বাংলা ধ্বনি:
ভাষায় যে ক্ষুদ্রতম উচ্চারিত ধ্বনি অর্থ গঠনে সাহায্য করে, তাকে ধ্বনি বলে। বাংলা ভাষার ধ্বনি প্রধানত দুই ভাগ—স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।
স্বরধ্বনি—
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে বেরোনো বায়ু মুখগহ্বরে কোনো বাধা না পেয়ে স্বচ্ছন্দে বেরিয়ে আসে, তাকে স্বরধ্বনি বলে। স্বরধ্বনি নিজে নিজেই উচ্চারিত হতে পারে।
উদাহরণ: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ।
স্বরধ্বনির বৈশিষ্ট্য:
স্বরধ্বনি একা উচ্চারিত হয়। বায়ুপ্রবাহে বাধা নেই। প্রতিটি শব্দে অন্তত একটি স্বরধ্বনি থাকে। বাংলা ভাষা স্বরপ্রধান ভাষা।
স্বরধ্বনির প্রকারভেদ—
উচ্চারণের সময়কাল অনুযায়ী
হ্রস্ব স্বরধ্বনি—অল্প সময় ধরে উচ্চারিত হয়। উদাহরণ: অ, ই, উ। শব্দে প্রয়োগ: কলম, দিন, সুখ।
দীর্ঘ স্বরধ্বনি—তুলনামূলক বেশি সময় ধরে উচ্চারিত হয়। উদাহরণ: আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ। শব্দে প্রয়োগ: মা, নীল, দূর, দেশ, ঐক্য, লোক, ঔষধ।
জিহ্বার অবস্থান অনুযায়ী
উচ্চ স্বরধ্বনি—জিহ্বা উপরের দিকে ওঠে। উদাহরণ: ই, ঈ, উ, ঊ।
মধ্য স্বরধ্বনি—জিহ্বা মাঝামাঝি থাকে। উদাহরণ: এ, ঐ, ও, ঔ।
নিম্ন স্বরধ্বনি—জিহ্বা নিচে নেমে আসে। উদাহরণ: অ, আ।
ঠোঁটের অবস্থান অনুযায়ী
অগোল স্বরধ্বনি—ঠোঁট গোল হয় না। উদাহরণ: অ, আ, ই, ঈ, এ, ঐ।
গোল স্বরধ্বনি—ঠোঁট গোল হয়। উদাহরণ: উ, ঊ, ও, ঔ।
নাসিকাধ্বনি অনুযায়ী—
মৌখিক স্বরধ্বনি—বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বের হয়। উদাহরণ: অ, আ, ই, উ, এ, ও।
নাসিক্য স্বরধ্বনি—বায়ু মুখ ও নাক দুই পথেই বের হয়। উদাহরণ: চাঁদ, হাঁস, গাঁ, মাঁ।
ব্যঞ্জনধ্বনি—
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ুপ্রবাহ মুখগহ্বরে কোনো না কোনো স্থানে বাধা পায়, তাকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে। ব্যঞ্জনধ্বনি একা উচ্চারিত হতে পারে না; স্বরধ্বনির সাহায্য প্রয়োজন।
উদাহরণ: ক, খ, গ, চ, ট, ত, প, ব, ম, র, ল, স।
ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য—
বায়ুপ্রবাহে বাধা থাকে। স্বরের সাহায্য ছাড়া উচ্চারণ অসম্ভব। সংখ্যায় স্বরধ্বনির চেয়ে বেশি।
