয়ে এসেছেন।

সুতরাং সাম্য এখানে শুধু সমান অধিকার নয়; তা মানবতা, ভ্রাতৃত্ব, মর্যাদা ও বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন।

এক বাক্যে

জাতি-ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণির বিভেদ অতিক্রম করে সকল মানুষের সমান মর্যাদা ও মানবিক ঐক্য প্রতিষ্ঠাই ‘সাম্যবাদী’-র মূল বক্তব্য।


১. ‘সাম্যবাদী’ বলতে কী?

সম্ভাব্য প্রশ্ন

কবিতার নামের তাৎপর্য কী?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • সাম্য = সমতা।
  • মানুষে মানুষে ভেদাভেদ প্রত্যাখ্যান।
  • সকলের সমান মর্যাদা।
  • ভ্রাতৃত্ব ও মানবতা।

২. মানুষের শ্রেষ্ঠ পরিচয়

সম্ভাব্য প্রশ্ন

নজরুলের কাছে মানুষের প্রধান পরিচয় কী?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

মানুষ।

ধর্ম, জাতি, বর্ণ, শ্রেণি—সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে মানবিক পরিচয়।


৩. ধর্মগ্রন্থের উল্লেখ

সম্ভাব্য প্রশ্ন

কোরান, বেদ, ত্রিপিটক ও বাইবেলের উল্লেখের উদ্দেশ্য কী?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • ধর্মীয় সম্প্রীতি।
  • বিভিন্ন ধর্মের মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়।
  • সংকীর্ণতার বিরোধিতা।
  • মানবিক ঐক্যের প্রতিষ্ঠা।

৪. মহাপুরুষ

সম্ভাব্য প্রশ্ন

শাক্যমুনি ও আরব-দুলাল বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • শাক্যমুনি — গৌতম বুদ্ধ
  • আরব-দুলাল — হজরত মুহাম্মদ
  • উদ্দেশ্য — বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্যের মহাপুরুষকে মানবিক ঐক্যের পরিসরে আনা।

৫. প্রান্তিক মানুষ

সম্ভাব্য প্রশ্ন

সাঁওতাল, ভীল, গারো প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর উল্লেখ কেন?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • প্রান্তিক মানুষের উপস্থিতি।
  • সামাজিক সাম্যের বিস্তৃত পরিসর।
  • উচ্চ-নীচের বিরোধিতা।
  • সকল মানুষের সমান মর্যাদা।

৬. কোন বিভেদের বিরুদ্ধে কবি?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • জাতিভেদ
  • বর্ণভেদ
  • ধর্মীয় বিভেদ
  • শ্রেণিবৈষম্য
  • সামাজিক উচ্চ-নীচ
  • সংকীর্ণ পরিচয়।

৭. কবিতার সুর

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • উদ্দীপনামূলক
  • প্রতিবাদী
  • সংগ্রামী
  • মানবতাবাদী
  • অসাম্প্রদায়িক।

৮. মূল বক্তব্য

MASTER ANSWER

মানুষের পরিচয়কে সকল ধর্মীয়, জাতিগত ও সামাজিক বিভেদের ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠা করে সমতা, ভ্রাতৃত্ব ও মানবমর্যাদার সমাজ নির্মাণের আহ্বানই ‘সাম্যবাদী’-র মূল বক্তব্য।

স্মরণসূত্র

মানুষ → সাম্য → কোরান → বেদ → ত্রিপিটক → বাইবেল → বুদ্ধ → মুহাম্মদ → সাঁওতাল → ভীল → গারো → বৈষম্যবিরোধিতা


৫. বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়ো

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ

অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

📖 সংক্ষিপ্তসার

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের বিখ্যাত গল্প ‘A Very Old Man with Enormous Wings’-এর বাংলা অনুবাদ ‘বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়ো’। গল্পের শুরুতে প্রবল বৃষ্টি ও কাদার মধ্যে পেলাইও তার বাড়ির উঠোনে এক অতি বৃদ্ধ মানুষকে দেখতে পায়। বৃদ্ধের পিঠে বিশাল ডানা।

প্রতিবেশী এক বৃদ্ধা তাঁকে দেবদূত বলে মনে করে। কিন্তু পুরোহিত গঞ্জাগা তাঁর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এর মধ্যেই মানুষের কৌতূহলে বৃদ্ধকে দেখতে ভিড় জমে যায়। পেলাইও ও তার স্ত্রী এলিসেন্দা এই কৌতূহলকে অর্থ উপার্জনের সুযোগে পরিণত করে।

পরে এক মেয়ের মাকড়সায় পরিণত হওয়ার কাহিনি মানুষের নতুন বিস্ময়ের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বৃদ্ধের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যায়। বৃদ্ধ ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত ডানা মেলে দূর আকাশে উড়ে চলে যায়।

গল্পে অলৌকিক ঘটনাকে এমন স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে বাস্তব ও কল্পনার সীমা অস্পষ্ট হয়ে যায়। এই রচনাশৈলীই জাদুবাস্তবতা।

এক বাক্যে

ডানাওয়ালা রহস্যময় বৃদ্ধকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল, কুসংস্কার, স্বার্থপরতা ও মানবিকতার অভাবকে মার্কেজ জাদুবাস্তবতার ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন।


১. লেখক ও অনুবাদক

সম্ভাব্য প্রশ্ন

গল্পটির মূল লেখক ও বাংলা অনুবাদক কে?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • মূল লেখক — গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ
  • বাংলা অনুবাদক — মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  • মূল নাম — A Very Old Man with Enormous Wings

২. জাদুবাস্তবতা

সম্ভাব্য প্রশ্ন

গল্পটি জাদুবাস্তবতার উদাহরণ কেন?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

জাদুবাস্তবতায়—

  • বাস্তব পরিবেশ থাকে।
  • তার মধ্যে অলৌকিক ঘটনা ঘটে।
  • অলৌকিক ঘটনাকে সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক বলে আলাদা করে দেখানো হয় না।
  • বাস্তব ও অলৌকিক পাশাপাশি চলে।

সূত্র

বাস্তব পরিবেশ + অলৌকিক ঘটনা = জাদুবাস্তবতা


৩. গল্পের সূচনা

সম্ভাব্য প্রশ্ন

গল্পের শুরুতে কী পরিবেশ ছিল?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • প্রবল/টানা বৃষ্টি।
  • কাদা।
  • কাঁকড়ার উপদ্রব।
  • শিশুর অসুস্থতা।
  • সেই পরিবেশে বৃদ্ধের আবির্ভাব।

সূত্র

বৃষ্টি → কাদা → কাঁকড়া → অসুস্থ শিশু → বৃদ্ধ


৪. বৃদ্ধের আবির্ভাব

সম্ভাব্য প্রশ্ন

পেলাইও বৃদ্ধকে কোথায় দেখতে পায়?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • বাড়ির উঠোনের কাদায়।
  • অতি বৃদ্ধ।
  • দুর্বল।
  • জীর্ণ পোশাক।
  • বিশাল ডানা।

৫. দেবদূত প্রসঙ্গ

সম্ভাব্য প্রশ্ন

প্রতিবেশী বৃদ্ধা তাঁকে দেবদূত মনে করেছিল কেন?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • তাঁর বিশাল ডানা।
  • অস্বাভাবিক চেহারা।
  • প্রচলিত দেবদূতের ধারণার সঙ্গে ডানার মিল।

৬. গঞ্জাগার ভূমিকা

সম্ভাব্য প্রশ্ন

গঞ্জাগা কেন বৃদ্ধের দেবদূত পরিচয় নিয়ে সন্দেহ করেছিলেন?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • বৃদ্ধের আচরণ প্রচলিত ধর্মীয় ধারণার সঙ্গে মেলে না।
  • ধর্মীয় লক্ষণ পরীক্ষা করা হয়।
  • লাতিন ভাষা জানেন কি না তা যাচাইয়ের চেষ্টা।
  • বিশপের কাছে চিঠি লেখার সিদ্ধান্ত।

৭. জনতার কৌতূহল

সম্ভাব্য প্রশ্ন

মানুষ কেন বৃদ্ধকে দেখতে ছুটে এসেছিল?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • অস্বাভাবিক ডানা।
  • রহস্যময় পরিচয়।
  • অলৌকিকতার প্রতি কৌতূহল।
  • বিনোদনের আকাঙ্ক্ষা।

৮. অর্থ উপার্জন

সম্ভাব্য প্রশ্ন

পেলাইও ও এলিসেন্দা বৃদ্ধকে ঘিরে কী করেছিল?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • জনতার কৌতূহলকে কাজে লাগিয়েছিল।
  • বৃদ্ধকে দেখতে আসা মানুষের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছিল।
  • অলৌকিক ঘটনাকে বাণিজ্যিক সুযোগে পরিণত করেছিল।

৯. মাকড়সা-মেয়ে

সম্ভাব্য প্রশ্ন

মাকড়সা-মেয়ের আগমনে কী পরিবর্তন ঘটে?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • মানুষের নতুন কৌতূহল সৃষ্টি হয়।
  • বৃদ্ধের প্রতি আগ্রহ কমে যায়।
  • মানুষের কৌতূহল যে ক্ষণস্থায়ী, তা প্রকাশ পায়।

১০. বৃদ্ধের প্রতি নিষ্ঠুরতা

সম্ভাব্য প্রশ্ন

বৃদ্ধের প্রতি মানুষের আচরণ কী প্রকাশ করে?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • তাকে খাঁচায় রাখা।
  • প্রদর্শনীর বস্তু বানানো।
  • অর্থ উপার্জনের মাধ্যম করা।
  • প্রকৃত মানবিকতা না দেখানো।

১১. শেষ দৃশ্য

সম্ভাব্য প্রশ্ন

গল্পের শেষে কী ঘটে?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • বৃদ্ধ ধীরে ধীরে শক্তি ফিরে পায়।
  • ডানা শক্তিশালী হয়।
  • শেষ পর্যন্ত উড়ে যায়।
  • তার প্রকৃত পরিচয় রহস্যই থেকে যায়।

১২. মূল বক্তব্য

MASTER ANSWER

অলৌকিকতার মুখোমুখি হয়ে মানুষের কৌতূহল, কুসংস্কার, স্বার্থপরতা ও বিচারপ্রবণতার যে সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পায়, ‘বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়ো’-র মূল তাৎপর্য তার মধ্যেই।

স্মরণসূত্র

বৃষ্টি → কাদা → বৃদ্ধ → ডানা → দেবদূত? → গঞ্জাগা → খাঁচা → ভিড় → টাকা → মাকড়সা-মেয়ে → উদাসীনতা → উড়ে যাওয়া


৬. চারণ কবি

ভারভারা রাও

বাংলা অনুবাদ : শঙ্খ ঘোষ

📖 সংক্ষিপ্তসার

‘চারণ কবি’ তেলুগু কবি ভারভারা রাও-এর কবিতা; বাংলায় অনুবাদ করেছেন শঙ্খ ঘোষ। কবিতার কেন্দ্রে রয়েছে কবির সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কবিতার সম্পর্ক।

চারণ কবি রাজদরবারের প্রশস্তিকার নন। তিনি মানুষের কাছে যান, মানুষের জীবন ও দুঃখের কথা শোনেন এবং যাদের কণ্ঠস্বর ক্ষমতার চাপে চাপা পড়ে যায়, তাদের কথা উচ্চারণ করেন।

এই কবিতায় কবিতা শুধু সৌন্দর্যচর্চা বা বিনোদনের বিষয় নয়। কবিতা হয়ে ওঠে সত্য বলার মাধ্যম, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা এবং নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর।

শোষণ ও নিপীড়নের বিপরীতে কবির অবস্থান প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের পক্ষে। ফলে ‘চারণ কবি’ মূলত কবির সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনসম্পৃক্ততার কবিতা।

এক বাক্যে

নিপীড়িত মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়ে অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে সত্য উচ্চারণ করাই চারণ কবির দায়।


১. কবি ও অনুবাদক

সম্ভাব্য প্রশ্ন

‘চারণ কবি’-র মূল কবি ও অনুবাদক কে?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • মূল কবি — ভারভারা রাও
  • ভাষা — তেলুগু
  • বাংলা অনুবাদক — শঙ্খ ঘোষ

২. ‘চারণ’ শব্দের তাৎপর্য

সম্ভাব্য প্রশ্ন

‘চারণ কবি’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

চারণ কবি—

  • মানুষের মধ্যে ঘুরে বেড়ান।
  • জনজীবনের কথা শোনেন।
  • মানুষের দুঃখের কথা বলেন।
  • নীরব মানুষের কণ্ঠস্বর বহন করেন।
  • কবিতাকে মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করেন।

৩. কবির সামাজিক দায়বদ্ধতা

সম্ভাব্য প্রশ্ন

কবির সামাজিক দায়বদ্ধতা কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • নিপীড়িত মানুষের কথা বলা।
  • অন্যায়ের প্রতিবাদ করা।
  • শোষণের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।
  • মানুষের চেতনা জাগানো।
  • কবিতাকে সামাজিক সত্য প্রকাশের মাধ্যম করা।

৪. কবি কার পাশে?

সম্ভাব্য প্রশ্ন

কবির অবস্থান কার পক্ষে?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • সাধারণ মানুষ
  • প্রান্তিক মানুষ
  • নিপীড়িত মানুষ
  • শোষিত মানুষ
  • নীরব মানুষের কণ্ঠস্বর।

৫. প্রতিবাদের বিষয়

সম্ভাব্য প্রশ্ন

চারণ কবি কোন বিষয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • শোষণ
  • নিপীড়ন
  • অন্যায়
  • অবিচার
  • বৈষম্য
  • মানুষের অধিকারহীনতা।

৬. কবিতার ভূমিকা

সম্ভাব্য প্রশ্ন

‘চারণ কবি’-তে কবিতা কী হয়ে উঠেছে?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

কবিতা হয়ে উঠেছে—

  • সত্যের ভাষা
  • প্রতিবাদের ভাষা
  • প্রতিরোধের ভাষা
  • সচেতনতার মাধ্যম
  • নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর।

গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

কবিতা = সৌন্দর্য + সত্য + প্রতিবাদ + সামাজিক দায়


৭. জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক

সম্ভাব্য প্রশ্ন

চারণ কবি ও জনগণের সম্পর্ক কেমন?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

  • ঘনিষ্ঠ
  • জনমুখী
  • সংহতিমূলক
  • জনগণের জীবন ও সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত।

৮. প্রধান দ্বন্দ্ব

সম্ভাব্য প্রশ্ন

কবিতার মূল দ্বন্দ্ব কী?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

শোষণ বনাম প্রতিরোধ

শোষণের দিকে—

  • অন্যায়
  • নিপীড়ন
  • বৈষম্য

প্রতিরোধের দিকে—

  • কবির কণ্ঠ
  • জনগণের ঐক্য
  • প্রতিবাদ
  • সামাজিক সচেতনতা।

৯. কবির ভূমিকা

সম্ভাব্য প্রশ্ন

চারণ কবি কেন শুধু পর্যবেক্ষক নন?

