।। অন্ধকারে জোয়ারের কাব্য ।।

অনিশ রায়

নদীর কাছে গিয়েছিলে জল দেখতে নয়,
জলের নিচে যে আরেক নদী থাকে
তার গোপন ধারা ছুঁতে।

মানুষের দিকে তাকিয়েছিলে কি  কখনও?
মানুষের মুখের দিকে তাকিয়েছ বলে যারা ভাবে
তারা ভুল জানে।
আসলে দেখেছিলে মুখের ভিতরে
আরেক মুখ জন্ম নিচ্ছে ধীরে ধীরে

ক্ষুধার মুখ!
ভয়ের মুখ!
অপ্রকাশিত পাপের মুখ?

পদ্মা ওই ভারী চোখের কাছে নদী ছিল না জানি,
কোনো এক অনাদির ক্ষতচিহ্ন তবে;
যেখানে নৌকোগুলো ভাসেনি—
ভেসেছিল যেন কাহাদের অনিদ্রা—

জানতে সম্ভবত, জানতেই
রাত্রির ভিতরে এক কুয়ো আছে,
সেখানে নেমে গেলে ঈশ্বরের সঙ্গে দেখা হয় না,
দেখা হয় নিজের সঙ্গে।
আর নিজের মতো ভয়ঙ্কর অপরিচিত
এই পৃথিবীতে কে-ই বা আছে!

কপিলার চোখে দেখেছি আপামর সকলে
জল নয়—
জ্বরের মতো কাঁপতে থাকা ভূমি;
শশীর নিঃশব্দ যাত্রায় শুনতে পেয়েছি
এক মৃত পাখির ডানার শব্দ।

তাই তো ওই গল্পের মানুষগুলো
এলোমেলো ভাবেও
কখনো আকাশের দিকে তাকায় না—
মাটির দিকে তাকায়,
পৃথিবীর বুকের নিচে
হয়তো দেখবে বলে
আরও পৃথিবী চাপা পড়ে আছে।

হাতুড়ি দিয়ে পাথর ভাঙার মতো
লিখতে লিখতে
একদিন শরীরটাকেও ভুলতে হয়।
কলমের নিবে জমে রক্ত,
শব্দের ভিতর জন্ম নিতে পারে
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিংবা বিশাল কিংবদন্তি দ্বন্দ্ব।

তারপর একদিন সহসা
ফুলে ঢেকে দেওয়া হবে—
মানুষ হঠাৎ আবিষ্কার করবে,
সবচেয়ে দরিদ্র মানুষটাই 
স্বগত গোপনে সবচেয়ে ধনী ছিল যে।

আজও মধ্যরাতে
যদি কখনও একাকী কোনো আমি
নিজের ভিতরে হঠাৎ শুনতে পায়
অকারণ জলের শব্দ,

জেনো,
সে পদ্মার ডাক নয়—

সে এক অতল কালো আহ্বান,
অন্ধকারের টিলার উপরে শেষ দাঁড়িয়ে—
শোনো—
মানুষের অসমাপ্ত মুখ দেখার দিবারাত্রির কাব্য।

১৯/৫/২০২৬

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top