ব্যঞ্জনধ্বনির প্রকারভেদ—
উচ্চারণস্থানের ভিত্তিতে
কণ্ঠ্য—ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ।
তালব্য—চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, য, শ।
মূর্ধন্য—ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ষ, র।
দন্ত্য—ত, থ, দ, ধ, ন, স।
ওষ্ঠ্য—প, ফ, ব, ভ, ম।
স্পর্শের প্রকৃতির ভিত্তিতে
স্পর্শধ্বনি—পূর্ণ বাধা সৃষ্টি হয়। উদাহরণ: ক, চ, ট, ত, প।
স্পর্শ-ঘর্ষধ্বনি—আংশিক বাধা ও ঘর্ষণ। উদাহরণ: চ, জ।
ঘর্ষধ্বনি—বায়ু ঘর্ষিত হয়ে বের হয়। উদাহরণ: শ, ষ, স, হ।
অনুনাসিক ধ্বনি—বায়ু নাক দিয়ে বের হয়। উদাহরণ: ঙ, ঞ, ণ, ন, ম।
অন্তঃস্থ ধ্বনি—স্বর ও ব্যঞ্জনের মাঝামাঝি। উদাহরণ: য, র, ল, ব।
ঘোষ ও অঘোষ ধ্বনি—
ঘোষ ব্যঞ্জন—উচ্চারণে স্বরতন্ত্রী কাঁপে। উদাহরণ: গ, জ, ড, দ, ব।
অঘোষ ব্যঞ্জন—স্বরতন্ত্রী কাঁপে না। উদাহরণ: ক, চ, ট, ত, প।
নাসিক্য ও অ-নাসিক্য—
নাসিক্য—ঙ, ঞ, ণ, ন, ম।
অ-নাসিক্য—ক, খ, গ, চ, ট, ত, প প্রভৃতি।
উপসংহার—
স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনির পারস্পরিক সহযোগিতাতেই বাংলা ভাষার শব্দ ও বাক্য গঠিত হয়। স্বরধ্বনি স্বাধীন ও বাধাহীন, ব্যঞ্জনধ্বনি বাধাসৃষ্টিকারী ও স্বরনির্ভর—এই দুইয়ের সমন্বয়ই বাংলা ধ্বনিতত্ত্বের মূল ভিত্তি।
বাংলা সন্ধি
সন্ধি শব্দের অর্থ যোগ। ভাষায় দুটি বর্ণ বা শব্দ পাশাপাশি বসলে উচ্চারণ সহজ করার জন্য যে পরিবর্তন ঘটে, তাকে সন্ধি বলে। সন্ধি মূলত উচ্চারণের নিয়ম। ভাষা কঠিন উচ্চারণ এড়িয়ে চলে বলেই সন্ধির জন্ম।
উদাহরণ
মহা + আত্মা = মহাত্মা
বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়
এখানে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, শব্দ দুটি পাশাপাশি বসতেই উচ্চারণ সহজ করার জন্য মাঝখানের ধ্বনিতে পরিবর্তন হয়েছে।
সন্ধি কেন প্রয়োজন?
আমরা বলি “মহাত্মা”, “মহা আত্মা” আলাদা করে বলি না। আমরা বলি “বিদ্যালয়”, “বিদ্যা আলয়” নয়। ভাষা স্বাভাবিকভাবে ছোট, দ্রুত ও মসৃণ উচ্চারণ চায়। সেই কারণেই সন্ধি হয়।
সন্ধির প্রকারভেদ তিনটি
স্বরসন্ধি
ব্যঞ্জনসন্ধি
বিসর্গসন্ধি
স্বরসন্ধি—
যখন দুটি স্বর পাশাপাশি বসে এবং তাদের সংযোগে ধ্বনির পরিবর্তন হয়, তখন তাকে স্বরসন্ধি বলে।