উত্তর তৈরির ক্ষেত্র

কারণ তিনি—

  • অন্যায় দেখে নীরব থাকেন না।
  • নিপীড়িতের কথা বলেন।
  • প্রতিবাদ করেন।
  • মানুষের পাশে দাঁড়ান।
  • কবিতাকে সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত করেন।

১০. মূল বক্তব্য

MASTER ANSWER

জনগণের জীবন ও নিপীড়িত মানুষের বেদনার সঙ্গে যুক্ত থেকে অন্যায়, শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সত্য উচ্চারণ করাই চারণ কবির সামাজিক দায়বদ্ধতা; কবিতা তাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ভাষা।

স্মরণসূত্র

ভারভারা রাও → শঙ্খ ঘোষ → চারণ → জনগণ → প্রান্তিক মানুষ → শোষণ → অন্যায় → প্রতিবাদ → প্রতিরোধ → মানবমর্যাদা


⭐ ছয়টি পাঠের সংক্ষিপ্তসার একসঙ্গে

১. পুঁইমাচা

ক্ষেন্তির ছোটো ছোটো জীবনের আকাঙ্ক্ষা দারিদ্র্য, পণপ্রথা ও অকালমৃত্যুর কাছে অপূর্ণ হয়ে যায়; পুঁইমাচা তার স্মৃতির প্রতীক।

২. বিড়াল

বিড়ালের ক্ষুধাকে কেন্দ্র করে কমলাকান্ত মানুষের সম্পত্তিবোধ, মালিকানা, অধিকার ও বৈষম্যের প্রশ্ন তোলেন।

৩. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

মধুসূদন বিদ্যা ও করুণায় মহৎ বিদ্যাসাগরের প্রতি ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতা ও গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

৪. সাম্যবাদী

নজরুল জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিভেদ অতিক্রম করে মানুষের সমান মর্যাদা ও মানবিক ঐক্যের কথা বলেন।

৫. বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়ো

ডানাওয়ালা রহস্যময় বৃদ্ধকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল, স্বার্থপরতা, কুসংস্কার ও মানবিকতার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পায়।

৬. চারণ কবি

জনগণ ও নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কবির কণ্ঠ অন্যায়, শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে।


ছয়টি পাঠের ‘প্রশ্ন দেখেই উত্তর ধরার’ সূত্র

পুঁইমাচা

ক্ষেন্তি → সরলতা
পুঁইশাক → খাদ্যের আকাঙ্ক্ষা
পণ → বঞ্চনা
বসন্ত → মৃত্যু
পুঁইমাচা → স্মৃতি

বিড়াল

কমলাকান্ত → ব্যঙ্গ
বিড়াল → ক্ষুধা
ক্ষুধা → অধিকার
সম্পত্তি → মালিকানা
সাম্য → বৈষম্যের বিরোধিতা

বিদ্যাসাগর

বিদ্যার সাগর → জ্ঞান
করুণার সিন্ধু → মানবতা
সনেট → ১৪ পঙ্‌ক্তি
মধুসূদন → কৃতজ্ঞতা

সাম্যবাদী

সাম্য → সমতা
মানুষ → সর্বোচ্চ পরিচয়
কোরান-বেদ-ত্রিপিটক-বাইবেল → ধর্মীয় সম্প্রীতি
বুদ্ধ/আরব-দুলাল → মহাপুরুষ
সাঁওতাল-ভীল-গারো → প্রান্তিক মানুষ

থুরথুরে বুড়ো

বৃষ্টি → কাদা
ডানা → রহস্য
গঞ্জাগা → ধর্মীয় যাচাই
ভিড় → কৌতূহল
টাকা → স্বার্থপরতা
মাকড়সা-মেয়ে → নতুন কৌতূহল
উড়ে যাওয়া → রহস্যের সমাপ্তি নয়, বরং রহস্যের স্থায়িত্ব

চারণ কবি

চারণ → জনসম্পৃক্ত কবি
জনগণ → কবির প্রধান পরিসর
শোষণ → প্রতিবাদের কারণ
প্রতিবাদ → কবিতার শক্তি
মানবমর্যাদা → মূল মূল্যবোধ


ছয়টি পাঠের SUPER MASTER FORMULA

পুঁইমাচা → মানুষ কী চায়, কিন্তু পায় না

বিড়াল → যার ক্ষুধা আছে, তার অধিকারও আছে

বিদ্যাসাগর → বিদ্যার সঙ্গে করুণা না থাকলে মহত্ত্ব পূর্ণ হয় না

সাম্যবাদী → সব পরিচয়ের আগে মানুষ

থুরথুরে বুড়ো → অদ্ভুতকে দেখে মানুষ নিজের স্বভাব প্রকাশ করে

চারণ কবি → মানুষের পক্ষে সত্য বলা কবির দায়


পরীক্ষার আগে শেষবার যা পড়বে

গল্পের ক্ষেত্রে

চরিত্র → ঘটনা → সংঘাত → পরিণতি → প্রতীক → মূল বক্তব্য

কবিতার ক্ষেত্রে

কবি → বিষয় → ভাব → প্রতীক → মূল্যবোধ → কবির অবস্থান → মূল বক্তব্য

প্রবন্ধের ক্ষেত্রে

বক্তা/চরিত্র → প্রসঙ্গ → যুক্তি → ব্যঙ্গ → সামাজিক প্রশ্ন → মূল বক্তব্য

ছয়টি পাঠের শেষ স্মরণ

ক্ষেন্তির পুঁইমাচা স্মৃতির কথা বলে।
বিড়ালের ক্ষুধা অধিকারের কথা বলে।
বিদ্যাসাগরের বিদ্যা ও করুণা মানবতার কথা বলে।
নজরুলের সাম্যবাদী মানুষে মানুষে সমতার কথা বলে।
ডানাওয়ালা বৃদ্ধ মানুষের কৌতূহল ও স্বার্থপরতার মুখোশ খুলে দেয়।
চারণ কবি নিপীড়িত মানুষের হয়ে কথা বলার দায়ের কথা বলে।

ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস

পূর্ণাঙ্গ MCQ প্রশ্ন ও উত্তর


প্রথম পর্ব : বাংলা ভাষা

অধ্যায় ১ : বিশ্বের ভাষা ও ভাষাপরিবার

১–৩০

১। ভাষার প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

(A) ভাষা কেবল লিখিত
(B) ভাষা মানুষের ভাবপ্রকাশের প্রধান মাধ্যম
(C) ভাষা কেবল সাহিত্যসৃষ্টির মাধ্যম
(D) ভাষা কেবল শিক্ষার মাধ্যম

উত্তর : (B) ভাষা মানুষের ভাবপ্রকাশের প্রধান মাধ্যম।


২। পৃথিবীর ভাষাগুলিকে ঐতিহাসিক ও ভাষাতাত্ত্বিক সম্পর্কের ভিত্তিতে যে বৃহৎ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়, তাকে কী বলে?

(A) ভাষাপরিবার
(B) উপভাষা
(C) লিপি
(D) ধ্বনিতন্ত্র

উত্তর : (A) ভাষাপরিবার।


৩। একই উৎসজাত ভাষাগুলির সমষ্টিকে কী বলা হয়?

(A) ভাষাপরিবার
(B) ভাষারীতি
(C) উপভাষা
(D) বর্ণমালা

উত্তর : (A) ভাষাপরিবার।


৪। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবারের অন্তর্গত কোনটি?

(A) বাংলা
(B) তামিল
(C) সাঁওতালি
(D) তিব্বতি

উত্তর : (A) বাংলা।


৫। ইংরেজি কোন ভাষাপরিবারের অন্তর্গত?

(A) দ্রাবিড়
(B) ইন্দো-ইউরোপীয়
(C) অস্ট্রো-এশীয়
(D) চীনা-তিব্বতি

উত্তর : (B) ইন্দো-ইউরোপীয়।


৬। সংস্কৃত কোন বৃহৎ ভাষাপরিবারের অন্তর্গত?

(A) ইন্দো-ইউরোপীয়
(B) দ্রাবিড়
(C) অস্ট্রিক
(D) চীনা-তিব্বতি

উত্তর : (A) ইন্দো-ইউরোপীয়।


৭। গ্রিক ও লাতিন ভাষার সঙ্গে সংস্কৃতের সাদৃশ্যের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয় কার বক্তব্যে?

(A) জর্জ গ্রিয়ার্সন
(B) উইলিয়াম জোন্স
(C) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
(D) সুকুমার সেন

উত্তর : (B) উইলিয়াম জোন্স।


৮। উইলিয়াম জোন্স ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনায় বিশেষভাবে কোন ভাষাগুলির পারস্পরিক সাদৃশ্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন?

(A) বাংলা ও তামিল
(B) সংস্কৃত, গ্রিক ও লাতিন
(C) বাংলা ও আরবি
(D) তামিল ও চীনা

উত্তর : (B) সংস্কৃত, গ্রিক ও লাতিন।


৯। ভাষাপরিবার নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রধান ভিত্তি কী?

(A) ভাষার লিপি
(B) ভাষার ঐতিহাসিক ও ভাষাতাত্ত্বিক সম্পর্ক
(C) ভাষাভাষীর সংখ্যা
(D) ভাষার সাহিত্যভাণ্ডার

উত্তর : (B) ভাষার ঐতিহাসিক ও ভাষাতাত্ত্বিক সম্পর্ক।


১০। কোনটি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত?

(A) জার্মানিক
(B) দ্রাবিড়
(C) অস্ট্রিক
(D) মুণ্ডা

উত্তর : (A) জার্মানিক।


১১। বাংলা ভাষার সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বৃহৎ ভাষাপরিবার কোনটি?

(A) দ্রাবিড়
(B) ইন্দো-ইউরোপীয়
(C) চীনা-তিব্বতি
(D) অস্ট্রো-এশীয়

উত্তর : (B) ইন্দো-ইউরোপীয়।


১২। ভাষার পরিবর্তন প্রধানত কোন প্রক্রিয়ার ফল?

(A) স্থিরতার
(B) সামাজিক ও ঐতিহাসিক ব্যবহারের
(C) কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের
(D) কেবল লিখিত রীতির

উত্তর : (B) সামাজিক ও ঐতিহাসিক ব্যবহারের।


১৩। ভাষার বংশগত সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য কোন পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ?

(A) তুলনামূলক পদ্ধতি
(B) অলংকার পদ্ধতি
(C) ছন্দ পদ্ধতি
(D) নাট্য পদ্ধতি

উত্তর : (A) তুলনামূলক পদ্ধতি।


১৪। তুলনামূলক ভাষাবিজ্ঞান কী নিয়ে আলোচনা করে?

(A) বিভিন্ন ভাষার পারস্পরিক সম্পর্ক
(B) কেবল সাহিত্য
(C) কেবল ব্যাকরণ
(D) কেবল লিপি

উত্তর : (A) বিভিন্ন ভাষার পারস্পরিক সম্পর্ক।


১৫। ‘ভাষাগোষ্ঠী’ বলতে কী বোঝায়?

(A) একই বর্ণমালায় লেখা ভাষা
(B) কোনো বৃহত্তর ভাষাপরিবারের অন্তর্গত সম্পর্কিত ভাষাসমষ্টি
(C) একই অঞ্চলের সব ভাষা
(D) একই সাহিত্যধারার ভাষা

উত্তর : (B) কোনো বৃহত্তর ভাষাপরিবারের অন্তর্গত সম্পর্কিত ভাষাসমষ্টি।


১৬। বাংলা কোন শাখার সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে সম্পর্কিত?

(A) ইন্দো-আর্য
(B) দ্রাবিড়
(C) মুণ্ডা
(D) তিব্বতি-বর্মী

উত্তর : (A) ইন্দো-আর্য।


১৭। হিন্দি কোন বৃহৎ ভাষাপরিবারের অন্তর্গত?

(A) ইন্দো-ইউরোপীয়
(B) অস্ট্রিক
(C) দ্রাবিড়
(D) চীনা-তিব্বতি

উত্তর : (A) ইন্দো-ইউরোপীয়।


১৮। তামিল কোন ভাষাপরিবারের অন্তর্গত?

(A) ইন্দো-ইউরোপীয়
(B) দ্রাবিড়
(C) অস্ট্রিক
(D) চীনা-তিব্বতি

উত্তর : (B) দ্রাবিড়।


১৯। সাঁওতালি ভাষা কোন ভাষাপরিবারের সঙ্গে যুক্ত?

(A) অস্ট্রো-এশীয়
(B) দ্রাবিড়
(C) ইন্দো-ইউরোপীয়
(D) চীনা-তিব্বতি

উত্তর : (A) অস্ট্রো-এশীয়।


২০। তিব্বতি ভাষা কোন বৃহৎ ভাষাপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত?

(A) চীনা-তিব্বতি
(B) দ্রাবিড়
(C) ইন্দো-ইউরোপীয়
(D) অস্ট্রো-এশীয়

উত্তর : (A) চীনা-তিব্বতি।


২১। ভাষার ‘পরিবার’ ধারণাটি কী নির্দেশ করে?

(A) ভৌগোলিক নৈকট্য
(B) ঐতিহাসিক বংশসম্পর্ক
(C) ধর্মীয় সম্পর্ক
(D) রাজনৈতিক সম্পর্ক

উত্তর : (B) ঐতিহাসিক বংশসম্পর্ক।


২২। বাংলা ভাষার সঙ্গে হিন্দি ভাষার সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি কী?

(A) একই লিপি
(B) একই বৃহৎ ভাষাপরিবারের অন্তর্ভুক্তি
(C) একই সাহিত্য
(D) একই অঞ্চল

উত্তর : (B) একই বৃহৎ ভাষাপরিবারের অন্তর্ভুক্তি।


২৩। কোনটি ভাষাপরিবার নয়?

(A) ইন্দো-ইউরোপীয়
(B) দ্রাবিড়
(C) বাংলা
(D) চীনা-তিব্বতি

উত্তর : (C) বাংলা।


২৪। ভাষার বিবর্তন বোঝার জন্য কোন বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ?

(A) ঐতিহাসিক পরিবর্তন
(B) কেবল বানান
(C) কেবল ছন্দ
(D) কেবল অলংকার

উত্তর : (A) ঐতিহাসিক পরিবর্তন।


২৫। একটি ভাষার প্রাচীন রূপ থেকে আধুনিক রূপে পরিবর্তনকে কী বলা যায়?

(A) ভাষার ক্রমবিকাশ
(B) ভাষার বিলোপ
(C) ভাষার অনুবাদ
(D) ভাষার সংক্ষেপণ

উত্তর : (A) ভাষার ক্রমবিকাশ।


২৬। ভাষাপরিবার নির্ণয়ে ধ্বনি ও শব্দের সাদৃশ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

(A) বংশগত সম্পর্কের সূত্র পাওয়া যায়
(B) সাহিত্যিক সৌন্দর্য বোঝা যায়
(C) ছন্দ নির্ণয় করা যায়
(D) অলংকার নির্ণয় করা যায়

উত্তর : (A) বংশগত সম্পর্কের সূত্র পাওয়া যায়।


২৭। ‘Indo-European’ শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ কোনটি?

(A) ইন্দো-ইউরোপীয়
(B) ইন্দো-দ্রাবিড়
(C) ভারতীয়-এশীয়
(D) আর্য-দ্রাবিড়

উত্তর : (A) ইন্দো-ইউরোপীয়।


২৮। বাংলা ভাষার ইতিহাস বুঝতে কোন দুটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ?

(A) ভাষাপরিবার ও ক্রমবিকাশ
(B) ছন্দ ও অলংকার
(C) নাটক ও উপন্যাস
(D) চিত্রকলা ও সংগীত

উত্তর : (A) ভাষাপরিবার ও ক্রমবিকাশ।


২৯। ভাষার বংশগত সম্পর্ক নির্ণয়ে কোনটি তুলনামূলকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য?

(A) কেবল বর্তমান উচ্চারণ
(B) ধ্বনি, শব্দ ও রূপের ঐতিহাসিক তুলনা
(C) কেবল লিপি
(D) কেবল সাহিত্য

উত্তর : (B) ধ্বনি, শব্দ ও রূপের ঐতিহাসিক তুলনা।


৩০। বাংলা ভাষার ইতিহাস কোন বৃহত্তর ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত?

(A) ভারতীয় আর্যভাষার ইতিহাস
(B) কেবল ইউরোপীয় ভাষার ইতিহাস
(C) কেবল দ্রাবিড় ভাষার ইতিহাস
(D) কেবল আরবি ভাষার ইতিহাস

উত্তর : (A) ভারতীয় আর্যভাষার ইতিহাস।


অধ্যায় ২ : বাংলা ভাষার উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ

৩১–৬০

৩১। বাংলা ভাষা কোন ভাষাপরিবারের অন্তর্গত?

(A) দ্রাবিড়
(B) ইন্দো-ইউরোপীয়
(C) চীনা-তিব্বতি
(D) অস্ট্রো-এশীয়

উত্তর : (B) ইন্দো-ইউরোপীয়।


৩২। বাংলা ভাষার প্রত্যক্ষ বিকাশের ধারায় কোন ভাষাস্তরগুলি গুরুত্বপূর্ণ?

(A) প্রাকৃত ও অপভ্রংশ
(B) আরবি ও ফারসি
(C) গ্রিক ও লাতিন
(D) তামিল ও তেলুগু

উত্তর : (A) প্রাকৃত ও অপভ্রংশ।


৩৩। বাংলা ভাষার বিকাশের সঙ্গে কোন প্রাকৃতের সম্পর্ক বিশেষভাবে আলোচিত?

(A) মাগধী প্রাকৃত
(B) মহারাষ্ট্রী প্রাকৃত
(C) শৌরসেনী প্রাকৃত
(D) পৈশাচী প্রাকৃত

উত্তর : (A) মাগধী প্রাকৃত।


৩৪। প্রাকৃতের পরবর্তী পরিবর্তিত ভাষারূপকে সাধারণভাবে কী বলা হয়?

(A) অপভ্রংশ
(B) সংস্কৃত
(C) পালি
(D) ব্রজবুলি

উত্তর : (A) অপভ্রংশ।


৩৫। বাংলা ভাষার ক্রমবিকাশ বোঝার ক্ষেত্রে কোন ধারাটি গুরুত্বপূর্ণ?

(A) সংস্কৃত → প্রাকৃত → অপভ্রংশ → বাংলা
(B) বাংলা → সংস্কৃত → অপভ্রংশ
(C) ফারসি → বাংলা → সংস্কৃত
(D) পালি → আরবি → বাংলা

উত্তর : (A) সংস্কৃত → প্রাকৃত → অপভ্রংশ → বাংলা।


৩৬। বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে কোনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ?

(A) চর্যাপদ
(B) মঙ্গলকাব্য
(C) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
(D) বৈষ্ণব পদাবলি

উত্তর : (A) চর্যাপদ।


৩৭। চর্যাপদের ভাষা বাংলা ভাষার কোন পর্যায়ের পরিচয় বহন করে?

