১) ব্যোমযাত্রীর ডায়রি গল্পটি কার লেখা?
উত্তর : সত্যজিৎ রায়।
২) প্রফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কুর ডায়রিটা লেখক কোথা থেকে পেয়েছিলেন?
উত্তর : তারক চাটুজ্যের কাছ থেকে।
৩) তারকবাবুর লেখাগুলোর জন্য লেখক কত টাকা করে দিতেন?
উত্তর : পাঁচ–দশ টাকা করে দিতেন।
৪) প্রফেসর শঙ্কুর নিরুদ্দেশ সময়কাল কত ছিল?
উত্তর : প্রায় পনেরো বছর।
৫) প্রফেসর শঙ্কু ছিলেন—
ডাক্তার / উকিল / বৈজ্ঞানিক
উত্তর : বৈজ্ঞানিক।
৬) “ব্যাপার তো একটাই।” — কোন ব্যাপারটার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর : বছরখানেক আগে একটি উল্কাখণ্ড সুন্দরবনের মাথারিয়া অঞ্চলে এসে পড়েছিল—এই ব্যাপারটির কথা বলা হয়েছে।
৭) কাগজে উল্কাখণ্ডের ছবি দেখে লেখকের কী মনে হয়েছিল?
উত্তর : ছবিটি দেখে লেখকের মনে হয়েছিল, সেটা যেন একটা কালো মরার খুলি।
৮) তারকবাবু সুন্দরবনের মাথারিয়া অঞ্চলে কেন গিয়েছিলেন?
উত্তর : বাঘছালের সন্ধানে।
৯) তারকবাবু সুন্দরবনের মাথারিয়া অঞ্চল থেকে কী নিয়ে এসেছিলেন?
উত্তর : গোসাপের ছাল।
১০) প্রফেসর শঙ্কুর খাতাটা কোথা থেকে পাওয়া গিয়েছিল?
উত্তর : উল্কাখণ্ড পড়ে যে গর্ত হয়েছিল, সেই গর্তের ঠিক মধ্যিখান থেকে।
১২) লেখক তারক চাটুজ্জ্যেকে ডায়রির জন্য কত টাকা দিয়েছিলেন?
উত্তর : কুড়ি টাকা।
১৩) “হাতের কাঁপুনিতে খাতাটা মাটিতে পড়ে গেল”— কেন হাত কাঁপছিল?
উত্তর : তারক চাটুজ্জ্যের কাছ থেকে পাওয়া ডায়রিটির লেখা বারবার রং বদল করছিল, তাই লেখকের হাত কাঁপতে শুরু করেছিল।
১৪) প্রফেসর শঙ্কুর খাতার কাগজগুলো কেমন ছিল?
উত্তর : কাগজগুলো রাবারের মতো ছিল।
১৫) প্রহ্লাদ কত বছর প্রফেসর শঙ্কুর সঙ্গে আছে?
উত্তর : ২৭ বছর।
১৬) শঙ্কু প্রহ্লাদকে কীভাবে শিক্ষা দিয়েছিলেন?
উত্তর : শঙ্কু প্রহ্লাদের ওপর Snuff-gun বা নস্যাস্ত্র পরীক্ষা করেছিলেন। এগারোটা বেজেছে, অথচ তার হাঁচি এখনও থামেনি।
১৭) প্রফেসর শঙ্কু রকেটে প্রথম যাত্রার কেলেঙ্কারির জন্য কাকে দায়ী করেছিলেন?
উত্তর : প্রহ্লাদকে।
১৮) প্রথমবার রকেটটি কোথায় পড়ে গিয়েছিল?
উত্তর : অবিনাশবাবুর মুলোর ক্ষেতে।
১৯) মুলোর ক্ষেত নষ্ট হওয়ার জন্য অবিনাশবাবু কত টাকা দাবি করেছিলেন?
উত্তর : ৫০০ টাকা।
২০) “প্রহ্লাদটা বোকা হলেও ওকে সঙ্গে নিলে সুবিধা হবে”— কোন সুবিধার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর : প্রহ্লাদের সাহসের কথা বলা হয়েছে।
২১) প্রহ্লাদের ওজন কত ছিল?
উত্তর : দু’মণ সাত সের।
২২) বিধুশেখরের ওজন কত ছিল?
উত্তর : সাড়ে পাঁচ মণ।
২৩) প্রফেসর শঙ্কুর ওজন কত ছিল?
উত্তর : এক মণ এগারো সের।
২৪) “ওই হাউইটা কালীপুজোর দিন ছাড়ুন না”— কে কাকে বলেছিল?
উত্তর : অবিনাশবাবু প্রফেসর শঙ্কুকে বলেছিলেন।
২৫) অবিনাশবাবু চায়ে চিনির বদলে কী খান?
উত্তর : স্যাকারিন।
২৬) “এই বড়িই হল আমার নতুন অস্ত্র”— এই বিদ্যা শঙ্কু কোথা থেকে শিখেছিলেন?
উত্তর : মহাভারতের জৃম্ভুণাস্ত্র থেকে।
২৭) “কাল ওকে Fish Pill খাওয়ালাম”— কাকে খাওয়ানো হয়েছিল?
উত্তর : বিড়াল নিউটনকে।
২৮) কোন দু’টি মাসে উল্কাপাত সবচেয়ে বেশি হয়?
উত্তর : আশ্বিন ও কার্তিক মাসে।
২৯) “এক আশ্চর্য দৃশ্য এখানে”— আশ্চর্য দৃশ্যটি কী?