স্বর মানে অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ।
প্রথম নিয়ম
অ বা আ + অ বা আ = আ
উদাহরণ
মহা + আত্মা = মহাত্মা
রাজা + আদেশ = রাজাদেশ
বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়
দয়া + আর্ত = দয়ার্ত
শ্রদ্ধা + আরাধনা = শ্রদ্ধারাধনা
এই নিয়মে সাধারণত একটি আ রয়ে যায়।
দ্বিতীয় নিয়ম
অ বা আ + ই = এ
উদাহরণ
মহা + ইন্দ্র = মহেন্দ্র
রাজা + ইচ্ছা = রাজেচ্ছা
তথা + ইতি = তথৈতি
লতা + ইন্দ্র = লতেন্দ্র
তৃতীয় নিয়ম
অ বা আ + ঈ = ঈ
উদাহরণ
মহা + ঈশ্বর = মহীশ্বর
রাজা + ঈশ্বর = রাজেশ্বর
দয়া + ঈশ = দয়ীশ
চতুর্থ নিয়ম
অ বা আ + উ = ও
উদাহরণ
মহা + উদয় = মহোদয়
রাজা + উচ্ছেদ = রাজোচ্ছেদ
জন + উপকার = জনোপকার
দয়া + উদার = দয়োদার
পঞ্চম নিয়ম
ই বা ঈ + অ = য
উদাহরণ
প্রতি + এক = প্রত্যেক
অধি + কার = অধিকার
অতি + অন্ত = অত্যন্ত
উপরি + উপর = উপর্যুপরি
ষষ্ঠ নিয়ম
উ বা ঊ + অ = ব
উদাহরণ
গুরু + অঙ্গ = গুর্বঙ্গ
ভূ + অধিকার = ভূবধিকার
(এই নিয়ম কম আসে, তবে জানা দরকার)
ব্যঞ্জনসন্ধি
যখন দুটি ব্যঞ্জন পাশাপাশি বসে এবং তাদের সংযোগে পরিবর্তন হয়, তখন তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। এই সন্ধিতে যুক্তব্যঞ্জন তৈরি হয়।
প্রথম নিয়ম
দ্ + জ = জ্জ
উদাহরণ
সদ্ + জন = সজ্জন
উৎ + জল = উজ্জল
উৎ + জ্বল = উজ্জ্বল
দ্বিতীয় নিয়ম
ৎ + চ = চ্চ
উদাহরণ
উৎ + চারণ = উচ্চারণ
উৎ + চর = উচ্চর
তৃতীয় নিয়ম
দ্ + ধ = দ্ধ
উদাহরণ
উদ্ + ধার = উদ্ধার
উদ্ + ধৃতি = উদ্ধৃতি
বিদ্ + ধান = বিদ্ধান
চতুর্থ নিয়ম
ন্ + ট = ণ্ট
ন্ + ড = ণ্ড
উদাহরণ
বন্ + টন = বণ্টন
সন্ + ডাল = সণ্ডাল
পণ্ + ডিত = পণ্ডিত
পঞ্চম নিয়ম
ক্ + ক = ক্ক
গ্ + গ = গ্গ
উদাহরণ
বাক্ + কৌশল = বাক্কৌশল
দিক্ + গজ = দিগ্গজ
অক্ + গুণ = অগ্গুণ
ষষ্ঠ নিয়ম
ত্ + ত = ত্ত
উদাহরণ
সৎ + ত্য = সত্য
উৎ + তাপ = উত্তাপ
ভবৎ + ত্ব = ভবত্ত্ব
বিসর্গসন্ধি
যখন বিসর্গ (☞ঃ) যুক্ত শব্দে পরিবর্তন ঘটে, তখন তাকে বিসর্গসন্ধি বলে। আধুনিক বাংলায় বিসর্গের উচ্চারণ নেই, তবে বানানে থাকে।
প্রথম নিয়ম
বিসর্গ অপরিবর্তিত থাকে
উদাহরণ
দুঃ + খ = দুঃখ
নিঃ + শব্দ = নিঃশব্দ
নিঃ + সাহ = নিঃসাহ
দ্বিতীয় নিয়ম
বিসর্গ লোপ পায় বা র-এর মতো শোনায়
উদাহরণ