(A) প্রাচীন পর্যায়
(B) আধুনিক পর্যায়
(C) উত্তর-আধুনিক পর্যায়
(D) চলিত পর্যায়

উত্তর : (A) প্রাচীন পর্যায়।


৩৮। বাংলা ভাষার ক্রমবিকাশের একটি পর্যায় কোনটি?

(A) প্রাচীন বাংলা
(B) আধুনিক হিন্দি
(C) প্রাচীন তামিল
(D) মধ্য-ফারসি

উত্তর : (A) প্রাচীন বাংলা।


৩৯। বাংলা ভাষার ইতিহাসে মধ্যবাংলা পর্যায়ের সঙ্গে কোন সাহিত্যধারা বিশেষভাবে যুক্ত?

(A) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্য
(B) আধুনিক উপন্যাস
(C) রবীন্দ্রসাহিত্য
(D) আধুনিক নাটক

উত্তর : (A) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্য।


৪০। বাংলা ভাষার আধুনিক পর্যায়ের সঙ্গে কোনটি যুক্ত?

(A) চলিত রীতির বিকাশ
(B) চর্যার ভাষা
(C) কেবল সংস্কৃত
(D) কেবল পালি

উত্তর : (A) চলিত রীতির বিকাশ।


৪১। বাংলা ভাষার বিবর্তনে আরবি-ফারসি শব্দের প্রবেশের একটি প্রধান কারণ কী?

(A) ঐতিহাসিক ও সামাজিক যোগাযোগ
(B) কেবল কবিতার ছন্দ
(C) কেবল সংস্কৃত শিক্ষা
(D) কেবল ইউরোপীয় প্রভাব

উত্তর : (A) ঐতিহাসিক ও সামাজিক যোগাযোগ।


৪২। বাংলা ভাষায় বিদেশি শব্দের গ্রহণ কী প্রমাণ করে?

(A) ভাষা সম্পূর্ণ অপরিবর্তনীয়
(B) ভাষা সমাজ ও ইতিহাসের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়
(C) বাংলা একটি বিদেশি ভাষা
(D) বাংলা কেবল সংস্কৃতনির্ভর

উত্তর : (B) ভাষা সমাজ ও ইতিহাসের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়।


৪৩। বাংলা ভাষার ইতিহাসে ‘অপভ্রংশ’ কী?

(A) প্রাকৃতের পরিবর্তিত পরবর্তী রূপ
(B) আধুনিক বাংলা
(C) একটি লিপি
(D) একটি উপভাষা

উত্তর : (A) প্রাকৃতের পরিবর্তিত পরবর্তী রূপ।


৪৪। বাংলা ভাষার প্রাচীনতম সাহিত্যিক নিদর্শন কোনটি?

(A) চর্যাপদ
(B) পদ্মাবতী
(C) মনসামঙ্গল
(D) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

উত্তর : (A) চর্যাপদ।


৪৫। বাংলা ভাষার ইতিহাসে চর্যাপদের গুরুত্ব কী?

(A) ভাষার প্রাচীন রূপের সাক্ষ্য
(B) আধুনিক চলিত ভাষার নমুনা
(C) মঙ্গলকাব্যের প্রথম নিদর্শন
(D) বৈষ্ণব সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন

উত্তর : (A) ভাষার প্রাচীন রূপের সাক্ষ্য।


৪৬। বাংলা ভাষার পরিবর্তনে কোন উপাদান গুরুত্বপূর্ণ?

(A) সামাজিক ব্যবহার
(B) কেবল অভিধান
(C) কেবল ব্যাকরণ
(D) কেবল রাজনীতি

উত্তর : (A) সামাজিক ব্যবহার।


৪৭। বাংলা ভাষার উদ্ভবের আলোচনায় ‘ইন্দো-আর্য’ বলতে কী বোঝায়?

(A) ইন্দো-ইউরোপীয় পরিবারের একটি শাখা
(B) দ্রাবিড় পরিবারের শাখা
(C) চীনা-তিব্বতি শাখা
(D) অস্ট্রিক শাখা

উত্তর : (A) ইন্দো-ইউরোপীয় পরিবারের একটি শাখা।


৪৮। বাংলা ভাষার সঙ্গে অসমীয়া ও ওড়িয়া ভাষার সম্পর্ক কী?

(A) ঐতিহাসিকভাবে পূর্বভারতীয় আর্যভাষার সম্পর্ক রয়েছে
(B) সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন
(C) কেবল লিপিগত সম্পর্ক
(D) কেবল রাজনৈতিক সম্পর্ক

উত্তর : (A) ঐতিহাসিকভাবে পূর্বভারতীয় আর্যভাষার সম্পর্ক রয়েছে।


৪৯। ভাষার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ধ্বনি পরিবর্তন বলতে কী বোঝায়?

(A) উচ্চারণের পরিবর্তন
(B) অর্থের পরিবর্তন মাত্র
(C) বাক্যের দৈর্ঘ্য পরিবর্তন
(D) লিপির রং পরিবর্তন

উত্তর : (A) উচ্চারণের পরিবর্তন।


৫০। শব্দের অর্থের পরিবর্তন কোনটির উদাহরণ?

(A) অর্থবিকাশ
(B) ধ্বনিবিকাশ
(C) লিপিবিকাশ
(D) ছন্দবিকাশ

উত্তর : (A) অর্থবিকাশ।


৫১। বাংলা ভাষার বিবর্তন কোন ধরনের প্রক্রিয়া?

(A) দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া
(B) একদিনের ঘটনা
(C) কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত
(D) কেবল সাহিত্যিক সিদ্ধান্ত

উত্তর : (A) দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া।


৫২। বাংলা ভাষার বিকাশে কোনটি একটি উৎসগত স্তর হিসেবে আলোচিত?

(A) মাগধী প্রাকৃত
(B) লাতিন
(C) গ্রিক
(D) তামিল

উত্তর : (A) মাগধী প্রাকৃত।


৫৩। বাংলা ভাষার ইতিহাসে ‘প্রাচীন বাংলা’ ও ‘মধ্যবাংলা’ কী নির্দেশ করে?

(A) ভাষার ক্রমবিকাশের পর্যায়
(B) দুটি আলাদা ভাষাপরিবার
(C) দুটি লিপি
(D) দুটি সাহিত্যিক মতবাদ

উত্তর : (A) ভাষার ক্রমবিকাশের পর্যায়।


৫৪। ভাষার ক্রমবিকাশে ‘আধুনিক বাংলা’ কোন পর্যায়?

(A) পরবর্তী পর্যায়
(B) প্রাচীনতম পর্যায়
(C) প্রাকৃত পর্যায়
(D) অপভ্রংশ পর্যায়

উত্তর : (A) পরবর্তী পর্যায়।


৫৫। বাংলা ভাষার বিকাশের ধারায় চর্যাপদ কোন অবস্থানে?

(A) প্রাচীনতম সাহিত্যিক নিদর্শনের পর্যায়ে
(B) আধুনিক পর্যায়ে
(C) ঔপনিবেশিক পর্যায়ে
(D) উত্তর-আধুনিক পর্যায়ে

উত্তর : (A) প্রাচীনতম সাহিত্যিক নিদর্শনের পর্যায়ে।


৫৬। বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দের উৎস প্রধানত কী?

(A) সংস্কৃত
(B) আরবি
(C) ফারসি
(D) পর্তুগিজ

উত্তর : (A) সংস্কৃত।


৫৭। বাংলা ভাষায় বিদেশি শব্দের উপস্থিতি ভাষার কোন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে?

(A) গ্রহণক্ষমতা
(B) স্থবিরতা
(C) বিচ্ছিন্নতা
(D) বিলুপ্তি

উত্তর : (A) গ্রহণক্ষমতা।


৫৮। ভাষার ইতিহাসে ‘বিবর্তন’ বলতে কী বোঝায়?

(A) সময়ের সঙ্গে ভাষার পরিবর্তন
(B) ভাষার বিলোপ
(C) ভাষার অনুবাদ
(D) ভাষার কেবল লিখিত রূপ

উত্তর : (A) সময়ের সঙ্গে ভাষার পরিবর্তন।


৫৯। বাংলা ভাষার ইতিহাসে কোনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্র?

(A) ধ্বনি, রূপ, শব্দ ও বাক্যগঠন
(B) কেবল ছন্দ
(C) কেবল অলংকার
(D) কেবল নাট্যরীতি

উত্তর : (A) ধ্বনি, রূপ, শব্দ ও বাক্যগঠন।


৬০। বাংলা ভাষার ক্রমবিকাশকে সবচেয়ে যথাযথভাবে কীভাবে দেখা যায়?

(A) ধারাবাহিক ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে
(B) হঠাৎ সৃষ্ট ভাষা হিসেবে
(C) কেবল সংস্কৃতের অনুলিপি হিসেবে
(D) কেবল বিদেশি ভাষার ফল হিসেবে

উত্তর : (A) ধারাবাহিক ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে।


অধ্যায় ৩ : ভারতে প্রচলিত ভাষাপরিবার

৬১–৮৫

৬১। ভারতকে ভাষাবৈচিত্র্যের দিক থেকে কী বলা হয়?

(A) ভাষাতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যের দেশ
(B) একভাষিক দেশ
(C) একলিপির দেশ
(D) একভাষাপরিবারের দেশ

উত্তর : (A) ভাষাতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যের দেশ।


৬২। ভারতে প্রচলিত ভাষাগুলিকে সাধারণভাবে কয়টি প্রধান ভাষাপরিবারে ভাগ করা হয়?

(A) দুই
(B) তিন
(C) চার
(D) ছয়

উত্তর : (C) চার।


৬৩। ভারতের প্রধান ভাষাপরিবারগুলির মধ্যে কোনটি রয়েছে?

(A) ইন্দো-ইউরোপীয়
(B) লাতিন
(C) গ্রিক
(D) রোমান্স

উত্তর : (A) ইন্দো-ইউরোপীয়।


৬৪। ভারতের প্রধান ভাষাপরিবারগুলির একটি হল—

(A) দ্রাবিড়
(B) জার্মানিক
(C) রোমান্স
(D) স্লাভিক

উত্তর : (A) দ্রাবিড়।


৬৫। ভারতের প্রধান ভাষাপরিবারগুলির একটি হল—

(A) অস্ট্রো-এশীয়
(B) কেল্টিক
(C) জার্মানিক
(D) ইটালিক

উত্তর : (A) অস্ট্রো-এশীয়।


৬৬। ভারতের প্রধান ভাষাপরিবারগুলির একটি হল—

(A) চীনা-তিব্বতি
(B) লাতিন
(C) গ্রিক
(D) কেল্টিক

উত্তর : (A) চীনা-তিব্বতি।


৬৭। ‘Linguistic Survey of India’-র সঙ্গে কার নাম বিশেষভাবে যুক্ত?

(A) জর্জ গ্রিয়ার্সন
(B) উইলিয়াম জোন্স
(C) সুকুমার সেন
(D) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

উত্তর : (A) জর্জ গ্রিয়ার্সন।


৬৮। Linguistic Survey of India প্রকাশের সময়কাল কোনটি?

(A) ১৮৫৭–১৮৭০
(B) ১৯০৩–১৯২৮
(C) ১৯৪৭–১৯৫০
(D) ১৯৬১–১৯৭১

উত্তর : (B) ১৯০৩–১৯২৮।


৬৯। Linguistic Survey of India-এর মূল সম্পাদক কে ছিলেন?

(A) জর্জ গ্রিয়ার্সন
(B) সুকুমার সেন
(C) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
(D) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

উত্তর : (A) জর্জ গ্রিয়ার্সন।


৭০। দ্রাবিড় ভাষাপরিবারের একটি প্রধান ভাষা কোনটি?

(A) তামিল
(B) বাংলা
(C) অসমীয়া
(D) হিন্দি

উত্তর : (A) তামিল।


৭১। তেলুগু কোন ভাষাপরিবারের অন্তর্গত?

(A) দ্রাবিড়
(B) ইন্দো-ইউরোপীয়
(C) অস্ট্রো-এশীয়
(D) চীনা-তিব্বতি

উত্তর : (A) দ্রাবিড়।


৭২। কন্নড় কোন ভাষাপরিবারের অন্তর্গত?

(A) দ্রাবিড়
(B) অস্ট্রিক
(C) ইন্দো-ইউরোপীয়
(D) চীনা-তিব্বতি

উত্তর : (A) দ্রাবিড়।


৭৩। মালয়ালম কোন ভাষাপরিবারের অন্তর্গত?

(A) দ্রাবিড়
(B) ইন্দো-ইউরোপীয়
(C) অস্ট্রো-এশীয়
(D) চীনা-তিব্বতি

উত্তর : (A) দ্রাবিড়।


৭৪। সাঁওতালি কোন ভাষাপরিবারের সঙ্গে যুক্ত?

(A) অস্ট্রো-এশীয়
(B) দ্রাবিড়
(C) ইন্দো-ইউরোপীয়
(D) চীনা-তিব্বতি

উত্তর : (A) অস্ট্রো-এশীয়।


৭৫। মুণ্ডা ভাষাগুলির সঙ্গে কোন ভাষাপরিবারের সম্পর্ক রয়েছে?

(A) অস্ট্রো-এশীয়
(B) দ্রাবিড়
(C) ইন্দো-ইউরোপীয়
(D) চীনা-তিব্বতি

উত্তর : (A) অস্ট্রো-এশীয়।


৭৬। উত্তর-পূর্ব ভারতের বহু ভাষার সঙ্গে কোন ভাষাপরিবারের সম্পর্ক রয়েছে?

(A) চীনা-তিব্বতি
(B) দ্রাবিড়
(C) ইন্দো-ইউরোপীয়
(D) অস্ট্রো-এশীয়

উত্তর : (A) চীনা-তিব্বতি।


৭৭। বাংলা কোন ভারতীয় ভাষাপরিবারের শাখার অন্তর্গত?

(A) ইন্দো-আর্য
(B) দ্রাবিড়
(C) মুণ্ডা
(D) তিব্বতি-বর্মী

উত্তর : (A) ইন্দো-আর্য।


৭৮। হিন্দি কোন শাখার অন্তর্গত?

(A) ইন্দো-আর্য
(B) দ্রাবিড়
(C) মুণ্ডা
(D) তিব্বতি-বর্মী

উত্তর : (A) ইন্দো-আর্য।


৭৯। অসমীয়া ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার কী সম্পর্ক?

(A) পূর্বভারতীয় আর্যভাষাগত সম্পর্ক
(B) দ্রাবিড় সম্পর্ক
(C) মুণ্ডা সম্পর্ক
(D) চীনা সম্পর্ক

উত্তর : (A) পূর্বভারতীয় আর্যভাষাগত সম্পর্ক।


৮০। ওড়িয়া কোন বৃহত্তর ভাষাপরিবারের অন্তর্গত?

(A) ইন্দো-ইউরোপীয়
(B) দ্রাবিড়
(C) অস্ট্রো-এশীয়
(D) চীনা-তিব্বতি

উত্তর : (A) ইন্দো-ইউরোপীয়।


৮১। ভাষাপরিবারের বৈচিত্র্য কী নির্দেশ করে?

(A) ভারতের ভাষাতাত্ত্বিক বৈচিত্র্য
(B) ভারতের একভাষিকতা
(C) কেবল সাহিত্যিক বৈচিত্র্য
(D) কেবল লিপির বৈচিত্র্য

উত্তর : (A) ভারতের ভাষাতাত্ত্বিক বৈচিত্র্য।


৮২। ‘ভাষাবংশ’ ও ‘ভাষাপরিবার’ ধারণা মূলত কী নির্দেশ করে?

(A) ভাষার ঐতিহাসিক সম্পর্ক
(B) ভাষার আকার
(C) ভাষার লিপি
(D) ভাষার সাহিত্য

উত্তর : (A) ভাষার ঐতিহাসিক সম্পর্ক।


৮৩। ভারতের ভাষাপরিবারের বৈচিত্র্যের একটি ফল কী?

(A) বহু ভাষার সহাবস্থান
(B) সব ভাষার বিলোপ
(C) একটি ভাষার আধিপত্য মাত্র
(D) ভাষার পরিবর্তন বন্ধ হওয়া

উত্তর : (A) বহু ভাষার সহাবস্থান।


৮৪। Linguistic Survey of India-এর গুরুত্ব কী?

(A) ভারতের ভাষাগুলির বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা
(B) কেবল সাহিত্য সমীক্ষা
(C) কেবল লোকসংস্কৃতি সমীক্ষা
(D) কেবল লিপি সমীক্ষা

উত্তর : (A) ভারতের ভাষাগুলির বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা।


৮৫। ভারতে ভাষাবৈচিত্র্যের প্রধান কারণগুলির মধ্যে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ?

(A) দীর্ঘ ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য
(B) কেবল ঔপনিবেশিক শাসন
(C) কেবল আধুনিক শিক্ষা
(D) কেবল ধর্মীয় বিভাজন

উত্তর : (A) দীর্ঘ ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য।


অধ্যায় ৪ : বাংলা ভাষার বৈচিত্র্য

৮৬–১১০

৮৬। একই ভাষার অঞ্চলভেদে ব্যবহৃত ভিন্ন রূপকে কী বলা হয়?