উত্তর : রাতে বাগানে শুয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে শঙ্কু দেখেন, একটি উল্কা ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে গোলঞ্চ গাছের পাশে থেমে জোনাকির মতো জ্বলছে।
৩০) শঙ্কুর বাগানের গাছটির নাম কী?
উত্তর : গোলঞ্চ গাছ।
৩১) ‘বটিক ইন্ডিকা’ কোন গাছের রস থেকে এবং কার জন্য তৈরি হয়েছিল?
উত্তর : বটফলের রস থেকে প্রহ্লাদের জন্য।
৩২) বড়িটির নাম কী ছিল?
উত্তর : বটিক ইন্ডিকা।
৩৩) বটিক ইন্ডিকা ছিল—
হোমিওপ্যাথিক / আয়ুর্বেদিক / সঞ্জীবনী
উত্তর : হোমিওপ্যাথিক।
৩৪) বটিক ইন্ডিকা খেলে কত ঘণ্টা খিদে–তেষ্টা মেটে?
উত্তর : চব্বিশ ঘণ্টা।
৩৫) প্রহ্লাদ রকেটে কী বই পাঠ করত?
উত্তর : রামায়ণ।
৩৬) “গাগোঃ” কথার বাংলা অর্থ কী?
উত্তর : ভালো।
৩৭) বিধুশেখর কোন গানটি গাইবার চেষ্টা করছিল?
উত্তর : “ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা।”
৩৮) প্রফেসর শঙ্কু প্রথমে কোন গ্রহে যাত্রা করেছিলেন?
উত্তর : মঙ্গল গ্রহে।
৩৯) “বোধ হয় ওর মাথাটা বিগড়ে গিয়েছিল”— কার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর : বিধুশেখরের।
৪০) মঙ্গল গ্রহের নদীর জলকে শঙ্কুর কী মনে হয়েছিল?
উত্তর : স্বচ্ছ পেয়ারার জেলির মতো।
৪১) “নিউটনকে খেতে দেখে ভরসা পেলাম”— নিউটন কী খেয়েছিল?
উত্তর : মঙ্গল গ্রহের নদীর জল।
৪২) “বিভং ভীবং বিভং”— এর অর্থ কী?
উত্তর : বিপদ, ভীষণ বিপদ।
৪৩) মঙ্গল গ্রহের প্রাণিদের বর্ণনা দাও।
উত্তর : তারা মানুষ, জন্তু বা মাছ নয়—তিনের সঙ্গে কিছু মিল আছে। উচ্চতা তিন হাতের কম, পা আছে, হাতে মাছের মতো ডানা, বড়ো মাথা, মাঝখানে সবুজ চোখ ও গায়ে আঁশ।
৪৪) মাঙ্গলীরা কী বলে চিৎকার করছিল?
উত্তর : “তিন্তিড়ি, তিন্তিড়ি।”
৪৫) মাঙ্গলীরা ভালো ছুটতে পারে— ঠিক না ভুল?
উত্তর : ভুল।
৪৬) মাঙ্গলীদের গা থেকে কেমন গন্ধ বের হত?
উত্তর : আঁশটে গন্ধ।
৪৭) মাঙ্গলীদের দেখে প্রহ্লাদের কী অবস্থা হয়েছিল?
উত্তর : প্রহ্লাদ অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল।
৪৮) বিধুশেখর শুদ্ধ ভাষায় কথা বলছিল কেন— শঙ্কুর কী মনে হয়েছিল?
উত্তর : প্রহ্লাদের মুখে রামায়ণ–মহাভারত শোনার ফল।
৪৯) “কি হলো বিধুশেখর, এত ফুর্তি কিসের?”— উত্তরে বিধুশেখর কী বলেছিল?
উত্তর : “গবাক্ষ উদ্ঘাটন করাহ।”
৫০) “টাফা” কথার অর্থ কী?
উত্তর : তোফা।
৫১) সৌরজগতের প্রথম সভ্য লোক কোথায় বাস করে বলে বিধুশেখর মনে করেছিল?
উত্তর : টাফায়।
৫২) টাফার লোকেদের বর্ণনা দাও।
উত্তর : অতিকায় পিঁপড়ে জাতীয়, বড়ো মাথা ও চোখ, ছোটো হাত–পা।
৫৩) টাফার লোকেরা কীভাবে বাস করে?
উত্তর : মাটির নিচে গর্তে ঢুকে বাস করে।
৫৪) “কাল থেকে উধাও”— এখানে কার কথা বলা হয়েছে এবং কেন?
উত্তর : বিধুশেখরের। কারণ সে টাফার লোকেদের সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল।
৫৫) টাফার লোকেরা কোন কাজটি শেখেনি বলে শঙ্কুর মনে হয়েছিল?
উত্তর : হাঁচতে শেখেনি।
৫৬) মঙ্গল গ্রহ যাত্রায় কারা ছিল?
উত্তর : প্রহ্লাদ, বিড়াল নিউটন ও বিধুশেখর।
৫৭) কত দিনের রসদ নেওয়া হয়েছিল?
উত্তর : পাঁচ বছরের।
৫৮) রকেটটি কত মণ ওজন বহন করতে পারত?