পুনঃ + নির্মাণ = পুনর্নির্মাণ
নিঃ + সন্দেহ = নিঃসন্দেহ
নিঃ + স্বার্থ = নিঃস্বার্থ
সন্ধি ভাঙা (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)
পরীক্ষায় অনেক সময় সন্ধি ভাঙতে বলা হয়।
উদাহরণ
মহাত্মা = মহা + আত্মা
বিদ্যালয় = বিদ্যা + আলয়
সজ্জন = সদ্ + জন
উচ্চারণ = উৎ + চারণ
দুঃখ = দুঃ + খ
ভুল এড়ানোর কৌশল
রাজপুত্র সন্ধি নয়, সমাস।
মহাত্মা সন্ধি।
যেখানে বর্ণ বদলায় → সন্ধি।
যেখানে শুধু শব্দ জোড়া লাগে → সমাস।
পরীক্ষায় লেখার আদর্শ সংজ্ঞা
দুটি বর্ণ বা শব্দ পাশাপাশি বসে উচ্চারণের সুবিধার জন্য যে ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে, তাকে সন্ধি বলে। বাংলা ভাষায় সন্ধি প্রধানত স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গসন্ধি—এই তিন প্রকার।
সন্ধি ভাঙা (১০০টি)
১. মহাত্মা = মহা + আত্মা
২. বিদ্যালয় = বিদ্যা + আলয়
৩. রাজাদেশ = রাজা + আদেশ
৪. দয়ার্ত = দয়া + আর্ত
৫. শ্রদ্ধারাধনা = শ্রদ্ধা + আরাধনা
৬. মহেন্দ্র = মহা + ইন্দ্র
৭. রাজেশ্বর = রাজা + ঈশ্বর
৮. মহোদয় = মহা + উদয়
৯. জনোপকার = জন + উপকার
১০. লোকোপকার = লোক + উপকার
১১. প্রত্যেক = প্রতি + এক
১২. অত্যন্ত = অতি + অন্ত
১৩. অধিকার = অধি + কার
১৪. উপর্যুপরি = উপর + উপর
১৫. সত্য = সৎ + ত্য
১৬. উত্তাপ = উৎ + তাপ
১৭. সজ্জন = সদ্ + জন
১৮. দিগ্গজ = দিক্ + গজ
১৯. বাক্কৌশল = বাক্ + কৌশল
২০. উচ্চারণ = উৎ + চারণ
২১. উদ্ধার = উদ্ + ধার
২২. উদ্ধৃতি = উদ্ + ধৃতি
২৩. পণ্ডিত = পণ্ + ডিত
২৪. বণ্টন = বন্ + টন
২৫. সণ্ডাল = সন্ + ডাল
২৬. সম্মান = সম্ + মান
২৭. সংকল্প = সম্ + কল্প
২৮. সংযোগ = সম্ + যোগ
২৯. সংবেদনা = সম্ + বেদনা
৩০. সঙ্গতি = সম্ + গতি
৩১. নির্গুণ = নির্ + গুণ
৩২. নির্দয় = নির্ + দয়
৩৩. দুর্গম = দুর্ + গম
৩৪. দুর্জন = দুর্ + জন
৩৫. দুর্ভাব = দুর্ + ভাব
৩৬. দুঃখ = দুঃ + খ
৩৭. দুঃসহ = দুঃ + সহ
৩৮. নিঃশব্দ = নিঃ + শব্দ
৩৯. নিঃস্বার্থ = নিঃ + স্বার্থ
৪০. নিঃসন্দেহ = নিঃ + সন্দেহ
৪১. পুনর্নির্মাণ = পুনঃ + নির্মাণ
৪২. পুনর্ব্যবহার = পুনঃ + ব্যবহার
৪৩. নিরূপ = নিঃ + রূপ
৪৪. নিরস = নিঃ + রস
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি (ভাঙা যায়, কিন্তু নিয়মে নয়)