(A) উপভাষা
(B) বর্ণমালা
(C) লিপি
(D) পরিভাষা

উত্তর : (A) উপভাষা।


৮৭। বাংলা ভাষার আঞ্চলিক বৈচিত্রের একটি প্রধান কারণ কী?

(A) ভৌগোলিক ও সামাজিক পার্থক্য
(B) কেবল সাহিত্য
(C) কেবল শিক্ষা
(D) কেবল মুদ্রণ

উত্তর : (A) ভৌগোলিক ও সামাজিক পার্থক্য।


৮৮। রাঢ়ী কোনটির উদাহরণ?

(A) বাংলা উপভাষা
(B) বাংলা লিপি
(C) বাংলা ছন্দ
(D) বাংলা কাব্য

উত্তর : (A) বাংলা উপভাষা।


৮৯। বরেন্দ্রী কী?

(A) বাংলা ভাষার আঞ্চলিক রূপ
(B) বাংলা সাহিত্যের যুগ
(C) বাংলা লিপির নাম
(D) বাংলা ছন্দের নাম

উত্তর : (A) বাংলা ভাষার আঞ্চলিক রূপ।


৯০। ঝাড়খণ্ডী কী নির্দেশ করে?

(A) বাংলা উপভাষার একটি আঞ্চলিক রূপ
(B) একটি সাহিত্যধারা
(C) একটি লিপি
(D) একটি কাব্য

উত্তর : (A) বাংলা উপভাষার একটি আঞ্চলিক রূপ।


৯১। উপভাষার সৃষ্টি হয় প্রধানত—

(A) অঞ্চল, সমাজ ও ইতিহাসের বৈচিত্র্যের ফলে
(B) কেবল বিদ্যালয়ের কারণে
(C) কেবল অভিধানের কারণে
(D) কেবল মুদ্রণের কারণে

উত্তর : (A) অঞ্চল, সমাজ ও ইতিহাসের বৈচিত্র্যের ফলে।


৯২। ভাষা ও উপভাষার সম্পর্ক কেমন?

(A) উপভাষা ভাষার আঞ্চলিক/সামাজিক রূপ
(B) সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন
(C) উপভাষা বিদেশি ভাষা
(D) ভাষা উপভাষার বিপরীত

উত্তর : (A) উপভাষা ভাষার আঞ্চলিক/সামাজিক রূপ।


৯৩। চলিত ভাষা কী?

(A) আধুনিক বাংলা ব্যবহারের একটি মান্য রূপ
(B) একটি প্রাচীন ভাষা
(C) একটি বিদেশি ভাষা
(D) একটি উপভাষা মাত্র

উত্তর : (A) আধুনিক বাংলা ব্যবহারের একটি মান্য রূপ।


৯৪। সাধুভাষার সঙ্গে চলিতভাষার প্রধান পার্থক্য কোথায়?

(A) রূপ ও ব্যবহাররীতিতে
(B) ভাষাপরিবারে
(C) ভাষার উৎসে
(D) বর্ণমালায়

উত্তর : (A) রূপ ও ব্যবহাররীতিতে।


৯৫। বাংলা ভাষার বৈচিত্র বোঝার ক্ষেত্রে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ?

(A) আঞ্চলিক ও সামাজিক ভাষারূপ
(B) কেবল বানান
(C) কেবল কবিতা
(D) কেবল গদ্য

উত্তর : (A) আঞ্চলিক ও সামাজিক ভাষারূপ।


৯৬। উপভাষা ভাষার কোন দিকটি প্রকাশ করে?

(A) আঞ্চলিক ও সামাজিক বৈচিত্র্য
(B) কেবল লিখিত রূপ
(C) কেবল সাহিত্যিক রূপ
(D) কেবল প্রাচীন রূপ

উত্তর : (A) আঞ্চলিক ও সামাজিক বৈচিত্র।


৯৭। ভাষার সামাজিক বৈচিত্রের সঙ্গে কোন বিষয়টি সম্পর্কিত?

(A) শ্রেণি, পেশা ও সামাজিক গোষ্ঠী
(B) কেবল অঞ্চল
(C) কেবল নদী
(D) কেবল পাহাড়

উত্তর : (A) শ্রেণি, পেশা ও সামাজিক গোষ্ঠী।


৯৮। একই ভাষার বিভিন্ন রূপের মধ্যে কী থাকতে পারে?

(A) উচ্চারণ, শব্দ ও বাক্যগঠনের পার্থক্য
(B) কেবল লিপির পার্থক্য
(C) কেবল সাহিত্যিক পার্থক্য
(D) কোনো পার্থক্য নয়

উত্তর : (A) উচ্চারণ, শব্দ ও বাক্যগঠনের পার্থক্য।


৯৯। বাংলা ভাষা বৈচিত্র্যর একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র—

(A) আঞ্চলিক বৈচিত্র্য
(B) কেবল বিদেশি বৈচিত্র্য
(C) কেবল প্রাচীন বৈচিত্র্য
(D) কেবল ছন্দগত বৈচিত্র্য

উত্তর : (A) আঞ্চলিক বৈচিত্র্য।


১০০। ভাষার আঞ্চলিক রূপ গবেষণার ক্ষেত্রে কোন শাস্ত্র বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ?

(A) উপভাষাবিজ্ঞান
(B) অলংকারশাস্ত্র
(C) ছন্দশাস্ত্র
(D) নাট্যশাস্ত্র

উত্তর : (A) উপভাষাবিজ্ঞান।


১০১। ভাষার সামাজিক ব্যবহার কী সৃষ্টি করতে পারে?

(A) সামাজিক ভাষারূপ
(B) নতুন লিপি মাত্র
(C) নতুন বর্ণমালা মাত্র
(D) কেবল নতুন সাহিত্য

উত্তর : (A) সামাজিক ভাষারূপ।


১০২। ভাষার বৈচিত্রকে কীভাবে দেখা উচিত?

(A) ভাষার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে
(B) ভাষার দুর্বলতা হিসেবে
(C) ভাষার বিলোপ হিসেবে
(D) ভাষার ভুল হিসেবে

উত্তর : (A) ভাষার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে।


১০৩। উপভাষা সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সঠিক?

(A) উপভাষা ভাষার জীবন্ত বৈচিত্র্যের প্রকাশ
(B) উপভাষা ভুল ভাষা
(C) উপভাষা ভাষার শত্রু
(D) উপভাষা বিদেশি ভাষা

উত্তর : (A) উপভাষা ভাষার জীবন্ত বৈচিত্র্যের প্রকাশ।


১০৪। বাংলা ভাষার আঞ্চলিক রূপের পার্থক্য প্রধানত কোন স্তরে দেখা যায়?

(A) ধ্বনি, শব্দ ও বাক্যগঠনে
(B) কেবল বর্ণমালায়
(C) কেবল সাহিত্যে
(D) কেবল ছন্দে

উত্তর : (A) ধ্বনি, শব্দ ও বাক্যগঠনে।


১০৫। ভাষার পরিবর্তন ও বৈচিত্রের সঙ্গে কোনটি সম্পর্কিত?

(A) সমাজ
(B) কেবল অভিধান
(C) কেবল বিদ্যালয়
(D) কেবল মুদ্রণ

উত্তর : (A) সমাজ।


১০৬। ‘রাঢ়ী’ ও ‘বরেন্দ্রী’ নাম দুটি কোন বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত?

(A) বাংলা উপভাষা
(B) বাংলা কবিতা
(C) বাংলা লিপি
(D) বাংলা ছন্দ

উত্তর : (A) বাংলা উপভাষা।


১০৭। বাংলা ভাষার বৈচিত্রের ফলে কী তৈরি হয়?

(A) বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষারূপ
(B) ভাষার সম্পূর্ণ বিলোপ
(C) ভাষার পরিবার পরিবর্তন
(D) ভাষার লিপি বিলোপ

উত্তর : (A) বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষারূপ।


১০৮। ভাষার মান্য রূপের পাশাপাশি আঞ্চলিক রূপের অস্তিত্ব কী প্রমাণ করে?

(A) ভাষার বহুরূপিতা
(B) ভাষার দুর্বলতা
(C) ভাষার বিলোপ
(D) ভাষার স্থবিরতা

উত্তর : (A) ভাষার বহুরূপিতা।


১০৯। ভাষার বৈচিত্রের প্রধান সম্পদ কী?

(A) সাংস্কৃতিক বৈচিত্র
(B) কেবল বানান
(C) কেবল সাহিত্য
(D) কেবল ব্যাকরণ

উত্তর : (A) সাংস্কৃতিক বৈচিত্র।


১১০। বাংলা ভাষার বৈচিত্র অধ্যয়নের মূল উদ্দেশ্য কী?

(A) ভাষার বিভিন্ন ব্যবহাররূপ বোঝা
(B) উপভাষা বিলোপ করা
(C) একটি মাত্র রূপ চাপিয়ে দেওয়া
(D) ভাষার ইতিহাস অস্বীকার করা

উত্তর : (A) ভাষার বিভিন্ন ব্যবহাররূপ বোঝা।


দ্বিতীয় পর্ব : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস

অধ্যায় ৫ : প্রাচীন বাংলা সমাজ ও সাহিত্য

১১১–১৪০

১১১। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে কোনটি স্বীকৃত?

(A) চর্যাপদ
(B) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
(C) মঙ্গলকাব্য
(D) বৈষ্ণব পদাবলি

উত্তর : (A) চর্যাপদ।


১১২। চর্যাপদ কী ধরনের রচনা?

(A) বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের গীতিপদ
(B) মঙ্গলকাব্য
(C) বৈষ্ণব পদাবলি
(D) অনুবাদ কাব্য

উত্তর : (A) বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের গীতিপদ।


১১৩। চর্যাপদের কবিদের কী বলা হয়?

(A) সিদ্ধাচার্য
(B) বৈষ্ণব কবি
(C) মঙ্গলকবি
(D) চারণ কবি

উত্তর : (A) সিদ্ধাচার্য।


১১৪। চর্যাপদের ভাষাকে সাধারণত কী বলা হয়?

(A) সন্ধ্যাভাষা
(B) সাধুভাষা
(C) চলিতভাষা
(D) ব্রজবুলি

উত্তর : (A) সন্ধ্যাভাষা।


১১৫। চর্যাপদ আবিষ্কারের সঙ্গে কার নাম বিশেষভাবে যুক্ত?

(A) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
(B) বসন্তরঞ্জন রায়
(C) দীনেশচন্দ্র সেন
(D) সুকুমার সেন

উত্তর : (A) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।


১১৬। চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় কোথায় সংরক্ষিত পুঁথি থেকে?

(A) নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার
(B) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
(C) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
(D) এশিয়াটিক সোসাইটি

উত্তর : (A) নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার।


১১৭। চর্যাপদ আবিষ্কারের সাল—

(A) ১৯০৭
(B) ১৯১৬
(C) ১৮৯১
(D) ১৯২১

উত্তর : (A) ১৯০৭।


১১৮। চর্যাপদের রচয়িতারা কোন ধর্মীয় সাধনধারার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?

(A) বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনা
(B) শাক্ত সাধনা
(C) বৈষ্ণব সাধনা
(D) সুফি সাধনা

উত্তর : (A) বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনা।


১১৯। চর্যাপদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য কী?

(A) গুপ্তার্থপূর্ণ প্রতীকী ভাষা
(B) সরল আধুনিক গদ্য
(C) ঐতিহাসিক কাহিনি
(D) নাট্যরীতি

উত্তর : (A) গুপ্তার্থপূর্ণ প্রতীকী ভাষা।


১২০। চর্যাপদে কোন জীবনের প্রতিফলন পাওয়া যায়?

(A) সমকালীন সমাজজীবনের নানা উপাদান
(B) কেবল রাজজীবন
(C) কেবল যুদ্ধ
(D) কেবল নগরজীবন

উত্তর : (A) সমকালীন সমাজজীবনের নানা উপাদান।


১২১। চর্যাপদের ভাষা বাংলা ভাষার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ কেন?

(A) প্রাচীন বাংলা ভাষার বিকাশের পরিচয় দেয়
(B) আধুনিক চলিত ভাষার নমুনা
(C) কেবল সংস্কৃতের নমুনা
(D) কেবল ফারসির নমুনা

উত্তর : (A) প্রাচীন বাংলা ভাষার বিকাশের পরিচয় দেয়।


১২২। চর্যাপদের পদগুলি প্রধানত কী ধরনের?

(A) গীতিপদ
(B) নাটক
(C) উপন্যাস
(D) প্রবন্ধ

উত্তর : (A) গীতিপদ।


১২৩। চর্যাপদের কবিরা কী উদ্দেশ্যে গুপ্তার্থপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করতেন?

(A) সাধনতত্ত্বকে প্রতীকীভাবে প্রকাশ করতে
(B) রাজাদের প্রশংসা করতে
(C) ইতিহাস লিখতে
(D) যুদ্ধের বিবরণ দিতে

উত্তর : (A) সাধনতত্ত্বকে প্রতীকীভাবে প্রকাশ করতে।


১২৪। চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কোন যুগের সঙ্গে যুক্ত?

(A) প্রাচীন যুগ
(B) আধুনিক যুগ
(C) ঔপনিবেশিক যুগ
(D) উত্তর-আধুনিক যুগ

উত্তর : (A) প্রাচীন যুগ।


১২৫। প্রাচীন বাংলা সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রবণতা কী ছিল?

(A) বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনা
(B) কেবল সুফিবাদ
(C) কেবল খ্রিস্টধর্ম
(D) কেবল আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষতা

উত্তর : (A) বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনা।


১২৬। পাল যুগের সঙ্গে কোন ধর্মীয় সংস্কৃতির সম্পর্ক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য?

(A) বৌদ্ধধর্ম
(B) খ্রিস্টধর্ম
(C) ইসলাম
(D) শিখধর্ম

উত্তর : (A) বৌদ্ধধর্ম।


১২৭। সেন যুগের সঙ্গে কোন সাংস্কৃতিক প্রবণতার সম্পর্ক বিশেষভাবে আলোচিত?

(A) ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতি
(B) বৌদ্ধ সহজিয়া
(C) সুফি সংস্কৃতি
(D) ইউরোপীয় রেনেসাঁ

উত্তর : (A) ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতি।


১২৮। চর্যাপদের বিষয়বস্তুর মধ্যে কী পাওয়া যায়?

(A) সাধনতত্ত্ব ও প্রতীকী জীবনচিত্র
(B) কেবল রাজনীতি
(C) কেবল যুদ্ধ
(D) কেবল প্রেমকাহিনি

উত্তর : (A) সাধনতত্ত্ব ও প্রতীকী জীবনচিত্র।


১২৯। চর্যাপদ আবিষ্কারের ফলে কী প্রমাণিত হয়?

(A) বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীন ঐতিহ্য
(B) বাংলা সাহিত্যের আধুনিক সূচনা
(C) বাংলা কেবল সংস্কৃত থেকে অনূদিত
(D) বাংলা বিদেশি ভাষা

উত্তর : (A) বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীন ঐতিহ্য।


১৩০। চর্যাপদের সঙ্গে কোনটি সবচেয়ে বেশি সম্পর্কিত?

(A) সিদ্ধাচার্য
(B) মঙ্গলকবি
(C) বৈষ্ণব কবি
(D) মুসলমান কবি

উত্তর : (A) সিদ্ধাচার্য।


১৩১। চর্যাপদের ভাষা গবেষণায় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

(A) ভাষার প্রাচীন রূপ ও পরিবর্তনের সূত্র পাওয়া যায়
(B) কেবল ছন্দ জানা যায়
(C) কেবল অলংকার জানা যায়
(D) কেবল ইতিহাস জানা যায়

উত্তর : (A) ভাষার প্রাচীন রূপ ও পরিবর্তনের সূত্র পাওয়া যায়।


১৩২। চর্যাপদের সমাজচিত্রে কোন ধরনের মানুষ ও জীবনের উল্লেখ পাওয়া যায়?

(A) বিভিন্ন পেশা ও সাধারণ মানুষের জীবন
(B) কেবল রাজা
(C) কেবল পুরোহিত
(D) কেবল সৈনিক

উত্তর : (A) বিভিন্ন পেশা ও সাধারণ মানুষের জীবন।


১৩৩। চর্যাপদের ভাষায় কোন বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়?

(A) সাংকেতিকতা
(B) আধুনিক চলিত রীতি
(C) ইংরেজি শব্দপ্রাচুর্য
(D) ফারসি গদ্যরীতি

উত্তর : (A) সাংকেতিকতা।


১৩৪। ‘সন্ধ্যাভাষা’ বলতে কী বোঝায়?

(A) আভাসপূর্ণ ও প্রতীকী ভাষা
(B) সন্ধ্যার সময়ের ভাষা
(C) রাজদরবারের ভাষা
(D) বিদেশি ভাষা

উত্তর : (A) আভাসপূর্ণ ও প্রতীকী ভাষা।


১৩৫। চর্যাপদকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কী বলা যায়?