উত্তর : ২০ মণ।
৫ মানের প্রশ্ন-উত্তর
১) ‘প্রফেসর শঙ্কুর ডায়েরি’— লেখক কার কাছ থেকে পেয়েছিলেন? তাঁর সেই ডায়েরি পাওয়ার বৃত্তান্তটি লেখো।
উত্তর : বিশ্বনন্দিত চলচ্চিত্র পরিচালক সাহিত্য ক্ষেত্রেও অসামান্য প্রতিভার অধিকারী। সাহিত্যকর্মে তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি ফেলুদা ও প্রফেসর শঙ্কু চরিত্র। বাংলা কল্পবিজ্ঞানের জগতে সত্যজিৎ এবং শঙ্কু অবিস্মরণীয়; বলা যায় অনতিক্রমী। যাই হোক, ‘প্রফেসর শঙ্কুর ডায়েরি’ গ্রন্থের এক চমকপ্রদ উপস্থাপনা হল ‘ব্যোমযাত্রীর ডায়েরি’।
কাহিনি সূত্রানুযায়ী প্রফেসর শঙ্কুর ডায়রিটি লেখক তাঁর পিতা সুকুমার রায়ের পরিচিত তারক চাটুজ্যে নামক এক ভদ্রলোকের কাছ থেকে পান।
লেখক তাঁর শিল্পিত নেশার কোনো এক অবসরে পুজোসংখ্যার প্রুফ দেখছিলেন। এমন সময় এসে হাজির হন তারক চাটুজ্যে। তাঁর বেশভূষা দেখে বেশ দরিদ্র বলেই মনে হয়; অন্তত লেখকের দৃষ্টিতে। তাই প্রতিবারই ভদ্রলোক কোনো লেখা জমা দিতে এলে লেখক পাঁচ–দশ টাকা তাকে দিয়ে থাকেন। তারপর অবশ্য লেখক অকপট ভঙ্গিতে তাঁকে জানিয়েও দেন যে লেখা ভালো নয়। কিন্তু এবার তারকবাবুর আসার উদ্দেশ্য ভিন্ন ছিল। তিনি এবার খ্যাতনামা বিজ্ঞানী প্রফেসর শঙ্কুর ডায়রি নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন—সম্পাদক তথা লেখকের হাতে সেটি তুলে দেওয়ার জন্য।
এরপর তিনি ডায়রি পাওয়ার ব্যাপারে লেখককে সবিস্তার বর্ণনা করেন। সুন্দরবনের মাথারিয়া অঞ্চলে কিছুদিন আগে উল্কাবৃষ্টি হয়েছিল। তাই বাঘছাল পাওয়ার আশায়, বলা যায় একপ্রকার নেশায়, তারক চাটুজ্যে সেখানে যান। কিন্তু ততক্ষণে বিস্তর বিলম্ব হয়ে গেছে। তাই বিড়ম্বিত ভাগ্য তারক চাটুজ্যে সেখান থেকে তেমন কিছু লাভ করতে পারেননি। কিন্তু কৌতূহলবশত তিনি উল্কার গর্তে নামেন এবং সেখান থেকে উদ্ধার করেন একটি গোসাপের ছাল ও প্রফেসর শঙ্কুর সেই অমূল্য, অতিলৌকিক ডায়রিটি।
লেখকের হাতে ওই ডায়রি তুলে দিয়ে তারক চাটুজ্যে কুড়ি টাকা পারিতোষিক লাভ করেন। এদিকে লেখকও এই ডায়রি নিয়ে যথেষ্ট উৎসুক হয়ে পড়েন। কেননা তিনি লোকমুখে শুনেছেন যে, প্রফেসর শঙ্কু নাকি পনেরো বছর আগে মারা গেছেন; আবার কেউ কেউ বলে থাকেন, তিনি আত্মগোপন করে বিজ্ঞানসাধনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে এমন বহুচর্চিত ও সম্মানিত বিজ্ঞানীর আত্মকথন-সমৃদ্ধ ডায়রি লেখকের কাছে বিশেষভাবেই অমূল্য হয়ে ওঠে।
২) টাফা গ্রহে শঙ্কুদের অভিযান সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর : বিশ্বনন্দিত চলচ্চিত্র পরিচালক সাহিত্য ক্ষেত্রেও অসামান্য প্রতিভার অধিকারী। সাহিত্যকর্মে তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি ফেলুদা ও প্রফেসর শঙ্কু চরিত্র। বাংলা কল্পবিজ্ঞানের জগতে সত্যজিৎ এবং শঙ্কু অবিস্মরণীয়, বলা যায় অনতিক্রমী। যাই হোক, ‘প্রফেসর শঙ্কুর ডায়রি’ গ্রন্থের এক চমকপ্রদ উপস্থাপনা হল ‘ব্যোমযাত্রীর ডায়রি’।
গল্পের কাহিনি-পরিসরে অদ্ভুতভাবে ঘটতে দেখা যায় টাফা গ্রহ অভিযান। শঙ্কু একবার মহাকাশযানে করে দিশাহীনভাবে মহাকাশে উড়ে চলছিলেন। নানা ঘটনা ও দৃশ্যের মধ্য দিয়ে যাত্রা করতে করতে তাঁরা মহাকাশে এক অদ্ভুত জায়গায় পৌঁছে যান। সেখানে বড়ো বড়ো পাথরের চাঁই আকাশ আড়াল করে যেন দাঁড়িয়ে আছে। শঙ্কুদের আকাশযান কোনোরকমে সংঘর্ষ এড়িয়ে সেই পাথরের ফাঁক দিয়ে এগিয়ে চলছিল। সকলেই যখন ভীত ও উদ্বিগ্ন, তখন একমাত্র বিধুশেখর নির্বিকার ছিল এবং মুখে বারবার ‘টাফা’ শব্দটি উচ্চারণ করে যাচ্ছিল।
