১৯ মে: ভাষা, স্মৃতি ও মানুষের স্বাধীনতার দীর্ঘ ইতিহাস

ভূমিকা: পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর স্বদেশ মানুষের ভাষা

মানুষের জীবনে “স্বদেশ” শব্দটির অর্থ কেবল একটি ভূখণ্ড নয়। মানুষের প্রথম স্বদেশ তার ভাষা। যে ভাষায় সে প্রথম মায়ের মুখের ডাক শুনেছে, প্রথম ভয় পেয়েছে, প্রথম ভালোবেসেছে, প্রথম কেঁদেছে— সেই ভাষাই তার চেতনার প্রাথমিক পৃথিবী নির্মাণ করে। মানুষ রাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ার আগে ভাষার সন্তান।

এই কারণেই ভাষা কেবল যোগাযোগের উপকরণ নয়; ভাষা মানুষের স্মৃতি, সংস্কৃতি, চিন্তা, ইতিহাস এবং অস্তিত্বের অন্তর্গত ভিত্তি। একটি ভাষার ভিতরে বহু শতকের অভিজ্ঞতা জমা থাকে। নদীর নাম, লোককথা, প্রবাদ, গান, কৃষিজীবনের শব্দ, প্রেমের সম্বোধন, মৃত্যুর বিলাপ— সব মিলিয়ে ভাষা আসলে একটি জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত জীবনানুভূতির ধারক।

তাই ভাষার ওপর আঘাত মানে মানুষের আত্মপরিচয়ের ওপর আঘাত। ইতিহাসে দেখা যায়, প্রায় সব আধিপত্যবাদী শক্তিই মানুষের ভাষাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে। কারণ ভাষা নিয়ন্ত্রণ করা মানে মানুষের চিন্তার ভেতরে প্রবেশ করা। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য উপনিবেশে নিজেদের ভাষাকে ক্ষমতার ভাষা বানিয়েছিল। লাতিন আমেরিকায় স্প্যানিশ আগ্রাসন বহু আদিবাসী ভাষাকে নিশ্চিহ্ন করেছে। আফ্রিকার বহু অঞ্চলে ইউরোপীয় উপনিবেশবাদ স্থানীয় ভাষাগুলিকে “অসভ্য” বলে অপমান করেছিল। ভাষার বিরুদ্ধে এই আক্রমণ আসলে সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ।

এই বৃহত্তর বিশ্ব-ইতিহাসের ভিতরেই দাঁড়িয়ে আছে ১৯৬১ সালের ১৯ মে। আসামের বরাক উপত্যকার শিলচর রেলস্টেশনে সেদিন পুলিশের গুলিতে নিহত ১১ জন মানুষ কেবল বাংলা ভাষার স্বীকৃতির জন্য প্রাণ দেননি; তাঁরা মানুষের নিজের ভাষায় বেঁচে থাকার অধিকারকে রক্ত দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

১৯ মে সেই অর্থে কেবল আঞ্চলিক স্মৃতি নয়। তা মানুষের স্বাধীন উচ্চারণের ইতিহাস।


ভাষা ও আধিপত্য: ইতিহাসের গোপন রাজনীতি

পৃথিবীর ইতিহাসে ভাষা সবসময় ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত। শাসকগোষ্ঠী বহু সময় নিজেদের ভাষাকে ‘সভ্যতার ভাষা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে এবং অন্য ভাষাগুলিকে নীচু, অশিক্ষিত বা অপ্রয়োজনীয় বলে দেখাতে চেয়েছে। ভাষাগত আধিপত্যের এই রাজনীতি খুব সূক্ষ্মভাবে কাজ করে। প্রথমে প্রশাসনের ভাষা বদলায়, তারপর শিক্ষার ভাষা, পরে সংস্কৃতির ভাষা। ধীরে ধীরে মানুষ নিজের ভাষাকেই লজ্জার বিষয় বলে ভাবতে শুরু করে।

ঔপনিবেশিক ভারতে ইংরেজির উত্থান সেই বাস্তবতার একটি দৃষ্টান্ত। ইংরেজি জানলেই চাকরি, প্রশাসনিক মর্যাদা ও সামাজিক উচ্চতা পাওয়া যেত। ফলে বহু মানুষ নিজের মাতৃভাষার চেয়ে শাসকের ভাষাকে বেশি মূল্য দিতে শুরু করেন। এই মানসিক পরাধীনতা রাজনৈতিক পরাধীনতার থেকেও বিপজ্জনক।