৪৫. যথেচ্ছা = যথা + ইচ্ছা (নিপাতনে সিদ্ধ)
৪৬. যথেষ্ট = যথা + ইষ্ট (নিপাতনে সিদ্ধ)
৪৭. যথার্থ = যথা + অর্থ (নিপাতনে সিদ্ধ)
৪৮. যথাসম্ভব = যথা + সম্ভব (নিপাতনে সিদ্ধ)
৪৯. যথাশক্তি = যথা + শক্তি (নিপাতনে সিদ্ধ)
৫০. যথানিয়ম = যথা + নিয়ম (নিপাতনে সিদ্ধ)
৫১. কিমর্থ = কিম্ + অর্থ (নিপাতনে সিদ্ধ)
৫২. কিমকারণ = কিম্ + কারণ (নিপাতনে সিদ্ধ)
৫৩. যদপি = যদ্ + আপি (নিপাতনে সিদ্ধ)
৫৪. তথাপি = তদ্ + আপি (নিপাতনে সিদ্ধ)
৫৫. তদ্বারা = তদ্ + দ্বারা (নিপাতনে সিদ্ধ)
৫৬. যদ্বারা = যদ্ + দ্বারা (নিপাতনে সিদ্ধ)
৫৭. এতদ্বারা = এতদ্ + দ্বারা (নিপাতনে সিদ্ধ)
৫৮. ইতিপূর্ব = ইতি + পূর্ব (নিপাতনে সিদ্ধ)
৫৯. ইতোমধ্যে = ইতি + মধ্যে (নিপাতনে সিদ্ধ)
[নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির পূর্ণ তালিকা
(এগুলি নিয়ম মেনে ভাঙা যায় না; যেমন আছে, তেমনই শিখতে হয়)
যথা + ইচ্ছা = যথেচ্ছা
যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট
যথা + অর্থ = যথার্থ
যথা + অধিকার = যথাধিকার
যথা + অবস্থা = যথাবস্থা
যথা + সম্ভব = যথাসম্ভব
যথা + শক্তি = যথাশক্তি
যথা + সময় = যথাসময়
যথা + নিয়ম = যথানিয়ম
যথা + বিধি = যথাবিধি
কিম্ + অর্থ = কিমর্থ
কিম্ + কারণ = কিমকারণ
কিম্ + দ্বারা = কিম্বারা
কিম্ + জন্য = কিমন্য
কিম্ + ভব = কিম্ভব
যদ্ + আপি = যদপি
যদ্ + অবধি = যদবধি
যদ্ + দ্বারা = যদ্বারা
যদ্ + অর্থ = যদর্থ
তদ্ + আপি = তথাপি
তদ্ + অবধি = তদবধি
তদ্ + দ্বারা = তদ্বারা
তদ্ + অর্থ = তদর্থ
এতদ্ + দ্বারা = এতদ্বারা
এতদ্ + অবধি = এতদবধি
সর্ব + প্রথম = সর্বপ্রথম
সর্ব + প্রধান = সর্বপ্রধান
সর্ব + শ্রেষ্ঠ = সর্বশ্রেষ্ঠ
সর্ব + কনিষ্ঠ = সর্বকনিষ্ঠ
ইতি + অর্থ = ইতর্থ
ইতি + পূর্ব = ইতিপূর্ব
ইতি + মধ্যে = ইতোমধ্যে
বাকি সাধারণ সন্ধি
৬০. সর্বপ্রথম = সর্ব + প্রথম
৬১. সর্বশ্রেষ্ঠ = সর্ব + শ্রেষ্ঠ
৬২. সর্বপ্রধান = সর্ব + প্রধান
৬৩. পাপাত্মা = পাপ + আত্মা
৬৪. ধর্মাত্মা = ধর্ম + আত্মা
৬৫. রাজোচ্ছেদ = রাজা + উচ্ছেদ
৬৬. গুরূপদেশ = গুরু + উপদেশ
৬৭. ভূবধিকার = ভূ + অধিকার
৬৮. মহালয় = মহা + আলয়
৬৯. রাজেচ্ছা = রাজা + ইচ্ছা
৭০. গুণবান = গুণ + বান