এই উদ্বেগের মধ্যেই শঙ্কুদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঝলমলে, সাদা, নির্মল একটি গ্রহ। বিধুশেখর সেই গ্রহটিকেই টাফা বলে জানায়। এই গ্রহে সৌরজগতের প্রথম সভ্য লোকেরা বাস করে—এ কথাও সে বলে। আরও জানায়, টাফা গ্রহে বুদ্ধিমান প্রাণির মাত্রাধিক্য হওয়ায় নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাই তারা অপেক্ষাকৃত কমবুদ্ধির প্রাণি এনে তাদের গ্রহে রাখছে।
টাফা গ্রহে অবতরণ করামাত্রই শঙ্কু ও তাঁর সঙ্গীরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পান। যারা অভ্যর্থনা জানায়, তারা পিঁপড়ে জাতীয় প্রাণি। মাটির নিচে গর্তে এরা বাস করে। শঙ্কু বুঝতে পারেন, এরা মানুষের থেকে অনেক পিছিয়ে। এদিকে মিথ্যা কথা বলার লজ্জায় বিধুশেখর গ্রহের মাটিতে পা দিয়েই উধাও হয়ে যায়। প্রহ্লাদ এবং নিউটনও সেই গ্রহে নেমে ভালোই মেজাজে ছিল। কেবল শঙ্কুর মন ভালো ছিল না। বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনার জন্য কোনো যোগ্য সঙ্গী তিনি পাচ্ছিলেন না। কয়েকদিন কাটাবার পর তাঁর মনে হল, এখানকার নিস্তরঙ্গ জীবনে লেখার মতো কোনো ঘটনাই ঘটবে না। তাই তিনি ডায়রি লেখা বন্ধ করে দেন।
৩) বিধুশেখরের আচরণ প্রফেসরের ধাতু তৈরির সময় কেমন ছিল? এমন আচরণের উদ্দেশ্য কী?
উত্তর : বিশ্বনন্দিত চলচ্চিত্র পরিচালক সাহিত্যক্ষেত্রেও এক বিস্ময়কর প্রতিভা। আবার তাঁর সাহিত্যকর্মের দুটি অনবদ্য সৃষ্টি ফেলুদা ও প্রফেসর শঙ্কু। কল্পবিজ্ঞানের জগতে সত্যজিৎ ও শঙ্কু অবিস্মরণীয়; বলা যায় অনতিক্রম্য। যাই হোক, ‘প্রফেসর শঙ্কুর ডায়রি’-র এক অসামান্য উপস্থাপনা হলো ‘ব্যোমযাত্রীর ডায়রি’।
গল্পটি থেকে জানা যায়, শঙ্কু যে রকেট তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন, তা সাধারণ ধাতুর দ্বারা যথার্থ নির্মিত হতে পারে না। একথা নিশ্চিতভাবে বুঝেছিলেন প্রফেসর শঙ্কু। তাই তিনি এক অনন্য ধাতু সৃষ্টির উপায় সন্ধান করতে থাকেন। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ব্যাঙের ছাতা, সাপের খোলস ও কচ্ছপের ডিমের খোলা দিয়ে মেশিনে একটি মোটা যৌগ তৈরি করেন। অনুমানে বোঝেন, এর সঙ্গে ট্যানট্রাম বেরোপ্যাক্সিনেট না-হয় একুইয়স ভেনো-সিলিকা যুক্ত করলে সঠিক ধাতুটি পাওয়া যাবে।
এইরকম ভাবনা থেকে তিনি যখন ওই যৌগে ট্যানট্রাম ঢালতে যাবেন, তখন রোবট বিধুশেখর ঘটাং ঘটাং শব্দ করতে শুরু করে। শঙ্কু দেখলেন, মানুষ যেমন নিষেধের ইঙ্গিতে মাথা নাড়ায়, সেইভাবে মাথা নাড়ছে বিধুশেখর। আর তাতেই ওই শব্দ হচ্ছে। বোঝা এবং না-বোঝার মাঝামাঝি অবস্থায় শঙ্কু ট্যানট্রামটি সরিয়ে রাখতেই বিধুশেখর মাথা নাড়া বন্ধ করে দেয়।
এরপর বিকল্প পন্থায় হাতে অসংখ্য একুইয়স ভেনো-সিলিকা তুলে নিতেই বিধুশেখর আবার শব্দ করতে শুরু করে। তবে এবার ইতিবাচকভাবে সে মাথা নাড়তে থাকে।
শঙ্কু তার এই রাসায়নিক ব্যবহার করার ফলে উদ্দেশ্যমুখী ফল পান। পরে অবশ্য কৌতূহলবশত তিনি ট্যানট্রাম দিয়ে পরীক্ষা করলে সেই পরীক্ষা থেকে চোখ ধাঁধানো সবুজ আলো এবং বিকট শব্দ উৎপন্ন হয়।
এই ঘটনা থেকে প্রফেসর শঙ্কু বুঝতে পারেন, বিধুশেখর ক্রমশ বুদ্ধিমান হয়ে উঠেছে।
৪) “আজ দিনের শুরুতেই একটা বিশ্রী কাণ্ড ঘটে গেল”— উদ্ধৃত অংশটি কোথা থেকে গৃহীত?