অসমের ভাষা-রাজনীতির ভিতরেও সেই ক্ষমতার প্রশ্ন কাজ করেছে। ব্রিটিশ আমলে প্রশাসনিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে বাঙালিদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়। অসমীয়াদের একাংশের মধ্যে তখন সাংস্কৃতিক নিরাপত্তাহীনতা জন্ম নেয়। পরে দেশভাগ, উদ্বাস্তু আগমন এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের ফলে সেই উদ্বেগ আরও তীব্র হয়। কিন্তু ইতিহাসের একটি জটিল সত্য হল— নিপীড়িতের মধ্যেও কখনও কখনও নতুন আধিপত্যবাদ জন্ম নেয়।

অসমীয়াদের ভাষাগত আত্মরক্ষার মানসিকতা ধীরে ধীরে আক্রমণাত্মক ভাষা-জাতীয়তাবাদে পরিণত হয়। ১৯৬০ সালে অসম সরকার অসমিয়াকে একমাত্র সরকারি ভাষা করার উদ্যোগ নেয়। বরাক উপত্যকার বাংলাভাষী মানুষদের কাছে এই সিদ্ধান্ত ছিল সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের বিরুদ্ধে হুমকি।

কারণ প্রশাসনিক ভাষা কেবল অফিসের ভাষা নয়। আদালত, শিক্ষা, চাকরি, নাগরিক অধিকার— সবকিছু ভাষার সঙ্গে সম্পর্কিত। ভাষা হারানো মানে সামাজিক শক্তি হারানো।


বরাক উপত্যকা: ভূগোলের ভেতরে ইতিহাস

বরাক উপত্যকা কেবল একটি অঞ্চল নয়; তা বহু ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের মিলনভূমি। দেশভাগের পর এই অঞ্চলের মানুষের ভেতরে উদ্বাস্তু-অভিজ্ঞতা, বিচ্ছিন্নতা এবং সাংস্কৃতিক অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়। শিলচর, করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি— এই অঞ্চলগুলিতে বাংলা ভাষা ছিল মানুষের জীবনের স্বাভাবিক ভাষা। বাজারে, স্কুলে, সাহিত্যচর্চায়, লোকসংস্কৃতিতে বাংলা ছিল দৈনন্দিন অস্তিত্বের অংশ।

তাই যখন সরকারি ভাষা হিসেবে অসমিয়াকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়, তখন মানুষ বুঝতে পারেন— বিষয়টি কেবল প্রশাসনিক নয়; তা তাঁদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের প্রশ্ন।

ভাষা আন্দোলন তাই কখনও কেবল বুদ্ধিজীবীদের আন্দোলন ছিল না। ছাত্র, শ্রমিক, শিক্ষক, কৃষক, দোকানদার— সাধারণ মানুষই এই আন্দোলনের প্রাণশক্তি হয়ে উঠেছিলেন।

এই দিক থেকে ১৯ মে-র আন্দোলন গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কারণ সেখানে মানুষ রাষ্ট্রকে বলেছিল— “আমাদের ভাষা ছাড়া আমাদের জীবন অসম্পূর্ণ।”


১৯ মে: রক্তাক্ত দুপুরের ঐতিহাসিক অভিঘাত

১৯৬১ সালের ১৯ মে। শিলচর রেলস্টেশন।

ভাষা সত্যাগ্রহীরা শান্তিপূর্ণ রেল অবরোধে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের হাতে অস্ত্র ছিল না। তাঁরা রাষ্ট্র উল্টে দিতে চাননি। তাঁরা কেবল নিজেদের ভাষার সাংবিধানিক মর্যাদা চেয়েছিলেন।

কিন্তু রাষ্ট্রের একটি বিপজ্জনক প্রবণতা আছে— সে প্রায়ই অহিংস প্রতিবাদকেও ভয় পায়। কারণ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন রাষ্ট্রের নৈতিক সংকটকে উন্মুক্ত করে দেয়।

দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে গুলি চালানো হয়।

কয়েক মিনিটের মধ্যে প্ল্যাটফর্ম রক্তে ভিজে যায়।

কমলা ভট্টাচার্য। কানাইলাল নিয়োগী। চণ্ডীচরণ সূত্রধর। হিতেশ বিশ্বাস। সত্যেন্দ্র দেব। কুমুদরঞ্জন দাস। তরণী দেবনাথ। সুনীল সরকার। শচীন্দ্র পাল। বীরেন্দ্র সূত্রধর। সুকোমল পুরকায়স্থ।

এই নামগুলো উচ্চারণ করার মধ্যে একটি নৈতিক দায় আছে। কারণ ইতিহাস প্রায়ই শহিদদের প্রতীকে পরিণত করে, কিন্তু তাঁদের মানবিক সত্তাকে ভুলে যায়। অথচ তাঁরা প্রত্যেকেই আলাদা মানুষ ছিলেন। তাঁদের পরিবার ছিল, ব্যক্তিগত স্বপ্ন ছিল, ভবিষ্যৎ ছিল।

বিশেষভাবে স্মরণীয় কমলা ভট্টাচার্য। ভাষার অধিকারের সংগ্রামে একজন তরুণীর মৃত্যু দেখিয়ে দেয়— ভাষা আন্দোলন কোনো সংকীর্ণ রাজনৈতিক সংঘর্ষ ছিল না; তা ছিল মানুষের অস্তিত্বের আন্দোলন।

এই ঘটনাটি স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রীয় চরিত্র সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে। যে রাষ্ট্র নিজেকে গণতান্ত্রিক বলে দাবি করে, সে কি মানুষের ভাষাগত অধিকারকে সম্মান করতে পেরেছিল?