৭১. বিদ্বান = বিদ্ + বান
৭২. সৎপথ = সৎ + পথ
৭৩. সজ্জনতা = সজ্জন + তা
৭৪. সদ্গুণ = সদ্ + গুণ
৭৫. মহাপুরুষ = মহা + পুরুষ
৭৬. মহাবিদ্যালয় = মহা + বিদ্যালয়
৭৭. রাজপথ = রাজা + পথ
৭৮. লোকহিত = লোক + হিত
৭৯. জনহিত = জন + হিত
৮০. নির্ভয় = নির্ + ভয়
৮১. নির্লজ্জ = নির্ + লজ্জা
৮২. নির্ভীক = নির্ + ভীক
৮৩. দুর্নীতি = দুর্ + নীতি
৮৪. দুর্ভিক্ষ = দুর্ + ভিক্ষ
৮৫. দুর্যোগ = দুর্ + যোগ
৮৬. সংলাপ = সম্ + লাপ
৮৭. সংলগ্ন = সম্ + লগ্ন
৮৮. সংহার = সম্ + হার
৮৯. সংরক্ষণ = সম্ + রক্ষণ
৯০. প্রত্যাশা = প্রতি + আশা
৯১. প্রত্যুত্তর = প্রতি + উত্তর
৯২. প্রত্যাঘাত = প্রতি + আঘাত
৯৩. প্রত্যাবর্তন = প্রতি + আবর্তন
৯৪. অতিরিক্ত = অতি + রিক্ত
৯৫. অতুলনীয় = অতি + তুলনীয়
৯৬. অধিনায়ক = অধি + নায়ক
৯৭. অধিপতি = অধি + পতি
৯৮. উপকার = উপ + কার
৯৯. উপদেশ = উপ + দেশ
সন্ধি ভাঙা (আবার ১০০টি)
১০১. প্রত্যুৎপন্ন = প্রতি + উৎ + পন্ন
১০২. প্রত্যুপকার = প্রতি + উপকার
১০৩. প্রত্যুপদ্রব = প্রতি + উপদ্রব
১০৪. প্রত্যুপদেশ = প্রতি + উপদেশ
১০৫. অত্যুক্তি = অতি + উক্তি
১০৬. অত্যাশ্চর্য = অতি + আশ্চর্য
১০৭. অত্যুৎসাহ = অতি + উৎসাহ
১০৮. অত্যুচ্চ = অতি + উচ্চ
১০৯. অধিকারী = অধি + কারী
১১০. অধিষ্ঠান = অধি + স্থান
১১১. অধিনিবেশ = অধি + নিবেশ
১১২. অধিবাস = অধি + বাস
১১৩. উপকারক = উপ + কারক
১১৪. উপকারী = উপ + কারী
১১৫. উপদেশক = উপ + দেশক
১১৬. উপযুক্ত = উপ + যুক্ত
১১৭. নিরুপায় = নির্ + উপায়
১১৮. নিরুপম = নির্ + উপম
১১৯. নিরুদ্দেশ = নির্ + উদ্দেশ
১২০. নিরুপেক্ষ = নির্ + উপেক্ষ
১২১. নির্ভর = নির্ + ভর
১২২. নির্ভরতা = নির্ভর + তা
১২৩. নির্ভুল = নির্ + ভুল
১২৪. নির্ভেজাল = নির্ + ভেজাল
১২৫. দুরুপায় = দুর্ + উপায়
১২৬. দুরুপদেশ = দুর্ + উপদেশ
১২৭. দুর্ভিক্ষ = দুর্ + ভিক্ষ
১২৮. দুর্ভাগ্য = দুর্ + ভাগ্য
১২৯. দুর্যোগ = দুর্ + যোগ
১৩০. দুর্নিবার = দুর্ + নিবার
১৩১. দুর্নাম = দুর্ + নাম
১৩২. দুর্নীতি = দুর্ + নীতি
১৩৩. সংযম = সম্ + যম
১৩৪. সংযোগ = সম্ + যোগ
১৩৫. সংযোজন = সম্ + যোজন
১৩৬. সংযত = সম্ + যতি
১৩৭. সংগ্রাম = সম্ + গ্রাম
১৩৮. সংগ্রহ = সম্ + গ্রহ
১৩৯. সংগঠন = সম্ + গঠন
১৪০. সংগীত = সম্ + গীত