উত্তর :
উৎস — ‘প্রফেসর শঙ্কুর ডায়রি’ নামক গ্রন্থের ‘ব্যোমযাত্রীর ডায়রি’ গল্প থেকে অংশটি গৃহীত।
লেখক — ।
দিনটা বিশ্রী হওয়ার কারণ :
প্রফেসর শঙ্কুর নামে যে ডায়রি লেখক পান, সেই ডায়রির ১ জানুয়ারির দিনলিপি থেকে জানা যায় যে—
সেদিন মর্নিং ওয়াক থেকে ফিরে এসে প্রফেসর শঙ্কু নিজের ঘরে একজন বিদঘুটে চেহারার মানুষের মুখোমুখি হন। তারপর সেই লোকের চেহারা এমনই বীভৎস যে প্রফেসর পুরোপুরি চমকে ওঠেন এবং চিৎকার শুরু করেন। কিন্তু প্রাথমিক ভ্রমজনিত তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার রেশ কেটে যাওয়ার পর তিনি বোঝেন যে, ঘরে কোনো অচেনা আগন্তুক ব্যক্তির আগমন ঘটেনি; বরং তিনি আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
ফলে বিম্ব আর প্রতিবিম্বের সঠিক সমীকরণটি উপলব্ধি হলে বিদঘুটে বিষয়টি আর বীভৎস বলে মনে হয় না। শঙ্কু বুঝতে পারেন, আয়নার ওপর দীর্ঘকালীন উপনিবেশ স্থাপন করে থাকা ক্যালেন্ডারটি প্রহ্লাদ সরিয়ে দিয়েছিল। তারপরেই ক্রমশ প্রকাশ পায় যে, গতকালই বছর শেষ হয়ে গেছে। তাই প্রহ্লাদের এমন আচরণ।
কিন্তু নির্ভীক বলে পরিচিত প্রফেসর নিজের চেহারার বিকৃতি দেখে যেভাবে ভীত ও চমকিত হয়েছিলেন, তাতে তাঁর সাহসী পরিচিতিতে যেন একটু কালি লেগেছে—এই অপমান সহ্য করতে না-পেরে তিনি প্রহ্লাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং নস্যাস্ত্র প্রয়োগ করেন। ফলে প্রহ্লাদ টানা ৩৩ ঘণ্টা হাঁচিতে ভুগতে থাকে।
পরে অবশ্য তাঁর মনে কিছুটা অনুতাপ জাগে। কারণ দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার ফলে প্রহ্লাদের প্রতি তাঁর মনে স্নেহের বন্ধন তৈরি হয়েছিল। এই অপ্রত্যাশিত ও বিরক্তিকর ঘটনাকেই প্রফেসর শঙ্কু বছরের প্রথম দিনের শুরুতে ঘটে যাওয়া ‘বিশ্রী কাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেছেন।
৫) মঙ্গল গ্রহে প্রফেসর শঙ্কুরা কীভাবে বিপদে পড়েছিলেন?
উত্তর : বিশ্বনন্দিত চলচ্চিত্র পরিচালক সাহিত্যক্ষেত্রেও এক বিস্ময়কর প্রতিভা। তাঁর সাহিত্যকর্মের দুটি অনবদ্য ও বহুখ্যাত সৃষ্টি হল ফেলুদা এবং প্রফেসর শঙ্কু। বাংলা কল্পবিজ্ঞানের জগতে প্রফেসর শঙ্কু ও সত্যজিৎ রায় অবিস্মরণীয়; বলা যায় অনতিক্রমী। যাই হোক, ‘প্রফেসর শঙ্কুর ডায়রি’-র অসামান্য উপস্থাপনা হল ‘ব্যোমযাত্রীর ডায়রি’।
গল্পটি শঙ্কুর নিজস্ব উদ্যোগে মঙ্গল গ্রহে পাড়ি দেওয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিয়ে রচিত। শঙ্কু সমস্ত প্রস্তুতি ও উদ্যোগের পর তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্যে অর্থাৎ মঙ্গলের মাটিতে অবতরণ করেন। কিন্তু ঠিক সেই সময় তাঁর রোবট বিধুশেখর বিপদের সংকেত দিয়ে তাঁকে মহাকাশযান থেকে নামতে দিতে চাইছিল না। কিন্তু সেই সংকেত উপেক্ষা করেই প্রফেসর মঙ্গলের মাটিতে নামেন।
প্রথমদিন সকালবেলা নদীর ধারে শঙ্কুর বিড়াল নিউটন এবং ভৃত্য প্রহ্লাদ একটি না-মানুষ, না-জন্তু, না-মাছ ধরনের প্রাণি দেখতে পায়। নিউটন হঠাৎ সেই প্রাণিটির হাঁটুতে কামড় বসায়। প্রাণিটি তখন চিৎকার করে পালিয়ে যায়। কিন্তু পরক্ষণেই আরেকটি সেইরকম প্রাণি প্রহ্লাদকে তাড়া করে। প্রহ্লাদ নিউটনকে নিয়ে প্রাণপণে দৌড়ে মহাকাশযানের দিকে ছুটতে থাকে।
প্রাণিটি দ্রুত দৌড়াতে অক্ষম ছিল। তাই প্রহ্লাদ সহজেই মহাকাশযানের কাছে পৌঁছে যায়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আরও অসংখ্য প্রাণি শঙ্কুদের মহাকাশযানের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। বিধুশেখর তখন আগ্রাসী প্রাণিদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং লোহার হাতের আঘাতে একটি প্রাণিকে ধরাশায়ী করে।
