দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান / বিজ্ঞান ও মানবসভ্যতা

ভূমিকা

বর্তমান যুগকে যথার্থ অর্থেই বিজ্ঞানের যুগ বলা যায়। মানবসভ্যতার দীর্ঘ অভিযাত্রার প্রতিটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়ে বিজ্ঞানের দীপ্ত স্বাক্ষর অঙ্কিত রয়েছে। একদিন মানুষ প্রকৃতির অদৃশ্য শক্তির কাছে ছিল অসহায় ও আতঙ্কিত; বজ্রপাত, ঝড়, মহামারী কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ তার কাছে ছিল অজানা। অজ্ঞতার অন্ধকারে মানুষ কখনও দেবতার ক্রোধ, কখনও অলৌকিক শক্তির আশ্রয়ে মুক্তির পথ খুঁজেছে। কিন্তু মানুষের জিজ্ঞাসা, অনুসন্ধিৎসা এবং নিরলস সাধনা অন্ধকার ভেদ করে সত্যের দ্বার উন্মোচন করেছে। সেই আলোকবর্তিকার নাম বিজ্ঞান। (আলবার্ট আইনস্টাইন) যথার্থই বলেছিলেন, “The important thing is not to stop questioning.” অর্থাৎ, “প্রশ্ন করা কখনও বন্ধ করা উচিত নয়।” মানুষের সেই প্রশ্নপ্রবণ মনই সভ্যতার গতিকে নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিয়েছে।

দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান

আধুনিক মানুষের প্রতিটি মুহূর্ত বিজ্ঞানের স্পর্শে সঞ্জীবিত। ভোরবেলায় ঘুম ভাঙে অ্যালার্মের শব্দে; দিনের সূচনা হয় এমন বহু উপকরণের মাধ্যমে, যেগুলো বিজ্ঞানের অক্লান্ত সাধনার ফসল। টুথব্রাশ, বৈদ্যুতিক যন্ত্র, রান্নাঘরের গ্যাসচালিত চুলা, রেফ্রিজারেটর, কম্পিউটার কিংবা মোবাইল—সবকিছু মানুষের জীবনকে করেছে সহজ, গতিশীল ও সুশৃঙ্খল।

যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিজ্ঞান এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছে। টেলিফোন, ইন্টারনেট এবং কৃত্রিম উপগ্রহ পৃথিবীর দূরত্বকে অনেকাংশে সংকুচিত করেছে। আজ পৃথিবীর এক প্রান্তে বসে অন্য প্রান্তের মানুষের সঙ্গে মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। পরিবহন ব্যবস্থায় দ্রুতগতির ট্রেন, উড়োজাহাজ ও আধুনিক যানবাহন মানুষের সময় ও শ্রম উভয়ই সাশ্রয় করেছে।

প্রযুক্তিবিজ্ঞান ও মানবজীবনের অগ্রগতি

কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞান এনেছে সবুজ বিপ্লব। উন্নত বীজ, সেচব্যবস্থা এবং কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার খাদ্য উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। চিকিৎসাক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করছে। দুরারোগ্য ব্যাধির নির্ণয় ও চিকিৎসা আজ অনেক সহজ হয়েছে। মানবদেহের জটিল অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যপ্রণালী নির্ণয়ে বৈজ্ঞানিক যন্ত্র বিস্ময়কর ভূমিকা পালন করছে।

তবে বিজ্ঞানের কিছু নেতিবাচক প্রভাবও অস্বীকার করা যায় না। অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভরতা মানুষের জীবনকে অনেক ক্ষেত্রে যান্ত্রিক করে তুলছে। কৃত্রিমতার বিস্তার মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি ও সম্পর্কের আন্তরিকতাকে সংকুচিত করছে।

উপসংহার

(কার্ল সেগান) বলেছিলেন, “Science is a way of thinking much more than it is a body of knowledge.” অর্থাৎ, “বিজ্ঞান কেবল জ্ঞানের ভাণ্ডার নয়; বিজ্ঞান এক চিন্তার পদ্ধতি।” বিজ্ঞান মানবসভ্যতার অগ্রগতির প্রধান শক্তি। মানবকল্যাণের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানকে যথাযথভাবে ব্যবহার করা গেলে ভবিষ্যৎ পৃথিবী আরও উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক হয়ে উঠবে।

 
### ড. অনিশ রায়
 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top