(A) প্রাচীনতম সাহিত্যিক নিদর্শন
(B) প্রথম উপন্যাস
(C) প্রথম নাটক
(D) প্রথম প্রবন্ধ

উত্তর : (A) প্রাচীনতম সাহিত্যিক নিদর্শন।


১৩৬। চর্যাপদের আবিষ্কারক হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কোন ক্ষেত্রে বিশেষভাবে পরিচিত?

(A) প্রাচীন বাংলা পুঁথি অনুসন্ধান
(B) আধুনিক নাটক
(C) রবীন্দ্রসঙ্গীত
(D) উপন্যাস রচনা

উত্তর : (A) প্রাচীন বাংলা পুঁথি অনুসন্ধান।


১৩৭। চর্যাপদে ধর্মীয় সাধনার সঙ্গে কী যুক্ত হয়েছে?

(A) লোকজীবন ও প্রতীকী অভিজ্ঞতা
(B) আধুনিক বিজ্ঞান
(C) ইউরোপীয় রাজনীতি
(D) ঔপনিবেশিক প্রশাসন

উত্তর : (A) লোকজীবন ও প্রতীকী অভিজ্ঞতা।


১৩৮। প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

(A) ধর্ম ও সাধনার সঙ্গে সাহিত্যিক প্রকাশের সম্পর্ক
(B) কেবল রোমান্টিকতা
(C) কেবল আধুনিকতা
(D) কেবল রাজনৈতিক ব্যঙ্গ

উত্তর : (A) ধর্ম ও সাধনার সঙ্গে সাহিত্যিক প্রকাশের সম্পর্ক।


১৩৯। চর্যাপদের গুরুত্ব কোন দুটি ক্ষেত্রে বিশেষ?

(A) ভাষা ও সাহিত্য
(B) কেবল অর্থনীতি
(C) কেবল ভূগোল
(D) কেবল রাজনীতি

উত্তর : (A) ভাষা ও সাহিত্য।


১৪০। প্রাচীন বাংলা সমাজ ও সাহিত্য বোঝার ক্ষেত্রে চর্যাপদ কেন অপরিহার্য?

(A) এটি ভাষা, সমাজ ও সাধনসংস্কৃতির প্রাচীন সাক্ষ্য
(B) এটি আধুনিক উপন্যাস
(C) এটি মধ্যযুগের অনুবাদ
(D) এটি আধুনিক কবিতা

উত্তর : (A) এটি ভাষা, সমাজ ও সাধনসংস্কৃতির প্রাচীন সাক্ষ্য।


অধ্যায় ৬ : মধ্যযুগের বাংলা সমাজ ও সাহিত্যের প্রধান ধারা

ক. সাধারণ মধ্যযুগ

১৪১। বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

(A) ধর্মীয় ও লোকজ সাহিত্যের ব্যাপক বিকাশ
(B) কেবল বিজ্ঞানসাহিত্য
(C) কেবল আধুনিক উপন্যাস
(D) কেবল প্রবন্ধ

উত্তর : (A) ধর্মীয় ও লোকজ সাহিত্যের ব্যাপক বিকাশ।


১৪২। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি সমৃদ্ধ ধারা কোনটি?

(A) মঙ্গলকাব্য
(B) আধুনিক উপন্যাস
(C) আধুনিক প্রবন্ধ
(D) আধুনিক নাটক

উত্তর : (A) মঙ্গলকাব্য।


১৪৩। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধান ধারাগুলির মধ্যে কোনটি রয়েছে?

(A) বৈষ্ণব পদাবলি
(B) আধুনিক ছোটগল্প
(C) রবীন্দ্রকাব্য
(D) আধুনিক নাটক

উত্তর : (A) বৈষ্ণব পদাবলি।


১৪৪। মধ্যযুগের সাহিত্যধারার বিকাশে কোন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ?

(A) ধর্ম, সমাজ ও লোকবিশ্বাস
(B) কেবল ইউরোপীয় রেনেসাঁ
(C) কেবল বিজ্ঞান
(D) কেবল শিল্পবিপ্লব

উত্তর : (A) ধর্ম, সমাজ ও লোকবিশ্বাস।


খ. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

১৪৫। ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’-এর রচয়িতা কে?

(A) বড়ু চণ্ডীদাস
(B) বিদ্যাপতি
(C) জ্ঞানদাস
(D) গোবিন্দদাস

উত্তর : (A) বড়ু চণ্ডীদাস।


১৪৬। ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কোন যুগের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক নিদর্শন?

(A) মধ্যযুগ
(B) আধুনিক যুগ
(C) প্রাচীন যুগের প্রথম পর্যায়
(D) ঔপনিবেশিক যুগ

উত্তর : (A) মধ্যযুগ।


১৪৭। ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’-এর প্রধান চরিত্র কারা?

(A) রাধা, কৃষ্ণ ও বড়াই
(B) রাম, সীতা ও লক্ষ্মণ
(C) চৈতন্য, নিত্যানন্দ ও অদ্বৈত
(D) মনসা, চাঁদ ও বেহুলা

উত্তর : (A) রাধা, কৃষ্ণ ও বড়াই।


১৪৮। ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’-এ রাধা-কৃষ্ণের সম্পর্কের কোন দিকটি বিশেষভাবে প্রকাশিত?

(A) মানবিক প্রেম ও দ্বন্দ্ব
(B) কেবল রাজনীতি
(C) কেবল যুদ্ধ
(D) কেবল ধর্মীয় উপদেশ

উত্তর : (A) মানবিক প্রেম ও দ্বন্দ্ব।


১৪৯। ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ পুঁথি আবিষ্কারের সঙ্গে কার নাম যুক্ত?

(A) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ
(B) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
(C) দীনেশচন্দ্র সেন
(D) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

উত্তর : (A) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ।


১৫০। ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য কী?

(A) রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনির মানবিক রূপায়ণ
(B) কেবল পৌরাণিক যুদ্ধ
(C) কেবল রাজদরবার
(D) কেবল অনুবাদ

উত্তর : (A) রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনির মানবিক রূপায়ণ।


১৫১। বড়ু চণ্ডীদাস কোন ধারার কবি?

(A) মধ্যযুগীয় প্রেমকাব্যের
(B) আধুনিক কবিতার
(C) মঙ্গলকাব্যের
(D) শাক্ত পদাবলির

উত্তর : (A) মধ্যযুগীয় প্রেমকাব্যের।


গ. বৈষ্ণব পদাবলি

১৫২। বৈষ্ণব পদাবলির প্রধান বিষয় কী?

(A) রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা
(B) রাজাদের যুদ্ধ
(C) বণিকদের সমুদ্রযাত্রা
(D) কৃষিবিজ্ঞান

উত্তর : (A) রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা।


১৫৩। বৈষ্ণব পদাবলির সঙ্গে কোন ধর্মীয় ভাবধারার সম্পর্ক?

(A) বৈষ্ণব ভাবধারা
(B) শাক্ত ভাবধারা
(C) বৌদ্ধ সহজিয়া
(D) সুফিবাদ

উত্তর : (A) বৈষ্ণব ভাবধারা।


১৫৪। বৈষ্ণব পদাবলির কবিদের মধ্যে কে উল্লেখযোগ্য?

(A) বিদ্যাপতি
(B) মুকুন্দরাম
(C) বিজয় গুপ্ত
(D) ভারতচন্দ্র

উত্তর : (A) বিদ্যাপতি।


১৫৫। চণ্ডীদাসের পদাবলির প্রধান বিষয়—

(A) রাধা-কৃষ্ণের প্রেম
(B) মনসার মাহাত্ম্য
(C) শিবের মাহাত্ম্য
(D) চণ্ডীর মাহাত্ম্য

উত্তর : (A) রাধা-কৃষ্ণের প্রেম।


১৫৬। জ্ঞানদাস কোন সাহিত্যধারার কবি?

(A) বৈষ্ণব পদাবলি
(B) মঙ্গলকাব্য
(C) অনুবাদ সাহিত্য
(D) শাক্ত পদাবলি

উত্তর : (A) বৈষ্ণব পদাবলি।


১৫৭। গোবিন্দদাস কোন ধারার সঙ্গে যুক্ত?

(A) বৈষ্ণব পদাবলি
(B) মঙ্গলকাব্য
(C) অনুবাদ সাহিত্য
(D) ইসলামীয় কাব্য

উত্তর : (A) বৈষ্ণব পদাবলি।


১৫৮। বৈষ্ণব পদাবলিতে ‘বিরহ’ কী?

(A) প্রেমের বিচ্ছেদজনিত অনুভূতি
(B) যুদ্ধ
(C) সামাজিক বিদ্রোহ
(D) রাজনৈতিক আন্দোলন

উত্তর : (A) প্রেমের বিচ্ছেদজনিত অনুভূতি।


১৫৯। বৈষ্ণব পদাবলির একটি প্রধান রস—

(A) মধুর রস
(B) বীর রস
(C) হাস্য রস
(D) ভয়ানক রস

উত্তর : (A) মধুর রস।


১৬০। বৈষ্ণব পদাবলির কাব্যিক সৌন্দর্যের প্রধান উৎস—

(A) প্রেম, বিরহ ও ভক্তির সমন্বয়
(B) কেবল যুদ্ধ
(C) কেবল রাজনীতি
(D) কেবল প্রকৃতি

উত্তর : (A) প্রেম, বিরহ ও ভক্তির সমন্বয়।


ঘ. চৈতন্য ও চৈতন্যজীবনী

১৬১। চৈতন্যদেব কোন ভক্তিধারার সঙ্গে যুক্ত?

(A) বৈষ্ণবধারা
(B) শাক্তধারা
(C) বৌদ্ধধারা
(D) সুফিধারা

উত্তর : (A) বৈষ্ণবধারা।


১৬২। চৈতন্যজীবনী সাহিত্যের প্রধান বিষয় কী?

(A) চৈতন্যদেবের জীবন ও ভাবধারা
(B) মুঘল ইতিহাস
(C) ইউরোপীয় ইতিহাস
(D) বিজ্ঞানচর্চা

উত্তর : (A) চৈতন্যদেবের জীবন ও ভাবধারা।


১৬৩। ‘চৈতন্যচরিতামৃত’-এর রচয়িতা কে?

(A) কৃষ্ণদাস কবিরাজ
(B) বৃন্দাবন দাস
(C) লোচন দাস
(D) জয়ানন্দ

উত্তর : (A) কৃষ্ণদাস কবিরাজ।


১৬৪। ‘চৈতন্যভাগবত’-এর রচয়িতা কে?

(A) বৃন্দাবন দাস
(B) কৃষ্ণদাস কবিরাজ
(C) লোচন দাস
(D) বিদ্যাপতি

উত্তর : (A) বৃন্দাবন দাস।


১৬৫। ‘চৈতন্যমঙ্গল’-এর সঙ্গে কার নাম যুক্ত?

(A) লোচন দাস
(B) কৃষ্ণদাস কবিরাজ
(C) মুকুন্দরাম
(D) আলাওল

উত্তর : (A) লোচন দাস।


১৬৬। চৈতন্যজীবনী সাহিত্যের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য—

(A) ভক্তি ও জীবনীধর্মিতার সমন্বয়
(B) কেবল ইতিহাস
(C) কেবল রাজনীতি
(D) কেবল রোমান্স

উত্তর : (A) ভক্তি ও জীবনীধর্মিতার সমন্বয়।


ঙ. মঙ্গলকাব্য

১৬৭। মঙ্গলকাব্যের প্রধান উদ্দেশ্য কী?

(A) দেবদেবীর মাহাত্ম্য প্রচার
(B) কেবল রাজাদের ইতিহাস লেখা
(C) কেবল প্রেমকাহিনি লেখা
(D) কেবল যুদ্ধের বিবরণ

উত্তর : (A) দেবদেবীর মাহাত্ম্য প্রচার।


১৬৮। মঙ্গলকাব্যে দেবতার মাহাত্ম্যের সঙ্গে কী যুক্ত হয়েছে?

(A) লোকজীবন
(B) আধুনিক বিজ্ঞান
(C) ইউরোপীয় দর্শন
(D) শিল্পবিপ্লব

উত্তর : (A) লোকজীবন।


১৬৯। ‘চণ্ডীমঙ্গল’-এর সঙ্গে কোন কবির নাম যুক্ত?

(A) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
(B) বিজয় গুপ্ত
(C) বিপ্রদাস পিপিলাই
(D) ভারতচন্দ্র

উত্তর : (A) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।


১৭০। মুকুন্দরাম চক্রবর্তী কোন নামে পরিচিত?

(A) কবিকঙ্কণ
(B) রায়গুণাকর
(C) গুণরাজ
(D) বিদ্যাপতি

উত্তর : (A) কবিকঙ্কণ।


১৭১। ‘মনসামঙ্গল’-এর সঙ্গে কোন কবির নাম যুক্ত?

(A) বিজয় গুপ্ত
(B) মুকুন্দরাম
(C) ভারতচন্দ্র
(D) আলাওল

উত্তর : (A) বিজয় গুপ্ত।


১৭২। ‘মনসামঙ্গল’-এর একটি বিখ্যাত চরিত্র—

(A) বেহুলা
(B) রাধা
(C) দ্রৌপদী
(D) সীতা

উত্তর : (A) বেহুলা।


১৭৩। ‘চণ্ডীমঙ্গল’-এর অন্যতম বিখ্যাত চরিত্র—

(A) কালকেতু
(B) লখিন্দর
(C) কৃষ্ণ
(D) চৈতন্য

উত্তর : (A) কালকেতু।


১৭৪। মঙ্গলকাব্যে কোন সমাজের প্রতিফলন বিশেষভাবে পাওয়া যায়?

(A) লোকসমাজ
(B) কেবল রাজসমাজ
(C) কেবল নগরসমাজ
(D) কেবল বিদেশি সমাজ

উত্তর : (A) লোকসমাজ।


১৭৫। মঙ্গলকাব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য—

(A) পৌরাণিক দেবতা ও বাস্তব লোকজীবনের সমন্বয়
(B) কেবল পৌরাণিক কাহিনি
(C) কেবল রাজনীতি
(D) কেবল প্রেম

উত্তর : (A) পৌরাণিক দেবতা ও বাস্তব লোকজীবনের সমন্বয়।


১৭৬। ‘অন্নদামঙ্গল’-এর কবি কে?

(A) ভারতচন্দ্র রায়
(B) মুকুন্দরাম
(C) বিজয় গুপ্ত
(D) দৌলত কাজী

উত্তর : (A) ভারতচন্দ্র রায়।


১৭৭। ভারতচন্দ্র রায়ের উপাধি—

(A) রায়গুণাকর
(B) কবিকঙ্কণ
(C) গুণরাজ
(D) মহাকবি

উত্তর : (A) রায়গুণাকর।


চ. অনুবাদ সাহিত্য

১৭৮। মধ্যযুগে অনুবাদ সাহিত্যের বিকাশের অন্যতম কারণ—

(A) সংস্কৃত ও অন্যান্য কাহিনির বাংলা রূপায়ণ
(B) কেবল বিদেশি উপন্যাস
(C) কেবল বিজ্ঞানচর্চা
(D) কেবল সংবাদপত্র

উত্তর : (A) সংস্কৃত ও অন্যান্য কাহিনির বাংলা রূপায়ণ।


১৭৯। কৃত্তিবাস কোন গ্রন্থের বাংলা রূপান্তরের সঙ্গে যুক্ত?

(A) রামায়ণ
(B) মহাভারত
(C) ভাগবত
(D) গীতা

উত্তর : (A) রামায়ণ।


১৮০। কাশীরাম দাস কোন গ্রন্থের বাংলা রূপান্তরের জন্য বিখ্যাত?

(A) মহাভারত
(B) রামায়ণ
(C) পদ্মাবতী
(D) গীতগোবিন্দ

উত্তর : (A) মহাভারত।


১৮১। অনুবাদ সাহিত্য বাংলা সাহিত্যে কী ভূমিকা পালন করেছে?

(A) বহিরাগত কাহিনি ও সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলা পাঠকের সংযোগ ঘটিয়েছে
(B) বাংলা সাহিত্যকে বিলুপ্ত করেছে
(C) কেবল ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করেছে
(D) কেবল বিদেশি ভাষা প্রচার করেছে

উত্তর : (A) বহিরাগত কাহিনি ও সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলা পাঠকের সংযোগ ঘটিয়েছে।


ছ. ইসলামীয় ধারা

১৮২। মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যে মুসলমান কবিদের অবদান কোন ধারার সঙ্গে যুক্ত?

(A) ইসলামীয় সাহিত্যধারা
(B) কেবল বৈষ্ণব সাহিত্য
(C) কেবল শাক্ত সাহিত্য
(D) কেবল মঙ্গলকাব্য

উত্তর : (A) ইসলামীয় সাহিত্যধারা।


১৮৩। ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’-এর কবি কে?

(A) দৌলত কাজী
(B) আলাওল
(C) ভারতচন্দ্র
(D) মুকুন্দরাম

উত্তর : (A) দৌলত কাজী।


১৮৪। আলাওল কোন ধারার গুরুত্বপূর্ণ কবি?