যদিও সেই সময়ে শত শত প্রাণি চারদিক থেকে এগিয়ে আসছিল। শঙ্কু বুঝলেন, এই বিপুল সংখ্যক প্রাণির সঙ্গে যুদ্ধের ফল ভয়ংকর হবে। বিধুশেখর যতই শক্তিশালী হোক না কেন, এত প্রাণির বিরুদ্ধে একা পেরে উঠবে না। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে বিধুশেখরকে বিকল করেন এবং তাকে দুই ভাগে করে মহাকাশযানে তুলে নেন।
অতঃপর মহাকাশযানটি মাটি ছেড়ে ওপরে উঠে যায় এবং শঙ্কুরা কোনোমতে প্রাণে রক্ষা পান।
৬) ‘প্রফেসর শঙ্কুর ডায়রি’ লেখক কার কাছ থেকে পেয়েছিলেন? তাঁর সেই ডায়রি পাওয়ার বৃত্তান্ত লেখো।
উত্তর : বিশ্বনন্দিত চলচ্চিত্র পরিচালক বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রেও এক অনন্য প্রতিভার অধিকারী। তাঁর সাহিত্যসৃষ্টির জগতে ফেলুদা ও প্রফেসর শঙ্কু—এই দুই চরিত্র আজও সমানভাবে জনপ্রিয়। বাংলা কল্পবিজ্ঞানের ধারায় প্রফেসর শঙ্কু এক ব্যতিক্রমী সৃষ্টি এবং তাঁর আত্মকথনধর্মী গ্রন্থ ‘ব্যোমযাত্রীর ডায়রি’ সেই সৃষ্টিরই এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত।
কাহিনি সূত্রে জানা যায়, প্রফেসর শঙ্কুর ডায়রিটি লেখক পেয়েছিলেন তারক চাটুজ্যে নামক এক ভদ্রলোকের কাছ থেকে। একদিন লেখক পুজোসংখ্যার প্রুফ দেখছিলেন। ঠিক সেই সময় তারক চাটুজ্যে এসে উপস্থিত হন। তাঁর পোশাক-আশাক ও আচরণে দারিদ্র্যের ছাপ ছিল স্পষ্ট। আগেও তিনি নানা লেখা নিয়ে লেখকের কাছে এসেছেন এবং লেখক তাঁর দীন অবস্থার কথা ভেবে পাঁচ–দশ টাকা করে সাহায্য করেছেন।
কিন্তু সেদিন তারক চাটুজ্যের আগমনের উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি সঙ্গে করে এনেছিলেন প্রফেসর শঙ্কুর বহুদিনের হারিয়ে যাওয়া ডায়রি। তারক চাটুজ্যে লেখককে জানান যে, সুন্দরবনের মাথারিয়া অঞ্চলে উল্কাবৃষ্টির খবর শুনে তিনি বাঘছাল সংগ্রহের আশায় সেখানে গিয়েছিলেন। যদিও বাঘছাল পাননি, তবে কৌতূহলবশত উল্কাপাতের গর্তে নেমে তিনি একটি গোসাপের ছাল ও প্রফেসর শঙ্কুর সেই অমূল্য ডায়রিটি উদ্ধার করেন।
অর্থকষ্টের কারণে তিনি ডায়রিটি বিক্রি করতে বাধ্য হন। লেখক তাঁর কথায় পুরোপুরি বিশ্বাস না করলেও কৌতূহলবশত কুড়ি টাকা দিয়ে ডায়েরিটি গ্রহণ করেন। পনেরো বছর ধরে নিখোঁজ থাকা এক কিংবদন্তি বিজ্ঞানীর আত্মকথা হিসেবে এই ডায়রি লেখকের কাছে অতিমূল্যবান হয়ে ওঠে। এইভাবেই তারক চাটুজ্যের কাছ থেকে লেখক প্রফেসর শঙ্কুর ডায়রিটি লাভ করেন।
৭) প্রহ্লাদ কে? প্রথম কেলেঙ্কারির জন্য সে কীভাবে দায়ী ছিল?
উত্তর : প্রহ্লাদ হল প্রফেসর শঙ্কুর দীর্ঘ সাতাশ বছরের বিশ্বস্ত ভৃত্য। বহুদিন ধরে শঙ্কুর সঙ্গে থাকার ফলে সে তাঁর দৈনন্দিন অভ্যাস ও কাজকর্মের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল। যদিও বুদ্ধিতে সে খুব প্রখর ছিল না, তবু তার সাহস ও কর্তব্যনিষ্ঠা ছিল প্রশ্নাতীত।
প্রথম রকেটযাত্রার সময় যে কেলেঙ্কারিটি ঘটে, তার জন্য প্রহ্লাদই মূলত দায়ী ছিল। রকেট উৎক্ষেপণের আগে প্রহ্লাদ ঘড়িতে দম দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ঘড়ির কাঁটা ঘুরিয়ে ফেলে। এর ফলে নির্ধারিত সময়সূচিতে সাড়ে তিন ঘণ্টার গরমিল ঘটে যায়। এই সামান্য ভুলের পরিণতি ছিল অত্যন্ত গুরুতর।
ভুল সময়ের কারণে রকেটটি সঠিকভাবে উৎক্ষেপিত হতে পারেনি এবং কিছুটা উঠেই পাশের জমিতে গিয়ে পড়ে। সেই জমিটি ছিল প্রফেসর শঙ্কুর প্রতিবেশী অবিনাশবাবুর মুলোর ক্ষেত। অবিনাশবাবু ছিলেন অত্যন্ত বিষয়ী ও বিজ্ঞানবিমুখ মানুষ। তিনি এই ঘটনাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে প্রফেসর শঙ্কুর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ পাঁচশো টাকা দাবি করেন।
প্রফেসর শঙ্কুর কাছে এই দাবি দিনের আলোয় ডাকাতির মতো মনে হয়। তবে পুরো ঘটনার সূত্রপাত যেহেতু প্রহ্লাদের ভুল থেকেই হয়েছিল, তাই শঙ্কু প্রথম কেলেঙ্কারির জন্য একমাত্র প্রহ্লাদকেই দায়ী করেন এবং ডায়রিতে সেই আক্ষেপের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
৮) প্রহ্লাদকে কেন প্রফেসর শঙ্কু রকেটযাত্রার সঙ্গী করেছিলেন?