ভাষা: মানুষের দ্বিতীয় আত্মা

দার্শনিক ভিটগেনস্টাইন বলেছিলেন, “আমার ভাষার সীমাই আমার পৃথিবীর সীমা।” কথাটি গভীরভাবে সত্য। মানুষ ভাষার মাধ্যমে পৃথিবীকে চিনতে শেখে। ভাষা ছাড়া চিন্তা অসম্পূর্ণ।

একটি আদিবাসী ভাষায় হয়তো বৃষ্টির দশটি আলাদা নাম আছে, কারণ তাদের জীবন প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কোনো মরুভূমির ভাষায় বালুর জন্য অসংখ্য শব্দ থাকতে পারে। অর্থাৎ ভাষা মানুষের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার।

তাই একটি ভাষা হারিয়ে যাওয়া মানে একটি আলাদা পৃথিবী হারিয়ে যাওয়া।

ইউনেস্কো বহুবার সতর্ক করেছে— পৃথিবীর হাজার হাজার ভাষা বিলুপ্তির মুখে। বিশ্বায়ন, বাজার, রাষ্ট্রীয় আধিপত্য, কর্পোরেট সংস্কৃতি— সব মিলিয়ে ভাষাগত বৈচিত্র্য কমে যাচ্ছে। পৃথিবী যত বেশি একরঙা হচ্ছে, মানুষের কল্পনাশক্তিও তত সংকুচিত হচ্ছে।

১৯ মে-র আন্দোলন এই বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত। কারণ ভাষার লড়াই আসলে মানুষের বহুত্ব রক্ষার লড়াই।


ভাষাপ্রেম বনাম ভাষা-চৌভিনিজম

ভাষাকে ভালোবাসা আর ভাষার নামে উগ্রতা তৈরি করা এক বিষয় নয়। ইতিহাসে বহু ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে ঘৃণার রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। ‘আমার ভাষা শ্রেষ্ঠ’— এই ধারণা সহজেই অন্য ভাষাকে অবমাননার দিকে নিয়ে যায়।

এই জায়গায় ১৯ মে-র শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বরাকের মানুষ অন্য ভাষাকে ধ্বংস করতে চাননি। তাঁরা নিজেদের ভাষার মর্যাদা চেয়েছিলেন।

এই নৈতিক অবস্থানই আন্দোলনটিকে উচ্চতর মর্যাদা দেয়।

রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, “জাতীয়তাবাদ মানুষের উপর দিয়ে চলে গেলে তা দানব হয়ে ওঠে।” উগ্র জাতীয়তাবাদের মধ্যে সাম্রাজ্যবাদের বীজ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি জাতীবতাবাদকে ‘নেশা’, এবং ‘দানব’ বলে চিহ্নিত করেছেন। এই নেশায় মানুষ আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, মানুষ বুদ্ধিভ্রষ্ট হয়। জাতীয়তাবাদের প্রভাবে মানুষের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাব সৃষ্টি হয়। একই কথা ভাষার ক্ষেত্রেও সত্য। ভাষা যদি মানুষকে মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড় করায়, তবে ভাষাপ্রেমও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

সত্যিকারের ভাষাচেতনা বহুভাষিক পৃথিবীকে স্বীকার করে। কারণ পৃথিবীর সৌন্দর্য এক ভাষায় নয়; বহু ভাষার সহাবস্থানে।


সাহিত্য: ভাষার জীবন্ত স্মৃতি

ভাষা কেবল অভিধানে বেঁচে থাকে না; সাহিত্য তাকে জীবন্ত রাখে। বাংলা ভাষার ইতিহাসে সাহিত্য সবসময় মানুষের অভিজ্ঞতাকে ধারণ করেছে। চর্যাপদের সহজ বৌদ্ধ বাণী, মঙ্গলকাব্যের লোকজ শক্তি, বৈষ্ণব পদাবলির প্রেম, রবীন্দ্রনাথের বিশ্বচেতনা, নজরুলের মানবিক বিদ্রোহ, জীবনানন্দের গভীর বোধ— সব মিলিয়ে বাংলা ভাষা বহুস্বরের সমাহার।