(A) ইসলামীয়/আরাকান-সংলগ্ন বাংলা সাহিত্যধারা
(B) বৈষ্ণব পদাবলি
(C) মঙ্গলকাব্য
(D) শাক্ত পদাবলি

উত্তর : (A) ইসলামীয়/আরাকান-সংলগ্ন বাংলা সাহিত্যধারা।


১৮৫। ‘পদ্মাবতী’-এর রচয়িতা কে?

(A) আলাওল
(B) দৌলত কাজী
(C) কৃত্তিবাস
(D) কাশীরাম দাস

উত্তর : (A) আলাওল।


১৮৬। মধ্যযুগের মুসলমান কবিদের সাহিত্যে কোন উপাদান দেখা যায়?

(A) আরবি-ফারসি ও ভারতীয় কাহিনির সমন্বয়
(B) কেবল সংস্কৃত কাহিনি
(C) কেবল বৈষ্ণব তত্ত্ব
(D) কেবল মঙ্গলদেবতা

উত্তর : (A) আরবি-ফারসি ও ভারতীয় কাহিনির সমন্বয়।


জ. শাক্ত পদাবলি

১৮৭। শাক্ত পদাবলির প্রধান আরাধ্যা দেবী কে?

(A) কালী/শক্তি
(B) সরস্বতী
(C) লক্ষ্মী
(D) রাধা

উত্তর : (A) কালী/শক্তি।


১৮৮। শাক্ত পদাবলির অন্যতম প্রধান কবি—

(A) রামপ্রসাদ সেন
(B) জ্ঞানদাস
(C) গোবিন্দদাস
(D) বিদ্যাপতি

উত্তর : (A) রামপ্রসাদ সেন।


১৮৯। শাক্ত পদাবলির মূল ভাব কী?

(A) মাতৃভক্তি ও শক্তিসাধনা
(B) রাধাকৃষ্ণ প্রেম
(C) রাজনীতি
(D) যুদ্ধ

উত্তর : (A) মাতৃভক্তি ও শক্তিসাধনা।


১৯০। রামপ্রসাদ সেন কোন ধারার কবি?

(A) শাক্ত পদাবলি
(B) বৈষ্ণব পদাবলি
(C) মঙ্গলকাব্য
(D) ইসলামীয় সাহিত্য

উত্তর : (A) শাক্ত পদাবলি।


১৯১। কমলাকান্ত ভট্টাচার্য কোন ধারার সঙ্গে যুক্ত?

(A) শাক্ত পদাবলি
(B) বৈষ্ণব পদাবলি
(C) অনুবাদ সাহিত্য
(D) মঙ্গলকাব্য

উত্তর : (A) শাক্ত পদাবলি।


১৯২। শাক্ত পদাবলিতে মাতৃভাব কীভাবে প্রকাশিত?

(A) দেবীকে মা হিসেবে ভাবনা
(B) দেবীকে রাজা হিসেবে ভাবনা
(C) দেবীকে যুদ্ধদেবতা হিসেবে মাত্র দেখা
(D) দেবীকে কেবল প্রকৃতি হিসেবে দেখা

উত্তর : (A) দেবীকে মা হিসেবে ভাবনা।


ঝ. মধ্যযুগের সমন্বিত প্রশ্ন

১৯৩। নিচের কোনটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের ধারা নয়?

(A) বৈষ্ণব পদাবলি
(B) মঙ্গলকাব্য
(C) শাক্ত পদাবলি
(D) আধুনিকতাবাদী উপন্যাস

উত্তর : (D) আধুনিকতাবাদী উপন্যাস।


১৯৪। ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ ও বৈষ্ণব পদাবলির সাধারণ বিষয়—

(A) রাধা-কৃষ্ণ
(B) মনসা
(C) চণ্ডী
(D) রাম-রাবণ

উত্তর : (A) রাধা-কৃষ্ণ।


১৯৫। মঙ্গলকাব্য ও শাক্ত পদাবলির মধ্যে সাধারণ বৈশিষ্ট্য কোনটি?

(A) ধর্মীয় ভাবধারার সঙ্গে লোকজীবনের সম্পর্ক
(B) আধুনিক বিজ্ঞান
(C) ইউরোপীয় রেনেসাঁ
(D) কেবল রাজনীতি

উত্তর : (A) ধর্মীয় ভাবধারার সঙ্গে লোকজীবনের সম্পর্ক।


১৯৬। মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে ধর্মীয় সাহিত্যের পাশাপাশি কী বিকশিত হয়েছিল?

(A) লোকজীবন ও সমাজচিত্র
(B) আধুনিক শিল্পবিপ্লব
(C) আধুনিক সংবাদপত্র
(D) বিজ্ঞানকল্প সাহিত্য

উত্তর : (A) লোকজীবন ও সমাজচিত্র।


১৯৭। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যকে শুধু ধর্মীয় সাহিত্য বলা যথার্থ নয় কেন?

(A) তাতে সমাজ ও লোকজীবনেরও বিস্তৃত প্রতিফলন রয়েছে
(B) তাতে কোনো ধর্মীয় উপাদান নেই
(C) তা কেবল রাজনীতি নিয়ে রচিত
(D) তা কেবল বিদেশি কাহিনি নিয়ে রচিত

উত্তর : (A) তাতে সমাজ ও লোকজীবনেরও বিস্তৃত প্রতিফলন রয়েছে।


১৯৮। মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলির মধ্যে প্রেমের প্রধান প্রকাশ কোথায়?

(A) বৈষ্ণব পদাবলি ও শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে
(B) কেবল মঙ্গলকাব্যে
(C) কেবল অনুবাদ সাহিত্যে
(D) কেবল শাক্ত পদাবলিতে

উত্তর : (A) বৈষ্ণব পদাবলি ও শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে।


১৯৯। মধ্যযুগের সাহিত্যধারায় লোকবিশ্বাসের সবচেয়ে স্পষ্ট প্রকাশ কোথায়?

(A) মঙ্গলকাব্যে
(B) বৈষ্ণব পদাবলিতে মাত্র
(C) অনুবাদ সাহিত্যে মাত্র
(D) চৈতন্যজীবনীতে মাত্র

উত্তর : (A) মঙ্গলকাব্যে।


২০০। মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের সামগ্রিক বৈশিষ্ট্য কী?

(A) ধর্ম, প্রেম, লোকবিশ্বাস, সমাজ ও মানবজীবনের বহুমাত্রিক সমন্বয়
(B) কেবল ধর্মীয় উপদেশ
(C) কেবল রাজাদের ইতিহাস
(D) কেবল প্রেমকাহিনি

উত্তর : (A) ধর্ম, প্রেম, লোকবিশ্বাস, সমাজ ও মানবজীবনের বহুমাত্রিক সমন্বয়।


তৃতীয় পর্ব : উচ্চতর অনুশীলনী

মিশ্র MCQ : ২০১–২২০

২০১। সঠিক জোড়াটি কোনটি?

(A) চর্যাপদ — সিদ্ধাচার্য
(B) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন — মুকুন্দরাম
(C) চণ্ডীমঙ্গল — বিদ্যাপতি
(D) পদ্মাবতী — কৃত্তিবাস

উত্তর : (A) চর্যাপদ — সিদ্ধাচার্য।


২০২। সঠিক জোড়াটি কোনটি?

(A) মুকুন্দরাম — চণ্ডীমঙ্গল
(B) বিজয় গুপ্ত — অন্নদামঙ্গল
(C) ভারতচন্দ্র — মনসামঙ্গল
(D) আলাওল — রামায়ণ

উত্তর : (A) মুকুন্দরাম — চণ্ডীমঙ্গল।


২০৩। সঠিক জোড়াটি কোনটি?

(A) দৌলত কাজী — সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
(B) আলাওল — চণ্ডীমঙ্গল
(C) কৃষ্ণদাস কবিরাজ — চৈতন্যভাগবত
(D) বৃন্দাবন দাস — চৈতন্যচরিতামৃত

উত্তর : (A) দৌলত কাজী — সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী।


২০৪। সঠিক জোড়াটি কোনটি?

(A) রামপ্রসাদ — শাক্ত পদাবলি
(B) জ্ঞানদাস — মঙ্গলকাব্য
(C) গোবিন্দদাস — চণ্ডীমঙ্গল
(D) ভারতচন্দ্র — বৈষ্ণব পদাবলি

উত্তর : (A) রামপ্রসাদ — শাক্ত পদাবলি।


২০৫। ভাষার ক্রমবিকাশের সঠিক ধারাটি—

(A) প্রাকৃত → অপভ্রংশ → বাংলা
(B) বাংলা → প্রাকৃত → অপভ্রংশ
(C) অপভ্রংশ → সংস্কৃত → বাংলা
(D) বাংলা → সংস্কৃত → প্রাকৃত

উত্তর : (A) প্রাকৃত → অপভ্রংশ → বাংলা।


২০৬। কোনটি ভাষার বৈচিত্রের উদাহরণ?

(A) রাঢ়ী
(B) চর্যাপদ
(C) মঙ্গলকাব্য
(D) বৈষ্ণব পদাবলি

উত্তর : (A) রাঢ়ী।


২০৭। কোনটি ভাষাপরিবার এবং ভাষার উদাহরণ সঠিকভাবে দেখায়?

(A) দ্রাবিড় — তামিল
(B) অস্ট্রো-এশীয় — বাংলা
(C) চীনা-তিব্বতি — বাংলা
(D) ইন্দো-ইউরোপীয় — তামিল

উত্তর : (A) দ্রাবিড় — তামিল।


২০৮। ‘Linguistic Survey of India’-র সঙ্গে কার নাম যুক্ত?

(A) জর্জ গ্রিয়ার্সন
(B) মাইকেল মধুসূদন
(C) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
(D) বসন্তরঞ্জন রায়

উত্তর : (A) জর্জ গ্রিয়ার্সন।


২০৯। চর্যাপদ ও শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?

(A) চর্যাপদ প্রাচীনতম নিদর্শন; শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মধ্যযুগীয় প্রেমকাব্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন
(B) দুটিই আধুনিক কবিতা
(C) দুটিই মঙ্গলকাব্য
(D) দুটিই শাক্ত পদাবলি

উত্তর : (A) চর্যাপদ প্রাচীনতম নিদর্শন; শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মধ্যযুগীয় প্রেমকাব্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।


২১০। বৈষ্ণব পদাবলি ও শাক্ত পদাবলির প্রধান পার্থক্য—

(A) প্রথমটির কেন্দ্রে রাধাকৃষ্ণ-প্রেম; দ্বিতীয়টির কেন্দ্রে শক্তি/মাতৃভাব
(B) দুটিই মনসামঙ্গল
(C) দুটিই অনুবাদ সাহিত্য
(D) দুটিই ইসলামীয় সাহিত্য

উত্তর : (A) প্রথমটির কেন্দ্রে রাধাকৃষ্ণ-প্রেম; দ্বিতীয়টির কেন্দ্রে শক্তি/মাতৃভাব।


২১১। মঙ্গলকাব্যের সঙ্গে কোনটি সবচেয়ে বেশি সম্পর্কিত?

(A) দেবতার মাহাত্ম্য ও লোকজীবন
(B) আধুনিক বিজ্ঞান
(C) ইউরোপীয় রাজনীতি
(D) আধুনিক উপন্যাস

উত্তর : (A) দেবতার মাহাত্ম্য ও লোকজীবন।


২১২। চৈতন্যজীবনী সাহিত্যের সঙ্গে কোনটি সম্পর্কিত?

(A) বৈষ্ণব ভক্তি
(B) শাক্ত সাধনা
(C) বৌদ্ধ সহজিয়া
(D) সুফি সাহিত্য

উত্তর : (A) বৈষ্ণব ভক্তি।


২১৩। বাংলা ভাষার বৈচিত্রের ক্ষেত্রে কোনটি প্রাসঙ্গিক?

(A) অঞ্চল ও সমাজ
(B) কেবল লিপি
(C) কেবল সাহিত্য
(D) কেবল ধর্ম

উত্তর : (A) অঞ্চল ও সমাজ।


২১৪। কোনটি সঠিক?

(A) বাংলা — ইন্দো-ইউরোপীয়
(B) বাংলা — দ্রাবিড়
(C) বাংলা — অস্ট্রো-এশীয়
(D) বাংলা — চীনা-তিব্বতি

উত্তর : (A) বাংলা — ইন্দো-ইউরোপীয়।


২১৫। কোনটি সঠিক?

(A) তামিল — দ্রাবিড়
(B) তামিল — ইন্দো-ইউরোপীয়
(C) তামিল — অস্ট্রো-এশীয়
(D) তামিল — চীনা-তিব্বতি

উত্তর : (A) তামিল — দ্রাবিড়।


২১৬। কোনটি সঠিক?

(A) সাঁওতালি — অস্ট্রো-এশীয়
(B) সাঁওতালি — দ্রাবিড়
(C) সাঁওতালি — ইন্দো-ইউরোপীয়
(D) সাঁওতালি — চীনা-তিব্বতি

উত্তর : (A) সাঁওতালি — অস্ট্রো-এশীয়।


২১৭। কোনটি সঠিক?

(A) তিব্বতি — চীনা-তিব্বতি
(B) তিব্বতি — দ্রাবিড়
(C) তিব্বতি — ইন্দো-ইউরোপীয়
(D) তিব্বতি — অস্ট্রো-এশীয়

উত্তর : (A) তিব্বতি — চীনা-তিব্বতি।


২১৮। কোনটি সঠিক?

(A) আলাওল — পদ্মাবতী
(B) আলাওল — চণ্ডীমঙ্গল
(C) আলাওল — শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
(D) আলাওল — চৈতন্যচরিতামৃত

উত্তর : (A) আলাওল — পদ্মাবতী।


২১৯। কোনটি সঠিক?

(A) কৃষ্ণদাস কবিরাজ — চৈতন্যচরিতামৃত
(B) কৃষ্ণদাস কবিরাজ — চৈতন্যভাগবত
(C) কৃষ্ণদাস কবিরাজ — মনসামঙ্গল
(D) কৃষ্ণদাস কবিরাজ — পদ্মাবতী

উত্তর : (A) কৃষ্ণদাস কবিরাজ — চৈতন্যচরিতামৃত।


২২০। কোনটি সঠিক?

(A) রামপ্রসাদ সেন — শাক্ত পদাবলি
(B) রামপ্রসাদ সেন — বৈষ্ণব পদাবলি
(C) রামপ্রসাদ সেন — মঙ্গলকাব্য
(D) রামপ্রসাদ সেন — ইসলামীয় ধারা

উত্তর : (A) রামপ্রসাদ সেন — শাক্ত পদাবলি।


কালানুক্রম : ২২১–২২৫

২২১। প্রাচীন থেকে আধুনিকের দিকে সঠিক ক্রম—

(A) চর্যাপদ → মধ্যযুগীয় বাংলা → আধুনিক বাংলা
(B) আধুনিক বাংলা → চর্যাপদ → মধ্যবাংলা
(C) মধ্যবাংলা → আধুনিক বাংলা → চর্যাপদ
(D) আধুনিক বাংলা → মধ্যবাংলা → চর্যাপদ

উত্তর : (A) চর্যাপদ → মধ্যযুগীয় বাংলা → আধুনিক বাংলা।


২২২। সঠিক সাহিত্যিক ক্রম—

(A) চর্যাপদ → শ্রীকৃষ্ণকীর্তন → বৈষ্ণব পদাবলি
(B) বৈষ্ণব পদাবলি → চর্যাপদ → শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
(C) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন → চর্যাপদ → বৈষ্ণব পদাবলি
(D) বৈষ্ণব পদাবলি → শ্রীকৃষ্ণকীর্তন → চর্যাপদ

উত্তর : (A) চর্যাপদ → শ্রীকৃষ্ণকীর্তন → বৈষ্ণব পদাবলি।


২২৩। সঠিক ক্রম—

(A) চর্যাপদ → মঙ্গলকাব্য → শাক্ত পদাবলি
(B) শাক্ত পদাবলি → চর্যাপদ → মঙ্গলকাব্য
(C) মঙ্গলকাব্য → চর্যাপদ → শাক্ত পদাবলি
(D) শাক্ত পদাবলি → মঙ্গলকাব্য → চর্যাপদ

উত্তর : (A) চর্যাপদ → মঙ্গলকাব্য → শাক্ত পদাবলি।


২২৪। সঠিক ক্রম—

(A) প্রাকৃত → অপভ্রংশ → প্রাচীন বাংলা → মধ্যবাংলা → আধুনিক বাংলা
(B) বাংলা → অপভ্রংশ → প্রাকৃত → আধুনিক বাংলা
(C) অপভ্রংশ → প্রাকৃত → বাংলা → মধ্যবাংলা
(D) আধুনিক বাংলা → মধ্যবাংলা → প্রাকৃত → অপভ্রংশ