উত্তর : প্রহ্লাদ বুদ্ধিতে খুব তীক্ষ্ণ না হলেও সাহস ও কর্মদক্ষতার দিক থেকে সে ছিল অনন্য। প্রফেসর শঙ্কু মনে করতেন, দুঃসাহসিক অভিযানে কেবল বুদ্ধিমান লোকের প্রয়োজন হয় না; অনেক সময় সাহসী মানুষের উপস্থিতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বুদ্ধিমান মানুষ বিপদের কথা ভেবে পিছিয়ে যেতে পারে, কিন্তু কম বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ অনেক সময় ভয় না পেয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
একবার শঙ্কুর গবেষণাগারে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেয়। একটি টিকটিকির কারণে বাইকর্নিল অ্যাসিড গড়িয়ে পড়ে প্যারাডক্সাইট পাউডারের স্তূপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। এই দুই রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটতে পারত। প্রফেসর শঙ্কু ভয়ে হতবুদ্ধি হয়ে পড়লেও প্রহ্লাদ তৎক্ষণাৎ গামছা দিয়ে অ্যাসিড মুছে ফেলে বড়ো বিপদ থেকে সকলকে রক্ষা করে।
এই ঘটনায় শঙ্কু উপলব্ধি করেন, প্রহ্লাদের সাহস ও তৎপরতা বিপজ্জনক অভিযানে অত্যন্ত মূল্যবান হতে পারে। তাছাড়া প্রহ্লাদের শারীরিক গঠন ও ওজনও মহাকাশযানের জন্য উপযুক্ত ছিল। সব দিক বিবেচনা করেই প্রফেসর শঙ্কু তাঁকে রকেটযাত্রার সঙ্গী হিসেবে নির্বাচিত করেন।
৯) মঙ্গলগ্রহে পৌঁছে শঙ্কুদের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করো।
উত্তর : মঙ্গলগ্রহে অবতরণের প্রথম দিনই প্রফেসর শঙ্কু ও তাঁর সঙ্গীদের কাছে ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়। রকেট থেকে নেমে প্রথমে তাঁরা চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করেছিলেন। শঙ্কু ভেবেছিলেন সূর্যের আলোয় চারদিক ভালো করে দেখে নেওয়া দরকার। কিন্তু সেই শান্ত পরিকল্পনা মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে পড়ে।
হঠাৎ তিনি একটি আঁশটে গন্ধ অনুভব করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে এক অদ্ভুত ঝিঁঝিঁ শব্দ তাঁর কানে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি শুনতে পান প্রহ্লাদের বিকট চিৎকার। দেখা যায়, প্রহ্লাদ নিউটনকে কোলে নিয়ে প্রাণপণে রকেটের দিকে ছুটছে। তার পিছু নিয়েছে এক অদ্ভুত জীব—যা না পুরোপুরি মানুষ, না জন্তু, না মাছ; অথচ তিনটিরই মিল রয়েছে।
প্রহ্লাদ কোনোরকমে রকেটে পৌঁছাতে পারলেও বিপদ তখনও কাটেনি। রোবট বিধুশেখর রকেট থেকে নেমে প্রাণিটির সামনে রুখে দাঁড়ায়। ঠিক তখনই আরও দু–তিনশো মঙ্গলীয় প্রাণি চারদিক থেকে এগিয়ে আসে। পরিস্থিতি যে মারাত্মক হয়ে উঠছে, তা শঙ্কু দ্রুত বুঝতে পারেন। তিনি বিধুশেখরকে অচল করে দেন এবং তাকে দু’ভাগ করে প্রহ্লাদের সাহায্যে রকেটে তুলে নেন।
এইভাবে উপস্থিতবুদ্ধি, সাহস এবং দ্রুত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শঙ্কু ও তাঁর সঙ্গীরা মঙ্গলগ্রহে প্রথম দিনের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা থেকে কোনোমতে প্রাণে বাঁচেন।
১০) “মঙ্গল যে কত অমঙ্গল হতে পারে”—এই উক্তির যথার্থতা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : প্রফেসর শঙ্কুর উক্তি—“মঙ্গল যে কত অমঙ্গল হতে পারে”—মঙ্গলগ্রহে তাঁর অভিজ্ঞতার নিরিখে সম্পূর্ণভাবে যথার্থ। নামের মধ্যে ‘মঙ্গল’ শব্দ থাকলেও বাস্তবে এই গ্রহে পা দিয়েই শঙ্কু ও তাঁর সঙ্গীরা বিপদের সম্মুখীন হন। অবতরণের প্রথম দিনেই তাঁদের জীবনের ওপর নেমে আসে এক ভয়ংকর সংকট।
মঙ্গলগ্রহের অচেনা পরিবেশ, আঁশটে গন্ধ এবং রহস্যময় শব্দ তাঁদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। প্রহ্লাদকে তাড়া করা অদ্ভুত প্রাণিটি এবং পরে শত শত মঙ্গলীয় প্রাণির সমাবেশ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। এই প্রাণিরা আকারে বড়ো, গঠনে ভিন্ন এবং আচরণে হিংস্র। শঙ্কু বুঝতে পারেন, এই গ্রহে মানুষের অস্তিত্ব অত্যন্ত বিপন্ন।
যদি রোবট বিধুশেখরের সাহসিকতা এবং শঙ্কুর উপস্থিতবুদ্ধি না থাকত, তবে তাঁদের পক্ষে প্রাণে বাঁচা অসম্ভব হতো। বিজ্ঞানী হিসেবে শঙ্কু বহু বিপদের সম্মুখীন হলেও, মঙ্গলগ্রহের এই অভিজ্ঞতা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তিনি উপলব্ধি করেন, অজানা গ্রহে বিজ্ঞানের অগ্রগতি যতই হোক না কেন, প্রকৃতি ও অচেনা প্রাণিজগতের সামনে মানুষ কতটা অসহায়।
এই সমস্ত অভিজ্ঞতার সারাংশ হিসেবেই শঙ্কু আক্ষেপের সঙ্গে বলেন—মঙ্গলগ্রহ আদতে মঙ্গলময় নয়, বরং ভয়ংকর অমঙ্গলকর। তাই তাঁর উক্তিটি বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে সম্পূর্ণ সত্য ও যুক্তিসংগত।
১১) মঙ্গলীয় সৈন্যদের কবলে শঙ্কুরা কীভাবে পড়েছিলেন এবং কীভাবে মুক্তি পান?