বরাকের ভাষা আন্দোলনের পরও অসংখ্য কবিতা, গান, স্মৃতিকথা রচিত হয়েছে। কিন্তু মূলধারার বাঙালি সমাজ দীর্ঘদিন ১৯ মে-কে প্রান্তিক স্মৃতির জায়গায় রেখেছে। কলকাতাকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক পরিসর বরাককে দীর্ঘ সময় ‘দূরের বাংলা’ হিসেবে দেখেছে। আজও সেই দৃষ্টিভঙ্গি অনড়। ফাঁপা কৃত্রিম একাডেমিক বুলি সেই মিথ্যে আয়োজনকে আরও বেশি বে-আব্রু করে তোলে মাত্র৷ 

এই বিস্মরণও রাজনৈতিক।

ক্ষমতা সবসময় ঠিক করতে চায় কোন ইতিহাস আলো পাবে, কোন ইতিহাস ধীরে ধীরে অন্ধকারে মিলিয়ে যাবে।

কিন্তু ইতিহাসের সেই আশ্চর্য প্রদীপের ক্ষমতা আছে— সত্যিকারের রক্তস্মৃতি কখনও সম্পূর্ণ অন্ধকারে ডুবে যায় না। তা সময়গ্রন্থির নিজস্ব পটচিত্রে সময়েরই উদ্যোগে আরও আলো ছড়াতে থাকে৷ 


বর্তমান সময়: নতুন ভাষা-সংকট

আজকের পৃথিবীতে ভাষা-আগ্রাসন আগের চেয়ে আরও জটিল। আগে রাষ্ট্র সরাসরি ভাষা চাপিয়ে দিত। এখন বাজার, মিডিয়া, প্রযুক্তি এবং কর্পোরেট কালচার নানা ছলনায়, বিশেষ প্রোপাগাণ্ডায় কোনো ভাষাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। তার ওপর সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালাচ্ছে। কারণ, কোনো জাতির ভাষাকে দমন করলে বা বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য করলেই সেই জাতি চির-দাসত্ব প্রাপ্ত হবে৷ মুক্তচিন্তা তার পক্ষে দূরাকাঙ্ক্ষের বৃথা ভ্রমণে পরিণত হবে৷ আর অন্য ভাষায় সেই জাতি অন্যদের ভাবনায় অন্ধভাবে চালিত হবে কেবল। 

সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে ভাষা ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে। বহু মানুষ নিজের মাতৃভাষায় চিন্তা করলেও অন্য ভাষায় ‘স্মার্ট’ শোনাতে চায়। মাতৃভাষাকে ‘লোকাল’, ‘অপ্রয়োজনীয়’ বা ‘কম আধুনিক’ বলে ভাবার ও ভাবানোর কূট-প্রবণতা তৈরি করা হয়েছে।

এই মানসিকতা সর্বাপেক্ষা ভয়ংকরতম সাংস্কৃতিক উপনিবেশবাদ।

১৯ মে আমাদের মনে করিয়ে দেয়— নিজের ভাষাকে ভালোবাসা মানে অন্য ভাষাকে ঘৃণা করা নয়, বরং নিজের চিন্তার স্বাধীনতাকেই রক্ষা করা।


শেষ কথা: রক্ত শুকিয়ে যায়, উচ্চারণ থেকে যায়

শিলচর রেলস্টেশনের সেই দুপুর আজ ইতিহাস। ট্রেন বদলেছে, সময় বদলেছে, মানুষ বদলেছে। কিন্তু কিছু রক্ত মাটির গভীরে থেকে যায়। ভবিষ্যৎ-জীবনের রসদ হয়ে।

১৯ মে সেইরকম এক দিন, যা আমাদের শেখায়— ভাষা মানুষের গভীরতম স্বাধীনতা।

মানুষ নিজের ভাষায় কাঁদতে চায়, ভালোবাসতে চায়, প্রতিবাদ করতে চায়। সেই অধিকার কেড়ে নেওয়ার অর্থ মানুষকে অসম্পূর্ণ করে দেওয়া।

তাই ১৯ মে কেবল বাংলা ভাষার স্মৃতি নয়।

তা মানুষের নিজের কণ্ঠস্বর রক্ষার ইতিহাস।

তা বহুভাষিক পৃথিবীর পক্ষে এক নৈতিক ঘোষণা।

তা আমাদের মনে করিয়ে দেয়— সভ্যতা তখনই সত্যিকার অর্থে মানবিক হয়, যখন সেখানে বহু ভাষা পাশাপাশি বেঁচে থাকতে পারে, কোনো ভাষাকে অন্য ভাষার সামনে মাথা নত করতে না হয়।

ড. অনিশ রায়

( ১৯/০৫/২০২৬)

 
 
 
 
 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top