১৪১. সংলাপ = সম্ + লাপ
১৪২. সংলগ্ন = সম্ + লগ্ন
১৪৩. সংলক্ষণ = সম্ + লক্ষণ
১৪৪. সংলিপ্ত = সম্ + লিপ্ত
১৪৫. সংহার = সম্ + হার
১৪৬. সংহতি = সম্ + হতি
১৪৭. সংহরণ = সম্ + হরণ
১৪৮. সংহত = সম্ + হত
১৪৯. পুনর্গঠন = পুনঃ + গঠন
১৫০. পুনর্জন্ম = পুনঃ + জন্ম
১৫১. পুনর্বিবেচনা = পুনঃ + বিবেচনা
১৫২. পুনর্বাস = পুনঃ + বাস
১৫৩. নিঃসরণ = নিঃ + সরণ
১৫৪. নিঃশেষ = নিঃ + শেষ
১৫৫. নিঃস্ব = নিঃ + স্ব
১৫৬. নিঃশ্বাস = নিঃ + শ্বাস
১৫৭. নিঃশর্ত = নিঃ + শর্ত
১৫৮. নিঃশুল্ক = নিঃ + শুল্ক
১৫৯. নিঃসঙ্গ = নিঃ + সঙ্গ
১৬০. নিঃসীম = নিঃ + সীম
নিপাতনে সিদ্ধ (১০১–২০০ এর মধ্যে যেগুলি পড়ে)
১৬১. যথাসাধ্য = যথা + সাধ্য (নিপাতনে সিদ্ধ)
১৬২. যথাযোগ্য = যথা + যোগ্য (নিপাতনে সিদ্ধ)
১৬৩. যথাবিধি = যথা + বিধি (নিপাতনে সিদ্ধ)
১৬৪. যথাবত্ = যথা + বত্ (নিপাতনে সিদ্ধ)
১৬৫. তথৈবচ = তথা + এব + চ (নিপাতনে সিদ্ধ)
১৬৬. যদৃচ্ছা = যদ্ + ইচ্ছা (নিপাতনে সিদ্ধ)
১৬৭. যদর্থ = যদ্ + অর্থ (নিপাতনে সিদ্ধ)
১৬৮. তদর্থ = তদ্ + অর্থ (নিপাতনে সিদ্ধ)
১৬৯. কিমপি = কিম্ + আপি (নিপাতনে সিদ্ধ)
১৭০. কিমপেক্ষা = কিম্ + অপেক্ষা (নিপাতনে সিদ্ধ)
অবশিষ্ট সাধারণ সন্ধি
১৭১. লোকহিতকর = লোক + হিতকর
১৭২. জনকল্যাণ = জন + কল্যাণ
১৭৩. দেশহিত = দেশ + হিত
১৭৪. সমাজহিত = সমাজ + হিত
১৭৫. মহাশক্তি = মহা + শক্তি
১৭৬. মহাসমারোহ = মহা + সমারোহ
১৭৭. মহোৎসব = মহা + উৎসব
১৭৮. মহাশয় = মহা + আশয়
১৭৯. ধর্মোপদেশ = ধর্ম + উপদেশ
১৮০. ধর্মাচরণ = ধর্ম + আচরণ
১৮১. ধর্মোপদেশক = ধর্ম + উপদেশক
১৮২. ধর্মাতীত = ধর্ম + অতীত
১৮৩. রাজোপাধি = রাজা + উপাধি
১৮৪. রাজাভিষেক = রাজা + অভিষেক
১৮৫. রাজাধিকার = রাজা + অধিকার
১৮৬. রাজানুকূল = রাজা + অনুকূল
১৮৭. গৃহপ্রবেশ = গৃহ + প্রবেশ
১৮৮. গৃহনির্মাণ = গৃহ + নির্মাণ
১৮৯. গৃহবাস = গৃহ + বাস
১৯০. গৃহহীন = গৃহ + হীন
১৯১. লোকাচার = লোক + আচার
১৯২. লোকালয় = লোক + আলয়
১৯৩. লোকোত্তর = লোক + উত্তর
১৯৪. লোকোপযোগী = লোক + উপযোগী
১৯৫. আত্মবিশ্বাস = আত্ম + বিশ্বাস
১৯৬. আত্মসংযম = আত্ম + সংযম
১৯৭. আত্মোপলব্ধি = আত্ম + উপলব্ধি
১৯৮. আত্মসমর্পণ = আত্ম + সমর্পণ
১৯৯. পরোপকার = পর + উপকার
২০০. পরার্থ = পর + অর্থ