উত্তর : মঙ্গলগ্রহে অবতরণের অল্প সময়ের মধ্যেই প্রফেসর শঙ্কু ও তাঁর সঙ্গীরা মঙ্গলীয় সৈন্যদের কবলে পড়েন। নদীর ধারে নিউটনকে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রহ্লাদ একটি অদ্ভুত প্রাণির আক্রমণের শিকার হয়। প্রাণিটি ধীরগতির হলেও আকারে বড়ো এবং ভয়ংকর ছিল। প্রহ্লাদ প্রাণভয়ে রকেটের দিকে ছুটতে শুরু করে।
শঙ্কু অস্ত্র হাতে প্রাণিটির পিছু নিলেও বিপদ আরও বেড়ে যায়। হঠাৎ দেখা যায়, আঁশটে গন্ধ ও অদ্ভুত শব্দের সঙ্গে সঙ্গে আরও অসংখ্য মঙ্গলীয় প্রাণি চারদিক থেকে এগিয়ে আসছে। মুহূর্তের মধ্যেই দু–তিনশো প্রাণির সমাবেশ ঘটে। পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তা শঙ্কু বুঝতে পারেন।
এই সংকটময় মুহূর্তে রোবট বিধুশেখর রকেট থেকে নেমে প্রথম প্রাণিটিকে এক আঘাতে মাটিতে ফেলে দেয়। কিন্তু শত শত প্রাণির সঙ্গে লড়াই যে অসম্ভব, তা বুঝে শঙ্কু দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বোতাম টিপে বিধুশেখরকে অচল করে দেন এবং তাকে দু’ভাগ করে প্রহ্লাদের সাহায্যে রকেটে তুলে নেন।
ততক্ষণে প্রায় হাজারখানেক মঙ্গলীয় সৈন্য রকেটের কাছাকাছি চলে এসেছিল। কোনোরকমে কেবিনের দরজা বন্ধ করে রকেট উড্ডয়ন শুরু হয়। এইভাবে বুদ্ধি, সাহস ও দ্রুত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শঙ্কু ও তাঁর সঙ্গীরা মঙ্গলীয় সৈন্যদের কবল থেকে মুক্তি পান।
১২) মঙ্গলগ্রহের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রাণিজগতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর : মঙ্গলগ্রহের প্রাকৃতিক পরিবেশ পৃথিবীর সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিস্ময়কর। সেখানে মাটি, পাথর ও গাছপালা রবারের মতো নরম। নদীর জল লাল রঙের এবং দেখতে স্বচ্ছ জেলির মতো। আশ্চর্যের বিষয়, এই জলের স্বাদ অমৃতের মতো এবং তা শরীর ও মনের ক্লান্তি দূর করে দেয়।
মঙ্গলগ্রহে ঘাস ও গাছপালার রং সবুজ নয়, বরং নীলাভ। আকাশের রংও পৃথিবীর মতো নীল নয়, বরং সবুজ আভাযুক্ত। আবহাওয়া সাধারণত উষ্ণ, তবে হঠাৎ হঠাৎ এমন ঠান্ডা বাতাস বয়ে যায় যে শরীর কেঁপে ওঠে। এই অচেনা পরিবেশ শঙ্কুদের কাছে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনই ভীতিকর।
মঙ্গলগ্রহের প্রাণিজগৎ আরও অদ্ভুত। এখানে যে প্রাণিদের দেখা যায়, তারা মানুষ, জন্তু ও মাছ—এই তিনেরই সংমিশ্রণ। তাদের দেহে আঁশ রয়েছে, পা আছে, কিন্তু হাতের বদলে ডানার মতো অঙ্গ। মুখে দাঁত নেই, রয়েছে একটি বড়ো সবুজ চোখ। এই প্রাণিরা দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে এবং অত্যন্ত আক্রমণাত্মক।
এই অদ্ভুত প্রকৃতি ও ভয়ংকর প্রাণিজগৎ মঙ্গলগ্রহকে শঙ্কুদের কাছে এক রহস্যময় কিন্তু বিপজ্জনক গ্রহ হিসেবে উপস্থাপিত করেছে।
### ড. অনিশ রায়