উত্তর : (A) প্রাকৃত → অপভ্রংশ → প্রাচীন বাংলা → মধ্যবাংলা → আধুনিক বাংলা।


২২৫। সঠিক সাহিত্যিক ক্রম—

(A) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন → বৈষ্ণব পদাবলি → চৈতন্যজীবনী
(B) চৈতন্যজীবনী → চর্যাপদ → শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
(C) বৈষ্ণব পদাবলি → চর্যাপদ → চৈতন্যজীবনী
(D) চৈতন্যজীবনী → বৈষ্ণব পদাবলি → চর্যাপদ

উত্তর : (A) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন → বৈষ্ণব পদাবলি → চৈতন্যজীবনী।


Assertion–Reason : ২২৬–২৩০

২২৬।

Assertion (A): বাংলা একটি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা।
Reason (R): বাংলা ইন্দো-আর্য শাখার অন্তর্গত।

(A) A ও R উভয়ই সত্য এবং R, A-এর যথার্থ ব্যাখ্যা
(B) A ও R উভয়ই সত্য, কিন্তু R, A-এর যথার্থ ব্যাখ্যা নয়
(C) A সত্য, R মিথ্যা
(D) A মিথ্যা, R সত্য

উত্তর : (A) A ও R উভয়ই সত্য এবং R, A-এর যথার্থ ব্যাখ্যা।


২২৭।

Assertion (A): চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
Reason (R): চর্যাপদে প্রাচীন বাংলা ভাষার বিকাশমান রূপের পরিচয় পাওয়া যায়।

(A) A ও R উভয়ই সত্য এবং R, A-এর যথার্থ ব্যাখ্যা
(B) A ও R উভয়ই সত্য, কিন্তু R, A-এর যথার্থ ব্যাখ্যা নয়
(C) A সত্য, R মিথ্যা
(D) A মিথ্যা, R সত্য

উত্তর : (A) A ও R উভয়ই সত্য এবং R, A-এর যথার্থ ব্যাখ্যা।


২২৮।

Assertion (A): মঙ্গলকাব্য শুধু দেবদেবীর মাহাত্ম্যকথা।
Reason (R): মঙ্গলকাব্যে লোকজীবন ও সমাজচিত্রও গুরুত্বপূর্ণ।

(A) A ও R উভয়ই সত্য
(B) A সত্য, R মিথ্যা
(C) A মিথ্যা, R সত্য
(D) A ও R উভয়ই মিথ্যা

উত্তর : (C) A মিথ্যা, R সত্য।


২২৯।

Assertion (A): বৈষ্ণব পদাবলির কেন্দ্রে রাধাকৃষ্ণের প্রেমভাবনা রয়েছে।
Reason (R): বৈষ্ণব পদাবলি বৈষ্ণব ভক্তিধারার সঙ্গে যুক্ত।

(A) A ও R উভয়ই সত্য এবং R, A-এর যথার্থ ব্যাখ্যা
(B) A ও R উভয়ই সত্য, কিন্তু R, A-এর যথার্থ ব্যাখ্যা নয়
(C) A সত্য, R মিথ্যা
(D) A মিথ্যা, R সত্য

উত্তর : (A) A ও R উভয়ই সত্য এবং R, A-এর যথার্থ ব্যাখ্যা।


২৩০।

Assertion (A): বাংলা ভাষায় আঞ্চলিক বৈচিত্র রয়েছে।
Reason (R): অঞ্চল ও সমাজভেদে ভাষার ব্যবহার ও উচ্চারণ পরিবর্তিত হতে পারে।

(A) A ও R উভয়ই সত্য এবং R, A-এর যথার্থ ব্যাখ্যা
(B) A ও R উভয়ই সত্য, কিন্তু R, A-এর যথার্থ ব্যাখ্যা নয়
(C) A সত্য, R মিথ্যা
(D) A মিথ্যা, R সত্য

উত্তর : (A) A ও R উভয়ই সত্য এবং R, A-এর যথার্থ ব্যাখ্যা।


Statement-based MCQ : ২৩১–২৪০

২৩১।

১. বাংলা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবারের অন্তর্গত।
২. বাংলা দ্রাবিড় ভাষাপরিবারের অন্তর্গত।

(A) শুধু ১ সঠিক
(B) শুধু ২ সঠিক
(C) উভয়ই সঠিক
(D) কোনোটিই সঠিক নয়

উত্তর : (A) শুধু ১ সঠিক।


২৩২।

১. চর্যাপদ প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন।
২. চর্যাপদের কবিরা সিদ্ধাচার্য নামে পরিচিত।

(A) শুধু ১ সঠিক
(B) শুধু ২ সঠিক
(C) উভয়ই সঠিক
(D) কোনোটিই সঠিক নয়

উত্তর : (C) উভয়ই সঠিক।


২৩৩।

১. শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
২. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মঙ্গলকাব্য।

(A) শুধু ১ সঠিক
(B) শুধু ২ সঠিক
(C) উভয়ই সঠিক
(D) কোনোটিই সঠিক নয়

উত্তর : (A) শুধু ১ সঠিক।


২৩৪।

১. বৈষ্ণব পদাবলির কেন্দ্রে রাধাকৃষ্ণের প্রেম।
২. জ্ঞানদাস বৈষ্ণব পদাবলির কবি।

(A) শুধু ১ সঠিক
(B) শুধু ২ সঠিক
(C) উভয়ই সঠিক
(D) কোনোটিই সঠিক নয়

উত্তর : (C) উভয়ই সঠিক।


২৩৫।

১. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত।
২. তাঁর উপাধি কবিকঙ্কণ।

(A) শুধু ১ সঠিক
(B) শুধু ২ সঠিক
(C) উভয়ই সঠিক
(D) কোনোটিই সঠিক নয়

উত্তর : (C) উভয়ই সঠিক।


২৩৬।

১. আলাওল ‘পদ্মাবতী’-র সঙ্গে যুক্ত।
২. দৌলত কাজী ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’-র সঙ্গে যুক্ত।

(A) শুধু ১ সঠিক
(B) শুধু ২ সঠিক
(C) উভয়ই সঠিক
(D) কোনোটিই সঠিক নয়

উত্তর : (C) উভয়ই সঠিক।


২৩৭।

১. রামপ্রসাদ সেন শাক্ত পদাবলির কবি।
২. শাক্ত পদাবলির কেন্দ্রে মাতৃভাব ও শক্তিসাধনা।

(A) শুধু ১ সঠিক
(B) শুধু ২ সঠিক
(C) উভয়ই সঠিক
(D) কোনোটিই সঠিক নয়

উত্তর : (C) উভয়ই সঠিক।


২৩৮।

১. জর্জ গ্রিয়ার্সন Linguistic Survey of India-এর সঙ্গে যুক্ত।
২. এই সমীক্ষার সময়কাল ১৯০৩–১৯২৮।

(A) শুধু ১ সঠিক
(B) শুধু ২ সঠিক
(C) উভয়ই সঠিক
(D) কোনোটিই সঠিক নয়

উত্তর : (C) উভয়ই সঠিক।


২৩৯।

১. রাঢ়ী বাংলা ভাষার একটি আঞ্চলিক রূপ।
২. উপভাষা ভাষার বৈচিত্রের একটি প্রকাশ।

(A) শুধু ১ সঠিক
(B) শুধু ২ সঠিক
(C) উভয়ই সঠিক
(D) কোনোটিই সঠিক নয়

উত্তর : (C) উভয়ই সঠিক।


২৪০।

১. মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে ধর্মীয় ভাবধারার প্রভাব ছিল।
২. মধ্যযুগীয় সাহিত্যে সমাজ ও লোকজীবনেরও প্রতিফলন রয়েছে।

(A) শুধু ১ সঠিক
(B) শুধু ২ সঠিক
(C) উভয়ই সঠিক
(D) কোনোটিই সঠিক নয়

উত্তর : (C) উভয়ই সঠিক।


শেষ মুহূর্তের দ্রুত রিভিশন

১০০টি অতি-গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বাংলা ভাষা ও ভাষাপরিবার

১। বাংলা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবারের অন্তর্গত।
২। বাংলা ইন্দো-আর্য শাখার ভাষা।
৩। ভাষাপরিবার বংশগত সম্পর্ক নির্দেশ করে।
৪। তুলনামূলক ভাষাবিজ্ঞান ভাষার সম্পর্ক অনুসন্ধান করে।
৫। উইলিয়াম জোন্স সংস্কৃত, গ্রিক ও লাতিনের সাদৃশ্যের কথা বলেন।
৬। প্রাকৃত বাংলা ভাষার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।
৭। অপভ্রংশ প্রাকৃতের পরিবর্তিত পরবর্তী রূপ।
৮। মাগধী প্রাকৃতের সঙ্গে বাংলা ভাষার বিকাশের সম্পর্ক আলোচিত।
৯। বাংলা ভাষার প্রাচীনতম সাহিত্যিক নিদর্শন চর্যাপদ।
১০। চর্যাপদের কবিরা সিদ্ধাচার্য।
১১। চর্যাপদের ভাষা সন্ধ্যাভাষা নামে পরিচিত।
১২। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ আবিষ্কারের সঙ্গে যুক্ত।
১৩। চর্যাপদ ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয়।
১৪। চর্যাপদ নেপাল থেকে আবিষ্কৃত।
১৫। চর্যাপদ বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনার সঙ্গে যুক্ত।
১৬। চর্যাপদ গীতিপদধর্মী।
১৭। চর্যাপদে প্রতীকী ভাষার ব্যবহার রয়েছে।
১৮। চর্যাপদ ভাষার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
১৯। বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দের উৎস সংস্কৃত।
২০। বাংলা ভাষা পরিবর্তনশীল ও গ্রহণক্ষম।

ভারতে প্রচলিত ভাষাপরিবার

২১। ভারত বহু ভাষাপরিবারের দেশ।
২২। ভারতে প্রধানত চারটি ভাষাপরিবারের কথা পাঠ্যাংশে আলোচিত।
২৩। ইন্দো-ইউরোপীয় ভারতের অন্যতম প্রধান ভাষাপরিবার।
২৪। দ্রাবিড় ভারতের অন্যতম প্রধান ভাষাপরিবার।
২৫। অস্ট্রো-এশীয় ভারতের অন্যতম প্রধান ভাষাপরিবার।
২৬। চীনা-তিব্বতি ভারতের অন্যতম প্রধান ভাষাপরিবার।
২৭। বাংলা ও হিন্দি ইন্দো-আর্য শাখার ভাষা।
২৮। তামিল, তেলুগু, কন্নড় ও মালয়ালম দ্রাবিড় ভাষাপরিবারের ভাষা।
২৯। সাঁওতালি অস্ট্রো-এশীয় ভাষাপরিবারের সঙ্গে যুক্ত।
৩০। মুণ্ডা ভাষাগুলি অস্ট্রো-এশীয় পরিবারের অন্তর্গত।
৩১। উত্তর-পূর্ব ভারতের বহু ভাষা চীনা-তিব্বতি পরিবারের সঙ্গে যুক্ত।
৩২। অসমীয়া বাংলা-সহ পূর্বভারতীয় আর্যভাষাগোষ্ঠীর সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে সম্পর্কিত।
৩৩। ওড়িয়া ইন্দো-ইউরোপীয় পরিবারের ইন্দো-আর্য শাখার ভাষা।
৩৪। George A. Grierson-এর নাম Linguistic Survey of India-এর সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত।
৩৫। Linguistic Survey of India প্রকাশের সময়কাল ১৯০৩–১৯২৮।
৩৬। Linguistic Survey of India ভারতের ভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা।
৩৭। ভাষাপরিবার নির্ণয়ে ঐতিহাসিক ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ।
৩৮। একই পরিবারের ভাষার মধ্যে বংশগত সাদৃশ্য থাকে।
৩৯। ভাষাপরিবার ও ভৌগোলিক অবস্থান একই বিষয় নয়।
৪০। ভারতের ভাষাবৈচিত্র্যের পেছনে দীর্ঘ ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক প্রক্রিয়া কাজ করেছে।

বাংলা ভাষার বৈচিত্র্য

৪১। একই ভাষার আঞ্চলিক বা সামাজিক ভিন্ন রূপকে উপভাষা বলা হয়।
৪২। রাঢ়ী বাংলা ভাষার একটি আঞ্চলিক রূপ।
৪৩। বরেন্দ্রী বাংলা ভাষার একটি আঞ্চলিক রূপ।
৪৪। ঝাড়খণ্ডী বাংলা ভাষার একটি আঞ্চলিক রূপ হিসেবে আলোচিত।
৪৫। উপভাষা ভাষার জীবন্ত বৈচিত্র্যের প্রকাশ।
৪৬। অঞ্চলভেদে উচ্চারণের পার্থক্য দেখা যায়।
৪৭। অঞ্চলভেদে শব্দভাণ্ডারের পার্থক্য দেখা যায়।
৪৮। অঞ্চল ও সমাজভেদে বাক্যগঠনের পার্থক্যও দেখা যেতে পারে।
৪৯। সামাজিক ভাষারূপের সঙ্গে শ্রেণি, পেশা ও সামাজিক গোষ্ঠীর সম্পর্ক রয়েছে।
৫০। চলিত বাংলা আধুনিক বাংলা ব্যবহারের একটি মান্য রূপ।

প্রাচীন বাংলা ও চর্যাপদ

৫১। চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
৫২। চর্যাপদ বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচনা।
৫৩। চর্যাপদের কবিরা সিদ্ধাচার্য নামে পরিচিত।
৫৪। চর্যাপদের ভাষা ‘সন্ধ্যাভাষা’ নামে পরিচিত।
৫৫। সন্ধ্যাভাষায় আভাস, প্রতীক ও গুপ্তার্থের ব্যবহার রয়েছে।
৫৬। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কারের সঙ্গে যুক্ত।
৫৭। চর্যাপদের পুঁথি নেপালে আবিষ্কৃত হয়।
৫৮। চর্যাপদ আবিষ্কারের সাল ১৯০৭।
৫৯। চর্যাপদে সাধনতত্ত্বের পাশাপাশি সমকালীন জীবনচিত্রের উপাদান রয়েছে।
৬০। চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য উপাদান।

মধ্যযুগ : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ও বৈষ্ণব পদাবলি

৬১। শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
৬২। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
৬৩। শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের প্রধান চরিত্র রাধা, কৃষ্ণ ও বড়াই।
৬৪। শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের মানবিক রূপ প্রকাশিত হয়েছে।
৬৫। শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কারের সঙ্গে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভের নাম যুক্ত।
৬৬। বৈষ্ণব পদাবলির প্রধান বিষয় রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা।
৬৭। বৈষ্ণব পদাবলি বৈষ্ণব ভক্তিধারার সঙ্গে যুক্ত।
৬৮। বিদ্যাপতি বৈষ্ণব পদাবলির অন্যতম উল্লেখযোগ্য কবি।
৬৯। জ্ঞানদাস বৈষ্ণব পদাবলির গুরুত্বপূর্ণ কবি।
৭০। গোবিন্দদাস বৈষ্ণব পদাবলির গুরুত্বপূর্ণ কবি।
৭১। বৈষ্ণব পদাবলিতে বিরহ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাব।
৭২। বৈষ্ণব পদাবলিতে মধুর রসের গুরুত্ব বিশেষ।

চৈতন্য ও চৈতন্যজীবনী

৭৩। চৈতন্যদেব বৈষ্ণব ভক্তিধারার সঙ্গে যুক্ত।
৭৪। চৈতন্যজীবনী সাহিত্যের কেন্দ্রে চৈতন্যদেবের জীবন ও ভাবধারা।
৭৫। চৈতন্যচরিতামৃতের রচয়িতা কৃষ্ণদাস কবিরাজ।
৭৬। চৈতন্যভাগবতের রচয়িতা বৃন্দাবন দাস।
৭৭। চৈতন্যমঙ্গলের সঙ্গে লোচন দাসের নাম যুক্ত।
৭৮। চৈতন্যজীবনী সাহিত্যে ভক্তি ও জীবনীধর্মিতার সমন্বয় রয়েছে।

মঙ্গলকাব্য

৭৯। মঙ্গলকাব্যের অন্যতম উদ্দেশ্য দেবদেবীর মাহাত্ম্য প্রচার।
৮০। মঙ্গলকাব্যে দেবতার মাহাত্ম্যের সঙ্গে লোকজীবনের সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে।
৮১। মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত।
৮২। মুকুন্দরাম চক্রবর্তী ‘কবিকঙ্কণ’ নামে পরিচিত।
৮৩। বিজয় গুপ্ত মনসামঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত।
৮৪। মনসামঙ্গলের বিখ্যাত চরিত্র বেহুলা ও লখিন্দর।
৮৫। চণ্ডীমঙ্গলের অন্যতম বিখ্যাত চরিত্র কালকেতু।
৮৬। অন্নদামঙ্গলের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়।
৮৭। ভারতচন্দ্রের উপাধি ‘রায়গুণাকর’।

অনুবাদ ও ইসলামীয় ধারা

৮৮। মধ্যযুগে অনুবাদ সাহিত্য বাংলা সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৮৯। কৃত্তিবাস রামায়ণের বাংলা রূপান্তরের সঙ্গে যুক্ত।
৯০। কাশীরাম দাস মহাভারতের বাংলা রূপান্তরের জন্য পরিচিত।
৯১। দৌলত কাজী ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’-এর সঙ্গে যুক্ত।
৯২। আলাওল মধ্যযুগীয় মুসলমান কবিদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি।
৯৩। আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ বাংলা ইসলামীয়/আরাকান-সংলগ্ন সাহিত্যধারার উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।

শাক্ত পদাবলি

৯৪। শাক্ত পদাবলির কেন্দ্রে শক্তি ও মাতৃভাব।
৯৫। রামপ্রসাদ সেন শাক্ত পদাবলির অন্যতম প্রধান কবি।
৯৬। কমলাকান্ত ভট্টাচার্য শাক্ত পদাবলির সঙ্গে যুক্ত।
৯৭। শাক্ত পদাবলিতে দেবীকে মা-রূপে ভাবার প্রবণতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

সমন্বিত স্মরণ

৯৮। মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে ধর্ম, প্রেম, লোকবিশ্বাস ও সমাজজীবন পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।
৯৯। বৈষ্ণব পদাবলি ও শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের কেন্দ্রে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমভাবনা; মঙ্গলকাব্যে দেবতার মাহাত্ম্য ও লোকজীবনের সমন্বয়; শাক্ত পদাবলিতে মাতৃভাব ও শক্তিসাধনা প্রধান।
১০০। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসকে বুঝতে ভাষার ক্রমবিকাশ, ভাষার বৈচিত্র্য এবং প্রাচীন-মধ্যযুগীয় সাহিত্যধারাকে পরস্পর-সম্পর্কিতভাবে পড়া জরুরি।

 
 
 
 
 
 
 

১৯৯৪-এর পর ব্রাজিলীয় ফুটবল আর কখনও নির্ভার হয়নি। জয়ের পর যে নিশ্চিন্ত ভাব আসে, তা এখানে আসেনি। বরং এসেছে এক ধরনের সতর্কতা। কারণ এই জয়টি আনন্দ দিয়ে নয়, সংযম দিয়ে অর্জিত। সংযম মানুষকে বাঁচায় ঠিকই, কিন্তু সে মানুষকে সন্দেহপ্রবণও করে তোলে। ব্রাজিলীয় ফুটবল এই সন্দেহ নিয়েই ঢুকে পড়েছিল বিশ্বায়নকালীন একুশ শতকীয় আধুনিকতার যুগে।

আধুনিকতা এখানে তো তারিখ নয়। কোনো নির্দিষ্ট কৌশলও নয়। আধুনিকতা হলো একটি ব্যবস্থা— যেখানে ফুটবল আর শুধু খেলা নয়, এক অর্থনৈতিক-বিশ্ব; আর খেলোয়াড় শুধু দেহ নয়, একপ্রকার সম্পাদিত সম্পদ। এই ব্যবস্থার সঙ্গে ব্রাজিলীয় ফুটবলের সম্পর্ক শুরু থেকেই ছিল অস্বস্তিকর। কারণ ব্রাজিলীয় ফুটবল দেহকে বিশ্বাস করে, আর আধুনিকতা দেহকে পরিমাপ করে। পরিমাপ আর বিশ্বাস করার মধ্যে কিন্তু গভীর ফারাক আছে। বিশ্বাস মানে শৈল্পিক ঝুঁকি নেওয়া। পরিমাপ মানে ঝুঁকি কমানো। আধুনিক ফুটবল সব শিল্প-ঝুঁকি কমাতে চায়। ব্রাজিলীয় ফুটবল শৈল্পিক ঝুঁকি ছাড়া কথা বলতে পারে না। এই দ্বন্দ্বই নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে ব্রাজিলীয় ফুটবলের মূল সংকট হয়ে যায়।

এই সংকটের প্রথম বড়ো উত্তর জেগে ওঠে একটিমাত্র দেহে— সেই দেহের নাম রোনালদো নাজারিও বা R9। R9-কে প্রায়ই ‘সর্বশ্রেষ্ঠ স্ট্রাইকার’ বলা হয়। কিন্তু এই শব্দটিতে তাঁকে পুরোটা ধরা যায় না। তিনি আসলে এক ‘অভাবিত রূপান্তর’। তাঁর দেহে একত্র হয়েছিল আলাদা আলাদা সময়-পর্বের স্মৃতি— গ্যারিঞ্চার দিকবদল, পেলের ভারসাম্য, রিভেলিনোর নান্দনিক শক্তি, জিকোর নৈপুণ্য, মারাদোনার ড্রিবল, নিজস্ব উদ্ভাবনী দক্ষতা আর আধুনিক ফুটবলের গতিময় বিস্ফোরণ। এইগুলো সাধারণত এক দেহে সম্ভবই নয়। R9 এক্ষেত্রে বিশ্বফুটবলে ব্যতিক্রম ছিল এবং এখনও ব্যতিক্রম হয়েই আছেন।

R9-এর ড্রিবলগুলোতে বাহুল্য কম। তিনি খুব বেশি ছক করেন না। কিন্তু তাঁর প্রথম স্টেপটাই প্রতিপক্ষকে স্থির করে দেয়। এই স্থির করে দেওয়াটাই আধুনিক গিঙ্গা। এখানে ছন্দ ছোটো, কিন্তু তীব্র। এই তীব্রতা আধুনিকতার শর্ত মেনে নেয়, কিন্তু স্মৃতি ভুলে যায় না। R9 আধুনিক যুগের সবচেয়ে বড়ো ব্রাজিলীয় সমন্বয়। তাঁর কৃতিত্ব বিশ্বকাপ জয়, গোল্ডেন বল, গোল্ডেন বুট, ফিফা বর্ষসেরা, ব্যালন ডি’অর ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু এসবের তুলনায় তাঁর শিল্প আরও অনেক গভীর ও প্রসারিত। তিনি গতি, শক্তি, ড্রিবল ও ফিনিশিংকে এক দেহে মিলিয়ে দেন। স্টেপ-ওভার বা ডবল স্টেপ-ওভার দিয়ে প্রতিপক্ষকে স্থির করা, তারপর বিস্ফোরণ— এটিই হলো আধুনিক ফুটবলের ভাষায় অনূদিত গিঙ্গা। R9 দেখালেন— জোগা বনিতো মানে শুধু ‘ফ্লেয়ার’ নয়; জোগা বনিতো মানে অলসতার সামান্যতম অবসর খোঁজাও নয়। জোগা বনিতো মানে নিষ্ঠুর, দ্রুত ও আকস্মিক সিদ্ধান্তের স্পষ্টতা। কখন ড্রিবল, কখন শট, কখন থামা, কখন কেবল ওয়ান-টাচ, কখন ক্ষিপ্রতা, কখন চকিত গতি, কখন বল হোল্ড করা— এইসব বাছাইয়ের ভেতরেই সৌন্দর্য। যে সৌন্দর্য আর আগের মতো বিস্তৃত হবে না, হবে সংকুচিত। এবং এই সংকোচনই তাকে অস্বাভাবিক কার্যকর করে তোলে। তিনি প্রমাণ করলেন, সৌন্দর্য আধুনিকতার শত্রু নয়; সৌন্দর্যই আধুনিকতাকে মানবিক করে। R9-র দেহ আধুনিক ফুটবলের দেহ— শক্ত, দ্রুত, প্রস্তুত। অবশ্য তাঁর সিদ্ধান্তগুলো ব্রাজিলীয় কিন্তু অ-ভূতপূর্ব। এই দ্বৈততা তাঁকে সময়ের প্রতীক করে তোলে। তিনি দেখান— আধুনিকতার ভেতরে থেকেই কীভাবে স্মৃতিকে বহন করা যায়। ফলত তিনিই হয়ে ওঠেন নান্দনিক ও কার্যকরী আধুনিক ফুটবলের প্রবক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা। তারপর তার দেহের ওপর দীর্ঘ-সময় ধরে চলে ভয়াবহ ধ্বংসলীলা। তা সদ্য অতিক্রম করে এসে, ২০০২ সালের বিশ্বকাপে, তাঁর মহানায়ক হয়ে ওঠা ছিল স্বপ্নের থেকেও বৃহত্তর স্বপ্নের, অসম্ভবের থেকেও সীমাহীন অসম্ভব ঘটনা। যা বাস্তবে সংঘটিত হয়েছিল। আর হয়েছিল বলেই বাস্তব পৃথিবী তাঁকে অভাবিত বিস্ময় বলেই মেনে নিয়েছে। সারা পৃথিবী তাঁকে বলেছে- ‘দ্য ফেনোমেনন’ (অতুলনীয় বিস্ময়)। যাঁর প্রতিভা, দক্ষতা, প্রয়োগ আর প্রত্যাবর্তনের তুলনা একমাত্র তিনি নিজেই, কোনোদিক থেকেই আর কেউ নন। বিশ্ব-ফুটবলে শুধু নয়, অন্য কোনো ক্রীড়াক্ষেত্রে এমন অলৌকিক প্রত্যাবর্তন আর সাধিত হয়েছে কিনা জানা নেই। (*R9-কে নিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা একটি অধ্যায়ে বলার প্রয়াস রাখব)

আধুনিকতার ভেতরে জমিয়ে তোলা স্মৃতির আরেকটি রূপ রিভালদো। রিভালদোকে বোঝা কঠিন। ফিফা বর্ষসেরা, ব্যালন ডি’অর– এসবের পরেও নয়। কারণ তিনি আনন্দমুখর নন, তাঁর খেলায় হাসি বা আনন্দ কম, ভার অনেক বেশি। তাঁর বাঁ-পায়ের ভলি, দূরপাল্লার শট, হঠাৎ সিদ্ধান্ত— সবকিছুতেই ছিল নাটকীয়তা, কিন্তু তা হাসিমুখে নয়। বাঁ-পায়ের শটগুলো যেন শরীরের ভেতর জমে থাকা কোনো কথার ঘূর্ণিত-বিস্ফোরণ। তিনি দেখান— ব্রাজিলীয় সৌন্দর্য সবসময় উৎসব নয়; কখনো তা গম্ভীর, বিষণ্ণ, প্রায় নাটকীয়। ২০০২-এর ব্রাজিলকে সবাই মনে রাখে R9-এর জন্য। কিন্তু রিভালদো ছাড়া সেই দল অসম্পূর্ণ। ২০০২ বিশ্বকাপে তাঁর অবদান R9-এর প্রায় সমগোত্র। তাঁর সিদ্ধান্তগুলো ছিল কঠিন, প্রায় নিষ্ঠুর। তিনি প্রমাণ করেন— জোগো বনিতো আবেগের একমাত্র রং নয়; এক গভীরতারও নাম। এখানে আবেগ কম, প্রয়োজন বেশি। এই প্রয়োজনই ফুটবলের আধুনিক ভাষা। তবু রিভালদো এই যুগের সবচেয়ে অবমূল্যায়িত প্রতিভা।

ব্রাজিলীয় ফুটবলের সেই নতুন ভাষার নৈতিক মেরুদণ্ড ছিলেন কিন্তু কাফু। কাফু কোনো ট্রিকের মানুষ নন। কাফু আধুনিক সাইড-ব্যাকের প্রোটোটাইপ। তাঁর সৌন্দর্য দৌড়ে। ফুলব্যাক হয়েও তিনি আক্রমণের প্রস্থ তৈরি করেন, আবার ফিরে আসেন। এই আসা-যাওয়া আধুনিক ফুটবলের শর্ত। যার আধুনিক রূপকার হয়েও কিন্তু কাফুর দৌড়ে আধুনিক কোনো যান্ত্রিকতা নেই। এখানে আছে শৈল্পিক দায়িত্ববোধ। আর এখানেই তিনি অনন্য। তিনি জানতেন— এই দলকে ভারসাম্য দিতে হলে কাউকে এইভাবে নিঃশব্দে কাজ করতে হবে। এই নিঃশব্দ কাজটাই আধুনিক জোগা বনিতোর নতুন শিল্প-নৈতিকতা। কাফু একমাত্র খেলোয়াড় যিনি টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন। তাঁর নেতৃত্ব প্রমাণ করে— জোগা বনিতো কোনোভাবেই দায়িত্ব-বিভ্রম নয়; তা পেশাদারিত্বের সঙ্গে সৌন্দর্যের সহাবস্থান। তাঁর ভাবনায়, স্কিল মানে শরীরকে শৃঙ্খলার ভেতরেও মুক্ত রাখা। সুন্দরভাবে খেলা মানে শুধু চোখে পড়া নয়; মানে কাজেরও সততা।

রবার্তো কার্লোস আবার সেই সততার ভিন্ন রূপ। রবার্তো কার্লোস যেন বিশ্ব-ফুটবলে এক আকস্মিক বিস্ফোরণ। তাঁর আগমনের আগে কেউ জানতই না, ফুটবল মাঠে লেফট-ব্যাকের কার্যকারিতা সমস্ত মাঠকে নিজস্ব প্রান্ত থেকে এইভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশ্ব-ফুটবলকে এই পাঠ তিনিই প্রথম দান করে গেলেন। তাঁর ফ্রি-কিকগুলো পদার্থবিদ্যার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বলে মনে হয়। তাঁর বিখ্যাত ফ্রি-কিক দেখায়— বল বাঁকে না, আচরণ বদলায়। কিন্তু আসলে এগুলো তাঁর দেহ-স্মৃতিরই অনুসন্ধান। বল কী করতে পারে— এই প্রশ্নের সুদীর্ঘকালীন পরীক্ষা। এখানে তাঁর স্কিল আর লোকজ নয় ততটা, যতটা প্রায় বৈজ্ঞানিক। তবু এই বিজ্ঞান শুষ্ক যুক্তিভিত্তিক নয় একেবারেই, কারণ এর ভেতরে আছে স্মৃতি ও কল্পনা। তিনি আর ইতালির মালদিনিই প্রথম দেখালেন— ডিফেন্ডারও শিল্পী হতে পারে, এবং সৌন্দর্য কেবল সামনের লাইনের সম্পত্তি নয়।

রোনালদিনহো আধুনিক ফুটবলে আনন্দ ফিরিয়ে আনেন। যখন ফুটবল ক্রমশ হিসেবি, ডেটা-নির্ভর হয়ে উঠছে, তিনি তখন হাসেন। তাঁর এলাস্টিকো, নো-লুক পাস, ফ্রি-স্টাইল কন্ট্রোল— এসব আবার দর্শককে মনে করিয়ে দেয়, ফুটবল আসলে খেলাই; আনন্দময় এক শিল্প-উদযাপন। স্কিলের সমস্তরকম ফুলঝুড়ি দেখিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন রূপকথার নায়ক। রোনালদিনহোর খেলায় জোগা বনিতো আবার জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে ফিরে আসে। কিন্তু জোগা বনিতোর এই প্রত্যাবর্তন স্থায়ী হয়নি; বলা ভালো স্থায়ী হতে দেয়নি। কারণ আধুনিক যান্ত্রিকতার চাপ তখন প্রবল। আনন্দকে এখন সংগ্রাম করে নিজের জায়গা করে নিতে হচ্ছে। সেই সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই তাঁর অর্জন— বিশ্বকাপ, ব্যালন ডি’অর ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু তাঁর শিল্প আরও বৃহৎ ও মহৎ। আসলে তিনি দর্শককে আবার ফুটবলের প্রেমে পড়তে শেখালেন। রোনালদিনহো প্রমাণ করে দিয়ে গেছেন— ডেটা-যুগেও কীভাবে পরিসংখ্যানকে বুড়ো-আঙুল দেখিয়ে প্রেমিক হয়ে উঠতে হয়। কিন্তু হায়, বিশ্ব-ফুটবলে একমাত্র নেইমার ছাড়া আর কেউ সেই রূপকথার প্রেমিকের ভাষা বোঝেনি; শিখতে পারেনি। তার জন্য যে শিল্প-বিশ্বের সব-হারানোর অচিনপুরে উদাসীন চরণচিহ্ন রাখতে হয়। বিশ্ব-ফুটবলে আর কেউ-ই নেই, যার এই দুঃসাহসে পদযুগল দুলে উঠতে দেখলাম–

    যাইহোক, ২০০২ ছিল এককথায় সবকিছুর সমন্বয়। সৌন্দর্য, সংযম, আধুনিকতা— সব একসঙ্গে। এই কারণেই ২০০২-এর পর ব্রাজিলীয় ফুটবল একটু একা হয়ে যায়। কারণ এই সমন্বয় আবার তৈরি করা যে-কোনো ক্ষেত্রেই কঠিন। জোগো বনিতো ও জোগা বনিতোর এই একাকীত্বের মাঝেই সংগ্রাম করে চলে, এবং চলেছে, এবং হয়তো চলবে– রোনালদিনহো থেকে কাকা, কাকা থেকে নেইমার, নেইমার থেকে ভিনি… হয়তো এন্ড্রিক, হয়তো এস্তেভাও …

শেষকথা পরের পর্বে।

(চলবে…)

### ড. অনিশ রায়

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top